কত কাল আর এতটা অন্ধকারে
এত সব অশ্রাব্য চিৎকারে
চারপাশ বদ্ধ করে নির্বিবাদে থাকি?
কত রাত দয়ানিধি অলক্ষ্যে সুর বাঁধি
পড়ে আছি অচঞ্চল স্বকৃত কন্দরে
নিজের ছায়ার সাথে নিজের নিত্য ফাঁকি
এই ক্রুর খেলায় ডুবে? কত কাল?
যা মনে আসে লিখি। ভাল লাগলেও লিখি, না লাগলেও লিখি। কারো ভাল লাগা না লাগার ওপর আমার কোন ঔৎসুক্য বা অভিমান নেই!
কত কাল আর এতটা অন্ধকারে
এত সব অশ্রাব্য চিৎকারে
চারপাশ বদ্ধ করে নির্বিবাদে থাকি?
কত রাত দয়ানিধি অলক্ষ্যে সুর বাঁধি
পড়ে আছি অচঞ্চল স্বকৃত কন্দরে
নিজের ছায়ার সাথে নিজের নিত্য ফাঁকি
এই ক্রুর খেলায় ডুবে? কত কাল?
নিঠুর কঠোর মম,
অবারিত বেদনাস্রোত হতে অবিরত আবাহন
শুনি অনন্ত পথে প্রবাহিত, অবোধ অগণন
তৃষা-মথিত নয়নাশ্রুজলে রচেছে সাগর।
তোমার তরণী ঐ আসে!
অকরুণ অরুণ কর খর তাপ
বহে ভুবনে, আমি আতুর তৃষিত হে;
শীতল কর স্নেহকর পরশনে
নিখিলজননী।
পুত্র তব নিভৃতে নিরয়পথগামী হে,
পাপ নিমজ্জিত কলুষক্লেষ-ক্লান্ত,
ক্রোড়ে নাও, দিবস অবসানে
ভুবনপাবনী।
সকাল হবে...
সহস্রাব্দকাল নিভৃত রাত্রির পর
একদিন...
সকাল হবে...
খরাজে, মন্দ্র-মধ্যমে লহরী তুলে
বিনিদ্র মালবকৌশিক চুপচাপ শ্রান্ত হলে...
একদিন..
অকস্মাৎ, সহসাই সকাল হবে...
অক্লান্ত অলস দ্বিপ্রহরে ধানেশ্রীর পাংশু সুর,
রৌদ্রলিপ্ত, পুরানো আবাস ঘিরে যোজন দূর-
দেশী-আকাশ হতে নামে বিমূর্ত বীণা বেয়ে,
ঐকান্তিকে, নিত্য নিরাশ্রয় হৃদয়কুঞ্জ ছেয়ে।
ত্রিতাপদগ্ধ করে স্নান।
অনু-প্রেরণায় ভেসে যায় গোটা দেশ
রাকেশ রোশান পালিয়ে বেঁচেছে চাঁদে!
আমরা রয়েছি কোন ক্রমে ঠারেঠোরে,
নচেৎ, বাঙালী-জনমে রবিও-
নিভৃতে কাঁদে!
আমি কণ্ঠে যখন সুর হারাবো তুমি মর্মে তখন বেজো,
দৃষ্টি আমার নেভার আগে তুমি ভুবন মোহন সেজো।
বিরাট তোমার মধুর করে, নিয়ো টেনে তোমার ঘরে,
আমি আলোয় আলোয় সাঙ্গ করি এই জীবনের পুজো।
২৯ জুন, ২০২৩।
না পারি কহিতে, না পারি সহিতে,
মরমে বাঁধিতে নারি।
না পারি মরিতে, না পারি বরিতে,
ধরি ধরি আর ছাড়ি।
তৃষিত তাপিত ফাগুন গগন,
প্রণয়-ব্যাকুল প্রেমহীন-জন,
দশদিশি যেন বিরহ-মগন,
বক্ষ হতেছে ভারী।
একটি ভগ্ন প্রাসাদের পর
থাক এমনই অস্তমিত সূর্য,
যেন মনে থাকে- সকল অস্মিতা সমেত
কত যে পৃথ্বীশ্বর, তূণ, খড়গ, তূর্য-
ধ্বনি, এভাবে হারিয়ে যাবে
কালের গ্রাসে-
আমার আছে এটুকু সুদৃঢ় বিশ্বাস,
এর চেয়ে বড় কিছুতে আস্থা রাখি না কোনদিন!
ক্ষমো হে ক্ষমো,
প্রমথনাথ প্রথম মম
ঈশ্বর, জনম জনম ক্ষণিক-ভ্রম-
সুখে এ মিছে মরত-ভ্রমণ-
দুঃখ-ভারে বিস্মরণ হয়েছে
তব মোক্ষ ধাম।
ক্ষম হে
যা ছিল প্রণম্য,
তারে করিনি প্রণাম।
পড়ব যখন দুয়ারদেশে ঝঞ্ঝাবাতে লুটিয়ে এসে,
আপনি তুমি দয়ার হস্তে বক্ষে তুলে ধোরো।
নাইবা হলেম আর কারো মা, নাইবা হলেম কারো।
কারে আমি কি শোনাবো, কার মরমে কি বোঝাবো,
কার মনেতে মন মেলাবো, পাইনে হদিশ তারও।
নাইবা হলেম আর কারো মা, নাইবা হলেম কারো।
আতশবাজির মস্ত ধোঁয়ায় ত্রস্ত আকাশতল
নীড়ের মাঝে বুক কাঁপে, ঐ পাখির চোখে জল,
শুধায় মাকে, 'কারা এরা?' ছোট্টো পাখির ছানা
'বিশ্বমায়ের পূজায় মাতাল মত্ত কতক দানা!'
কখন যে আমি ইমন গাইতে গাইতে মারবায় চলে
এলেম
তীব্র মধ্যম থেকে শুদ্ধ ধৈবতে গিয়ে ছুঁলেম
প্রখর শুদ্ধ নিষাদ—
অতঃপর কি করে যেন হুঁশ ভেঙে তারস্বরে
কোমল ঋষভ;
ক্ষণকাল পর, আকাশ বুকের ভেতরে ভারী,
বাতাসে বিষাদ।
কত কাল আর এতটা অন্ধকারে এত সব অশ্রাব্য চিৎকারে চারপাশ বদ্ধ করে নির্বিবাদে থাকি? কত রাত দয়ানিধি অলক্ষ্যে সুর বাঁধি পড়ে আছি অচঞ্চল স্বকৃ...