গান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

আমি দীন- হীন, অতি কাতর প্রাণ হে

 

আমি দীন- হীন, অতি কাতর প্রাণ হে
বিষয়-কলুষিত, দুরাশয়, দুর্মতি
পামর, দুষ্কৃতি, পতিত, ম্লান হে!
আমি বিবিধ অশুভ হে, অচল জড়ভার
বিমূঢ়, শংকিত, বিবেকবর্জিত,
প্রভূত পাপাধার!
মারণ দুখ জরা শাপিত পাষাণ হে!
আমি অধমাধম, নীচ, কপট, শঠ হে!
নিরয়পথগামী ক্ষীন-শকট হে!
তবু চেয়েছি যেতে তব ক্রোড়-কোকনদে,
তুমি বাঁধিলে অধমাধমে এ ভব-মোহমদে
অন্তে দিও মা পদ, বিশাখে ত্রাণ হে! 

শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...

 



আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...
তুমি কোনদিন পারো না জানতে..
তুমি তো দাঁড়িয়ে একই ঠাঁই...

সব কলিগুলো ফুটতে পারে না,
সব অলি পথ চিনতে পারে না,
আমি তাদেরই দলে বিলীন হয়েছি
ঠারেঠোরে তাই গেয়ে যাই....

বোঝা সামান্য-
শত জনমের ভুলে ভরা এক ঝোলা...
বই ধীরেধীরে, দেখি ফিরে ফিরে..
ফেরার পথ কি খোলা?

আমি সাগরের কাছে মুক্তি চেয়েছি
ঘুর্ণির জলে দুঃখে নেয়েছি,
আমি ভেঙে ভেঙে শত টুকরো হয়েছি...
আরও যেন ভেঙে যেতে চাই।

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

কালী! এই ছিল মা তোর মনেতে

 



কালী! এই ছিল মা তোর মনেতে এতদিনে গেল জানা!
ষোলআনার ভাগ চেয়েছি, দিলিনে এক আধুলি আনা!
তুই কারে রাখিস সিংহাসনে, কারে রাখিস আঁখির কোণে,
কেবল বিশাখে পড়ে না মনে, তার বেলা মা রইলি কানা!
আমার ভাগ্যে সদা সাড়ে স্বাতী, যমের দ্বারে নিচ্ছি গতি
দুর্গমেতেও কি দুর্মতি! ওমা ভবের জ্বালা আর ঘোচে না!
আমি নিশীথে একাকী লিখি- মা হয়ে দিলিরে ফাঁকি-
এ হিসেব আমার বুঝতে বাকী- হচ্ছে কি বল কান্ডখানা!




বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

চন্দ্রভাল রুণ্ডমাল

 

চন্দ্রভাল রুণ্ডমাল কর-কপাল ভস্মঅঙ্গ

পঞ্চবদন নাগভূষণ ধরত তাল গিরিজাসঙ্গ! 

পিনাক-চন্দ্রহাস-ত্রিশূলধারী ত্রিপুরারি

বাজত ডমরু সোহত রঙ্গ! 


আহীর ভৈরবে বন্দিশটি রচনা করে ক্লাসে শেখালাম। 

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

মন তুমি তায় কান দিয়ো না

 

মন তুমি তায় কান দিয়ো না।
তুমি দুধের বাটি সামনে পেয়ে, কথার ছলে ঘোল খেয়ো না!

কে দেয় গালি, কে দেয় তালি, না শুনে মন জপ কালী,
মন তুমি ভাই চলবে সোজা, কথায় ভুলে পথ ভুলো না!

ভবের বোঝা হইলে ভারী, কেউ রবে না মন তোমারি
মন তুমি সমেত ডুববে তরী, কাণ্ডারী আর কেউ হবে না!

বিশাখ ভনে এ ভুবনে - মন তুমি রও আপন মনে
পদপঙ্কজেতে মন লাগিয়ে পঙ্কে যেন পা ফেলো না! 

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

ভেবেছি পুজিব পদ মানসকুসুমদলে

 

ওমা, ভেবেছি পুজিব পদ মানসকুসুমদলে 

হেরি এ কুসুম কীটদষ্ট, আমারই করম ফলে! 

আমি মুরতি আনিয়ে ঘরে, বসালেম আসনে পরে, 

শুধু হৃদয়ে মা ঠাঁই হল না, এ ভেবে পরাণ জ্বলে! 

আলোকে আরতি করি, প্রদীপে তুলিয়া ধরি, 

তবু নয়নে আঁধার হেরি, বুক ভাসে আঁখিজলে। 

ওমা, বিশাখের এ বাসনা, অন্তে নিদয়া হয়ো না, 

যেন দুর্গা বলে যেতে পারি ও রাঙা চরণতলে! 

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

বিশাখের নাও অর্ঘ্য

 

মহিষমথনী শোণিতসিক্ত খড়্গ, 

দনুজদলনে রঞ্জিত পাদপদ্মে

সাধক-যাচিত সকল চতুর্বর্গ! 

ওই মুক্ত-চিকুরদামে- বিদ্যুৎ খেলে চমকে, 

অট্টহাস্যে রাত্রি-গগনে- বজ্রনিনাদ দমকে

কম্পিত ত্রাসে- পাতাল-মর্ত্য-স্বর্গ! 

হুংকারে ভয়ে নিভে যায় শত দিবাকর, 

পদসঞ্চারে প্রলয়পবনে মুর্ছিত ওই চরাচর! 

নেত্রত্রয়ে ভুবনবিনাশী অগ্নিগিরির বহ্নি, 

হে মুন্ডমালিকাভূষিতা, হে নগাধিরাজের তন্বী- 

বিশাখের নাও অর্ঘ্য! 

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

হে মহেশ মহাকাল

 



এ বড় বিষাদঘন অসুখ অন্তরাল
কঠিন, অসহ, এ যে কুটিল, করাল।
বক্ষ বিদারি জাগা আর্তের ক্রন্দনে
এ যেন ঘুমিয়ে থাকা কুসুমিত নন্দনে
মরণ-মোহিত সব, কি ভীষণ মায়াজাল!
কি প্রখর বিষজ্বালা পন্নগ দংশনে
তবু সুখ আশে ছুটে চলা নিয়ত অসুখ পানে।
অগ্নিগর্ভ হতে সদা বয় সুর-নদী,
তোমার পারাবারে কোন দিন মিলে যদি;
তারে ফিরায়ো না দীনপতি, হে মহেশ, মহাকাল!




শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

আমায় তুমি করছ আড়াল

 

আমায় তুমি করছ আড়াল
আঁচল ছায়ে তোমার কোলে,
আমি বড়ই অধীর বাইরে যেতে
বড়ই  ব্যাকুল, দুষ্ট ছেলে!
বিশ্বভুবন দিচ্ছে সাড়া-
'ও তুই চোখ খুলে দেখ, বাইরে দাঁড়া'
আমি ভাল মন্দ জানিনে মা
(ওদের) কথায় গেলাম ভুলে!
তুমি আগলে আছ দু'হাত দিয়ে
মাগো কতই যতন করে,
আমি যতই যেতে চাই মা ছুটে
(তুমি) রাখছ টেনে ধরে!
আমার সব অপরাধ করে ক্ষমা,
কত আদর করছ গো মা,
ছেলে তো মা বখে যাবে
(মাগ) এত আদর পেলে! 

শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কাতর হয়েছি তারা

 



কাতর হয়েছি তারা তরিতে ভবসাগর
দেহতরী দিকহারা হেরিয়া পাথারে ঝড়!
জীর্ণ কাঠে তৈরি তরী, বসিলাম দাঁড় ধরি,
জয়দুর্গা নাম স্মরি, ত্বরাও মা সত্বর!
করাল তরঙ্গ ঘোরে কে আর রাখিবে মোরে,
কে বাঁধিবে বাহুডোরে, ভয়ে কাঁপে কলেবর!
একমাত্র নাম ধনে মনে করি ক্ষণে ক্ষণে
তারিণী কুসন্তানে কোলে নিয়ো অতঃপর!








শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কে বুঝিবে তারা তোমার ছলনা

 


কে বুঝিবে তারা তোমার ছলনা!
আচারে বিচারে কে পাবে তোমারে-
এ যে ভোলাতে আমারে তোমারই রটনা!

ডাকি গো তোমারে 'এসো বোসো যন্ত্রে'
হ্রীং ক্রীং আদি দেবভাষা মন্ত্রে,
তব শতেক বর্ণনা শতখানা তন্ত্রে;
অন্তে মাগো কিছু কাজে তো এলো না!
কে বুঝিবে তারা তোমার ছলনা!

ভাঙি গড়ি কত শব্দবন্ধ,
আড়ালে টানিল সুর তাল ছন্দ,
কিঞ্চিৎ মনে না হয়েছে সন্দ'
তুমি ফাঁকি দিলে ভাল, ও হরললনা!

বলি মা তোমারে 'ওমা ভবরাণী
পাষাণের মেয়ে হয়েছ পাষাণী,
নাম ধর বটে জগত জননী,
বলি বিশাখেরে মাগো অকুলে ফেলো না!
কে বুঝিবে তারা তোমার ছলনা! 

বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

দেশ বন্দিশ

 

দামিনী দমকত গরজত অতি ঘোর
সাবন রুত আয়ি বরসত চহু ঔর।।
রৈন নিঁদ নাহি, নৈন তরসত,
পিতম পরদেস, বিজুরি চমকত;
বিরহ পবন চলি, পাপিহা করত শোর।।


________

দেশে বাঁধব ভাবছি। 

সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পাষাণের কন্যা তুমি

 

পাষাণের কন্যা তুমি, পাষাণ তোমার হৃদি, 

তোমার তনয় হয়ে কাঁদিতেছি নিরবধি।। 

দিয়াছ ভবের খেলা, তাই লয়ে কাটে বেলা, 

ভুলালি মা গিরিবালা, এত হেলা কেন শুধি! 

ভূতলে প্রপঞ্চ ঘোরে, বাঁধিলি মায়ার ডোরে, 

মা বলে ডাকি তোরে, পায়ে পরে কত কাঁদি? 

না আছে পুণ্যের ফল, না আছে সাধন বল, 

বিশাখের আঁখিজল, তাই দিয়ে তোরে সাধি! 


১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫। 

বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আমি যে দুখেরে ডরি

 


মাগো, আমি যে দুখেরে ডরি!
তাই দুঃখহরা বলে-  পদতলে আছি পরি।
করুণা নয়নে তারা, বিপদে সমুখে দাঁড়া,
দুরিত-পাথারে ওমা, কোন গতি নাহি হেরি!
হয়ে মাগো ধ্রুবতারা, আঁধারেতে দিস সাড়া,
নাম স্মরি- 'জয় তারা' অকূলে ভাসাই তরী!
বিশাখের ভয় মনে, ডুবি মাগো ধনে প্রাণে,
এ ভবের অভিমানে-  ক্ষীন তরী হল ভারী!
মাগো, আমি যে দুখেরে ডরি।।


শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

দুরারাধ্যা ভবদারা

 



দুরারাধ্যা ভবদারা আরাধিতে মন যায়
চারিধারে মায়াকারা, মন তারে নাহি পায়!
পদ্ম-বিল্ব-জবাদলে সঁপি দিব পদতলে
গঙ্গাবারি নেত্রজলে স্নানীয় দি' রাঙাপায়-
তবুও না দিল সাড়া এ জ্বালা বোঝাব কায়?
বাঁধিব কি তন্ত্রবলে? কি ছলে কি কৌশলে?
বিশাখের এ কপালে দুখ না ঘুচিল হায়!
তাপিত তনয় ভনে, তারিণী তোমার মনে
যাহা ইচ্ছা তাহা কর, মনে তব যাহা চায়!
অন্তিমে রাখো কোলে- রহিল মায়ের দায়!












রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

বিফল সাধনে যায়

 


বিফল সাধনে যায় দিবস যামিনী হায়!
বিরলে কথামালা বিলোল সুর ঢালা
সঘনসম গায়- শ্রাবণ চাঁদের গায়।।

নওল তাল জাগে সোহাগে অনুরাগে
পাপিয়া-কূজিত বনে ঝড়ের দোলা লাগে,
তিমিরে ঘেরে রাতি, নয়নে নাহি ভাতি-
গরজে পবন ঘোর, বিজুরী চমকায়।।




বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫

সম্বর ক্ষণকাল

 

বঁধু হে, সঘন-অম্বর, সম্বর ক্ষণকাল- 

এখনি যেয়ো না ফিরে, ঝড়ো বায়ু বিকরাল। 

দুকূলে তিমির হেরি, খেয়াঘাটে নাই তরী; 

দশ দিক গ্রাস করি- শ্রাবণের মায়াজাল- 

নামে ঐ ডমরু ডক্কারে, বনে বনান্তরে-

পরবত, পাথারে, অশান্ত অন্তরে, ক্ষুব্ধ, ভয়াল! 

শবাসনা শেষক্ষণে

 

অযুত দুরিতভারে চলিতে না পারি আর! 

শতধারে দুখধারা বহে আঁখি অনিবার।। 

প্রতি পলে কত ছলে প্রপঞ্চে পরাভূত, 

নাহি দয়া মহামায়া, হেরিয়া পতিত সুত;

হয়েছে বিষয়ব্যাধি, কে করিবে প্রতিকার? 

অনঙ্গ অঙ্গার সম, জ্বলিছে অঙ্গে মম, 

অপাঙ্গে রক্ষ মম, শ্রীপদে দিয়াছি ভার! 

পরে মাগো শরাসনে, কাতরে বিশাখ ভনে, 

শবাসনা শেষক্ষণে কোলে কি নিবিনা আর? 



১৭ জুলাই, ২০২৫। 


সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫

কালী কালবারিণী

 

সগুণা নির্গুণা তারা, মা, লীলাময়ী, হরদারা, 

রে, ব্রহ্মরূপা পরাৎপরা, কালী, কালবারিণী।। 


'ত্বয়ৈব ধার্যতে সর্বং ত্বয়ৈতৎ সৃজ্যতে জগৎ।’ 

জেনেছি মরতভূমে তুমি গো অক্ষয় সম্পদ!

তনয়ে তার গো শিবে, অশিবক্লেশহারিণী।।

রে, ব্রহ্মময়ী পরাৎপরা, কালী, কালবারিণী।। 


বিপন্নে বিতর দয়া, গো জগন্মাতা, মহামায়া, 

তাপিতে বিতর ছায়া, মাগো ভবার্ণবতারিণী।।

রে, ব্রহ্মময়ী পরাৎপরা, কালী, কালবারিণী।। 


অনন্ত অসুখ-ক্লিষ্ট, ওরে বিশাখ নিরয়ে দৃষ্ট, 

মা হয়ে কি অচেষ্ট! বলি অদৃষ্টরে দোষদুষ্ট!

কুপুত্রে জনম দিয়ে, গো ত্যাজিলে কি জননী? 

রে, ব্রহ্মময়ী পরাৎপরা, কালী, কালবারিণী।। 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...