সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

মন তুমি তায় কান দিয়ো না

 

মন তুমি তায় কান দিয়ো না।
তুমি দুধের বাটি সামনে পেয়ে, কথার ছলে ঘোল খেয়ো না!

কে দেয় গালি, কে দেয় তালি, না শুনে মন জপ কালী,
মন তুমি ভাই চলবে সোজা, কথায় ভুলে পথ ভুলো না!

ভবের বোঝা হইলে ভারী, কেউ রবে না মন তোমারি
মন তুমি সমেত ডুববে তরী, কাণ্ডারী আর কেউ হবে না!

বিশাখ ভনে এ ভুবনে - মন তুমি রও আপন মনে
পদপঙ্কজেতে মন লাগিয়ে পঙ্কে যেন পা ফেলো না! 

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

পগার পার

 

তারা সবাই জানে সদুপদেশ, নীতির বাণী, শাস্ত্র-সার, 

সাগর-প্রমাণ হৃদয় ওদের, বইছে সদা-ই নয়ন-ধার- 

পরের দুখে। সবাই বোঝে ধর্মমর্ম, সবাই জানে কর্ম কি!

শুধু অবোধ আমি বুঝি না ছাই, আমার চোখে বুজরুকি-

সব লাগছে যেন, দেখি কেমন সবাই এখন বেশ চতুর; 

হয়ত আমিই সর্বদা ভুল, তাই এই অবধি রই ফতুর! 

আহা! নিঃস্বজনের জন্য মায়ায় সবার দেখি প্রাণ কাঁদে, 

আমার একলা বুঝি পাষাণ-পরাণ, মন পরে না সেই ফাঁদে!

যারা শোনায় আমায় কিতাব খুলে প্রবচনের ফুলঝুরি, 

তারা কেউ আসে না আপদ এলে, গলায় যদি দেয় ছুরি-

কোন রাক্ষসেরই বংশধরে- 

যে পুঁথির গল্পে সঁপেনি প্রাণ-

এ জন্মে কি জন্ম-পরে; 

তার থাবার ছায়ায় দেখি সবাই-

কেমন করে ভির্মি খায়, 

দেখি কেমন করে বাঘের দলে- 

শেয়াল দেখে লেজ গোটায়! 

এরাই আসে পরলে পাঁকে হাঁতির লেজে টান দিতে,

মুমুর্ষকে মরতে ঠেলে- তাদের মিষ্টি কথার অমৃতে! 

যাদের দ্বিমত আছে মরতে এখন, তারাই বুঝি ধরার ভার! 

এদের এমনতর বয়ানবাজী- বোঝার আশা পগার-পার! 

 

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

ভেবেছি পুজিব পদ মানসকুসুমদলে

 

ওমা, ভেবেছি পুজিব পদ মানসকুসুমদলে 

হেরি এ কুসুম কীটদষ্ট, আমারই করম ফলে! 

আমি মুরতি আনিয়ে ঘরে, বসালেম আসনে পরে, 

শুধু হৃদয়ে মা ঠাঁই হল না, এ ভেবে পরাণ জ্বলে! 

আলোকে আরতি করি, প্রদীপে তুলিয়া ধরি, 

তবু নয়নে আঁধার হেরি, বুক ভাসে আঁখিজলে। 

ওমা, বিশাখের এ বাসনা, অন্তে নিদয়া হয়ো না, 

যেন দুর্গা বলে যেতে পারি ও রাঙা চরণতলে! 

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

মশাল যাত্রা

 

ঘোর ক্রান্তির দিনে সবাই যে অস্ত্রে শান দেবে তা তো নয়,
কেউ বা, হয়ত আঁধারে মুখ তুলে আকাশে গুনবে তারা!
স্রেফ তোমার দায়টুকু তুমি জেনে নিলেই ভালো, চলো পথ—
রথে বাঁধো রণধ্বজ, তূণীর তোল কাঁধে, বর্ম চাপো নির্ভয়ে।
আর বাকী যদি কেউ না দিল সাড়া, তবু পেছনে চেয়ো না ফিরে,
সমস্ত যেভাবে যাবে যাক— অদ্ভুত  অন্ধকারে বয়ে—
স্রেফ তোমার কাজ মশাল উঁচিয়ে চলা! 

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

বিশাখের নাও অর্ঘ্য

 

মহিষমথনী শোণিতসিক্ত খড়্গ, 

দনুজদলনে রঞ্জিত পাদপদ্মে

সাধক-যাচিত সকল চতুর্বর্গ! 

ওই মুক্ত-চিকুরদামে- বিদ্যুৎ খেলে চমকে, 

অট্টহাস্যে রাত্রি-গগনে- বজ্রনিনাদ দমকে

কম্পিত ত্রাসে- পাতাল-মর্ত্য-স্বর্গ! 

হুংকারে ভয়ে নিভে যায় শত দিবাকর, 

পদসঞ্চারে প্রলয়পবনে মুর্ছিত ওই চরাচর! 

নেত্রত্রয়ে ভুবনবিনাশী অগ্নিগিরির বহ্নি, 

হে মুন্ডমালিকাভূষিতা, হে নগাধিরাজের তন্বী- 

বিশাখের নাও অর্ঘ্য! 

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

হে মহেশ মহাকাল

 



এ বড় বিষাদঘন অসুখ অন্তরাল
কঠিন, অসহ, এ যে কুটিল, করাল।
বক্ষ বিদারি জাগা আর্তের ক্রন্দনে
এ যেন ঘুমিয়ে থাকা কুসুমিত নন্দনে
মরণ-মোহিত সব, কি ভীষণ মায়াজাল!
কি প্রখর বিষজ্বালা পন্নগ দংশনে
তবু সুখ আশে ছুটে চলা নিয়ত অসুখ পানে।
অগ্নিগর্ভ হতে সদা বয় সুর-নদী,
তোমার পারাবারে কোন দিন মিলে যদি;
তারে ফিরায়ো না দীনপতি, হে মহেশ, মহাকাল!




শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬

বয়ান

 

সব সহস্রাব্দ পুরাতন বল্মীকের অন্তরালে যায় ঢাকা।
সুরেরা ছোটে স্রোত হয়ে অলীকতার তীর ধরে ধীরে,
কবিতার পঙক্তি যত নুইয়ে পড়ে বাসি ফুলের মতন,
দর্শনের পৃষ্ঠাগুলো উনুন জ্বালানোর কাজেও বেকার,
আজ সব অর্বুদ কালের গাল-গল্প চায় গিলে খেতে,
গল্পের গরু গাছে চড়ে, যেমন গল্পের ঘোড়া মেলে পাখা!

ফ্যাকাশে কথার কোরকে নীরস মধুপ ঘুমিয়ে গেলে–
অনভিষিক্ত পরাগের বুকভেজা গন্ধ হয়ে জাগে না গান,
সবেতে সং সাজার অভিনব আয়োজন, নিত্য রং মাখা–
মুখে ও মুখোশে ইদানীং শিল্প-সুষমা হয়ে প্রশংসিত সর্বদিকে–
সেখানে দু-চার-দশ গন্ডমুর্খ আজও সত্য যুগের বয়ান ঝাড়ে!

মন তুমি তায় কান দিয়ো না

  মন তুমি তায় কান দিয়ো না। তুমি দুধের বাটি সামনে পেয়ে, কথার ছলে ঘোল খেয়ো না! কে দেয় গালি, কে দেয় তালি, না শুনে মন জপ কালী, মন তুমি ভাই চল...