কত কাল আর এতটা অন্ধকারে
এত সব অশ্রাব্য চিৎকারে
চারপাশ বদ্ধ করে নির্বিবাদে থাকি?
কত রাত দয়ানিধি অলক্ষ্যে সুর বাঁধি
পড়ে আছি অচঞ্চল স্বকৃত কন্দরে
নিজের ছায়ার সাথে নিজের নিত্য ফাঁকি
এই ক্রুর খেলায় ডুবে? কত কাল?
যা মনে আসে লিখি। ভাল লাগলেও লিখি, না লাগলেও লিখি। কারো ভাল লাগা না লাগার ওপর আমার কোন ঔৎসুক্য বা অভিমান নেই!
কত কাল আর এতটা অন্ধকারে
এত সব অশ্রাব্য চিৎকারে
চারপাশ বদ্ধ করে নির্বিবাদে থাকি?
কত রাত দয়ানিধি অলক্ষ্যে সুর বাঁধি
পড়ে আছি অচঞ্চল স্বকৃত কন্দরে
নিজের ছায়ার সাথে নিজের নিত্য ফাঁকি
এই ক্রুর খেলায় ডুবে? কত কাল?
অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে
আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে
হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ।
কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক্রুর হেসে;
আমি শতেক সর্বনাশে ভুলেছি দিগ্বিদিক।।
লাখো চর জাগা মোহের আবাহনে
থমকে গেছি, বিপথে গেছি, চমকে গেছি;
দুর্বার, অতল জলের টানে।
তবু কে যেন কত না ছলে, প্রেমে বা কৌশলে
ভাঙা এ দেহতরী তীরেতে ভেড়াল ঠিক!
উদ্ভট বিভাজনের রেখা
এঁকেবেকে বয়ে যাচ্ছে,
সংশয়-শঙ্কায় ঝিমিয়ে গেছে
প্রখর নির্ণায়কের দল-
মস্তিষ্ক খুলে রেখে হিমাগারে;
এখন যাদের কথা ছিল
ঝড়ের বাতাস ঠেসে ধরার
তাদেরও ভেতরে দেখি-
অসভ্য- কলহ, কোন্দল!
অথচ সংকটের আঁধার পথ
মাড়িয়ে এলো যে গান,
ভেবেছিলাম সে অমর-
অজর, নিত্য, অফুরান,
দেখি সেও ক্ষীণ হয় ভয়ে।
আমরা ঘুমাতে চাই আজ
বিবিক্ত রাতের কোলে,
সাতরঙা স্বপ্ন সমেত বন্ধু,
ভবিষ্যৎ যেখানে যায় যাক,
আঁধার ঘনাল বলে!
হতাশ হওয়া নাকি বারণ!
আমার এক ছাত্র রুদ্রবীণা শিখত। মূলত রুদ্রবীণা শিখতে গিয়ে রাগরাগিণী বোঝার প্রয়োজনে সে আমার কাছে এসেছিল। আমি তাকে নিরুৎসাহিত না করলেও বাস্ততবতা দেখিয়ে বুঝিয়েছিলাম- মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়ের জন্য রুদ্রবীণা শিক্ষা একটা বিরাট বিলাসিতার মধ্যে পড়ে! শেষপর্যন্ত সে বীণা ও সঙ্গীত উভয় শিক্ষালাভ থেকেই ইস্তফা দেয়, এর মধ্যে তার বাপের গাঁট থেকে যা কড়ি খসার তা খসে গেছে তা বলা বাহুল্য! ঘুরে ফিরে বাস্তবতা চোখ রাঙাতে দেরী করেনি! ব্যাপক পৈত্রিক ধনসম্পদ না থাকলে এসব ধ্রুপদী বিদ্যায় আত্মনিয়োগ করে টিকে থাকা সম্ভব নয়! গুরুমুখে শুনেছিলাম, পরম্পরায় একটা কথা প্রচলিত, ‘ইয়ে চিজ আমিরোঁকে লিয়ে হ্যায়, ফকিরোঁকে লিয়ে হ্যায়’! মাঝামাঝি থাকার আমার মতন লোকের জন্য নয়! এই কথা যারা এই সমস্ত কলায় নিবেদিত আছে সকলেই জানে। Passion পর্যন্ত এর যা গ্রহণযোগ্যতা আছে- proffesion হিসেবে ততটা নেই! তাই বলে কেউ আর ধ্রুপদ শিখবে না? বীণা শিখবে না? শাস্ত্রীয় নাচ শিখবে না? কেন শিখবে না? সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই শিখবে। সামর্থ্য আছে সবার? কিন্তু অন্নসংস্থানের চিন্তা করে শিখতে গেলে বিপদাপন্ন হতে হবে! আমাদের সমাজে শিল্পকেন্দ্রিক একটা এমন ecosystem সৃষ্টি হয়েছে- সেখানে পুরাতনী সংস্কৃতির টুটি চেপে ধরা হয়! এক যুগ ধরে ভরতনাট্যম শেখা মেয়েটি কোনভাবেই রিলসে নাচা পুঁচকে মেয়েটির তুলনায় যশ-খ্যাতি-অর্থ কিছুই পাবে না! বলতে পারেন- ভরতনাট্যমের আলাদা class, তার প্রশংসকদের আলাদা class! এসব কখনো সর্বজনীন ছিল না। কথা হচ্ছে সেই আলাদা class এর ভেতরে recognition মিলছে? পয়সা মিলছে? মঞ্চ মিলছে? সমাজের সেই আলাদা class- যার কাজ প্রশংসা করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ- সেই class patronage করছে? কিছুই করছে না! প্রশংসায় পেট ভরে? যে রুদ্রবীণা শেখে তার বিরোধ কখনোই গীটারের সাথে নয়! তার বিরোধ এই ecosystem এর সাথে যে তাকে সামান্যতম জায়গাটুকু দেয় না! তার বরং বেঁচে থাকার করুণ আর্তনাদ আছে যা শূন্যে মিলিয়ে যায় নিষ্ঠুর ভাবে! বলতে পারেন- survibal of the fittest! সমাজের গতি বদলেছে, বদলেছে চরিত্র! এই পরিবর্তনে বীণাটি টিকতে পারছে না তো সে দায় বীণার বৈকি! বড় বড় মঞ্চে ধ্রুপদীয়া গাইতে বসলে সামনের কয়েকটা সারি বাদ দিলে পেছনে কেউ শোনার নেই! ধ্রুপদে প্রাণ নেই? আকর্ষণ করার ক্ষমতা নেই? কেন নেই? শ্রোতা বদলাচ্ছে। আধাঘণ্টা আলাপ-জোড়-ঝালা শোনার ধৈর্য বিলোপ হয়েছে! দায় কেবল ধ্রুপদের? চিরকালই এসব আলাদা class এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল সে কথা অস্বীকার করছি না। কিন্তু অতীতে সেই class, সেই সমাজ- এঁদের বাঁচতে দিয়েছে- এখন দেয় না! এখন এসব একপ্রকার elitism দেখানোর কায়দা! এই নির্মম বাস্তবতা যখন বারেবারে বলতে হয়- তখন এক শ্রেণী ভাবে- আমি বা আমার মতন মানুষ বড্ড negative কথাবার্তা বলে! তাদের বক্তব্য- আমরা যেন আমাদের কাজটুকু অন্তর দিয়ে করি- ব্যস তাতেই হয়ে গেল সব! অন্তর দিয়ে নেশারখোরের মতন বুঁদ হয়ে ধ্রুপদী-সাহিত্য-শিল্প-কলার সাধন করার পর যখন বাস্তবতা অর্ধচন্দ্র দান করে বুঝিয়ে দেয়- ‘যা ভিক্ষে করে খা’- তখন এঁদের কারো কাছ থেকে সামান্যতম সহানুভূতিটুকুও জানি পাব না! আজও পাশ্চাত্যে লোকে Choir শোনে, Opera শোনে- হলভর্তি লোক, pindrop নীরবতায়! স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে এসবের প্রশিক্ষণ হয়! সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আছে! আমাদের কি আছে? আমাদের শোনে লোকে? যে কোলকাতায় একদা খেয়াল গানের আসর বসলে- আসন সংকুলান হত, সেখানে এখন ডোভার-লেনের অনুষ্ঠান ফাঁকা থাকে! ব্যপারটা অনেকটা টেস্ট ক্রিকেট থেকে টি-টোয়েন্টির আসন কেড়ে নেবার মতন! এখন লোকে যেমন টেস্ট তেমন দেখে না- গ্যালারি ফাঁকা! লোকের সময় নেই, ধৈর্য নেই! হ্যাঁ আমাদের মেনে নিতে হবে। কিছু করার নেই। তাই বলে আমরা যারা আছি- ক্ষুদ্র, দীন-হীন, অপাংক্তেয় হয়ে পড়ে- আমাদের খেদ প্রকাশ করার ভাষা থাকবে না? আমরা আমাদের মনোবেদনা জানাতে পারব না কোথাও? প্রতিপত্তি ছাড়ুন- দু’পয়সা জোটাতে না পারলে ভবসংসারে আপনাদের বয়ানবাজী গিলে বাঁচতে পারব? শাক্তপদাবলী নিয়ে বড় কিছু একটা করব ভেবেছিলাম- কোন sponsor নেই, একটা কিছু বইটই ছাপিয়ে গানগুলোর যথোচিত সংরক্ষণ করব পরিকল্পনা আমার আজও আছে- যা অনেকটাই ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজ- কোন প্রকাশক এই risk নেবে? সে তো সমাজসেবা করতে বসে নেই! মূলত আমি যদি এখন বসে শতবছর আগের কাজকর্ম নিয়ে খেপে উঠি- তাহলে সেটা আমার মূর্খতা ভেবে নিয়ে আমাকেই সরে দাঁড়াতে হবে! এবং এটাই বাস্তবতা! হয় তুমি নতুন যুগের মতন করে নিজেকে আমূল বদলে ফেল, নইলে ভাত-ডাল জোটানোর অন্য কাজ ধরে নাও! সোজা কথা! এও জানি আমরা যত যা-ই বলি- নিয়তিকে মেনে নিতে তো হবেই! বলে খুব লাভবান হচ্ছি না! হবও না! কেউ এসব কথার ধার ধারে না! কিন্তু বলে যদি নিজেকে অন্তত প্রবোধ দিতে পারি নিজেকে তাতেই বা কার ক্ষতি? আমাদের আদেশ-উপদেশ দিয়ে কাজ নেই। লোকের কথা বিবেচনা করে আমরা থেকে নেই তো! আমরা কিছু লোক আজও নিজের আনন্দের নিজেই সৃষ্টিটুকু নিয়ে থাকি! ওটাই বাঁচার অবলম্বন আমাদের। লোকে না শুনুক- তাই বলে গাওয়া তো বন্ধ হয় না! আমাদের দাবী-দাওয়া কিছুই নেই! আমাদের কেবল বেঁচে থাকার তাগিদ আছে! পেটে খিদে আছে! এবং যখন বিপন্ন বোধ করি- তখন আর দশটা জন্তুর মতন শব্দ করার প্রবণতা আছে! ওটাও কি বন্ধ করে ফেলতে হবে?
সবটুকু বলা হয়ে গেছে।
শোনার ভান ধরে শোনেনি কিছুই যারা
নিতান্ত হেলায়- তাদেরও ধন্যবাদ।!
এই অনন্ত পদযাত্রার পথে
বেলায় বেলায় অনেকটা চলা হয়ে গেছে;
সহযাত্রী হবার ছলে যারা দিয়েছে কাঁটা
পথে বিছিয়ে- তাদেরও ধন্যবাদ!
আমি জানি- এসেছি যখন একভাবে,
কোন না কোনভাবে ফিরেও যেতে হয়!
জানি অনস্তিত্ব আমার ক্ষণিক বেদনাদায়ী
হলেও হতে পারে- এর বেশী কিছু নয়;
আমার আক্ষেপ তাতে তিলমাত্র নেই।
তবে জানি- কোটিবর্ষ পরে হলেও
আমার রক্তছাপ ধরে ঘুরবে কোন পুরনো প্রাণ,
পুরনো পথে, পুরাতনের অমোঘ আহবানে,
নতুনতর সাজসজ্জায়!
আমি দীন- হীন, অতি কাতর প্রাণ হে
বিষয়-কলুষিত, দুরাশয়, দুর্মতি
পামর, দুষ্কৃতি, পতিত, ম্লান হে!
আমি বিবিধ অশুভ হে, অচল জড়ভার
বিমূঢ়, শংকিত, বিবেকবর্জিত,
প্রভূত পাপাধার!
মারণ দুখ জরা শাপিত পাষাণ হে!
আমি অধমাধম, নীচ, কপট, শঠ হে!
নিরয়পথগামী ক্ষীন-শকট হে!
তবু চেয়েছি যেতে তব ক্রোড়-কোকনদে,
তুমি বাঁধিলে অধমাধমে এ ভব-মোহমদে
অন্তে দিও মা পদ, বিশাখে ত্রাণ হে!
কেন লিখি কেন গাই? দূরে সরে যাব বলে-
আরও কাছে চলে যাই নগরের কোলাহলে?
দিনে রাতে সাধা যত রাগিণীর সুর ভুলে?
যেখান কখনো আর জোটে নাগো কানাকড়ি,
হাততালি অবিরাম, প্রশংসা ফুলঝুরি,
অথবা যেখানে নিছক সব প্রগলভ-আলাপন,
যেখানে অর্থ চায় সুনগ্ন বিনোদন;
কথার কথা হয়ে কত কথা কেঁদে মরে,
সাজানো কাগুজে ফুল অসকালে যাবে ঝরে-
তেমনও তো নয়, জানি সব মেকি, সব সং,
তবুও তা যাবে টিকে, ফিকে তো হবে না রঙ!
তামাশার তমসায় আসব-পাত্র ধরে মত্ত দানব
যদি শুয়ে পড়ে রূপোপজীবিনী বুকে,
চিত্রকরের দল তা-ই আঁকে মহাসুখে!
কেন না বাঁচতে হবে, ক্ষুধা ও তিয়াস সয়ে
কাব্যকলার মোহ মৃতসঞ্জীবনীর হয়ে-
যত দিক প্রবচন, আমি জানি সবই যে অসার;
আদতে অপ্রয়োজন!
দিনশেষের এই গল্পগুলো নাই বা হল সত্যি যদি
নাই বা হল কারুর সাগর কারুর চোখে ছোট্ট নদী
তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে
হয়ত বন্ধু এই জীবনে, নয়ত জীবন ঝরার পরে।
আকাশ হয়ে অন্ধকারে চাঁদের খোঁজে তারার মতন
জ্বলতে জ্বলতে নিভতে পারো আলোর পুজি থামবে যখন
তবু তোমায় জাগতে হবে, গাইতে হবে কন্ঠ ছেড়ে
যদিও তোমার ঘুম লেগেছে, গান আসে না ঘুমের ঘোরে!
হয়ত বাতাস থমকে যাবে ঝড়ের কোন পূর্বাভাসে
পাখীর বুকের কাঁপন হয়ে হয়ত কারুর বেদন ভাসে
নীড়ভাঙা কোন্ গানের হাওয়া, তীরে তীরে ডুকরে কাঁদে
সেই কাঁদনের গুঞ্জনেও হয়ত বা কেউ ঘরটি বাঁধে
চিত্তবিকারশূন্য হয়ে প্লাবনজাগা নদীর ধারে
তবুও তো বাঁচতে হবে গল্প-প্রমাণ জীবন ধরে।।
আমি সুরে সুরে দূরে সরে যাই...
তুমি কোনদিন পারো না জানতে..
তুমি তো দাঁড়িয়ে একই ঠাঁই...
সব কলিগুলো ফুটতে পারে না,
সব অলি পথ চিনতে পারে না,
আমি তাদেরই দলে বিলীন হয়েছি
ঠারেঠোরে তাই গেয়ে যাই....
বোঝা সামান্য-
শত জনমের ভুলে ভরা এক ঝোলা...
বই ধীরেধীরে, দেখি ফিরে ফিরে..
ফেরার পথ কি খোলা?
আমি সাগরের কাছে মুক্তি চেয়েছি
ঘুর্ণির জলে দুঃখে নেয়েছি,
আমি ভেঙে ভেঙে শত টুকরো হয়েছি...
আরও যেন ভেঙে যেতে চাই।
ধ্বজায় ধ্বজায় ছেয়েছে আকাশ
বাতাসে ভাসছে কোন্দল!
আমারে শুধায় ধ্বজাবাহকেরা-
'মহাশয়, তুমি কোন দল'!
যদি বলি কারো পতাকার নীচে
দাঁড়িয়ে পড়তে দ্বিধা-
অমনি দেখেছি খোলা তরোয়াল
উঁচিয়ে তুলেছে সিধা-
তার আমারই মুন্ডু নিশানায় আছে-
প্রাণধন শুধু সম্বল!
বুঝি তাও রাখা ভার এত হিংসায়
মত্ত যখন মহীতল!
হোঁৎকা এসে জ্ঞান দিয়ে যায় তার হিসেবেই চলতে খালি!
অন্ধ বলেই জানি তারে, আর নাইবা হলাম চোখের বালি!
এক কানে তার ঢুকিয়ে বুলি, অন্য কানের বাইরে ফেলি
তবু গায়ের ওপর পড়লে এসে, চটাস চটাস বাজাই তালি!
হোঁৎকা বলে 'এ কি রে ভাই! বিশাখ ব্যাটাও ঠ্যাঙায় নাকি!
ভেবেছিলাম নরম গায়ে, সুযোগ পেলেই পঙ্ক মাখি!'
এখন অঙ্ক দেখি পালটে গেছে- 'কয়লা যায় না ময়লা ধুলে'
পদ্ম ভাবে 'ব্যাটা তৃণতুল্য' আর তৃণ বলে 'ও তো পদ্মফুলে'!
যত ঢ্যামনা এসে গাল পেড়ে যায় - এতই কেন তফাৎ বলি!
আমার ধ্বজা কেবল একটি ধরা, তাতে লেখা 'জয় মা কালী'!
কালী! এই ছিল মা তোর মনেতে এতদিনে গেল জানা!
ষোলআনার ভাগ চেয়েছি, দিলিনে এক আধুলি আনা!
তুই কারে রাখিস সিংহাসনে, কারে রাখিস আঁখির কোণে,
কেবল বিশাখে পড়ে না মনে, তার বেলা মা রইলি কানা!
আমার ভাগ্যে সদা সাড়ে স্বাতী, যমের দ্বারে নিচ্ছি গতি
দুর্গমেতেও কি দুর্মতি! ওমা ভবের জ্বালা আর ঘোচে না!
আমি নিশীথে একাকী লিখি- মা হয়ে দিলিরে ফাঁকি-
এ হিসেব আমার বুঝতে বাকী- হচ্ছে কি বল কান্ডখানা!
গণতান্ত্রিক হতে গেলে আপনাকে দিকে দিকে লিংকনের ছবি ঝোলাতে হয় না, ভাস্কর্য বসাতে হয় না মোড়ে মোড়ে! গণতন্ত্রের কিছু criticism থাকতে পারে, অবশ্যই আছে- তবে তার একটা বিশেষ flexibity রয়েছে, মানে লিংকনের প্রদত্ত definiton থেকে বোঝালে - ‘By the pepole, for the people’- এটাই flexibilty রেখেছে, এটাই তার শক্তি এবং একইসাথে এটাই বড় loophole! যে দেশে যেমন মানুষের ভাবনা তেমন আকারে প্রতিফলিত হবার সুযোগ আছে গণতন্ত্রের রাজনীতিতে! আমেরিকায় কেমন গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো- জরুরী নয় সেটা বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশের জন্য আদর্শ! কোন একটা দেশের মানুষ তাদের নিজেদের সামাজিক প্রকৃতি অনুযায়ী ভাবতেই পারে ভিন্ন একটা কাঠামোর কথা। শত বছর আগে আমেরিকানরা কি ভেবেছে সেটাকে আজ অবধি আমাকে মেনে নিতে হবে তা নয়! আব্রাহাম লিংকনের democracy কে আমরা modify করতে পারি- আব্রাহাম লিংকনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাও আমরা রাখতে পারি- এবং আমাদের আব্রাহাম লিংকনের পূজাপদ্ধতি চালু করার দরকার পরে না, তার ভাবমূর্তি ও মূর্তি কোনটাই প্রতিষ্ঠা করার একদমই প্রয়োজন হয় না! এখানে লিংকনের মতবাদের সাথে লেলিনের মূর্তি ও ভাবমূর্তির দ্বন্দ্ব! রবীন্দ্রনাথ যে কারণে বলেছিলেন জার-তন্ত্র ও বলশেভিজম একি দানবের পাশ-মোড়া কথাটা এ অর্থেও সত্য! উভয়ই একটা মূর্তিকে আরেকটা মূর্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠাপিত করতে চেয়েছে- তা লোকে মানুক বা মানুক! দেড়শ বছর আগের কোন রাজনৈতিক মতবাদ যদি দেশ ও সমাজের প্রয়োজনে flexible হতে না পারে- সে জনসমর্থন হারাতেই পারে, তাতে চকিত হবার কারণ নেই- বিশেষত সে সব দেশে যেখানে মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা প্রায় শূন্য, মানুষ যাকে তাকে ভোট দিয়ে কেবল শান্তিতে বাঁচতে চায়- এবং যেখানে প্রতিটি দলেই স্বার্থান্বেষী নেতায় ভরা! গণমানুষের রাজনীতি করতে গেলে সে দেশ থেকেই idea ও idol কিছু তুলে ধরতে পারলে তা বেশী গ্রহণযোগ্যতা পাবে। লেলিন চট্টোপাধ্যায় বা সেতুং ভট্টাচার্য চিরকাল প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে না! বরং মাস্টারদা সূর্যসেনকে বসান- তিনিও কমরেডই ছিলেন- তবে কালীপূজা করা কমরেড! ওখানে যদি আপনাদের আপত্তি জন্মে- তাহলে এ দেশের রাজনীতিতে আপনাদের একদিন না একদিন বিলোপ হতে হবে! আমি একবারও আপনাকে কালীপূজা করার পরামর্শ দিচ্ছি না, আপনি পাঁড় নাস্তিক হোন- আমার আপনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন, ও আপনার স্বাধীন-চিন্তার ওপর শ্রদ্ধা আছে! কিন্তু যখনই কেউ কালীপূজা করছে দেখে- আপনি থাকে পুরোহিততন্ত্রের দাস বলবেন, আপনি তাকে কুসংস্কারে নিমজ্জিত বলবেন, তার পূজা নিয়ে খিল্লি করবেন, তার ভাবনাকে প্রতিনিয়ত তাচ্ছিল্য করাকে আপনি আপনার ব্যক্তি-অধিকার বলে জাহির করবেন- তখনই আপনি সমর্থন হারাবেন! যখনই আপনি ভাববেন গোরক্ষক সমিতির অসভ্য আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আপনাকে প্রকাশ্যে গরু খেয়ে সেকুলারিত্ব দেখাতে হবে- আপনি সেদিনই এই আহম্মকির মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছেন! আপনারা বৃহত্তর সমাজের sentiment কে আমলে নেন না! এখানেই আপনাদের পতনের দরজা খোলা! একজন সচেতন মানুষ হিসেবে লিখলাম- মানুষের কথা ভেবেই, মানুষের রাজনীতিতে আসুন। আপনাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি! কিন্তু আপনারা সেই প্রয়োজন মেটানোর উপযুক্ত হয়ত নন এখনো!
আমি বাঙালী! ঘোরতর মেছো বাঙালী! নিত্য মাছ না জুটলে আমার রোচে না! আমার বাড়ীর কালী ঠাকুর দিব্যি মাছ খান! চিরকাল খাবেন! কাল যদি কেউ এখানে কেউ বলে ‘সাবনকে মাহিনা মে ইয়ে লোক মাটন খা রাহা হে’- আমি তার মুখে ঝামা ঘসে দেব! আমি বিরিয়ানি সর্বদা মুসলিম দোকান থেকেই কিনে খাই! ওরা ছাড়া মুঘল রেসিপি ভাল করতে পারে না কেউ! আমি শাহী খাবারের জন্য মুসলিম বাবুর্চি খুঁজি! রিসেন্টলি একটা ভাল মুসলিম খাবার হোটেল পেয়েছি- যাদের অতুলনীয় রান্না- অনেক দূর আমার বাড়ি থেকে- আমি পেটে খিদে নিয়ে ওখানে যাই! এতে আমার বাঙলিত্ব হিন্দুত্ব কোনটাই সংকটাপন্ন হয়নি! আমার সাধারণ মুসলমানদের সাথে প্রতি কোন দ্বেষ নেই। আমার বন্ধুবর্গে মুসলমানের অভাবও নেই! কাল যদি কেউ আমার এই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায়- আমি আলবাত তার বিপক্ষে যাব!
আমি দুর্গাপূজার ভাসানে নাচতে যাওয়া বাঙালী! মহরমের মিছিল যাবে বলে আমার ভাসান বন্ধ করে দেওয়াকে আমি সম্প্রীতি মানতে পারিনি! আমি এর বিরুদ্ধে থেকেছি! মুসলমান সমাজের উন্নতিকল্পে যে সরকার স্কুল-কলেজ না খুলে মাদ্রাসা খুলে দিয়েছে- আমি তার সর্বদা বিনাশ চেয়েছি! কেন না এরা মুসলমানদের উন্নতির ছলে একটা radical মুসলিম জনশক্তি গড়তে চেয়েছে আগাগোড়া যা স্রেফ ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ লাগবে- এবং এদেরকে ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের বিপরীতেও দাঁড় করানো যাবে! আমি ঘৃণা করেছি- এই নির্লজ্জ মুসলিমতোষণ! আমি চাই এই দেশের প্রত্যেক ধর্মের মানুষ সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করুক! কেউ আমার ওপরে না চড়ুক, এবং কাউকে আমার নীচে যেন নেমে আসতে না হয়!
আমি পূজার নামে ক্লাবে ক্লাবে পয়সার ছড়াছড়ি আর মদ-মাতালের নোংরামো মানতে পারি না, রাতভর শব্দদূষণকে আমি ঘৃণা করি- করবও! আমি civic sense রক্ষার পক্ষে! ডিজে বাজিয়ে কালীপূজা হোক বা হনুমান পূজা- কোনটিকেই আমি রুচিসম্মত ভাবতে পারি না! আমি বিশ্বাস করি ধর্মাচরণ মানুষ আত্মিক বিকাশের জন্য- যদি ধর্মাচরণ সাম্যাজিক উৎপাতের কারণ হয়- আমি তার বিপক্ষে আছি, ছিলাম, থাকব! আমি রাস্তা বন্ধ করে পূজা পরিচালনা করার পক্ষেও নই, রাস্তা আটকে নামাজ পরার সমর্থকও নই! আমি আমার দেশটির আধুনিকায়ন চাই!
আমি চাই আমরা জ্ঞানে বিজ্ঞানে শিল্প সাহিত্যে বিকশিত হব! আমি ধর্মের নামে দিকে দিকে fraudstar দের আবির্ভাবকে মেনে নিই না! আমি জাকির নায়েককে যেমন সহ্য করতে পারি না, তেমনি ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকেও নয়! আমি বিবেকানন্দপন্থী মানুষ! আমি উগ্রতার বিরুদ্ধে! ধর্মজগত যদি এই সমাজ থেকে rationalism উৎখাত করতে চায়- আমি সেই ধর্মজগত থেকেই বরং বেরিয়ে যাব! তার মানে যদি কেউ ভেবে থাকে আমার বিবেকানন্দকে কার্ল-মার্ক্স দিয়ে অপসারিত করা দরকার- আমি তার আর জাকির নায়েকের মধ্যে ফারাক দেখব না!
আমার দেশাত্মবোধ সূর্যসেন-প্রীতিলতাদের আদর্শে গড়া! আমার nationalism সুভাষ-ছত্রছায়ায় বেড়েছে! যে সুভাষকে গালি দিয়ে লেলিনকে বরণ করতে বলবে- সে আমার বন্ধু কস্মিনকালেও নয়- এ কথা স্পষ্ট করে বলতে আমি দ্বিধান্বিত নই! আমি যে rationalism এর ধুয়া তুলে আমার বাপ-দাদা-চৌদ্দ পুরুষের সংস্কার থেকেও নিজেকে সরিয়ে রাখতে কুণ্ঠিত হব না- সেখানে মার্ক্সবাদ নামক আরেকটা ধর্মানুশীলন আমি মানব এমন আশা করা যায় না? Marx এর সব কিছু rational নয়! Marx কে যারা নব্য ভগবান হিসেবে অর্চনা করে তারা আরেক ভিন্ন শ্রেণীর radical!
আমি একটি জ্ঞানে বিজ্ঞানে অগ্রসারমান, সুস্থ নাগরিক জীবন-সমৃদ্ধ সমাজব্যবস্থা চাইছি! এই চাওয়া নিকট ভবিষ্যতে পরিপূরণ হওয়া অসম্ভব দেখাতে পারে! কিন্তু দূর ভবিষ্যতে একেবারেই অসম্ভব নয়। এই চাওয়া কোন utopian concept এর ওপর নয়! এমন নয় যে ধর্ম সামনে এসে গেলে এই চাওয়া বাস্তবায়ন হয় না! যে সব দেশে রাষ্ট্রপ্রধাণ আজও বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেয় সে সব দেশ উচ্ছন্নে যায়নি! অতএব 'রাষ্ট্রপ্রধান কেন ধার্মিক হবে'- এই জাতীয় উদ্ভট বামমনস্ক হাস্যকর কথাবার্তায় আমার শ্রদ্ধা নেই! সমস্যা রাষ্ট্রপ্রধানের ধর্ম নিয়ে নয়, সমাজের ধর্মানুভূতির বাঁচা-মরা নিয়ে নয়- সমস্যা তখন হয়- যখন একটা রাষ্ট্রের সমস্ত কার্যপ্রণালী ধর্মীয় কিতাবের ওপর নির্ভরশীল! যেমন ধরুন ‘শরীয়া-কানুন’! আজকে সৌদি-আরব পর্যন্ত এই কানুন শিথিল করার পথে হাঁটছে! তেমনি আমার দেশ ধর্ম মানুক, আলবাত মানবে- কিন্তু তার রাষ্ট্রপরিচালনা ‘মনুসংহিতা’ মেনে হবে না!
বিজেপি এসে গেল বলে দেশটা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, বাঙালীত্ব বিপন্ন হচ্ছে বলে যে সব বাম-কান্নার রোল উঠেছে- তাতে আমার করুণা জাগে না! তবে বিজেপি যদি আমার ওপরে লেখাগুলোর বিপরীতে হাঁটে- তবে নির্ঘাৎ সেদিন আমি বিজেপির বিপক্ষেই কথা বলব! শতভাগ বলব। আলবাত বলব, যেমন বলি! দেশের প্রধাণমন্ত্রী পূজা-অর্চনা করছেন, করবেনই! কিন্তু তিনি যখন ভোটের আশায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী কিম্বা জাজ্ঞি বসুদেবের সাথে মঞ্চ ভাগ করেন- আমি তার কঠোর সমালোচনা করি! অবশ্য ক্ষমতালিপ্সু মমতা ব্যানার্জির মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ভড়ং এর চাইতে এটা মন্দ নয়! শুভেন্দু বাবুর আদিত্যনাথকে প্রণাম করে বিবেকনন্দের সাথে তুলনাও আমার কাছে লজ্জাজনক! আমি জানি প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দোষ আছে। তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় আমি কাউকে না কাউকে দেশের ভার সঁপে দিতে বাধ্য! সেখানে আমরা সবাই অসহায়! তবে আমাদের অসহায়ত্ব যদি দেশটাকে আঁধারে ঠেলে- তখন একটু জাগতে হবে বইকি! এমনকি আপনার ভালবাসার দলটিকেও সমালোচনা করতে শিখুন- ধৃতরাষ্ট্র হয়ে গেলে- তার পথভ্রষ্ট হওয়া অনিবার্য!
মাথায় তোমার হীরের মুকুট
আমরা খুঁড়ি কয়লা খনি,
সেই কয়লা-খোঁড়া হীরের সাজে
বেশ তো ছিলে হীরকরাণী!
কত ডাকাতদলের সর্দারেরা
পদানত তোমার সভায়,
নটনটী ভাঁড় কত গো-
নিত্য তোমার মহিমা গায়!
তোমার সইল না সে সুখের সুদিন
দম্ভে হলে রাক্ষসিনী,
যারা তোমার তুলল ধ্বজা
তুমি তাদের জন্য দণ্ডপাণি-
বিনা পাপের শাস্তি দিতে
তিলে তিলে মারলে পিষে,
বুঝলে না তো একই ভাগ্য-
তোমার ঘনায় সবার শেষে!
আমার রাজনৈতিক পরিচয়ঃ
_______________
আমার এই চ্যানেলে আমি মাঝেমধ্যেই আমার নানাবিধ সমাজভাবনার প্রাসঙ্গিক বক্তব্য তুলে ধরলেও কখনো আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করিনি- কেন না আমি ভেবেছি ওটা একান্তই আমার ব্যক্তিজীবনে থাক- এবং আমার এই সঙ্গীতচিন্তার বিশুদ্ধ ক্ষেত্রটিকে আমি রাজনৈতিক ক্যাঁচালের রঙ্গশালা যেন বানিয়ে না ফেলি। তবে আমাদের সামাজিক পরিসরের বিরাট অংশ যে প্রত্যক্ষ রাজনীতির প্রভাব-বলয়ে আছে- এ কথা অস্বীকার করার তো সুযোগ নেই। তাই যখন সমাজের কোন চিত্র রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত হয়েছে এবং তাতে আমার মনে আপত্তি জেগেছে- তখনই আমি সরব হয়েছি- কদাচিৎ! আমার এখনো মনে আছে- যখন বামভাবাপন্ন একটি গোষ্ঠী বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে মা কালী নিয়ে প্রহসন করেছিল- তখন আমি সরাসরিই এই চ্যানেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম- এবং এই চ্যানেলেরই একাংশ secular gang আমাকে তখন ‘চাড্ডি’ ডাকতে দেরী করেনি! আমি আলবাত ষোল-আনা হিন্দু, এবং আমি এর certificate যেমন কারো কাছ থেকে জোগাড় করিনি- তেমনি আমার hindu-identity কোথাও আহত হলে আমি তাকে defend করতেও একচুল পিছপা নই! একই ভাবে যখন কতিপয় হিন্দুত্ব-ধ্বজাধারীদের আগ্রাসী মনোভাব দেখে কখনো মনে হয়েছে- আমার কাছে- ক্ষেত্রবিশেষে আমার ধর্ম ও সংস্কৃতির misinterpretation হচ্ছে- তখনো আমি নিজের মতন বক্তব্য তুলে ধরেছি! (এই ক’দিন আগেই তো তেমন এক কাণ্ড হল!) আমি তখন নব্যহিন্দুদেরও target এ পরে গেলাম! কেন না আমি তাঁদের মনোনীত শ্রীরামকে মান্যতা দিতে মাইকেল মধুসূদনকে গালাগাল করা- তাকে সংস্কৃতি হিসেবে মেনে নিই না, হিন্দুত্ব হিসেবেও নয়! সর্বোপরি আমি নিজেকে rational side এ রাখতেই ভালবাসি! আমি জানি আমার এই ভূমির ঐতিহ্যে হিন্দুত্ব ও নাস্তিক্যের মধ্যেও দ্বন্দ্ব নেই! অতীতে ছিল না! সাভারকারপন্থীরাও হয়ত সাভারকারের ধর্মবিশ্বাস ও হিন্দুত্বের প্রসঙ্গ কখনো বই খুলে পড়ে দেখেনি! যেটাই হোক- আমার rational অবস্থান- আমাকে কোন উগ্রপন্থীদের কাছেই গ্রহণযোগ্য করেনি! আমি সাধারণ হয়ে সাধারণের কাছেই আছি! Urban-naxals বলুন, pro-hindu বলুন, BJP-TMC-Congress- যাদের কথাই বলুন না কেন- আমি ভাল করলে ভাল বলেছি- খারাপ করলে খারাপ! যেহেতু কোন দলের প্রতি আমার আনুগত্য নেই- তাই আমার রাজনৈতিক অবস্থানও পরিচ্ছন্ন নয়! কেন না এই সময়টা polarisation এর হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্রীভাবে! এখানে আপনার স্বাধীন ব্যক্তি-মতামতকে কোন না কোন দলভুক্ত করতে না পারলে তার validation হচ্ছে না! এবং এখানেই আমার মতন লোকের বিপদ! শুধু বিপদ নয়- আমরা অবাঞ্ছিত এবং অস্তিত্ব সংকটের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি- অন্তত রাজনীতির আলোচনায়! আমরা যারা political position বোঝাতে গেলেই- Betrand Russel, Friedrich Nietzsche ধর্মী কিছুটা Antiestablishmentarianism ধাঁচের কথাবর্তা বলি- তখন আমরা নিজেরাই বুঝি- আমরা এমন কিছু দার্শনিক তত্ত্বের মধ্যে আছি যার প্রায়োগিক বাস্তবতা বলে কিছু নেই- বলা যায় Marxism ও এরকম utopian কিছুই! অতএব ওসব কথা দার্শনিকতার বাইরে না চর্চিত হলেই ঠিক! বিরত থাকি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তত্ত্বজ্ঞান বিতরণে- ওটা আমার কাজ যেমন নয়- তেমনি আমি শতভাগ নিশ্চিত যে আমার কথার না থাকবে গ্রহণযোগ্যতা, না আছে এর কোন impact! অতএব আমার এত কথায় কি আসে যায়! স্রেফ ভাট বকা সার হবে! এর মানে কি আমি apolitical? না তাও তো নয়! আমি রাজনৈতিক ভাবনায় একজন গণতন্ত্রপন্থী, anti-anrchism পন্থী স্বাধীন নাগরিক। আমি আমার এবং আমার সহনাগরিকদের উন্নতিকল্পে কিছু বলার হলে তাতে নীরব থাকাও সমীচীন মনে করিনি! তবে আমার কথা বলারও সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র আছে! আমি রাজনীতিবিদ নই যে আমার সামাজিক-জীবনযাত্রার সর্বত্রই আমাকে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বাঁচতে হবে! এবং আমার খারাপই লাগে যখন দেখি একটা গোটা সমাজ রাজনৈতিক polarisation এর চক্করে- কোন কিছুই আর রাজনীতি-ব্যতিরেকে ভাবতেই পারে না! প্রত্যেক কথার ভেতর সর্বদা রাজনীতির গন্ধ আবিষ্কারের এক বিদঘুটে behavioral pattern জন্মে গেছে জনমানসে! এই পরিবেশটা কি খুব ভাল কিছু? এর পরিণামই বা খুব সুন্দর কিছু বয়ে আনতে চলেছে? এবং এই যে মতবিরোধ দেখা গেলেই তাকে কায়মনোবাক্যে সংঘর্ষমুখী করে ফেলার যে প্রবণতা ক্রমবর্ধমান- এ কি অত্যন্ত সুশ্রী? এও জানি এটাই বাস্তবতা এবং এটাই চলবে! আমার ভাল লাগা না লাগায় কোন তফাত আসবে না!
আমার রাজনীতি খুব স্পষ্ট- আমার রাজনীতি আমার ভব্যতা বোধ, রুচিবোধ, আমার মানবিক-বোধকে গলা টিপে মারার জন্য নয়! আমার রাজনীতি আমার নাগরিক অধিকারকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য! আমার রাজনীতি- কোন দলের দলদাসে রূপান্তরিত হবার জন্য নয়- আমার রাজনীতি বরং আমার সহানুভূতিপ্রাপ্ত দলটিকেও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সমালোচনা করার জন্য- যখন আমি বুঝি তার প্রয়োজন পড়ে! আমার আস্থা কখনোই কোন ‘মোদী ম্যাজিক’ কিম্বা ‘দিদি ম্যাজিক’ এর ওপর নেই! আমি ব্যক্তিপূজারী নই! আমি idealist! যেখানে ideological বৈপরীত্য আসবে- আমি সেখানে আমার মতন অবস্থান নেব। এবং আমার বক্তব্য যতটাই রাজনৈতিক বিচারে অর্থহীন শোনাক না কেন- আমি তার অর্থবহতা প্রমাণ করতেও দায়বদ্ধ নই- কোথাও নই- কারও কাছেও নই।
___
ইউটিউবে লেখা
সোনা দিয়ে মোড়া মসনদে তুমি..
ভাঁড় বিদূষক লাঠিয়াল আছে ঘিরে…
কপালে তোমার স্বেদবিন্দুর ছোঁয়া…
আশা-ভরসার তরণী ডুবেছে ধীরে…
দানবের থাবা, রাক্ষুসে ক্ষুধা…
সোল্লাসে খেলো জনপদ…
রক্তে ভেসেছে মা-মাটি-মানুষ…
তুমি ধরে বসে ছিলে মসনদ…
বাতাসে এখন ঘনিয়ে উঠেছে-
পদচারণার ধূলি…
মানুষ আসছে ক্ষিপ্র গতিতে ধেয়ে…
এখনো তোমার দু’চোখে কিসের ঠুলি?
তুমি লোকগাথা হয়ে থেকে যাবে বুঝি…
যেমন চাঁদের বুড়ি…
চপশিল্পের সময় ফুরালো বলে…
জেগে ওঠে ঝালমুড়ি…
:p
চন্দ্রভাল রুণ্ডমাল কর-কপাল ভস্মঅঙ্গ
পঞ্চবদন নাগভূষণ ধরত তাল গিরিজাসঙ্গ!
পিনাক-চন্দ্রহাস-ত্রিশূলধারী ত্রিপুরারি
বাজত ডমরু সোহত রঙ্গ!
আহীর ভৈরবে বন্দিশটি রচনা করে ক্লাসে শেখালাম।
মানুষের দাঁতে লেগে আছে কোন মানুষেরই তাজা মাংস
এই মানুষের বুকে রক্তপিপাসা, মানুষ ক্রমশ হিংস্র-
থেকে হিংস্রতমতে, বেশ তুলেছে নিজেকে টেনে!
আয়নায় দেখে থতমত খাই- আমিও মানুষ জেনে!
খঞ্জরে নরহৃদয়খন্ড উঁচিয়ে মানুষ হাসে,
মানুষই মত্ত অন্য মানুষ যখন সর্বনাশে!
মন তুমি তায় কান দিয়ো না।
তুমি দুধের বাটি সামনে পেয়ে, কথার ছলে ঘোল খেয়ো না!
কে দেয় গালি, কে দেয় তালি, না শুনে মন জপ কালী,
মন তুমি ভাই চলবে সোজা, কথায় ভুলে পথ ভুলো না!
ভবের বোঝা হইলে ভারী, কেউ রবে না মন তোমারি
মন তুমি সমেত ডুববে তরী, কাণ্ডারী আর কেউ হবে না!
বিশাখ ভনে এ ভুবনে - মন তুমি রও আপন মনে
পদপঙ্কজেতে মন লাগিয়ে পঙ্কে যেন পা ফেলো না!
তারা সবাই জানে সদুপদেশ, নীতির বাণী, শাস্ত্র-সার,
সাগর-প্রমাণ হৃদয় ওদের, বইছে সদা-ই নয়ন-ধার-
পরের দুখে। সবাই বোঝে ধর্মমর্ম, সবাই জানে কর্ম কি!
শুধু অবোধ আমি বুঝি না ছাই, আমার চোখে বুজরুকি-
সব লাগছে যেন, দেখি কেমন সবাই এখন বেশ চতুর;
হয়ত আমিই সর্বদা ভুল, তাই এই অবধি রই ফতুর!
আহা! নিঃস্বজনের জন্য মায়ায় সবার দেখি প্রাণ কাঁদে,
আমার একলা বুঝি পাষাণ-পরাণ, মন পরে না সেই ফাঁদে!
যারা শোনায় আমায় কিতাব খুলে প্রবচনের ফুলঝুরি,
তারা কেউ আসে না আপদ এলে, গলায় যদি দেয় ছুরি-
কোন রাক্ষসেরই বংশধরে-
যে পুঁথির গল্পে সঁপেনি প্রাণ-
এ জন্মে কি জন্ম-পরে;
তার থাবার ছায়ায় দেখি সবাই-
কেমন করে ভির্মি খায়,
দেখি কেমন করে বাঘের দলে-
শেয়াল দেখে লেজ গোটায়!
এরাই আসে পরলে পাঁকে হাঁতির লেজে টান দিতে,
মুমুর্ষকে মরতে ঠেলে- তাদের মিষ্টি কথার অমৃতে!
যাদের দ্বিমত আছে মরতে এখন, তারাই বুঝি ধরার ভার!
এদের এমনতর বয়ানবাজী- বোঝার আশা পগার-পার!
কত কাল আর এতটা অন্ধকারে এত সব অশ্রাব্য চিৎকারে চারপাশ বদ্ধ করে নির্বিবাদে থাকি? কত রাত দয়ানিধি অলক্ষ্যে সুর বাঁধি পড়ে আছি অচঞ্চল স্বকৃ...