ছোট কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছোট কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

মানুষ




মানুষের দাঁতে লেগে আছে কোন মানুষেরই তাজা মাংস
এই মানুষের বুকে রক্তপিপাসা, মানুষ ক্রমশ হিংস্র-
থেকে হিংস্রতমতে, বেশ তুলেছে নিজেকে টেনে!
আয়নায় দেখে থতমত খাই- আমিও মানুষ জেনে!

খঞ্জরে নরহৃদয়খন্ড উঁচিয়ে মানুষ হাসে,
মানুষই মত্ত অন্য মানুষ যখন সর্বনাশে!






শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫

মাছমুরাল (Osprey)


তব অপাঙ্গে কম্পিত জলচর,
স্রোতবিধৌত তটে-ফেরা কীটকূল!
পাখায় তোমার নভোমণ্ডলহারী শস্ত্র-
নিক্ষেপ তার- শতাংশে নির্ভুল!
নিযুত নীলিমা-পথ বাহি এলে বন্ধু,
কত হিমগিরি, মরু, বিপুল বনানী, সিন্ধু-
লঙ্ঘি আমার শীর্ণা তটিনী-ঘাটে,
পূর্বস্থলী-বাটে!
______
মাছমুরাল (Osprey)- গেল শীতে পূর্বস্থলীতে তোলা।



শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪

তোমার তরণী ঐ আসে

 


নিঠুর কঠোর মম,

অবারিত বেদনাস্রোত হতে অবিরত আবাহন

শুনি অনন্ত পথে প্রবাহিত, অবোধ অগণন

তৃষা-মথিত নয়নাশ্রুজলে রচেছে সাগর। 


তোমার তরণী ঐ আসে! 



সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪

হৃদয়কন্দরে লাভার গন্ধ ভাসে

 

সকল বিপর্যয়ের ভীড়ে, 

শ্রাবণের প্লাবনে, বৈশাখের ঝড়ে- 

আমি চেয়েছি নিছকই বেঁচে থাকতে। 

পথের মাঝ বরাবর, বরাবর অলঙ্ঘ্য অচল

-আসে, কথার তোড়ে নড়ে বক্ষপিঞ্জর- 

আমি চেয়েছি মূক পাথরের মতন স্থবির হতে,

অথচ অগ্নিগিরির মতন ফেটে হয়েছি চৌচির,

হৃদয়কন্দরে লাভার গন্ধ ভাসে!

বুধবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪

কলিকাতা

 

কলিকাতা। 



একদা সন্ধ্যা নামিলে যখন বেনেরা ভিড়িল ঘাটে, 

কর্দমঘ্রাণে আমোদ আদুল গেঁয়োরা ফিরিল বাটে- 

রোশনাই আসি মাটির প্রদীপে বর্ষিল অবহেলা, 

কোঁচার আধুলি ধুলায় ছুঁড়িয়া নটের নাট্যশালা- 

বেনেরা করিল জয়, এ নগর তার পরিচয়বাহী- 

কবিকুলে কিছু নয়। 


 

ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪। 

রাত ১টা ২৫। 

মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩

মানুষ হবার প্রেরণা

 

মানুষ হবার প্রেরণা জাগলে 

মানুষেরা অচেনা হয়ে ওঠে। 

‘এ কোন মানুষ, ও কোন মানুষ’ 

হরেক রকমের ভীড়ে সব অস্পষ্ট 

অন্ধকারে, নির্বিবাদে নিরঙ্কুশ- 

শূন্যতার বর্বগ্রাসী সংকটে 

ক্রমশ মিলিয়ে যেতে হয়। 


মানুষ- 

তোমাকে জানা সহজ নয়। 

শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ঢেউয়ের ভাঙন গোনা

 

অমন করে আর ঝরে না শেষ বিকেলের সোনা,
আমার এখন ঘাটে বসে ঢেউয়ের ভাঙন গোনা।
ফুলের মতন ঘুম ছুটিয়ে,
মায়ের কোলে যাই লুটিয়ে,
ছোট্ট বুকের কাঁপন ধরে সুরের খেলনা বোনা;
এখন আমার ঘাটে বসে ঢেউয়ের ভাঙন গোনা!

শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২

আমি কোথায়

 

আঁধারে চেরা পথে নিভেছে চেনা চেরাগ,

মাতম ধরেছে বুকে মরুৎ-এ মারু-বেহাগ।

ও দেশে এখন ক্লান্ত ঝড়

তীরে তীরে

বকের মতন ফেরে

ধূম্র-মেঘে

সফেদ ডানায় করে ভর।

বরষণ-তৃপ্ত ফ্যাকাশে গোধুলি-অস্তরাগ

আকাশে জেগে

ধীরে নামে এ ঘর ও ঘর

খড়ে বোনা নীড়ে নীড়ে, ঘিরে ঘিরে

মন্দ্র-মধ্য-তারস্বর;

 

আমি কোথায়?

 

 

 


শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

কথা বলো

 

কথা তো বলতে হবে আজ নয় কাল,

না হয়ে সজোরে দিলে নাড়া ঝরে যাবে কাগজের ফুল,

হিংস্র সুঁচালো দাঁতাল হাসিতে যত চাপানো মুখোশ;

ভেঙে যাবে এক ঘায়ে গোটা কয় ভুল, অঢেল অসন্তোষ

পাঁজরে আড়াল, তবু কথা তো বলতে হবে!

 

কথা বলো

প্লিজ কথা বলো

 


মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১

ঘুম আসে

 

ঘুম আসে মা, ঘুম আসে।

কোলের পাশে নই জননী

তবুও আমার ঘুম আসে মা,

আমার বড্ড ঘুম আসে।

 

পৌষ-প্রভাতে দুর্বাঘাসে,

শিশির-কণায় অরুণ হাসে,

চাঁপা ফুলের গন্ধে করুণ

চাপা বুকের বামপাশে,

কাঁপন লাগে, মাতম জাগে,

হাওয়াতে তার সুর ভাসে!

 

তবু বড্ড আমার ঘুম আসে।

কোলের পাশে নই জননী

তবুও আমার ঘুম আসে।

 

 

 

 

 

 


বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১

কোজাগরী বর

 

কে বা জাগে এই নিশি,
তুমি যাবে তার ঘরে, বিতরিতে ধন!
ঘরপোড়া আগুনের পূজা শেষ হলে,
এসো দেবী যদি জোটে দু'দণ্ড ক্ষণ!
রতন-মানিক্য যদি দাও,
দিও বল রাখিতে যতনে,
যদি দস্যু দেয় হানা!
যেন খড়্গখানা তুলিতে পারি হাতে,
সাহসে বধিতে পারি গোটাকয় দানা!

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১

মগ্ন

 

ধীরে ধীরে আরো মাটি সরে যায়,
ধীরে ধীরে কারো ঘর পুড়ে যায়,
দেউলে নীরবে দেবতা হয়েছে ভগ্ন,
এখনো কি সুখে মানুষ হয়েছ মগ্ন?

মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১

উড়ে যাব

 

শূন্যের ভেতরে বসে শূন্য হয়ে শূন্য দেখি,

বৃহৎ শূন্যকল্প বৃত্তে অসংখ্য শূন্য সমষ্টির তুল্য

নিরালম্ব অস্তিত্বের অন্তরদেশে, ফ্যালফ্যাল চেয়ে আছি-

আকাশ থেকে আকাশে, গৃধ্মু দৃষ্টি, যদি জোটে প্রাণ,

শূন্য সত্ত্বায়, আমি উড়ে যাব! ঝঞ্ঝা যেমনই হোক,

আমি উড়ে যাব!

 

 


বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

পাছে লোকে কিছু বলে

 

এই অপ্রেমে পতিত আত্মায় বেঁধে ছলে-বলে-কৌশলে,

প্রেমের পূজারী হয়েছিই বটে, পাছে লোকে কিছু বলে!

পাছে যদি কেউ ভেবে বসে আমি ভেতরে কতটা দীর্ণ,

কেউ যদি জানে শিরা ও ধমণী, বিষস্রোতে তারা শীর্ণ

তাই সুধাক্ষরা বুলি, মসীমুখে খুলি, ভাসি তারি কল্লোলে,

পাছে লোকে কিছু বলে! ভাবি, পাছে লোকে কিছু বলে!


শনিবার, ১২ জুন, ২০২১

বিস্মরণ

 

এ মায়া লূতিকা-তন্তু যথা,

প্রপঞ্চ-সূতিকা প্রকৃতি পরা-

হস্তে, তথা ভ্রমিত ভ্রমাভীষ্টে,

আবিষ্ট মোহান্ধ, মারণ-জরা-

জরাগ্রস্তে গ্রাসে তিলেতিলে!

 

মন-বিহঙ্গে অপকৃষ্ট ক্রূর উরঙ্গে
বাঁধে বিষ্টম্ভ দ্রুমশাখে,

পথভ্রষ্ট মত্ত-দ্রুমারি-দম্ভ নিপতিত,

জড়িত বিলয়-পাঁকে;

আঁধার অখিলে-

 

নামে সাঁঝের মতন,

সত্য এখানে শুরু,

বাকী বিস্মরণ!

 


বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

বয়ে যাওয়া

 

বয়ে গেছি ভ্রমে, যেতে কোনক্রমে,

বানভাসা দ্রুমে, দুম করে এসে ঠেকেছি!

এই ভাল তবে, এই ভাল হবে,

এই আমি ভাল ভেবেছি!

 

যেখানে সে নেবে, যা কিছু সে দেবে,

তবে তাই নিয়ে যদি থাকা যায়!

সাঁতরে কি আর সুখী হব বল,

ভাঙলে ভরসা কে নেবে দায়?


রবিবার, ১৬ মে, ২০২১

নিরুদ্দেশ

 

একেকদিন দু’দশ পাতা লেখার পর

‘কন্ট্রোল প্লাস অ্যা’ চেপে ধরি

তারপর ‘ব্যাকস্পেস’-

 

শূণ্যের কোন ব্যাখ্যা নেই,

শূণ্যাতিরিক্ত ভাষা নেই,

নেই ভগ্নাশেষ,

 

ঠিক ওখানে দাঁড়িয়ে আছি,

‘এন্টার’ চেপে ধরে,

ওখানে নিরুদ্দেশ!

 

শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১

বাতুলতা

 

ভাল থেকো, যেখানে গেছ, অন্য আকাশে

নিঃসীমে নীহারিকা, বেদনাপ্লুত সন্ধ্যা মেখে

সারা-গায়ে মিটিমিটি জ্বেলো অনঘ শুভ দীপ,

আমি আগল দিয়েছি জেনো ঝড়ের বাতাসে,

তুমি নিশ্চিন্তে থাকো। যে নৌকো তট-সমীপ-

ঘেঁষে ফিরে গেলো, যে মাঝি চেনেনি স্রোত,

তুমি ভোলো। আকাশগঙ্গা বেয়ে আরও কেউ-

পাল তুলে আসে, টলটল-কলকল-উছল ঢেউ

ভেঙে, না হয় প্রতীক্ষা কর আরও কিছুকাল,

এই সবিনীত উপরোধ- হয়ত অনভিপ্রেত প্রিয়!  

ও কিছু নয়, বাতুলতা-দোষ আছে, তাই ভুলে যেও!


সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১

লিখব কি আরো?

 

কিয়দংশ যন্ত্রণার ভাগ নিতে পারো?

কীটদষ্ট, ফিরেছে যে ফুল, পরাগায়নের শেষে;

ফিরে গেছে নীল জল, সাগরের কূল,

অস্তিত্বের গভীরতম দেশে, খোঁজ নেই কারো!

 

তুমি কিছু ভাগ নিতে পারো?

 

খান-কতক কবিতার মিথ্যা-ভাষণের মত

কত কথা অক্লান্ত তলে তলে বয়ে গেছে!

স্রোতহীনা, নাম তার স্রোতস্বিনী দিয়ে-

এক মূক রাত্রির বুকে নির্বিকার মুখ গুঁজে থাকা

জনান্তিকে, এমন বৈকল্য ধরে বৈরাগ্য ছুতায়,

মুখের ছদ্মবেশে মুখোশকে ঢাকা-

 

আমি লিখব কি আরো?

 

 

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

নিভৃত ছাই

 

একেলা বাঁধি, একেলা গাই

একেলা কাঁদি, একেলা ধাই

একেলা পথে, একেলা স্রোতে

একেলা চলা বিরাম নাই!

 

নয়ন অন্ধ, শ্রবণ বন্ধ,

মূক-মরমে মরণ ছন্দ

দুলে দুলে ওঠে দুর্বার স্রোত

মথনের শেষ, গরল খাই!

 

তিমির প্রকট, ভগ্ন শকট

বন্ধুর পথ, ঘোর সংকট,

পরাণের তলে আগুন আলোক

প্রভাত বেলায়, নিভৃতে ছাই!  

 

 

কত কাল?

  কত কাল আর এতটা অন্ধকারে এত সব অশ্রাব্য চিৎকারে চারপাশ বদ্ধ করে নির্বিবাদে থাকি? কত রাত দয়ানিধি অলক্ষ্যে সুর বাঁধি পড়ে আছি অচঞ্চল স্বকৃ...