রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

‘গচ্ছ দেবী মমান্তরম্‌’

 

আবাহনে বলি বাহিরেতে এসো জননী,

বাহিরে রয়েছ এই ভেবে করি কত ভ্রম!

যাবে বা কোথায় যদি বসতি করেছ হৃদয়ে

‘গচ্ছ দেবী মমান্তরম্‌’!

 

কত দিশি ঘুরে, কত মন্দিরে,

আলোকে আঁধারে কত মন্ত্রের পূজা আয়োজন!

দু’আঁখি মুদিয়া হয়নি তো দেখা,

তুমি জেগে আছো বুকে, স্নেহকরে কর পরশন!

পথেশ্রমে হল পদযুগে ব্যথা,

বৃথা খুঁজি তারই উপশম!

যাবে বা কোথায় যদি বসতি করেছ হৃদয়ে

‘গচ্ছ দেবী মমান্তরম্‌’!

 


কোলে নে



কোল নে পাষাণের মেয়ে
আর কত তুই রাখবি ফেলে?
চৌদিকেতে নাম রটেছে
বিশাখ নাকি তোরই ছেলে!
দুধের মুখে বিষ তুলে মা,
ও মুখের পানে নয়ন মেলে,
হাত বাড়ায়ে বসেই আছি,
পায়ে তবু দিস মা ঠেলে!
আমি দুর্গা বলে এই অকুলে
ভাসব কত দুঃখ জলে,
ছেলের তরে নাই মা দয়া,
কাঁদাস আমায় কতই ছলে!

মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১

আজ মহালয়া

 

উঠোনের প্রান্ত জুড়ে সবুজ দুর্বাঘাস, স্নিগ্ধ শিশিরস্নাত,

কলতলা ছেয়েছে ঝরা শিউলি ফুলে, নতুন খড়ের ঘ্রাণ,

ধান এলো, পূরব-রাগে রবিকরনিকরযুত শারদপ্রাত

নেই আর, আমি ইটের গাঁথুনি মাঝে জাঁপটে ধরেছি প্রাণ

কোনক্রমে। এ আমার ক্ষুদ্র আলয়, সে আনন্দে কত ‘মহালয়া’

ঘুমিয়ে দিয়েছি পার কত দেবীমুখ, দিব্য ভুলে গেছি,

বিনা শ্রমে, তবু ভুলে থাকা মহাপাপ নয়!   

 

ইঞ্চি ইঞ্চি বেড়েছি কায়ায়, অন্তরে হয়েছি ক্ষয়,

হচ্ছিও নিত্যদিন, একটু একটু করে, অজেয় মায়ায়

চোখ বুজে পড়ে আছি আত্মপুরুষে দিয়ে মিথ্যে জলদান,

বলি ‘তৃপ্যতু’, হাঁটুজল অস্তিত্বস্রোতে নেমে সঘন ছায়ায়

আমি শুনি, যে গেছে, আসে না তার ‘আগমনী গান’!

 

আজ মহালয়া!

 

শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১

নবমী-চন্দ্র

 


নবমী-চন্দ্রমা, যেয়ো না অরুণোদয়ে,
আঁখি-তারা চন্দ্রাননী যাবে হর-ঘর।
কেমনে ধরিব প্রাণ কন্যাহারা হয়ে,
পেয়েছি তুষিয়া শিবে কতকাল পর!
ত্রিদিবস পার হলে, শিব আসে দ্বারে,
সেরূপ নেহারি কাঁপে ত্রিদিব ত্রিলোক!
কি করিয়া হেন রূপে সঁপিব উমারে,
কেমনে সহিব প্রাণে উমাহারা শোক!

পাষাণের রাণী হই, পাষাণী যে নহি,
পাষাণ হইতে নারি, কি করিয়া সহি!

(চতুর্দশপদীর আদলে লেখা। প্রতি লাইনে ১৪ অক্ষর রেখেছি। কিন্তু ১৪ লাইন করিনি। পেট্রার্কান সনেটের শেষ ৬ লাইনের ধারা থেকে একটু বেরুনোর চেষ্টা। রাইম স্কিম- খুব সহজ- কখকখগঘগঘজজ।)





রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এই তো সুখে আছি

 

ঠিক আমার পাশের হৃদয়টি দানবের আহার্য্য করে

জানালা খুলে আমি আজ আনমনা, ওদিকে অন্য আকাশ,

বাষ্পভেজা কবিতাপত্র, পরবাসী সুরস্রোত

সতৃপ্ত সাধার জোটে অনন্য অবকাশ!

খঞ্জর-খণ্ডিত শোণিত-মণ্ডিত কত কত শরীরজ প্রেত-বন্ধু হে

চুলোয় যাও, জ্বলে মর, গলায় বাঁধো ফাঁস,

আমি তো সুখে আছি!

 

সুকাব্য সুললিত লালিমা-বিগলিত সুষম আখ্যান

সুন্দরতম কথার অট্টালিকা, ভাষার ভাবান্তরে মুখ ঘুরিয়ে মত্ত

বাস্তবের ধূম্রজাল ছেড়ে, কদর্য-কর্কষ-কপট-কুৎসিত-দুখে

উৎসারিত উদোল বেসুরো গান

মন চায় তোমরা শোন!

 

আমি তো সেজেছি সঙ, আমি তো মেখেছি রঙ

নানাবিধ, নানা ঢঙে, জং-ধরা মননযন্ত্রে কোন

মানবিক মন্ত্রে আর যেন না লাগে পূজার পুষ্প-ঘ্রাণ,

আমি শুধু যূপকাষ্ঠে হয়েছি স্থির!

 

এই তো সুখে আছি।

 

 

 

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এ দিনের পর

 

আমার নৈঋতে নিঃসীম মেঘ,

বরষা ছায় টিনের চালে, নিথর দ্বিপ্রহর;

পাখিরা গেছে থেমে উঠোনে গাছের ডালে,

যতনে বোনা নীড়ে

ঝড় আসে ঝড়!

 

বুনো ফুলের রেণু ভেসে যায়,

কাল থেকে কালান্তর, পথ ভুলে আরো পথে,

ঘর থেকে অন্য ঘর

মাতাল ভ্রমর!

চিরচঞ্চল প্লাবনবেগে

ভূধর-ভঙ্গে ফোটে ভূতল-নির্ঝর

তপ্ত গরলস্রোতে ফেলেছি দ্যাখো

ক্লান্ত নোঙ্গর!

 

কেন এখনো দাঁড়িয়ে ঘাটে?

নেমে এসো, আমি ওপাড়ে বয়ে যাব,

কি জানি কি দিন আছে

এ দিনের পর!

 

 

 

 

 

 

 

সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দুর্দিন

 

কখনো একটি দিন নিস্তরঙ্গ পয়োধিগর্ভে লীন,

সুখ-অসুখ-দ্বন্দ্বাতীত, প্রেম-অপ্রেম-রহিত অচল ক্ষণ,

স্থাণু, থির মেঘদল, গতিহারা, তেমনি কাটে

সুরলয়-ছন্দ-হীন!

অন্তরে অচঞ্চল নেতিয়ে পড়েছে ঝড়,

সুদূরে কারো কূলে, খেয়াবাটে

মাঝি নেই! ও দেশে মন্বন্তর!

অসহ দুর্দিন!

 

মনে মনে একটি একটি মীড় ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায়,

শুকনো গোলাপের মত; উপেক্ষা, আক্ষেপ

স্নেহলেপ, প্রণয়-বিক্ষত বিগতমোহ আত্মায়

উদাস হয়ে বসে আছি কখনো একটি দিন

এমনি কাটে, একান্তে জড়খণ্ড হয়ে,

প্রকাণ্ড প্রাণহীন!  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...