বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

আদতে অপ্রয়োজন

 

কেন লিখি কেন গাই? দূরে সরে যাব বলে-

আরও কাছে চলে যাই নগরের কোলাহলে? 

দিনে রাতে সাধা যত রাগিণীর সুর ভুলে? 

যেখান কখনো আর জোটে নাগো কানাকড়ি, 

হাততালি অবিরাম, প্রশংসা ফুলঝুরি, 

অথবা যেখানে নিছক সব প্রগলভ-আলাপন, 

যেখানে অর্থ চায় সুনগ্ন বিনোদন;

কথার কথা হয়ে কত কথা কেঁদে মরে, 

সাজানো কাগুজে ফুল অসকালে যাবে ঝরে-

তেমনও তো নয়, জানি সব মেকি, সব সং,  

তবুও তা যাবে টিকে, ফিকে তো হবে না রঙ!

তামাশার তমসায় আসব-পাত্র ধরে মত্ত দানব 

যদি শুয়ে পড়ে রূপোপজীবিনী বুকে,

চিত্রকরের দল তা-ই আঁকে মহাসুখে!

কেন না বাঁচতে হবে, ক্ষুধা ও তিয়াস সয়ে

কাব্যকলার মোহ মৃতসঞ্জীবনীর হয়ে- 

যত দিক প্রবচন, আমি জানি সবই যে অসার;

আদতে অপ্রয়োজন! 

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

গল্পপ্রমাণ

 

দিনশেষের এই গল্পগুলো নাই বা হল সত্যি যদি

নাই বা হল কারুর সাগর কারুর চোখে ছোট্ট নদী

তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে

হয়ত বন্ধু এই জীবনে, নয়ত জীবন ঝরার পরে। 


আকাশ হয়ে অন্ধকারে চাঁদের খোঁজে তারার মতন

জ্বলতে জ্বলতে নিভতে পারো আলোর পুজি থামবে যখন 

তবু তোমায় জাগতে হবে, গাইতে হবে কন্ঠ ছেড়ে

যদিও তোমার ঘুম লেগেছে, গান আসে না ঘুমের ঘোরে!


হয়ত বাতাস থমকে যাবে ঝড়ের কোন পূর্বাভাসে

পাখীর বুকের কাঁপন হয়ে হয়ত কারুর বেদন ভাসে

নীড়ভাঙা কোন্ গানের হাওয়া, তীরে তীরে ডুকরে কাঁদে

সেই কাঁদনের গুঞ্জনেও হয়ত বা কেউ ঘরটি বাঁধে

চিত্তবিকারশূন্য হয়ে প্লাবনজাগা নদীর ধারে

তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে।। 

শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...

 



আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...
তুমি কোনদিন পারো না জানতে..
তুমি তো দাঁড়িয়ে একই ঠাঁই...

সব কলিগুলো ফুটতে পারে না,
সব অলি পথ চিনতে পারে না,
আমি তাদেরই দলে বিলীন হয়েছি
ঠারেঠোরে তাই গেয়ে যাই....

বোঝা সামান্য-
শত জনমের ভুলে ভরা এক ঝোলা...
বই ধীরেধীরে, দেখি ফিরে ফিরে..
ফেরার পথ কি খোলা?

আমি সাগরের কাছে মুক্তি চেয়েছি
ঘুর্ণির জলে দুঃখে নেয়েছি,
আমি ভেঙে ভেঙে শত টুকরো হয়েছি...
আরও যেন ভেঙে যেতে চাই।

সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

ধ্বজা

 



ধ্বজায় ধ্বজায় ছেয়েছে আকাশ
বাতাসে ভাসছে কোন্দল!
আমারে শুধায় ধ্বজাবাহকেরা-
'মহাশয়, তুমি কোন দল'!

যদি বলি কারো পতাকার নীচে
দাঁড়িয়ে পড়তে দ্বিধা-
অমনি দেখেছি খোলা তরোয়াল
উঁচিয়ে তুলেছে সিধা-

তার আমারই মুন্ডু নিশানায় আছে-
প্রাণধন শুধু সম্বল!
বুঝি তাও রাখা ভার এত হিংসায়
মত্ত যখন মহীতল!

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

হোঁৎকা

 

হোঁৎকা এসে জ্ঞান দিয়ে যায় তার হিসেবেই চলতে খালি!
অন্ধ বলেই জানি তারে, আর নাইবা হলাম চোখের বালি!
এক কানে তার ঢুকিয়ে বুলি, অন্য কানের বাইরে ফেলি
তবু গায়ের ওপর পড়লে এসে, চটাস চটাস বাজাই তালি!
হোঁৎকা বলে 'এ কি রে ভাই! বিশাখ ব্যাটাও ঠ্যাঙায় নাকি!
ভেবেছিলাম নরম গায়ে, সুযোগ পেলেই পঙ্ক মাখি!'
এখন অঙ্ক দেখি পালটে গেছে- 'কয়লা যায় না ময়লা ধুলে'
পদ্ম ভাবে 'ব্যাটা তৃণতুল্য' আর তৃণ বলে 'ও তো পদ্মফুলে'!
যত ঢ্যামনা এসে গাল পেড়ে যায় - এতই কেন তফাৎ বলি!
আমার ধ্বজা কেবল একটি ধরা, তাতে লেখা 'জয় মা কালী'! 

কালী! এই ছিল মা তোর মনেতে

 



কালী! এই ছিল মা তোর মনেতে এতদিনে গেল জানা!
ষোলআনার ভাগ চেয়েছি, দিলিনে এক আধুলি আনা!
তুই কারে রাখিস সিংহাসনে, কারে রাখিস আঁখির কোণে,
কেবল বিশাখে পড়ে না মনে, তার বেলা মা রইলি কানা!
আমার ভাগ্যে সদা সাড়ে স্বাতী, যমের দ্বারে নিচ্ছি গতি
দুর্গমেতেও কি দুর্মতি! ওমা ভবের জ্বালা আর ঘোচে না!
আমি নিশীথে একাকী লিখি- মা হয়ে দিলিরে ফাঁকি-
এ হিসেব আমার বুঝতে বাকী- হচ্ছে কি বল কান্ডখানা!




আদতে অপ্রয়োজন

  কেন লিখি কেন গাই? দূরে সরে যাব বলে- আরও কাছে চলে যাই নগরের কোলাহলে?   দিনে রাতে সাধা যত রাগিণীর সুর ভুলে?   যেখান কখনো আর জোটে নাগো কানাকড়...