শনিবার, ৬ জুন, ২০২০

শিষ্যের প্রতি

মণ্ডলাযার্য্যের কবিতার প্রতিফলন-

 

গিন্নী তোমার পাকা ধানে মই,

 

যেমন ছিলে বেশ তো ছিলে,

ভদ্দো ঘরের ভদ্দো ছেলে,

দিনদুপুরে ঘুরতে কত

রোদ্দুরে টইটই!

 

এখন খোঁয়াড়খানায় ফেরার তাড়া,

নম্র করে খিড়কি নাড়া,

ত্রস্ত ভীষণ বুকের ভেতর-

ডাঙায় ওঠা কৈ!

 

তবু তোমার মন্দ কপাল,

খুন্তি নেড়ে সকাল বিকাল

দিচ্ছে গালি ইচ্ছে মতন-

কোন প্রাণে তা সই?

 

আমি তোমার গুরু বটে,

বুদ্ধি তোমার নেই যে ঘটে,

কত করে না করেছি-

দুখের কথা কই!

 

শুনলে না তো একটি কথা,

হাড়িকাঠে গুঁজেই মাথা

ছাদনাতলায় ছাগল সেজে

করলে কি হইচই!

 


চট্টগ্রামের ঘূর্নিঝড় (টাইমলাইন - ১৯৯০ থেকে।)


১৯৯০ সাল থেকেই একটা লিস্ট দিচ্ছি ঘুর্ণিঝড়ের যা বৃহত্তর চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে গেছে। (তার আগের কথা আমার বয়সকালে উপলব্ধির বাইরে তাই বাদ দিচ্ছি!)

________________________

১। ১৮ ডিসেম্বর ১৯৯০- কক্সবাজার উপকূল। মৃতের সংখ্যা নিয়ে তথ্য নেই।

 

২। ২৯ এপ্রিল ১৯৯১- চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি ভয়াল দিন। মৃত ২ লক্ষের কাছাকাছি। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টা প্রতি ২৪০ কিলোমিটার।)

 

৩। ৩১ মে ১৯৯১, অর্থাৎ মাত্র একমাস ব্যবধানেই দ্বিতীয় ধাক্কা! সমস্ত দক্ষিণবঙ্গে আঘাত হানে। চট্টগ্রামে কিছুটা কম।

 

৪। আবারো ২৯ এপ্রিল, তবে ১৯৯৪। কক্সবাজার। মৃত সরকারী মতে ৪০০। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় ২১০।

 

৫। ২১ নভেম্বর ১৯৯৫।  কক্সবাজার। মৃত- সরকারী মতে ৬৫০। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় ২১০।

 

৬। ১৬ মে ১৯৯৭। চট্টগ্রাম উপকূল ও সংলগ্ন অঞ্চল। বাতাসের গতি ঘন্টায় ২২৫ কিলোমিটার। মৃত সরকারী তথ্যে ১২৬।

 

৭। একই বছরে আবার। ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭।  চট্টগ্রাম উপকূল ও সংলগ্ন অঞ্চল। বাতাসের গতি ঘন্টায় ১৫০ কিলোমিটার। মৃতের সংখ্যা নিয়ে তথ্য নেই।

 

৮। ১৬ মে ১৯৯৮।  চট্টগ্রাম উপকূল ও সংলগ্ন অঞ্চল। বাতাসের গতি ঘন্টায় ১৫০ কিলোমিটার। মৃত সরকারী তথ্যে ১২৬।

 

এবার ২০০০ সালের হিসেব-  (এখন থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ চালু)

 

 

৯। সাইক্লোন আকাশ। ১৫ মে, ২০০৭। চট্টগ্রাম উপকূল। মৃতের সংখ্যা ১৪। বাতাসের ঘন্টাপ্রতি গতি ১১৫।

 

১০। সাইক্লোন মহাসেন। ১৬ মে ২০১৩। চট্টগ্রাম উপকূল। গতিবেগ ৮৫ কিলোমিটার ঘন্টায়। মৃত ১৭ জন।

 

১১। সাইক্লোন কোমেন। ২৯ জুলাই, ২০১৫। চট্টগ্রাম উপকূল। গতিবেগ মাত্র ৭৫ কিলোমিটার ঘন্টায়। তবুও মৃত ১৩২ জন।

 

১২। সাইক্লোন রোয়ানু। ২১ মে ২০১৬। চট্টগ্রাম উপকূল। বাতাসের গতি ছিল ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার। মৃত ২৬।

 

১৩। সাইক্লোন মোরা। ২৯ মে, ২০১৭।  চট্টগ্রাম উপকূল। ঘন্টাপ্রতি ১১০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানে। মৃতের সংখ্যা ১৮।

 

 

 

 

* যা এখানে লিখলাম না-

 

আপনারা অনেকেই ভাবছেন আরো বিরাট বিরাট কতক ঝড়ের নামোল্লেখ নেই কেন? এ কথা সত্যি যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ছোট বড় সকল ঘুর্ণিঝড় উপকূলে- তা ল্যান্ডফলের স্থান থেকে যত দূরেই থাক না কেন- কোন না কোনভাবে একটা প্রভাব ফেলবেই! এখানে যেহেতু কেবলমাত্রে বৃহত্তর চট্টগ্রাম (আমার জন্মভূমি) অঞ্চলে ল্যান্ডফল করা ঝড়গুলোর কথা লিখছি তাই- বাংলার (পূর্ব ও পশ্চিম) দক্ষিনাংশ দুমড়ে মুচড়ে যাও্য়া সিডর, আইলা, বুলবুল- প্রভৃতির কথা একেবারেই টানিনি। একটা আশ্চর্য্যের ব্যাপার লক্ষ্য করুন- ১৯৯৮ এর পর থেকে চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে কোন অতিমারী ঝড় যায়নি! যা গেছে সব দক্ষিণবঙ্গ, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার ওপর দিয়ে। আর এই ক’দিন আগের আম্ফান তো কোলকাতাকেও কাঁদিয়ে ছাড়লো!

 

ঘুর্ণিঝড়ে সৃষ্ট বিধ্বংসী জলোচ্ছাস মানুষের পাশাপাশি গবাদি ও বন্য পশুর বিনাশ করে! এসব ঝড়ে নানাবিধ মানবসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিপুল পরিমাণের কথাও অনুল্লিখিত রাখলাম এখানে।

 

এই পোস্টটি তাদের জন্য- যাদের জন্ম সাগরপাড়ে নয়! তাদের অনুভবের বাইরে- আমরা কিভাবে বেড়ে উঠেছি! আমরা কালবৈশাখী দেখে মূর্ছা যাবার প্রাণ ধরিনি! ঝড় আছড়ে পড়ার আগ পর্যন্ত আমরা ফুটবল খেলে অভ্যস্ত। তবে আমরা জানি- দুর্ভোগ শুরু হতে যাচ্ছে!  যারা সাগর থেকে অতি দূরে থাকেন, তাদের অনুরোধ ঝড় নিয়ে মজা –মশকরা করবেন না। এ ঝড় কালবৈশাখীর মেঘ দেখে মল্লার কি সারঙ গাইবার নয়!

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

'রিয়াজুদ্দিন'

হয়ত কোনদিন আবার সেখানে যাব,
ফানুশের মত উড়ে,
কোন প্রবারণা রাতে।

কোন চেরাগীর মোড় ফেলে,
একটু এগিয়ে কোন বৌদ্ধ বিহার,
স্মৃতির গতায়ু চেরাগ জ্বেলে,
নিঃশব্দে কাছে ডাকে সাগর ও পাহাড়;
আমি কত দূরে পড়ে রই,
হয়ত বা বেশ আছি, গান গাই, কথা কই,
তবু যা কিছু বলি না আর, সব এই কবিতার-

ছত্রে ছত্রে যেন ঝনঝন বাজে,
'রিয়াজুদ্দিন' আজও ভোলেনি আমায়,
ফোন করে অবসরে, ঘুমে মাঝেমাঝে!

(একটি ফেসবুক কমেন্ট।)

কবে গো আর নগেন্দ্রনন্দিনী

কবে গো আর নগেন্দ্রনন্দিনী বল,
পাষাণ পরানে তোর তিলেক দয়া হবে?
কালপাশে আয়ুক্ষয়, মনে জাগে সদা ভয়,
নয়ন যে মুদে আসে, কোলে কে মা লবে!

এ আমার মিছামিছি, দাঁড় ধরে বসে আছি,
যে নদীতে স্রোত নাই, তায় ভাসিয়ে তরণী,
ভেবেছি গো পারে যাব, ভবের জ্বালা জুড়াব,
রাঙা পায়ে লুটাবো- ওগো শিবের ঘরনী,
ছাই হল তবে!

কি গরলে তৃপ্ত হয়ে, অমৃতে করেছি দূর,
তাতেও তুষ্ট নন, ভবনাথ, চন্দ্রচূড়!

সুখে মা র'ব না জানি, তাতে নই অভিমানী,
অন্তে পদে কপালিনী, দিস শুধু ঠাঁই!
কুলভাঙা ঝড় আসে, মরি গো মরণ-ত্রাসে,
আমার শিয়র পাশে কেউ কেন নাই?
চলে গেল সবে!

আর কবে নগেন্দ্রনন্দিনী - স্বরচিত- বিশাখদত্ত

আর কবে নগেন্দ্রনন্দিনী,

পাষাণ পরাণে তিলেক দয়া হবে

এ দীনে জননী?

 

নেমেছি এ বেলা ভবের পাথারে নাহি গো তরণী

পারে যাব আশা করেছি গো মনে, শিবের ঘরণী।

করাল জলধি পথ নাহি জানি, হেরি মা অশনি।।

আর কবে নগেন্দ্রনন্দিনী...

 

এ ভবতরঙ্গ হয় না রে ভঙ্গ, তারা একি রঙ্গ!

গরজে পবন, ত্রাসিত নয়ন, থরথর অঙ্গ!

 

কোথা ভয়হরা দীনের তারিণী, দুঃখবারিণী!

তনয় বিশাখে জলধির পাঁকে ডোবে মাগো, ডাকে-

কোথা ত্রিনয়নী, পতিতপাবনী, শঙ্কাহরণী।।

আর কবে নগেন্দ্রনন্দিনী...

 

রচনা ও সুরঃ ৪/৬/২০২০

বিশাখদত্ত।

 

গতরাতে একটা ধ্রুপদ লেখার তাড়না এলো মনে। আজ সকালে দেখি গলা খুশখুশ করছে প্রচণ্ড।  রাত ৩টা পর্যন্ত জেগে একটা কাব্য লিখে ফেললাম ধ্রুপদের জন্য। ভেবেছি চৌতালে বাঁধব। কিছুতেই সেই ভাবটা এলো না। তারপর এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত এই রূপে আনতে পেরেছি।

 

রাগ সম্পুর্ণ মালকোঁষের ছায়ায় ৯ মাত্রার শিবতাল! এ-তালে কখনো কিচ্ছুটি গাইনি! তাতে আবার নিজে গান তৈরির চেষ্টা একটু বেশী দুঃসাহসিকতা হয়ে গেল না? গলা খারাপ থাকা সত্ত্বেও গেয়ে রেখেছি- নইলে সুরটা মন থেকে সরে যাবে।

 

 

 

 

বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

করলা ব্যাপারী



মুরগীর ঝোলে সেদ্ধ করলা
যদি তুমি খাও দিনে এক বেলা
রবে না করোনা, রবে না রবে না
যমের অরুচি হবে ষোলআনা-
পথ্য এনেছে বৈদ্য,
উহান নগরে সেরে গেছে রোগ,
খেয়ে করলার সনে মদ্য! 

এখানে কি আর বলা যাবে ভাই,
প্রকাশ্যে হেঁকে মদের দাওয়াই!
তাই মদ ও মুরগীর সমার্থ ধরে
বেচতে লিখি এ পদ্য,
ইনগ্রেডিয়েন্ট মূলত করলা,
এক কিলো কেনো অদ্য!

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

নৈশভোজ (পুরাতন কবিতা)



একপ্রস্থ আঁধার গিলে এই নৈশভোজ-
সেরে, আমি বলি চাঁদ, আমার ঢেকুরটা কৈ?
ভরা পেটে দু'বালতি চালান দিয়ে ত্রয়োদশী ভাঙ
এ কবিতা যে লিখে ফেলে সে কি আমি নই?

বাঁশবাগানের পাড়ে, কেওড়াপুকুর, শ্যাওলার ঘাট,
আমি ডুবিয়ে দিয়েছি পদ, বিপদ বিধায়!
এ ভীষণ রাত্রিবেলাও গায়ে ছাই রৌরব তাপ,
নগকন্যা, শীতল যে কিসে হব রয়েছি দ্বিধায়!

জ্যোছনা নদীর মত তোমার সিঁথিতে
সহস্রাব্দ বয়ে গেছে কত কবি ফবি খেয়ে,
দু ধারে ভাঙন দিয়ে কোঁকড়ানো চুলে
অলিখিত ছন্দ কত নিয়ে গেছে ধুয়ে,
তার বৃত্তান্ত অতশত জেনে বল আমার কি কাজ?
আমার যে ভেসে যেতে নেই কোন ভয়,
আমার যে নৌকাটিতে তুমি এলে আজ! 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...