মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

মশাল যাত্রা

 

ঘোর ক্রান্তির দিনে সবাই যে অস্ত্রে শান দেবে তা তো নয়,
কেউ বা, হয়ত আঁধারে মুখ তুলে আকাশে গুনবে তারা!
স্রেফ তোমার দায়টুকু তুমি জেনে নিলেই ভালো, চলো পথ—
রথে বাঁধো রণধ্বজ, তূণীর তোল কাঁধে, বর্ম চাপো নির্ভয়ে।
আর বাকী যদি কেউ না দিল সাড়া, তবু পেছনে চেয়ো না ফিরে,
সমস্ত যেভাবে যাবে যাক— অদ্ভুত  অন্ধকারে বয়ে—
স্রেফ তোমার কাজ মশাল উঁচিয়ে চলা! 

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

বিশাখের নাও অর্ঘ্য

 

মহিষমথনী শোণিতসিক্ত খড়্গ, 

দনুজদলনে রঞ্জিত পাদপদ্মে

সাধক-যাচিত সকল চতুর্বর্গ! 

ওই মুক্ত-চিকুরদামে- বিদ্যুৎ খেলে চমকে, 

অট্টহাস্যে রাত্রি-গগনে- বজ্রনিনাদ দমকে

কম্পিত ত্রাসে- পাতাল-মর্ত্য-স্বর্গ! 

হুংকারে ভয়ে নিভে যায় শত দিবাকর, 

পদসঞ্চারে প্রলয়পবনে মুর্ছিত ওই চরাচর! 

নেত্রত্রয়ে ভুবনবিনাশী অগ্নিগিরির বহ্নি, 

হে মুন্ডমালিকাভূষিতা, হে নগাধিরাজের তন্বী- 

বিশাখের নাও অর্ঘ্য! 

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

হে মহেশ মহাকাল

 



এ বড় বিষাদঘন অসুখ অন্তরাল
কঠিন, অসহ, এ যে কুটিল, করাল।
বক্ষ বিদারি জাগা আর্তের ক্রন্দনে
এ যেন ঘুমিয়ে থাকা কুসুমিত নন্দনে
মরণ-মোহিত সব, কি ভীষণ মায়াজাল!
কি প্রখর বিষজ্বালা পন্নগ দংশনে
তবু সুখ আশে ছুটে চলা নিয়ত অসুখ পানে।
অগ্নিগর্ভ হতে সদা বয় সুর-নদী,
তোমার পারাবারে কোন দিন মিলে যদি;
তারে ফিরায়ো না দীনপতি, হে মহেশ, মহাকাল!




শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬

বয়ান

 

সব সহস্রাব্দ পুরাতন বল্মীকের অন্তরালে যায় ঢাকা।
সুরেরা ছোটে স্রোত হয়ে অলীকতার তীর ধরে ধীরে,
কবিতার পঙক্তি যত নুইয়ে পড়ে বাসি ফুলের মতন,
দর্শনের পৃষ্ঠাগুলো উনুন জ্বালানোর কাজেও বেকার,
আজ সব অর্বুদ কালের গাল-গল্প চায় গিলে খেতে,
গল্পের গরু গাছে চড়ে, যেমন গল্পের ঘোড়া মেলে পাখা!

ফ্যাকাশে কথার কোরকে নীরস মধুপ ঘুমিয়ে গেলে–
অনভিষিক্ত পরাগের বুকভেজা গন্ধ হয়ে জাগে না গান,
সবেতে সং সাজার অভিনব আয়োজন, নিত্য রং মাখা–
মুখে ও মুখোশে ইদানীং শিল্প-সুষমা হয়ে প্রশংসিত সর্বদিকে–
সেখানে দু-চার-দশ গন্ডমুর্খ আজও সত্য যুগের বয়ান ঝাড়ে!

শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

তোমরা কি দেখ

 


তোমরা কি পাখী দেখ না?
দেখ না ফুল— প্রজাপতি — সরালির ঝাঁক—
অথবা নদীর স্রোত— কিম্বা ঝরনার বাঁক?
দেখ না— মুক্ত আকাশ? গতিহারা মেঘপুঞ্জ?
শোন না কেন— শ্যামল বন শোভিত পথে বাতাসের গান?
চোখে কি পড়ে না কোন ভ্রমর-মাতাল ফুলেল কুঞ্জ? কক্ষনো?
তোমরা মেল না কেন প্রাণ— সমুদ্র সাড়া দিলে ঝড়ের বেলা?

কত মাঘের ভোর শুকতারা ডেকে যায় ফিরে—
কেন জাগো না? জাগো না কেন— পূর্ণিমার একটি প্রহর—
চাঁদের সাথে? কেন অমাবস্যার গভীরে যাও না মিশে—
কোন দিন একটি মাত্র রাতে? হৃদয়ে কৃষ্ণগহ্বর—
সে কেন কবিতায় পায় কিছু আর? সে কেন হয় না সর্বনেশে—
মত্ত— বেসামাল— সকল শুদ্ধ স্থবিরতার ভীড়ে!

তোমরা দেখ না খুঁজে তোমাদের কোনদিন!











শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

আমায় তুমি করছ আড়াল

 

আমায় তুমি করছ আড়াল
আঁচল ছায়ে তোমার কোলে,
আমি বড়ই অধীর বাইরে যেতে
বড়ই  ব্যাকুল, দুষ্ট ছেলে!
বিশ্বভুবন দিচ্ছে সাড়া-
'ও তুই চোখ খুলে দেখ, বাইরে দাঁড়া'
আমি ভাল মন্দ জানিনে মা
(ওদের) কথায় গেলাম ভুলে!
তুমি আগলে আছ দু'হাত দিয়ে
মাগো কতই যতন করে,
আমি যতই যেতে চাই মা ছুটে
(তুমি) রাখছ টেনে ধরে!
আমার সব অপরাধ করে ক্ষমা,
কত আদর করছ গো মা,
ছেলে তো মা বখে যাবে
(মাগ) এত আদর পেলে! 

রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫

কার্নিভাল

 

ঢাকের বাদ্যে- ভাঙনের শব্দ কি তুমি পাও?
জলের তোড়ে মিলিয়ে যায় অগুনতি বৃংহিত!
পাঁজরে মোচড় দেয়া মানুষের মৃত্যু কার্নিভাল
তোমাকে কি বিচলিত করে? কিছুটা অন্তত?
এই নটী-নট-বিদূষক বেষ্টিত সিংহাসন ঘিরে
খোশামোদের সুরা-ধারা বয়, তুমি নেশাপ্রমত্ত;
সর্বনাশ সমস্তময় ওই, গ্রাস করে চরাচর ধীরে!
তুমি বল দেখতে কি পাও অসভ্য সভাসদের
পদলেহন-শিল্প ছাড়া ভিন্ন কোন সত্য প্রত্যক্ষ?
এতসব রক্তচোষা পরগাছা মিথ্যুকের ভীড়ে? 

মশাল যাত্রা

  ঘোর ক্রান্তির দিনে সবাই যে অস্ত্রে শান দেবে তা তো নয়, কেউ বা, হয়ত আঁধারে মুখ তুলে আকাশে গুনবে তারা! স্রেফ তোমার দায়টুকু তুমি জেনে নিলেই ...