মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

গল্পপ্রমাণ

 

দিনশেষের এই গল্পগুলো নাই বা হল সত্যি যদি

নাই বা হল কারুর সাগর কারুর চোখে ছোট্ট নদী

তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে

হয়ত বন্ধু এই জীবনে, নয়ত জীবন ঝরার পরে। 


আকাশ হয়ে অন্ধকারে চাঁদের খোঁজে তারার মতন

জ্বলতে জ্বলতে নিভতে পারো আলোর পুজি থামবে যখন 

তবু তোমায় জাগতে হবে, গাইতে হবে কন্ঠ ছেড়ে

যদিও তোমার ঘুম লেগেছে, গান আসে না ঘুমের ঘোরে!


হয়ত বাতাস থমকে যাবে ঝড়ের কোন পূর্বাভাসে

পাখীর বুকের কাঁপন হয়ে হয়ত কারুর বেদন ভাসে

নীড়ভাঙা কোন্ গানের হাওয়া, তীরে তীরে ডুকরে কাঁদে

সেই কাঁদনের গুঞ্জনেও হয়ত বা কেউ ঘরটি বাঁধে

চিত্তবিকারশূন্য হয়ে প্লাবনজাগা নদীর ধারে

তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে।। 

শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...

 



আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...
তুমি কোনদিন পারো না জানতে..
তুমি তো দাঁড়িয়ে একই ঠাঁই...

সব কলিগুলো ফুটতে পারে না,
সব অলি পথ চিনতে পারে না,
আমি তাদেরই দলে বিলীন হয়েছি
ঠারেঠোরে তাই গেয়ে যাই....

বোঝা সামান্য-
শত জনমের ভুলে ভরা এক ঝোলা...
বই ধীরেধীরে, দেখি ফিরে ফিরে..
ফেরার পথ কি খোলা?

আমি সাগরের কাছে মুক্তি চেয়েছি
ঘুর্ণির জলে দুঃখে নেয়েছি,
আমি ভেঙে ভেঙে শত টুকরো হয়েছি...
আরও যেন ভেঙে যেতে চাই।

সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

ধ্বজা

 



ধ্বজায় ধ্বজায় ছেয়েছে আকাশ
বাতাসে ভাসছে কোন্দল!
আমারে শুধায় ধ্বজাবাহকেরা-
'মহাশয়, তুমি কোন দল'!

যদি বলি কারো পতাকার নীচে
দাঁড়িয়ে পড়তে দ্বিধা-
অমনি দেখেছি খোলা তরোয়াল
উঁচিয়ে তুলেছে সিধা-

তার আমারই মুন্ডু নিশানায় আছে-
প্রাণধন শুধু সম্বল!
বুঝি তাও রাখা ভার এত হিংসায়
মত্ত যখন মহীতল!

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

হোঁৎকা

 

হোঁৎকা এসে জ্ঞান দিয়ে যায় তার হিসেবেই চলতে খালি!
অন্ধ বলেই জানি তারে, আর নাইবা হলাম চোখের বালি!
এক কানে তার ঢুকিয়ে বুলি, অন্য কানের বাইরে ফেলি
তবু গায়ের ওপর পড়লে এসে, চটাস চটাস বাজাই তালি!
হোঁৎকা বলে 'এ কি রে ভাই! বিশাখ ব্যাটাও ঠ্যাঙায় নাকি!
ভেবেছিলাম নরম গায়ে, সুযোগ পেলেই পঙ্ক মাখি!'
এখন অঙ্ক দেখি পালটে গেছে- 'কয়লা যায় না ময়লা ধুলে'
পদ্ম ভাবে 'ব্যাটা তৃণতুল্য' আর তৃণ বলে 'ও তো পদ্মফুলে'!
যত ঢ্যামনা এসে গাল পেড়ে যায় - এতই কেন তফাৎ বলি!
আমার ধ্বজা কেবল একটি ধরা, তাতে লেখা 'জয় মা কালী'! 

কালী! এই ছিল মা তোর মনেতে

 



কালী! এই ছিল মা তোর মনেতে এতদিনে গেল জানা!
ষোলআনার ভাগ চেয়েছি, দিলিনে এক আধুলি আনা!
তুই কারে রাখিস সিংহাসনে, কারে রাখিস আঁখির কোণে,
কেবল বিশাখে পড়ে না মনে, তার বেলা মা রইলি কানা!
আমার ভাগ্যে সদা সাড়ে স্বাতী, যমের দ্বারে নিচ্ছি গতি
দুর্গমেতেও কি দুর্মতি! ওমা ভবের জ্বালা আর ঘোচে না!
আমি নিশীথে একাকী লিখি- মা হয়ে দিলিরে ফাঁকি-
এ হিসেব আমার বুঝতে বাকী- হচ্ছে কি বল কান্ডখানা!




বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

 

গণতান্ত্রিক হতে গেলে আপনাকে দিকে দিকে লিংকনের ছবি ঝোলাতে হয় না, ভাস্কর্য বসাতে হয় না মোড়ে মোড়ে! গণতন্ত্রের কিছু criticism থাকতে পারে, অবশ্যই আছে- তবে তার একটা বিশেষ flexibity রয়েছে, মানে লিংকনের প্রদত্ত definiton থেকে বোঝালে - ‘By the pepole, for the people’- এটাই flexibilty রেখেছে, এটাই তার শক্তি এবং একইসাথে এটাই বড় loophole! যে দেশে যেমন মানুষের ভাবনা তেমন আকারে প্রতিফলিত হবার সুযোগ আছে গণতন্ত্রের রাজনীতিতে! আমেরিকায় কেমন গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো- জরুরী নয় সেটা বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশের জন্য আদর্শ! কোন একটা দেশের মানুষ তাদের নিজেদের সামাজিক প্রকৃতি অনুযায়ী ভাবতেই পারে ভিন্ন একটা কাঠামোর কথা। শত বছর আগে আমেরিকানরা কি ভেবেছে সেটাকে আজ অবধি আমাকে মেনে নিতে হবে তা নয়! আব্রাহাম লিংকনের democracy কে আমরা modify করতে পারি- আব্রাহাম লিংকনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাও আমরা রাখতে পারি- এবং আমাদের আব্রাহাম লিংকনের পূজাপদ্ধতি চালু করার দরকার পরে না, তার ভাবমূর্তি ও মূর্তি কোনটাই প্রতিষ্ঠা করার একদমই প্রয়োজন হয় না! এখানে লিংকনের মতবাদের সাথে লেলিনের মূর্তি ও ভাবমূর্তির দ্বন্দ্ব! রবীন্দ্রনাথ যে কারণে বলেছিলেন জার-তন্ত্র ও বলশেভিজম একি দানবের পাশ-মোড়া কথাটা এ অর্থেও সত্য! উভয়ই একটা মূর্তিকে আরেকটা মূর্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠাপিত করতে চেয়েছে- তা লোকে মানুক বা মানুক! দেড়শ বছর আগের কোন রাজনৈতিক মতবাদ যদি দেশ ও সমাজের প্রয়োজনে flexible হতে না পারে- সে জনসমর্থন হারাতেই পারে, তাতে চকিত হবার কারণ নেই- বিশেষত সে সব দেশে যেখানে মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা প্রায় শূন্য, মানুষ যাকে তাকে ভোট দিয়ে কেবল শান্তিতে বাঁচতে চায়- এবং যেখানে প্রতিটি দলেই স্বার্থান্বেষী নেতায় ভরা! গণমানুষের রাজনীতি করতে গেলে সে দেশ থেকেই idea ও idol কিছু তুলে ধরতে পারলে তা বেশী গ্রহণযোগ্যতা পাবে। লেলিন চট্টোপাধ্যায় বা সেতুং ভট্টাচার্য চিরকাল প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে না! বরং মাস্টারদা সূর্যসেনকে বসান- তিনিও কমরেডই ছিলেন- তবে কালীপূজা করা কমরেড! ওখানে যদি আপনাদের আপত্তি জন্মে- তাহলে এ দেশের রাজনীতিতে আপনাদের একদিন না একদিন বিলোপ হতে হবে! আমি একবারও আপনাকে কালীপূজা করার পরামর্শ দিচ্ছি না, আপনি পাঁড় নাস্তিক হোন- আমার আপনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন, ও আপনার স্বাধীন-চিন্তার ওপর শ্রদ্ধা আছে! কিন্তু যখনই কেউ কালীপূজা করছে দেখে- আপনি থাকে পুরোহিততন্ত্রের দাস বলবেন, আপনি তাকে কুসংস্কারে নিমজ্জিত বলবেন, তার পূজা নিয়ে খিল্লি করবেন, তার ভাবনাকে প্রতিনিয়ত তাচ্ছিল্য করাকে আপনি আপনার ব্যক্তি-অধিকার বলে জাহির করবেন- তখনই আপনি সমর্থন হারাবেন! যখনই আপনি ভাববেন গোরক্ষক সমিতির অসভ্য আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আপনাকে প্রকাশ্যে গরু খেয়ে সেকুলারিত্ব দেখাতে হবে- আপনি সেদিনই এই আহম্মকির মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছেন! আপনারা বৃহত্তর সমাজের sentiment কে আমলে নেন না! এখানেই আপনাদের পতনের দরজা খোলা! একজন সচেতন মানুষ হিসেবে লিখলাম- মানুষের কথা ভেবেই, মানুষের রাজনীতিতে আসুন। আপনাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি! কিন্তু আপনারা সেই প্রয়োজন মেটানোর উপযুক্ত হয়ত নন এখনো! 

গল্পপ্রমাণ

  দিনশেষের এই গল্পগুলো নাই বা হল সত্যি যদি নাই বা হল কারুর সাগর কারুর চোখে ছোট্ট নদী তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে হয়ত বন্ধু এই জী...