গণতান্ত্রিক হতে গেলে আপনাকে দিকে দিকে লিংকনের ছবি ঝোলাতে হয় না, ভাস্কর্য বসাতে হয় না মোড়ে মোড়ে! গণতন্ত্রের কিছু criticism থাকতে পারে, অবশ্যই আছে- তবে তার একটা বিশেষ flexibity রয়েছে, মানে লিংকনের প্রদত্ত definiton থেকে বোঝালে - ‘By the pepole, for the people’- এটাই flexibilty রেখেছে, এটাই তার শক্তি এবং একইসাথে এটাই বড় loophole! যে দেশে যেমন মানুষের ভাবনা তেমন আকারে প্রতিফলিত হবার সুযোগ আছে গণতন্ত্রের রাজনীতিতে! আমেরিকায় কেমন গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো- জরুরী নয় সেটা বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশের জন্য আদর্শ! কোন একটা দেশের মানুষ তাদের নিজেদের সামাজিক প্রকৃতি অনুযায়ী ভাবতেই পারে ভিন্ন একটা কাঠামোর কথা। শত বছর আগে আমেরিকানরা কি ভেবেছে সেটাকে আজ অবধি আমাকে মেনে নিতে হবে তা নয়! আব্রাহাম লিংকনের democracy কে আমরা modify করতে পারি- আব্রাহাম লিংকনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাও আমরা রাখতে পারি- এবং আমাদের আব্রাহাম লিংকনের পূজাপদ্ধতি চালু করার দরকার পরে না, তার ভাবমূর্তি ও মূর্তি কোনটাই প্রতিষ্ঠা করার একদমই প্রয়োজন হয় না! এখানে লিংকনের মতবাদের সাথে লেলিনের মূর্তি ও ভাবমূর্তির দ্বন্দ্ব! রবীন্দ্রনাথ যে কারণে বলেছিলেন জার-তন্ত্র ও বলশেভিজম একি দানবের পাশ-মোড়া কথাটা এ অর্থেও সত্য! উভয়ই একটা মূর্তিকে আরেকটা মূর্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠাপিত করতে চেয়েছে- তা লোকে মানুক বা মানুক! দেড়শ বছর আগের কোন রাজনৈতিক মতবাদ যদি দেশ ও সমাজের প্রয়োজনে flexible হতে না পারে- সে জনসমর্থন হারাতেই পারে, তাতে চকিত হবার কারণ নেই- বিশেষত সে সব দেশে যেখানে মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা প্রায় শূন্য, মানুষ যাকে তাকে ভোট দিয়ে কেবল শান্তিতে বাঁচতে চায়- এবং যেখানে প্রতিটি দলেই স্বার্থান্বেষী নেতায় ভরা! গণমানুষের রাজনীতি করতে গেলে সে দেশ থেকেই idea ও idol কিছু তুলে ধরতে পারলে তা বেশী গ্রহণযোগ্যতা পাবে। লেলিন চট্টোপাধ্যায় বা সেতুং ভট্টাচার্য চিরকাল প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে না! বরং মাস্টারদা সূর্যসেনকে বসান- তিনিও কমরেডই ছিলেন- তবে কালীপূজা করা কমরেড! ওখানে যদি আপনাদের আপত্তি জন্মে- তাহলে এ দেশের রাজনীতিতে আপনাদের একদিন না একদিন বিলোপ হতে হবে! আমি একবারও আপনাকে কালীপূজা করার পরামর্শ দিচ্ছি না, আপনি পাঁড় নাস্তিক হোন- আমার আপনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন, ও আপনার স্বাধীন-চিন্তার ওপর শ্রদ্ধা আছে! কিন্তু যখনই কেউ কালীপূজা করছে দেখে- আপনি থাকে পুরোহিততন্ত্রের দাস বলবেন, আপনি তাকে কুসংস্কারে নিমজ্জিত বলবেন, তার পূজা নিয়ে খিল্লি করবেন, তার ভাবনাকে প্রতিনিয়ত তাচ্ছিল্য করাকে আপনি আপনার ব্যক্তি-অধিকার বলে জাহির করবেন- তখনই আপনি সমর্থন হারাবেন! যখনই আপনি ভাববেন গোরক্ষক সমিতির অসভ্য আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আপনাকে প্রকাশ্যে গরু খেয়ে সেকুলারিত্ব দেখাতে হবে- আপনি সেদিনই এই আহম্মকির মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছেন! আপনারা বৃহত্তর সমাজের sentiment কে আমলে নেন না! এখানেই আপনাদের পতনের দরজা খোলা! একজন সচেতন মানুষ হিসেবে লিখলাম- মানুষের কথা ভেবেই, মানুষের রাজনীতিতে আসুন। আপনাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি! কিন্তু আপনারা সেই প্রয়োজন মেটানোর উপযুক্ত হয়ত নন এখনো!