রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

নতুনতর সাজসজ্জায়

 



সবটুকু বলা হয়ে গেছে।
শোনার ভান ধরে শোনেনি কিছুই যারা
নিতান্ত হেলায়- তাদেরও ধন্যবাদ।!
এই অনন্ত পদযাত্রার পথে
বেলায় বেলায় অনেকটা চলা হয়ে গেছে;
সহযাত্রী হবার ছলে যারা দিয়েছে কাঁটা
পথে বিছিয়ে- তাদেরও ধন্যবাদ!

আমি জানি- এসেছি যখন একভাবে,
কোন না কোনভাবে ফিরেও যেতে হয়!
জানি অনস্তিত্ব আমার ক্ষণিক বেদনাদায়ী
হলেও হতে পারে- এর বেশী কিছু নয়;
আমার আক্ষেপ তাতে তিলমাত্র নেই।

তবে জানি- কোটিবর্ষ পরে হলেও
আমার রক্তছাপ ধরে ঘুরবে কোন পুরনো প্রাণ,
পুরনো পথে, পুরাতনের অমোঘ আহবানে,
নতুনতর সাজসজ্জায়!


মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

আমি দীন- হীন, অতি কাতর প্রাণ হে

 

আমি দীন- হীন, অতি কাতর প্রাণ হে
বিষয়-কলুষিত, দুরাশয়, দুর্মতি
পামর, দুষ্কৃতি, পতিত, ম্লান হে!
আমি বিবিধ অশুভ হে, অচল জড়ভার
বিমূঢ়, শংকিত, বিবেকবর্জিত,
প্রভূত পাপাধার!
মারণ দুখ জরা শাপিত পাষাণ হে!
আমি অধমাধম, নীচ, কপট, শঠ হে!
নিরয়পথগামী ক্ষীন-শকট হে!
তবু চেয়েছি যেতে তব ক্রোড়-কোকনদে,
তুমি বাঁধিলে অধমাধমে এ ভব-মোহমদে
অন্তে দিও মা পদ, বিশাখে ত্রাণ হে! 

বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

আদতে অপ্রয়োজন

 

কেন লিখি কেন গাই? দূরে সরে যাব বলে-

আরও কাছে চলে যাই নগরের কোলাহলে? 

দিনে রাতে সাধা যত রাগিণীর সুর ভুলে? 

যেখান কখনো আর জোটে নাগো কানাকড়ি, 

হাততালি অবিরাম, প্রশংসা ফুলঝুরি, 

অথবা যেখানে নিছক সব প্রগলভ-আলাপন, 

যেখানে অর্থ চায় সুনগ্ন বিনোদন;

কথার কথা হয়ে কত কথা কেঁদে মরে, 

সাজানো কাগুজে ফুল অসকালে যাবে ঝরে-

তেমনও তো নয়, জানি সব মেকি, সব সং,  

তবুও তা যাবে টিকে, ফিকে তো হবে না রঙ!

তামাশার তমসায় আসব-পাত্র ধরে মত্ত দানব 

যদি শুয়ে পড়ে রূপোপজীবিনী বুকে,

চিত্রকরের দল তা-ই আঁকে মহাসুখে!

কেন না বাঁচতে হবে, ক্ষুধা ও তিয়াস সয়ে

কাব্যকলার মোহ মৃতসঞ্জীবনীর হয়ে- 

যত দিক প্রবচন, আমি জানি সবই যে অসার;

আদতে অপ্রয়োজন! 

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

গল্পপ্রমাণ

 

দিনশেষের এই গল্পগুলো নাই বা হল সত্যি যদি

নাই বা হল কারুর সাগর কারুর চোখে ছোট্ট নদী

তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে

হয়ত বন্ধু এই জীবনে, নয়ত জীবন ঝরার পরে। 


আকাশ হয়ে অন্ধকারে চাঁদের খোঁজে তারার মতন

জ্বলতে জ্বলতে নিভতে পারো আলোর পুজি থামবে যখন 

তবু তোমায় জাগতে হবে, গাইতে হবে কন্ঠ ছেড়ে

যদিও তোমার ঘুম লেগেছে, গান আসে না ঘুমের ঘোরে!


হয়ত বাতাস থমকে যাবে ঝড়ের কোন পূর্বাভাসে

পাখীর বুকের কাঁপন হয়ে হয়ত কারুর বেদন ভাসে

নীড়ভাঙা কোন্ গানের হাওয়া, তীরে তীরে ডুকরে কাঁদে

সেই কাঁদনের গুঞ্জনেও হয়ত বা কেউ ঘরটি বাঁধে

চিত্তবিকারশূন্য হয়ে প্লাবনজাগা নদীর ধারে

তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে।। 

শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...

 



আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...
তুমি কোনদিন পারো না জানতে..
তুমি তো দাঁড়িয়ে একই ঠাঁই...

সব কলিগুলো ফুটতে পারে না,
সব অলি পথ চিনতে পারে না,
আমি তাদেরই দলে বিলীন হয়েছি
ঠারেঠোরে তাই গেয়ে যাই....

বোঝা সামান্য-
শত জনমের ভুলে ভরা এক ঝোলা...
বই ধীরেধীরে, দেখি ফিরে ফিরে..
ফেরার পথ কি খোলা?

আমি সাগরের কাছে মুক্তি চেয়েছি
ঘুর্ণির জলে দুঃখে নেয়েছি,
আমি ভেঙে ভেঙে শত টুকরো হয়েছি...
আরও যেন ভেঙে যেতে চাই।

সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

ধ্বজা

 



ধ্বজায় ধ্বজায় ছেয়েছে আকাশ
বাতাসে ভাসছে কোন্দল!
আমারে শুধায় ধ্বজাবাহকেরা-
'মহাশয়, তুমি কোন দল'!

যদি বলি কারো পতাকার নীচে
দাঁড়িয়ে পড়তে দ্বিধা-
অমনি দেখেছি খোলা তরোয়াল
উঁচিয়ে তুলেছে সিধা-

তার আমারই মুন্ডু নিশানায় আছে-
প্রাণধন শুধু সম্বল!
বুঝি তাও রাখা ভার এত হিংসায়
মত্ত যখন মহীতল!

নতুনতর সাজসজ্জায়

  সবটুকু বলা হয়ে গেছে। শোনার ভান ধরে শোনেনি কিছুই যারা নিতান্ত হেলায়- তাদেরও ধন্যবাদ।! এই অনন্ত পদযাত্রার পথে বেলায় বেলায় অনেকটা চলা হয়ে...