মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

আমার রাজনৈতিক পরিচয়

 

আমার রাজনৈতিক পরিচয়ঃ

_______________

আমার এই চ্যানেলে আমি মাঝেমধ্যেই আমার নানাবিধ সমাজভাবনার প্রাসঙ্গিক বক্তব্য তুলে ধরলেও কখনো আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করিনি- কেন না আমি ভেবেছি ওটা একান্তই আমার ব্যক্তিজীবনে থাক- এবং আমার এই সঙ্গীতচিন্তার বিশুদ্ধ ক্ষেত্রটিকে আমি রাজনৈতিক ক্যাঁচালের রঙ্গশালা যেন বানিয়ে না ফেলি। তবে আমাদের সামাজিক পরিসরের বিরাট অংশ যে প্রত্যক্ষ রাজনীতির প্রভাব-বলয়ে আছে- এ কথা অস্বীকার করার তো সুযোগ নেই। তাই যখন সমাজের কোন চিত্র রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত হয়েছে এবং তাতে আমার মনে আপত্তি জেগেছে- তখনই আমি সরব হয়েছি- কদাচিৎ! আমার এখনো মনে আছে- যখন বামভাবাপন্ন একটি গোষ্ঠী বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে মা কালী নিয়ে প্রহসন করেছিল- তখন আমি সরাসরিই এই চ্যানেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম- এবং এই চ্যানেলেরই একাংশ secular gang আমাকে তখন ‘চাড্ডি’ ডাকতে দেরী করেনি! আমি আলবাত ষোল-আনা হিন্দু, এবং আমি এর certificate যেমন কারো কাছ থেকে জোগাড় করিনি- তেমনি আমার hindu-identity কোথাও আহত হলে আমি তাকে defend করতেও একচুল পিছপা নই! একই ভাবে যখন কতিপয় হিন্দুত্ব-ধ্বজাধারীদের আগ্রাসী মনোভাব দেখে কখনো মনে হয়েছে- আমার কাছে- ক্ষেত্রবিশেষে আমার ধর্ম ও সংস্কৃতির misinterpretation হচ্ছে- তখনো আমি নিজের মতন বক্তব্য তুলে ধরেছি! (এই ক’দিন আগেই তো তেমন এক কাণ্ড হল!) আমি তখন নব্যহিন্দুদেরও target এ পরে গেলাম! কেন না আমি তাঁদের মনোনীত শ্রীরামকে মান্যতা দিতে মাইকেল মধুসূদনকে গালাগাল করা- তাকে সংস্কৃতি হিসেবে মেনে নিই না, হিন্দুত্ব হিসেবেও নয়! সর্বোপরি আমি নিজেকে rational side এ রাখতেই ভালবাসি! আমি জানি আমার এই ভূমির ঐতিহ্যে হিন্দুত্ব ও নাস্তিক্যের মধ্যেও দ্বন্দ্ব নেই! অতীতে ছিল না! সাভারকারপন্থীরাও হয়ত সাভারকারের ধর্মবিশ্বাস ও হিন্দুত্বের প্রসঙ্গ কখনো বই খুলে পড়ে দেখেনি! যেটাই হোক- আমার rational অবস্থান- আমাকে কোন উগ্রপন্থীদের কাছেই গ্রহণযোগ্য করেনি! আমি সাধারণ হয়ে সাধারণের কাছেই আছি! Urban-naxals বলুন, pro-hindu বলুন, BJP-TMC-Congress- যাদের কথাই বলুন না কেন- আমি ভাল করলে ভাল বলেছি- খারাপ করলে খারাপ! যেহেতু কোন দলের প্রতি আমার আনুগত্য নেই- তাই আমার রাজনৈতিক অবস্থানও পরিচ্ছন্ন নয়! কেন না এই সময়টা polarisation এর হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্রীভাবে! এখানে আপনার স্বাধীন ব্যক্তি-মতামতকে কোন না কোন দলভুক্ত করতে না পারলে তার validation হচ্ছে না! এবং এখানেই আমার মতন লোকের বিপদ! শুধু বিপদ নয়- আমরা অবাঞ্ছিত এবং অস্তিত্ব সংকটের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি- অন্তত রাজনীতির আলোচনায়! আমরা যারা political position বোঝাতে গেলেই- Betrand Russel, Friedrich Nietzsche ধর্মী কিছুটা Antiestablishmentarianism ধাঁচের কথাবর্তা বলি- তখন আমরা নিজেরাই বুঝি- আমরা এমন কিছু দার্শনিক তত্ত্বের মধ্যে আছি যার প্রায়োগিক বাস্তবতা বলে কিছু নেই- বলা যায় Marxism ও এরকম utopian কিছুই! অতএব ওসব কথা দার্শনিকতার বাইরে না চর্চিত হলেই ঠিক! বিরত থাকি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তত্ত্বজ্ঞান বিতরণে- ওটা আমার কাজ যেমন নয়- তেমনি আমি শতভাগ নিশ্চিত যে আমার কথার না থাকবে গ্রহণযোগ্যতা, না আছে এর কোন impact! অতএব আমার এত কথায় কি আসে যায়! স্রেফ ভাট বকা সার হবে! এর মানে কি আমি apolitical? না তাও তো নয়! আমি রাজনৈতিক ভাবনায় একজন গণতন্ত্রপন্থী, anti-anrchism পন্থী স্বাধীন নাগরিক। আমি আমার এবং আমার সহনাগরিকদের উন্নতিকল্পে কিছু বলার হলে তাতে নীরব থাকাও সমীচীন মনে করিনি! তবে আমার কথা বলারও সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র আছে! আমি রাজনীতিবিদ নই যে আমার সামাজিক-জীবনযাত্রার সর্বত্রই আমাকে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বাঁচতে হবে! এবং আমার খারাপই লাগে যখন দেখি একটা গোটা সমাজ রাজনৈতিক polarisation এর চক্করে- কোন কিছুই আর রাজনীতি-ব্যতিরেকে ভাবতেই পারে না! প্রত্যেক কথার ভেতর সর্বদা রাজনীতির গন্ধ আবিষ্কারের এক বিদঘুটে behavioral pattern জন্মে গেছে জনমানসে! এই পরিবেশটা কি খুব ভাল কিছু? এর পরিণামই বা খুব সুন্দর কিছু বয়ে আনতে চলেছে? এবং এই যে মতবিরোধ দেখা গেলেই তাকে কায়মনোবাক্যে সংঘর্ষমুখী করে ফেলার যে প্রবণতা ক্রমবর্ধমান- এ কি অত্যন্ত সুশ্রী? এও জানি এটাই বাস্তবতা এবং এটাই চলবে! আমার ভাল লাগা না লাগায় কোন তফাত আসবে না! 


আমার রাজনীতি খুব স্পষ্ট- আমার রাজনীতি আমার ভব্যতা বোধ, রুচিবোধ, আমার মানবিক-বোধকে গলা টিপে মারার জন্য নয়! আমার রাজনীতি আমার নাগরিক অধিকারকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য! আমার রাজনীতি- কোন দলের দলদাসে রূপান্তরিত হবার জন্য নয়- আমার রাজনীতি বরং আমার সহানুভূতিপ্রাপ্ত দলটিকেও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সমালোচনা করার জন্য- যখন আমি বুঝি তার প্রয়োজন পড়ে! আমার আস্থা কখনোই কোন ‘মোদী ম্যাজিক’ কিম্বা ‘দিদি ম্যাজিক’ এর ওপর নেই! আমি ব্যক্তিপূজারী নই! আমি idealist! যেখানে ideological বৈপরীত্য আসবে- আমি সেখানে আমার মতন অবস্থান নেব। এবং আমার বক্তব্য যতটাই রাজনৈতিক বিচারে অর্থহীন শোনাক না কেন- আমি তার অর্থবহতা প্রমাণ করতেও দায়বদ্ধ নই- কোথাও নই- কারও কাছেও নই।


___ 


ইউটিউবে লেখা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

হীরকরাণী

  মাথায় তোমার হীরের মুকুট   আমরা খুঁড়ি কয়লা খনি ,   সেই কয়লা - খোঁড়া হীরের সাজে বেশ তো ছিলে হীরকরাণী !   কত ডাকাতদলের সর্দারের...