বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

 

আমি বাঙালী! ঘোরতর মেছো বাঙালী! নিত্য মাছ না জুটলে আমার রোচে না! আমার বাড়ীর কালী ঠাকুর দিব্যি মাছ খান! চিরকাল খাবেন! কাল যদি কেউ এখানে কেউ বলে ‘সাবনকে মাহিনা মে ইয়ে লোক মাটন খা রাহা হে’- আমি তার মুখে ঝামা ঘসে দেব! আমি বিরিয়ানি সর্বদা মুসলিম দোকান থেকেই কিনে খাই! ওরা ছাড়া মুঘল রেসিপি ভাল করতে পারে না কেউ! আমি শাহী খাবারের জন্য মুসলিম বাবুর্চি খুঁজি! রিসেন্টলি একটা ভাল মুসলিম খাবার হোটেল পেয়েছি- যাদের অতুলনীয় রান্না- অনেক দূর আমার বাড়ি থেকে- আমি পেটে খিদে নিয়ে ওখানে যাই! এতে আমার বাঙলিত্ব হিন্দুত্ব কোনটাই সংকটাপন্ন হয়নি! আমার সাধারণ মুসলমানদের সাথে প্রতি কোন দ্বেষ নেই। আমার বন্ধুবর্গে মুসলমানের অভাবও নেই! কাল যদি কেউ আমার এই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায়- আমি আলবাত তার বিপক্ষে যাব! 


আমি দুর্গাপূজার ভাসানে নাচতে যাওয়া বাঙালী! মহরমের মিছিল যাবে বলে আমার ভাসান বন্ধ করে দেওয়াকে আমি সম্প্রীতি মানতে পারিনি! আমি এর বিরুদ্ধে থেকেছি! মুসলমান সমাজের উন্নতিকল্পে যে সরকার স্কুল-কলেজ না খুলে মাদ্রাসা খুলে দিয়েছে- আমি তার সর্বদা বিনাশ চেয়েছি! কেন না এরা মুসলমানদের উন্নতির ছলে একটা radical মুসলিম জনশক্তি গড়তে চেয়েছে আগাগোড়া যা স্রেফ ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ লাগবে- এবং এদেরকে ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের বিপরীতেও দাঁড় করানো যাবে! আমি ঘৃণা করেছি- এই নির্লজ্জ মুসলিমতোষণ! আমি চাই এই দেশের প্রত্যেক ধর্মের মানুষ সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করুক! কেউ আমার ওপরে না চড়ুক, এবং কাউকে আমার নীচে যেন নেমে আসতে না হয়!   

আমি পূজার নামে ক্লাবে ক্লাবে পয়সার ছড়াছড়ি আর মদ-মাতালের নোংরামো মানতে পারি না, রাতভর শব্দদূষণকে আমি ঘৃণা করি- করবও! আমি civic sense রক্ষার পক্ষে! ডিজে বাজিয়ে কালীপূজা হোক বা হনুমান পূজা- কোনটিকেই আমি রুচিসম্মত ভাবতে পারি না! আমি বিশ্বাস করি ধর্মাচরণ মানুষ আত্মিক বিকাশের জন্য- যদি ধর্মাচরণ সাম্যাজিক উৎপাতের কারণ হয়- আমি তার বিপক্ষে আছি, ছিলাম, থাকব! আমি রাস্তা বন্ধ করে পূজা পরিচালনা করার পক্ষেও নই, রাস্তা আটকে নামাজ পরার সমর্থকও নই! আমি আমার দেশটির আধুনিকায়ন চাই! 

আমি চাই আমরা জ্ঞানে বিজ্ঞানে শিল্প সাহিত্যে বিকশিত হব! আমি ধর্মের নামে দিকে দিকে fraudstar দের আবির্ভাবকে মেনে নিই না! আমি জাকির নায়েককে যেমন সহ্য করতে পারি না, তেমনি ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকেও নয়! আমি বিবেকানন্দপন্থী মানুষ! আমি উগ্রতার বিরুদ্ধে! ধর্মজগত যদি এই সমাজ থেকে rationalism উৎখাত করতে চায়- আমি সেই ধর্মজগত থেকেই বরং বেরিয়ে যাব! তার মানে যদি কেউ ভেবে থাকে আমার বিবেকানন্দকে কার্ল-মার্ক্স দিয়ে অপসারিত করা দরকার- আমি তার আর জাকির নায়েকের মধ্যে ফারাক দেখব না! 


আমার দেশাত্মবোধ সূর্যসেন-প্রীতিলতাদের আদর্শে গড়া! আমার nationalism সুভাষ-ছত্রছায়ায় বেড়েছে! যে সুভাষকে গালি দিয়ে লেলিনকে বরণ করতে বলবে- সে আমার বন্ধু কস্মিনকালেও নয়- এ কথা স্পষ্ট করে বলতে আমি দ্বিধান্বিত নই! আমি যে rationalism এর ধুয়া তুলে আমার বাপ-দাদা-চৌদ্দ পুরুষের সংস্কার থেকেও নিজেকে সরিয়ে রাখতে কুণ্ঠিত হব না- সেখানে মার্ক্সবাদ নামক আরেকটা ধর্মানুশীলন আমি মানব এমন আশা করা যায় না? Marx এর সব কিছু rational নয়! Marx কে যারা নব্য ভগবান হিসেবে অর্চনা করে তারা আরেক ভিন্ন শ্রেণীর radical! 


আমি একটি জ্ঞানে বিজ্ঞানে অগ্রসারমান, সুস্থ নাগরিক জীবন-সমৃদ্ধ সমাজব্যবস্থা চাইছি! এই চাওয়া নিকট ভবিষ্যতে পরিপূরণ হওয়া অসম্ভব দেখাতে পারে! কিন্তু দূর ভবিষ্যতে একেবারেই অসম্ভব নয়। এই চাওয়া কোন utopian concept এর ওপর নয়! এমন নয় যে ধর্ম সামনে এসে গেলে এই চাওয়া বাস্তবায়ন হয় না! যে সব দেশে রাষ্ট্রপ্রধাণ আজও বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেয় সে সব দেশ উচ্ছন্নে যায়নি! অতএব 'রাষ্ট্রপ্রধান কেন ধার্মিক হবে'- এই জাতীয় উদ্ভট বামমনস্ক হাস্যকর কথাবার্তায় আমার শ্রদ্ধা নেই! সমস্যা রাষ্ট্রপ্রধানের ধর্ম নিয়ে নয়, সমাজের ধর্মানুভূতির বাঁচা-মরা নিয়ে নয়- সমস্যা তখন হয়- যখন একটা রাষ্ট্রের সমস্ত কার্যপ্রণালী ধর্মীয় কিতাবের ওপর নির্ভরশীল! যেমন ধরুন ‘শরীয়া-কানুন’! আজকে সৌদি-আরব পর্যন্ত এই কানুন শিথিল করার পথে হাঁটছে! তেমনি আমার দেশ ধর্ম মানুক, আলবাত মানবে- কিন্তু তার রাষ্ট্রপরিচালনা ‘মনুসংহিতা’ মেনে হবে না! 


বিজেপি এসে গেল বলে দেশটা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, বাঙালীত্ব বিপন্ন হচ্ছে বলে যে সব বাম-কান্নার রোল উঠেছে- তাতে আমার করুণা জাগে না! তবে বিজেপি যদি আমার ওপরে লেখাগুলোর বিপরীতে হাঁটে- তবে নির্ঘাৎ সেদিন আমি বিজেপির বিপক্ষেই কথা বলব! শতভাগ বলব। আলবাত বলব, যেমন বলি! দেশের প্রধাণমন্ত্রী পূজা-অর্চনা করছেন, করবেনই! কিন্তু তিনি যখন ভোটের আশায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী কিম্বা জাজ্ঞি বসুদেবের সাথে মঞ্চ ভাগ করেন- আমি তার কঠোর সমালোচনা করি! অবশ্য ক্ষমতালিপ্সু মমতা ব্যানার্জির মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ভড়ং এর চাইতে এটা মন্দ নয়! শুভেন্দু বাবুর আদিত্যনাথকে প্রণাম করে বিবেকনন্দের সাথে তুলনাও আমার কাছে লজ্জাজনক! আমি জানি প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দোষ আছে। তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় আমি কাউকে না কাউকে দেশের ভার সঁপে দিতে বাধ্য! সেখানে আমরা সবাই অসহায়! তবে আমাদের অসহায়ত্ব যদি দেশটাকে আঁধারে ঠেলে- তখন একটু জাগতে হবে বইকি! এমনকি আপনার ভালবাসার দলটিকেও সমালোচনা করতে শিখুন- ধৃতরাষ্ট্র হয়ে গেলে- তার পথভ্রষ্ট হওয়া অনিবার্য! 

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

হীরকরাণী

 

মাথায় তোমার হীরের মুকুট 

আমরা খুঁড়ি কয়লা খনি, 

সেই কয়লা-খোঁড়া হীরের সাজে

বেশ তো ছিলে হীরকরাণী! 


কত ডাকাতদলের সর্দারেরা

পদানত তোমার সভায়,

নটনটী ভাঁড় কত গো-

নিত্য তোমার মহিমা গায়! 


তোমার সইল না সে সুখের সুদিন

দম্ভে হলে রাক্ষসিনী, 

যারা তোমার তুলল ধ্বজা

তুমি তাদের জন্য দণ্ডপাণি-


বিনা পাপের শাস্তি দিতে

তিলে তিলে মারলে পিষে, 

বুঝলে না তো একই ভাগ্য- 

তোমার ঘনায় সবার শেষে!  




আমার রাজনৈতিক পরিচয়

 

আমার রাজনৈতিক পরিচয়ঃ

_______________

আমার এই চ্যানেলে আমি মাঝেমধ্যেই আমার নানাবিধ সমাজভাবনার প্রাসঙ্গিক বক্তব্য তুলে ধরলেও কখনো আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করিনি- কেন না আমি ভেবেছি ওটা একান্তই আমার ব্যক্তিজীবনে থাক- এবং আমার এই সঙ্গীতচিন্তার বিশুদ্ধ ক্ষেত্রটিকে আমি রাজনৈতিক ক্যাঁচালের রঙ্গশালা যেন বানিয়ে না ফেলি। তবে আমাদের সামাজিক পরিসরের বিরাট অংশ যে প্রত্যক্ষ রাজনীতির প্রভাব-বলয়ে আছে- এ কথা অস্বীকার করার তো সুযোগ নেই। তাই যখন সমাজের কোন চিত্র রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত হয়েছে এবং তাতে আমার মনে আপত্তি জেগেছে- তখনই আমি সরব হয়েছি- কদাচিৎ! আমার এখনো মনে আছে- যখন বামভাবাপন্ন একটি গোষ্ঠী বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে মা কালী নিয়ে প্রহসন করেছিল- তখন আমি সরাসরিই এই চ্যানেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম- এবং এই চ্যানেলেরই একাংশ secular gang আমাকে তখন ‘চাড্ডি’ ডাকতে দেরী করেনি! আমি আলবাত ষোল-আনা হিন্দু, এবং আমি এর certificate যেমন কারো কাছ থেকে জোগাড় করিনি- তেমনি আমার hindu-identity কোথাও আহত হলে আমি তাকে defend করতেও একচুল পিছপা নই! একই ভাবে যখন কতিপয় হিন্দুত্ব-ধ্বজাধারীদের আগ্রাসী মনোভাব দেখে কখনো মনে হয়েছে- আমার কাছে- ক্ষেত্রবিশেষে আমার ধর্ম ও সংস্কৃতির misinterpretation হচ্ছে- তখনো আমি নিজের মতন বক্তব্য তুলে ধরেছি! (এই ক’দিন আগেই তো তেমন এক কাণ্ড হল!) আমি তখন নব্যহিন্দুদেরও target এ পরে গেলাম! কেন না আমি তাঁদের মনোনীত শ্রীরামকে মান্যতা দিতে মাইকেল মধুসূদনকে গালাগাল করা- তাকে সংস্কৃতি হিসেবে মেনে নিই না, হিন্দুত্ব হিসেবেও নয়! সর্বোপরি আমি নিজেকে rational side এ রাখতেই ভালবাসি! আমি জানি আমার এই ভূমির ঐতিহ্যে হিন্দুত্ব ও নাস্তিক্যের মধ্যেও দ্বন্দ্ব নেই! অতীতে ছিল না! সাভারকারপন্থীরাও হয়ত সাভারকারের ধর্মবিশ্বাস ও হিন্দুত্বের প্রসঙ্গ কখনো বই খুলে পড়ে দেখেনি! যেটাই হোক- আমার rational অবস্থান- আমাকে কোন উগ্রপন্থীদের কাছেই গ্রহণযোগ্য করেনি! আমি সাধারণ হয়ে সাধারণের কাছেই আছি! Urban-naxals বলুন, pro-hindu বলুন, BJP-TMC-Congress- যাদের কথাই বলুন না কেন- আমি ভাল করলে ভাল বলেছি- খারাপ করলে খারাপ! যেহেতু কোন দলের প্রতি আমার আনুগত্য নেই- তাই আমার রাজনৈতিক অবস্থানও পরিচ্ছন্ন নয়! কেন না এই সময়টা polarisation এর হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্রীভাবে! এখানে আপনার স্বাধীন ব্যক্তি-মতামতকে কোন না কোন দলভুক্ত করতে না পারলে তার validation হচ্ছে না! এবং এখানেই আমার মতন লোকের বিপদ! শুধু বিপদ নয়- আমরা অবাঞ্ছিত এবং অস্তিত্ব সংকটের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি- অন্তত রাজনীতির আলোচনায়! আমরা যারা political position বোঝাতে গেলেই- Betrand Russel, Friedrich Nietzsche ধর্মী কিছুটা Antiestablishmentarianism ধাঁচের কথাবর্তা বলি- তখন আমরা নিজেরাই বুঝি- আমরা এমন কিছু দার্শনিক তত্ত্বের মধ্যে আছি যার প্রায়োগিক বাস্তবতা বলে কিছু নেই- বলা যায় Marxism ও এরকম utopian কিছুই! অতএব ওসব কথা দার্শনিকতার বাইরে না চর্চিত হলেই ঠিক! বিরত থাকি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তত্ত্বজ্ঞান বিতরণে- ওটা আমার কাজ যেমন নয়- তেমনি আমি শতভাগ নিশ্চিত যে আমার কথার না থাকবে গ্রহণযোগ্যতা, না আছে এর কোন impact! অতএব আমার এত কথায় কি আসে যায়! স্রেফ ভাট বকা সার হবে! এর মানে কি আমি apolitical? না তাও তো নয়! আমি রাজনৈতিক ভাবনায় একজন গণতন্ত্রপন্থী, anti-anrchism পন্থী স্বাধীন নাগরিক। আমি আমার এবং আমার সহনাগরিকদের উন্নতিকল্পে কিছু বলার হলে তাতে নীরব থাকাও সমীচীন মনে করিনি! তবে আমার কথা বলারও সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র আছে! আমি রাজনীতিবিদ নই যে আমার সামাজিক-জীবনযাত্রার সর্বত্রই আমাকে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বাঁচতে হবে! এবং আমার খারাপই লাগে যখন দেখি একটা গোটা সমাজ রাজনৈতিক polarisation এর চক্করে- কোন কিছুই আর রাজনীতি-ব্যতিরেকে ভাবতেই পারে না! প্রত্যেক কথার ভেতর সর্বদা রাজনীতির গন্ধ আবিষ্কারের এক বিদঘুটে behavioral pattern জন্মে গেছে জনমানসে! এই পরিবেশটা কি খুব ভাল কিছু? এর পরিণামই বা খুব সুন্দর কিছু বয়ে আনতে চলেছে? এবং এই যে মতবিরোধ দেখা গেলেই তাকে কায়মনোবাক্যে সংঘর্ষমুখী করে ফেলার যে প্রবণতা ক্রমবর্ধমান- এ কি অত্যন্ত সুশ্রী? এও জানি এটাই বাস্তবতা এবং এটাই চলবে! আমার ভাল লাগা না লাগায় কোন তফাত আসবে না! 


আমার রাজনীতি খুব স্পষ্ট- আমার রাজনীতি আমার ভব্যতা বোধ, রুচিবোধ, আমার মানবিক-বোধকে গলা টিপে মারার জন্য নয়! আমার রাজনীতি আমার নাগরিক অধিকারকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য! আমার রাজনীতি- কোন দলের দলদাসে রূপান্তরিত হবার জন্য নয়- আমার রাজনীতি বরং আমার সহানুভূতিপ্রাপ্ত দলটিকেও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সমালোচনা করার জন্য- যখন আমি বুঝি তার প্রয়োজন পড়ে! আমার আস্থা কখনোই কোন ‘মোদী ম্যাজিক’ কিম্বা ‘দিদি ম্যাজিক’ এর ওপর নেই! আমি ব্যক্তিপূজারী নই! আমি idealist! যেখানে ideological বৈপরীত্য আসবে- আমি সেখানে আমার মতন অবস্থান নেব। এবং আমার বক্তব্য যতটাই রাজনৈতিক বিচারে অর্থহীন শোনাক না কেন- আমি তার অর্থবহতা প্রমাণ করতেও দায়বদ্ধ নই- কোথাও নই- কারও কাছেও নই।


___ 


ইউটিউবে লেখা

সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

ঝালমুড়ি

 

সোনা দিয়ে মোড়া মসনদে তুমি..

ভাঁড় বিদূষক লাঠিয়াল আছে ঘিরে… 

কপালে তোমার স্বেদবিন্দুর ছোঁয়া… 

আশা-ভরসার তরণী ডুবেছে ধীরে… 


দানবের থাবা, রাক্ষুসে ক্ষুধা… 

সোল্লাসে খেলো জনপদ… 

রক্তে ভেসেছে মা-মাটি-মানুষ… 

তুমি ধরে বসে ছিলে মসনদ… 


বাতাসে এখন ঘনিয়ে উঠেছে-  

পদচারণার ধূলি…

মানুষ আসছে ক্ষিপ্র গতিতে ধেয়ে… 

এখনো তোমার দু’চোখে কিসের ঠুলি?


তুমি লোকগাথা হয়ে থেকে যাবে বুঝি… 

যেমন চাঁদের বুড়ি… 

চপশিল্পের সময় ফুরালো বলে… 

জেগে ওঠে ঝালমুড়ি… 


:p 

শনিবার, ২ মে, ২০২৬

অবারিত পাপস্রোতে

 



অবারিত পাপস্রোতে দুষ্কৃতি ভেসে যায়
আমারে রাখিবে বাঁধি, এ ভবে কাহার দায়?
বাসনার ভ্রমজালে আসিয়া অকুস্থলে
হেরি একা বিপন্ন,  চারিধারে কেহ নাই!
হৃদয়ে দুরিতভার, পিষে মারে অনিবার
নিত্য অনল দাহ জ্বলে মম ক্ষীণ কায়!
পান করি হলাহলে, পলে পলে যাই ভুলে
সুধানির্ঝর জলে, মূঢ়মতি নাহি ধায়!

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

চন্দ্রভাল রুণ্ডমাল

 

চন্দ্রভাল রুণ্ডমাল কর-কপাল ভস্মঅঙ্গ

পঞ্চবদন নাগভূষণ ধরত তাল গিরিজাসঙ্গ! 

পিনাক-চন্দ্রহাস-ত্রিশূলধারী ত্রিপুরারি

বাজত ডমরু সোহত রঙ্গ! 


আহীর ভৈরবে বন্দিশটি রচনা করে ক্লাসে শেখালাম। 

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

আমি এই বাংলা ছেড়ে যাব

 

তুমি যেখানে রও, থাকো।
আমি এই বাংলা ছেড়ে যাব,
ফেলে যাব তার নদীতট, শ্যামল ঘাসের মাঠ,
বটের ছায়া, আম্রমুঞ্জরীঘ্রাণ-
আমি চলে যাব একদম অন্য কোথাও
যেখানে আমার সাধের গান
যত, কবিতার ছত্র পাখা মেলতে পারে অবাধে,
যেখানে আজও রক্ষিত উদ্ভ্রান্তের যথোচিত স্থান
সসম্ভ্রমে ছেড়ে দেয় চতুরের দল!

  আমি বাঙালী! ঘোরতর মেছো বাঙালী! নিত্য মাছ না জুটলে আমার রোচে না! আমার বাড়ীর কালী ঠাকুর দিব্যি মাছ খান! চিরকাল খাবেন! কাল যদি কেউ এখানে কেউ ...