তারা সবাই জানে সদুপদেশ, নীতির বাণী, শাস্ত্র-সার,
সাগর-প্রমাণ হৃদয় ওদের, বইছে সদা-ই নয়ন-ধার-
পরের দুখে। সবাই বোঝে ধর্মমর্ম, সবাই জানে কর্ম কি!
শুধু অবোধ আমি বুঝি না ছাই, আমার চোখে বুজরুকি-
সব লাগছে যেন, দেখি কেমন সবাই এখন বেশ চতুর;
হয়ত আমিই সর্বদা ভুল, তাই এই অবধি রই ফতুর!
আহা! নিঃস্বজনের জন্য মায়ায় সবার দেখি প্রাণ কাঁদে,
আমার একলা বুঝি পাষাণ-পরাণ, মন পরে না সেই ফাঁদে!
যারা শোনায় আমায় কিতাব খুলে প্রবচনের ফুলঝুরি,
তারা কেউ আসে না আপদ এলে, গলায় যদি দেয় ছুরি-
কোন রাক্ষসেরই বংশধরে-
যে পুঁথির গল্পে সঁপেনি প্রাণ-
এ জন্মে কি জন্ম-পরে;
তার থাবার ছায়ায় দেখি সবাই-
কেমন করে ভির্মি খায়,
দেখি কেমন করে বাঘের দলে-
শেয়াল দেখে লেজ গোটায়!
এরাই আসে পরলে পাঁকে হাঁতির লেজে টান দিতে,
মুমুর্ষকে মরতে ঠেলে- তাদের মিষ্টি কথার অমৃতে!
যাদের দ্বিমত আছে মরতে এখন, তারাই বুঝি ধরার ভার!
এদের এমনতর বয়ানবাজী- বোঝার আশা পগার-পার!