বিশাখদত্ত
যা মনে আসে লিখি। ভাল লাগলেও লিখি, না লাগলেও লিখি। কারো ভাল লাগা না লাগার ওপর আমার কোন ঔৎসুক্য বা অভিমান নেই!
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...
তুমি কোনদিন পারো না জানতে..
তুমি তো দাঁড়িয়ে একই ঠাঁই...
সব কলিগুলো ফুটতে পারে না,
সব অলি পথ চিনতে পারে না,
আমি তাদেরই দলে বিলীন হয়েছি
ঠারেঠোরে তাই গেয়ে যাই....
বোঝা সামান্য-
শত জনমের ভুলে ভরা এক ঝোলা...
বই ধীরেধীরে, দেখি ফিরে ফিরে..
ফেরার পথ কি খোলা?
আমি সাগরের কাছে মুক্তি চেয়েছি
ঘুর্ণির জলে দুঃখে নেয়েছি,
আমি ভেঙে ভেঙে শত টুকরো হয়েছি...
আরও যেন ভেঙে যেতে চাই।
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
হোঁৎকা এসে জ্ঞান দিয়ে যায় তার হিসেবেই চলতে খালি!
অন্ধ বলেই জানি তারে, আর নাইবা হলাম চোখের বালি!
এক কানে তার ঢুকিয়ে বুলি, অন্য কানের বাইরে ফেলি
তবু গায়ের ওপর পড়লে এসে, চটাস চটাস বাজাই তালি!
হোঁৎকা বলে 'এ কি রে ভাই! বিশাখ ব্যাটাও ঠ্যাঙায় নাকি!
ভেবেছিলাম নরম গায়ে, সুযোগ পেলেই পঙ্ক মাখি!'
এখন অঙ্ক দেখি পালটে গেছে- 'কয়লা যায় না ময়লা ধুলে'
পদ্ম ভাবে 'ব্যাটা তৃণতুল্য' আর তৃণ বলে 'ও তো পদ্মফুলে'!
যত ঢ্যামনা এসে গাল পেড়ে যায় - এতই কেন তফাৎ বলি!
আমার ধ্বজা কেবল একটি ধরা, তাতে লেখা 'জয় মা কালী'!
কালী! এই ছিল মা তোর মনেতে এতদিনে গেল জানা!
ষোলআনার ভাগ চেয়েছি, দিলিনে এক আধুলি আনা!
তুই কারে রাখিস সিংহাসনে, কারে রাখিস আঁখির কোণে,
কেবল বিশাখে পড়ে না মনে, তার বেলা মা রইলি কানা!
আমার ভাগ্যে সদা সাড়ে স্বাতী, যমের দ্বারে নিচ্ছি গতি
দুর্গমেতেও কি দুর্মতি! ওমা ভবের জ্বালা আর ঘোচে না!
আমি নিশীথে একাকী লিখি- মা হয়ে দিলিরে ফাঁকি-
এ হিসেব আমার বুঝতে বাকী- হচ্ছে কি বল কান্ডখানা!
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
গণতান্ত্রিক হতে গেলে আপনাকে দিকে দিকে লিংকনের ছবি ঝোলাতে হয় না, ভাস্কর্য বসাতে হয় না মোড়ে মোড়ে! গণতন্ত্রের কিছু criticism থাকতে পারে, অবশ্যই আছে- তবে তার একটা বিশেষ flexibity রয়েছে, মানে লিংকনের প্রদত্ত definiton থেকে বোঝালে - ‘By the pepole, for the people’- এটাই flexibilty রেখেছে, এটাই তার শক্তি এবং একইসাথে এটাই বড় loophole! যে দেশে যেমন মানুষের ভাবনা তেমন আকারে প্রতিফলিত হবার সুযোগ আছে গণতন্ত্রের রাজনীতিতে! আমেরিকায় কেমন গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো- জরুরী নয় সেটা বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশের জন্য আদর্শ! কোন একটা দেশের মানুষ তাদের নিজেদের সামাজিক প্রকৃতি অনুযায়ী ভাবতেই পারে ভিন্ন একটা কাঠামোর কথা। শত বছর আগে আমেরিকানরা কি ভেবেছে সেটাকে আজ অবধি আমাকে মেনে নিতে হবে তা নয়! আব্রাহাম লিংকনের democracy কে আমরা modify করতে পারি- আব্রাহাম লিংকনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাও আমরা রাখতে পারি- এবং আমাদের আব্রাহাম লিংকনের পূজাপদ্ধতি চালু করার দরকার পরে না, তার ভাবমূর্তি ও মূর্তি কোনটাই প্রতিষ্ঠা করার একদমই প্রয়োজন হয় না! এখানে লিংকনের মতবাদের সাথে লেলিনের মূর্তি ও ভাবমূর্তির দ্বন্দ্ব! রবীন্দ্রনাথ যে কারণে বলেছিলেন জার-তন্ত্র ও বলশেভিজম একি দানবের পাশ-মোড়া কথাটা এ অর্থেও সত্য! উভয়ই একটা মূর্তিকে আরেকটা মূর্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠাপিত করতে চেয়েছে- তা লোকে মানুক বা মানুক! দেড়শ বছর আগের কোন রাজনৈতিক মতবাদ যদি দেশ ও সমাজের প্রয়োজনে flexible হতে না পারে- সে জনসমর্থন হারাতেই পারে, তাতে চকিত হবার কারণ নেই- বিশেষত সে সব দেশে যেখানে মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা প্রায় শূন্য, মানুষ যাকে তাকে ভোট দিয়ে কেবল শান্তিতে বাঁচতে চায়- এবং যেখানে প্রতিটি দলেই স্বার্থান্বেষী নেতায় ভরা! গণমানুষের রাজনীতি করতে গেলে সে দেশ থেকেই idea ও idol কিছু তুলে ধরতে পারলে তা বেশী গ্রহণযোগ্যতা পাবে। লেলিন চট্টোপাধ্যায় বা সেতুং ভট্টাচার্য চিরকাল প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে না! বরং মাস্টারদা সূর্যসেনকে বসান- তিনিও কমরেডই ছিলেন- তবে কালীপূজা করা কমরেড! ওখানে যদি আপনাদের আপত্তি জন্মে- তাহলে এ দেশের রাজনীতিতে আপনাদের একদিন না একদিন বিলোপ হতে হবে! আমি একবারও আপনাকে কালীপূজা করার পরামর্শ দিচ্ছি না, আপনি পাঁড় নাস্তিক হোন- আমার আপনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন, ও আপনার স্বাধীন-চিন্তার ওপর শ্রদ্ধা আছে! কিন্তু যখনই কেউ কালীপূজা করছে দেখে- আপনি থাকে পুরোহিততন্ত্রের দাস বলবেন, আপনি তাকে কুসংস্কারে নিমজ্জিত বলবেন, তার পূজা নিয়ে খিল্লি করবেন, তার ভাবনাকে প্রতিনিয়ত তাচ্ছিল্য করাকে আপনি আপনার ব্যক্তি-অধিকার বলে জাহির করবেন- তখনই আপনি সমর্থন হারাবেন! যখনই আপনি ভাববেন গোরক্ষক সমিতির অসভ্য আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আপনাকে প্রকাশ্যে গরু খেয়ে সেকুলারিত্ব দেখাতে হবে- আপনি সেদিনই এই আহম্মকির মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছেন! আপনারা বৃহত্তর সমাজের sentiment কে আমলে নেন না! এখানেই আপনাদের পতনের দরজা খোলা! একজন সচেতন মানুষ হিসেবে লিখলাম- মানুষের কথা ভেবেই, মানুষের রাজনীতিতে আসুন। আপনাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি! কিন্তু আপনারা সেই প্রয়োজন মেটানোর উপযুক্ত হয়ত নন এখনো!
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
আমি বাঙালী! ঘোরতর মেছো বাঙালী! নিত্য মাছ না জুটলে আমার রোচে না! আমার বাড়ীর কালী ঠাকুর দিব্যি মাছ খান! চিরকাল খাবেন! কাল যদি কেউ এখানে কেউ বলে ‘সাবনকে মাহিনা মে ইয়ে লোক মাটন খা রাহা হে’- আমি তার মুখে ঝামা ঘসে দেব! আমি বিরিয়ানি সর্বদা মুসলিম দোকান থেকেই কিনে খাই! ওরা ছাড়া মুঘল রেসিপি ভাল করতে পারে না কেউ! আমি শাহী খাবারের জন্য মুসলিম বাবুর্চি খুঁজি! রিসেন্টলি একটা ভাল মুসলিম খাবার হোটেল পেয়েছি- যাদের অতুলনীয় রান্না- অনেক দূর আমার বাড়ি থেকে- আমি পেটে খিদে নিয়ে ওখানে যাই! এতে আমার বাঙলিত্ব হিন্দুত্ব কোনটাই সংকটাপন্ন হয়নি! আমার সাধারণ মুসলমানদের সাথে প্রতি কোন দ্বেষ নেই। আমার বন্ধুবর্গে মুসলমানের অভাবও নেই! কাল যদি কেউ আমার এই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায়- আমি আলবাত তার বিপক্ষে যাব!
আমি দুর্গাপূজার ভাসানে নাচতে যাওয়া বাঙালী! মহরমের মিছিল যাবে বলে আমার ভাসান বন্ধ করে দেওয়াকে আমি সম্প্রীতি মানতে পারিনি! আমি এর বিরুদ্ধে থেকেছি! মুসলমান সমাজের উন্নতিকল্পে যে সরকার স্কুল-কলেজ না খুলে মাদ্রাসা খুলে দিয়েছে- আমি তার সর্বদা বিনাশ চেয়েছি! কেন না এরা মুসলমানদের উন্নতির ছলে একটা radical মুসলিম জনশক্তি গড়তে চেয়েছে আগাগোড়া যা স্রেফ ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ লাগবে- এবং এদেরকে ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের বিপরীতেও দাঁড় করানো যাবে! আমি ঘৃণা করেছি- এই নির্লজ্জ মুসলিমতোষণ! আমি চাই এই দেশের প্রত্যেক ধর্মের মানুষ সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করুক! কেউ আমার ওপরে না চড়ুক, এবং কাউকে আমার নীচে যেন নেমে আসতে না হয়!
আমি পূজার নামে ক্লাবে ক্লাবে পয়সার ছড়াছড়ি আর মদ-মাতালের নোংরামো মানতে পারি না, রাতভর শব্দদূষণকে আমি ঘৃণা করি- করবও! আমি civic sense রক্ষার পক্ষে! ডিজে বাজিয়ে কালীপূজা হোক বা হনুমান পূজা- কোনটিকেই আমি রুচিসম্মত ভাবতে পারি না! আমি বিশ্বাস করি ধর্মাচরণ মানুষ আত্মিক বিকাশের জন্য- যদি ধর্মাচরণ সাম্যাজিক উৎপাতের কারণ হয়- আমি তার বিপক্ষে আছি, ছিলাম, থাকব! আমি রাস্তা বন্ধ করে পূজা পরিচালনা করার পক্ষেও নই, রাস্তা আটকে নামাজ পরার সমর্থকও নই! আমি আমার দেশটির আধুনিকায়ন চাই!
আমি চাই আমরা জ্ঞানে বিজ্ঞানে শিল্প সাহিত্যে বিকশিত হব! আমি ধর্মের নামে দিকে দিকে fraudstar দের আবির্ভাবকে মেনে নিই না! আমি জাকির নায়েককে যেমন সহ্য করতে পারি না, তেমনি ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকেও নয়! আমি বিবেকানন্দপন্থী মানুষ! আমি উগ্রতার বিরুদ্ধে! ধর্মজগত যদি এই সমাজ থেকে rationalism উৎখাত করতে চায়- আমি সেই ধর্মজগত থেকেই বরং বেরিয়ে যাব! তার মানে যদি কেউ ভেবে থাকে আমার বিবেকানন্দকে কার্ল-মার্ক্স দিয়ে অপসারিত করা দরকার- আমি তার আর জাকির নায়েকের মধ্যে ফারাক দেখব না!
আমার দেশাত্মবোধ সূর্যসেন-প্রীতিলতাদের আদর্শে গড়া! আমার nationalism সুভাষ-ছত্রছায়ায় বেড়েছে! যে সুভাষকে গালি দিয়ে লেলিনকে বরণ করতে বলবে- সে আমার বন্ধু কস্মিনকালেও নয়- এ কথা স্পষ্ট করে বলতে আমি দ্বিধান্বিত নই! আমি যে rationalism এর ধুয়া তুলে আমার বাপ-দাদা-চৌদ্দ পুরুষের সংস্কার থেকেও নিজেকে সরিয়ে রাখতে কুণ্ঠিত হব না- সেখানে মার্ক্সবাদ নামক আরেকটা ধর্মানুশীলন আমি মানব এমন আশা করা যায় না? Marx এর সব কিছু rational নয়! Marx কে যারা নব্য ভগবান হিসেবে অর্চনা করে তারা আরেক ভিন্ন শ্রেণীর radical!
আমি একটি জ্ঞানে বিজ্ঞানে অগ্রসারমান, সুস্থ নাগরিক জীবন-সমৃদ্ধ সমাজব্যবস্থা চাইছি! এই চাওয়া নিকট ভবিষ্যতে পরিপূরণ হওয়া অসম্ভব দেখাতে পারে! কিন্তু দূর ভবিষ্যতে একেবারেই অসম্ভব নয়। এই চাওয়া কোন utopian concept এর ওপর নয়! এমন নয় যে ধর্ম সামনে এসে গেলে এই চাওয়া বাস্তবায়ন হয় না! যে সব দেশে রাষ্ট্রপ্রধাণ আজও বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেয় সে সব দেশ উচ্ছন্নে যায়নি! অতএব 'রাষ্ট্রপ্রধান কেন ধার্মিক হবে'- এই জাতীয় উদ্ভট বামমনস্ক হাস্যকর কথাবার্তায় আমার শ্রদ্ধা নেই! সমস্যা রাষ্ট্রপ্রধানের ধর্ম নিয়ে নয়, সমাজের ধর্মানুভূতির বাঁচা-মরা নিয়ে নয়- সমস্যা তখন হয়- যখন একটা রাষ্ট্রের সমস্ত কার্যপ্রণালী ধর্মীয় কিতাবের ওপর নির্ভরশীল! যেমন ধরুন ‘শরীয়া-কানুন’! আজকে সৌদি-আরব পর্যন্ত এই কানুন শিথিল করার পথে হাঁটছে! তেমনি আমার দেশ ধর্ম মানুক, আলবাত মানবে- কিন্তু তার রাষ্ট্রপরিচালনা ‘মনুসংহিতা’ মেনে হবে না!
বিজেপি এসে গেল বলে দেশটা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, বাঙালীত্ব বিপন্ন হচ্ছে বলে যে সব বাম-কান্নার রোল উঠেছে- তাতে আমার করুণা জাগে না! তবে বিজেপি যদি আমার ওপরে লেখাগুলোর বিপরীতে হাঁটে- তবে নির্ঘাৎ সেদিন আমি বিজেপির বিপক্ষেই কথা বলব! শতভাগ বলব। আলবাত বলব, যেমন বলি! দেশের প্রধাণমন্ত্রী পূজা-অর্চনা করছেন, করবেনই! কিন্তু তিনি যখন ভোটের আশায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী কিম্বা জাজ্ঞি বসুদেবের সাথে মঞ্চ ভাগ করেন- আমি তার কঠোর সমালোচনা করি! অবশ্য ক্ষমতালিপ্সু মমতা ব্যানার্জির মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ভড়ং এর চাইতে এটা মন্দ নয়! শুভেন্দু বাবুর আদিত্যনাথকে প্রণাম করে বিবেকনন্দের সাথে তুলনাও আমার কাছে লজ্জাজনক! আমি জানি প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দোষ আছে। তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় আমি কাউকে না কাউকে দেশের ভার সঁপে দিতে বাধ্য! সেখানে আমরা সবাই অসহায়! তবে আমাদের অসহায়ত্ব যদি দেশটাকে আঁধারে ঠেলে- তখন একটু জাগতে হবে বইকি! এমনকি আপনার ভালবাসার দলটিকেও সমালোচনা করতে শিখুন- ধৃতরাষ্ট্র হয়ে গেলে- তার পথভ্রষ্ট হওয়া অনিবার্য!
-
The Last Ride Together - Robert Browning I SAID—Then, dearest, since ’tis so, Since now at length my fate I know, Since nothing a...
-
৮ম পর্ব ______________ ১৩ জানুয়ারী সর্বশেষ পারিবারিক ইতিহাস বৃত্তান্তের কথা লিখে আজ আবার ৮ম পর্ব লিখতে বসলাম। বিগত পর্বগুলোতে এই পরিবারের ...
-
এসো আলিঙ্গনাবদ্ধ হই সঙ্গমাকুল সাপ ও সাপিনীর মত বিষ থাক যন্ত্রের নির্দিষ্ট প্রকোষ্ঠে, অধর ও ওষ্ঠে পেঁচিয়ে যাই নেত্রে নেত্র যাক গেঁথে, কম্প...