ভক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২

বিশাখে না পেল সাড়া

 

ষড়জে সরোজমালা, ঋষভে রুধির ধারা,

গঙ্গা তুমি গান্ধারে, মধ্যমে মাতঙ্গী তারা। 

পঞ্চমে পদযুগ, মাগো ধৈবতে ধারণ করি,

নিষাদে নিঃসীম রূপা, ধরে ধ্যান হরহরি। 

ওমা মন্দ্র-মধ্য-তারে রাজ নিত্য তুমি ভবদারা,

সুরে তালে লয়ে তবু, বিশাখে না পেল সাড়া! 

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০২২

অন্যে যেন নাহি জানে

 

দরিদ্রে পাইলে রতন সেকি অযতনে রাখে?

  • কমলাকান্ত ভট্টচার্য্য। 


দরিদ্রে পাইল রতন, রাখি কি বা অযতনে?

রেখেছি হৃদয়ে শ্যামা, দেখাব কি জনে জনে? 


দীনের সম্বল ধন, হৃদিপদ্মে ও চরণ-

স্মরি নিতি অনুক্ষণ, নিরজনে মনে মনে। 


দুটি কথা দুটি সুরে, বেঁধেছি তায় অন্তঃপুরে,

খিল দিয়ে নবদ্বারে, গাই তারে ক্ষণে ক্ষণে। 


বিরলে বিশাখ ভাষে, মন ভুলো না কথার বশে,

মায়ে পোয়ে এমনি থাকো, অন্যে যেন নাহি জানে। 

সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১

ওগো কবে সাড়া আমি পাব হে?

 

রাজীব-রাতুল-চরণে অতুল আশ্রয় জানি পাব হে!
তাই সকলি দিয়েছি ভাসিয়ে এবেলা, আমিও কি ভেসে যাব হে?

সঘন-দামিনী, আঁধার যামিনী, গরজে গো কালসিন্ধু,
অকূলে এসেছি ভাঙা তরী টেনে, ডুবে গেছে নভে ইন্দু;
বোঝা যত ছিল ফেলে দিই প্রভু, তবু হল ভারী ভবভার হে!

কত সম্পদ, কত রিপুমদ, দুখপ্রদ সবে হেরিয়া,
ভেবেছি দয়াল, পরে রব এসে শ্রীপদ তোমার ঘেরিয়া,
হয়ে পথহারা, কেঁদে কেঁদে সারা, ওগো কবে সাড়া আমি পাব হে?

________________
একটা ভজন শুনতে শুনতে মাথায় চলে এল। সুর বসাব সময় করে।







মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

তাই বসে আছ (গান)

 

তুমি ছলে বলে চুলে-

ধরে টানো চরণপ্রান্তে!

 

মুখ ফিরিয়েছি, পথ ঘুরিয়েছি, সরে সরে রই,

বিষক্ষুধাব্যধি মন-অশান্তে-

স্নেহকরে দিতে সুধাধার-স্নান, ডাকো ‘আয় আয়’

অবহেলা পাবে, তাও যে জানতে!

 

শত মায়া গড়ে, ফেলেছ নিগড়ে,

তবু বেলাশেষে যেন নেবে ওই কোলে!

তুমি কপাল চুম্বি ঘুমাতে নেবে গো,

আমি থেমে যাব ভব-কলরোলে!

 

শত সং সাজা, শত মিছে খেলা,

প্রণয়-দ্বন্দ্ব, রাগ-বিরাগের কতশত পালা,

ভাঙবে আসর, তাই বসে আছ,

যদি পথে বাঁধে সুতে কৃতান্তে!

 

 সুরারোপ বাকী। 

 


সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

আমারে দিও না ফাঁকি


 

আমার ভুবন কালো মেঘে ছায়, গ্রাস করে প্রভূ মিহিরে!

মুখপানে চেয়ে ডেকে বলি নাথ, হাত ধর এই তিমিরে!

 

ছয় জনা এসে ছয় কথা বলে, আমি দশদিকে মরি ঘুরে

শত শত পথে শত শত মতে আমি শতেক যোজন দূরে

প্রভু পদযুগ হতে;

আমি কুহকে লিপ্ত, ব্যথায় সিক্ত, অন্ধের মত ভ্রমিয়া

কাতর কন্ঠে ডাকিনু তোমারে, পদপঙ্কজে রহি নমিয়া,

এই ভাঙা দেহরথে-

 

ধুলো জমে গেল, মলিন ধ্বজাটি উড়বার মত নেই আর,

চক্র হয়েছে জীর্ণ,

ঘরঘর বেগে কত প্রান্তর মাড়িয়ে, ইন্দ্রিয়গুলি অশ্বের মত,

কালক্রমে হল শীর্ণ!

 

প্রভু ক্ষীণবল দেহ-মনে, ব্যকুল পরাণে,

বলি, মহারাজ তুমি জগতের,

হে করুণাসিন্ধু পিপাসা মিটাও,

বুকে- অনলপ্রবাহ ভকতের!  

 

কালকূটে ভেবে অমৃত, কালসম্মুখে নতশির,

আমি শমণত্রাসিত, মহাভয়ে চিত অঙ্গার!

তবু গেল না বাসনা, সদা সুখের সাধনা

ভ্রমে ভ্রমে বাঁধি সংসার!

 

ধর্ম, অর্থ, কাম বা মোক্ষ আমি জানি না কিসের যোগ্য,

হয়ে গেছে ব্যাধি, দাও ঔষধি, বরাভয়, দাও আরোগ্য!

 

অসীম তোমার অতুল-ক্রোড়ে, যেন বিনাক্লেশে মুদি আঁখি,

এটুকু পেলেই আর কি বা চাই? কি থাকে চাইতে বাকি?

 

তুমি আমারে দিও না ফাঁকি!

 

বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১

আমায় রাখো

 

হরি হে!

আমায় রাখো নত তৃণের মত পথের পাশে,

যেথায় তোমার চরণচিহ্ন নিত্য লাগে, নিত্য আসে-

নূপুরধ্বনি কর্ণে আমার, মর্মে আমার নিত্য রাজো-

গভীর মনে লুকিয়ে হরি, ব্রজের বনে অমনি বাজো-

মোহনবেণু; লুটিয়ে রই চরণরেণু- মাথায় ধরে,

এবার ম’লে উরগ হব, কালীয় রাজার ফণার পরে-

যেমনি তোমার নাচন লাগে, তেমনি আমার চিত্ত মাগে,

নয়নডোরে- বাঁধব বলে কৃষ্ণশশী, মন উদাসী, যেমন জাগে-

প্রভাতবেলা অনাঘ্রাত ফুলের কলি,

যেমনতর- পুষ্পরসে মাতাল ঘোরে ভৃঙ্গগুলি,

অমন করে কাঙাল হলেম, দরশ তোমার পাবার আশে!

হরি হে! আমায় রাখো নত তৃণের মত পথের পাশে!

 

ছয়দিকে ছয় কংসচরে, অহর্নিশা- তাড়িয়ে মারে,

না পাই দিশা, মরছি কেঁদে করাল ঘোর অন্ধকারে!

যদি উদয় হতে সূর্য্যসম, কংসাসুরের কারায় মম-

অমন আশার বাসা বইছি যেন জন্ম-মৃত্যু-জন্ম ধরে,

লোকে লোকে আকুল হয়ে লোকান্তরে,

পাইনে দেখা, ললাট-লেখা তুমিই জানি লিখলে বটে,

নিদয় তুমি নন্দিত তায়, সাধে কি আর তেমন রটে!

মা যশোদার বুক ভাসালে, একটিবারও চাওনি ফিরে,

তবুও আমার সাধ হয়েছে, সাধেই ডুবি নেত্র-নীরে!

আমি দু’হাত তুলে আকাশপানে, ক্ষীণস্বরে, কাতর প্রাণে

ডাকছি আমার পাষাণ-কৃষ্ণ, বধির কেন হলে?

লোকে তোমায় বলবে কি গো, এমনি আমি ম’লে?

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

কি জ্বালায় জ্বলি গো তারা

কি জ্বালায় জ্বলি গো তারা, ভবদারা কি বা রঙ্গে!

এ অঙ্গে অঙ্গার করি অনঙ্গ-তরঙ্গ-ভঙ্গে-

ক্ষান্তি দিয়ে শ্রান্তি পাব?

 

মায়ার কুরঙ্গ-পিছে, ভ্রমিয়ে ক্লান্ত মিছে,

কপট কুসঙ্গ-সুখ-আসঙ্গ টানিল নীচে।

ঠেকেছি গো রসাতলে, কৃতান্ত করতলে,

এভাবে কি চলে যাব?

 

কৃপাময়ী কৃপাণ ধরি, কিঙ্করে করুণা করি,

অভয়দায়িনী হও ভীতজনে ক্ষেমকরী।

আবদ্ধ সংসারপঙ্কে, পঙ্ককশোভিত অঙ্কে

কবে গো লুটিয়ে রব?

 

 

 

 


বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

কবে গো আর নগেন্দ্রনন্দিনী

কবে গো আর নগেন্দ্রনন্দিনী বল,
পাষাণ পরানে তোর তিলেক দয়া হবে?
কালপাশে আয়ুক্ষয়, মনে জাগে সদা ভয়,
নয়ন যে মুদে আসে, কোলে কে মা লবে!

এ আমার মিছামিছি, দাঁড় ধরে বসে আছি,
যে নদীতে স্রোত নাই, তায় ভাসিয়ে তরণী,
ভেবেছি গো পারে যাব, ভবের জ্বালা জুড়াব,
রাঙা পায়ে লুটাবো- ওগো শিবের ঘরনী,
ছাই হল তবে!

কি গরলে তৃপ্ত হয়ে, অমৃতে করেছি দূর,
তাতেও তুষ্ট নন, ভবনাথ, চন্দ্রচূড়!

সুখে মা র'ব না জানি, তাতে নই অভিমানী,
অন্তে পদে কপালিনী, দিস শুধু ঠাঁই!
কুলভাঙা ঝড় আসে, মরি গো মরণ-ত্রাসে,
আমার শিয়র পাশে কেউ কেন নাই?
চলে গেল সবে!

শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮

মায়ের অহংকার

ডাকছি আমি, ঝড় উঠেছে, এবার মুখটা তোলো।
বাজ পড়েছে, বুক কাঁপে মা, একটু দরজা খোলো।

পছিম কোনে কালচে মেঘে
চাঁদ দিয়েছে ঢেকে,
আমার অন্ধকারে ভয় করে মা,
আমায় একলা রেখে-

কেমন করে দোর দিয়েছ, মায়ার খিড়কি সেঁটে?
বুঝিনি তা খুলবে কিসে, কোন সাধনায় খেটে। 

ভরা হৃদয় বিরান করে ঝড়ের রাতে একা,
জগন্ময়ীর রূপটি কেমন, খুব গিয়েছে দেখা!

মরব বলেই জন্মেছিলাম এই বুঝেছি সার,
ছেলের মরা মুখেই বাঁচুক মায়ের অহংকার!

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...