শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ভুলে যেয়ো

ভাল থেকো, ভাল থেকো
যদি চাও মনে রেখো,
অথবা ভুলেই যেও নিজের খেয়ালে।
টাঙিয়ে রেখো না তুমি
আমার প্রেমের মমি মনের দেয়ালে!
ভাল থেকো সব ভুলে
বর্ষায় খোলাচুলে একা একা ভিজো,
নীল বাড়িটার ছাদে,
কোন রূপালী জ্যোছনা চাঁদে
যাকে তুমি খোঁজ-
সে না হয় অন্য কেউ হোক!
খুব নিপাট ভদ্রলোক
ছন্নছাড়া ভিখারি নয়, নয় উদ্ভ্রান্ত কবি
সে হোক রাজার মত, মানেও সমুন্নত
যাকে দেখে দশবার আমি খাব খাবি!

সবই হোক যেমন তোমার খুশী
তোমার মুখের হাসি
সবচেয়ে দামী
এটুকু আমার আছে,
বাকি সব চলে গেছে
শুধু টিকে আছি আমি
হাসির শব্দ নিয়ে পাঁজরার নিচে!
বাকি সব- সব মিছে
গভীর ঘুমের দেশে স্বপ্ন দেখছি যেন
ছুটছি কিসের পিছে
কি কারনে? কেন?
উত্তর অজ্ঞাত, সাড়া নেই কোন!
তবু আমি ভাল আছি
তুমি থেকো ভাল,
আমার রঙটা শুধু একটু পুড়েছে রোদে
চামড়াটা কিঞ্চিৎ হয়ে গেছে কালো,
তবু আছি ভাল।

ভুলে যেও ভুলে যেও
মনে রাখা মহাপাপ এটা মনে রেখো
ফেসওয়াশ করে নেবে ঘুমানোর আগে
মনে করে অবশ্য মুখে ক্রিম মেখো!

৬৮১৫

নাই বা হলে আমার

নাই বা পেলাম আরো কাছে
নাই বা হল আর দেখা,
নাই বা হল খুনসুটি আর
নাই বা হল গান লেখা।
নাই বা হল রাত জেগে চ্যাট
নাই বা নিলে আর খবর,
নাই বা ভাল বাসলে আমায়-
নাই বা তুমি বাঁধলে ঘর।
নাই বা তুমি রাখলে মনে
নাই বা তুমি ভাবলে আর,
নাই বা তুমি আঁকলে ছবি
নাই বা খুলে রাখলে দ্বার!
নাই বা হল আর কবিতা
নাই বা এল ছন্দ লয়
নাই বা হল দু'চোখ দেখা
তবুও দু'চোখ বন্ধ নয়!
নাই বা আমায় বাঁধতে এলে
নাই বা দিলে বরমালা,
নাই বা থাকো শয্যপাশে
বুকেই থাকো, হোক জ্বালা!

না হয় আমি জ্বলেই যাব,
জ্বলেই হব কয়লা-ছাই
তবুও আমি থাকব বেঁচে
বলব না আর তোমায় চাই!

৪৮১৫

কাজী নজরুল ইসলাম (Acrostic)

কালকূট কন্ঠে রাখি ধূর্জ্জটির তৃপ্ত হাসি,
জীবনপাথার মথি বাজালে বিষের বাঁশী!

বীন অরুণ করে ভাঙায়েছিলে ঘুম-
গদ্দল পাথরের, দাশরথি পদরজে অহল্যার মত!
রুদ্ধ প্রাণে সঙ্গীতের সুর শুনি কাঁপিয়াছিল ভূম-
বনাম্বুধির তট, সহসা সচকিত-

ন্দু ও প্রভাকর, দ্যুতিময় দ্যুলোকের নক্ষত্রনিচয়
ম্মোহিত নয়ন মেলি দেখিল ধরণী।
লাজনম্রা বঙ্গদেশে একি আলোক উদয়,
রণপ্রায় বাঙালীরে যুদ্ধ দিল আনি!

3815
http://www.bangla-kobita.com/vishakhdutta1988/post20150803121006/

যদি মনে পড়ে (স্পেন্সারিয়ান সনেট)

সেই হাসি, সেই চোখ, সেই খোলাচুল,
সেই গান, সেই তান, সেই তানপুরা-
এই আছে, এই নেই, বারেবারে ভুল;
স্বাভাবিক হয়ে গেছে পথে পথে ঘোরা।

ছেঁড়া ছেঁড়া কথা জুড়ে কবিতায় রাত-
পার করি, ধার করি জীবনের সুখ।
ওড়ে চঞ্চল অঞ্চল, প্রেয়সীয় হাত-
ভেসে ওঠে লহমায়, জেগে ওঠে মুখ।

মনটাও ভাল নেই শরীরে বিকার
বেঁচে আছি এই বেশ পাথরের মত।
এখনো যে বাকী আছে কত কি দেখার
জানি আরো দেবে তুমি মনে প্রাণে ক্ষত।

তবু চাই ভাল থেকো গড়িয়ার মোড়ে,
মাঝেমাঝে মনে কোরো যদি মনে পড়ে।

২৮১৫
http://www.bangla-kobita.com/vishakhdutta1988/post20150802010655/

প্রেমে রূপান্তর (রম্য)

প্রেমে হলে কুপোকাৎ কিবা দিবা কিবা রাত
ভাঁড়েরাও কবি হয়, ষাঁড় হয় ভেড়া!
কি মধু সুধার আশে মন কাঁদে হা-হুতাশে
বোঝাব কি ছাই লিখে, অপ্রেমিক যারা-
তারা কি বুঝতে পারে ফাগুনে কি আগ জ্বলে
রমণী কিভাবে চলে মোহের কুম্ভ ভরে
বুকের গভীরে নাড়ে দরজার কড়া!
সুকঠিন ফিলসফি, বাস্ কর! হুয়া কাফি!
ইনসান ঘুরে মরে লায়লার খোঁজে,
রোদে পুরে কয়লা হয়ে হয়নি মজনু যে
সে জন প্রেমের মানে কি করে বা বোঝে?
জেগে জেগে খোয়াবনামা লিখে যায় কবি
প্রেমের দুনিয়া দেখি বোকা টোকা ভরা।
সেয়ানা বান্দা কম, স্লো র্যাম, ড্যাম্ন রম!
হার্ডওয়ারে গোলমাল, খাবে হার্ট ধরা!

-*-

১৮১৫

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অপারগতার কথা

একবার নিঃস্ব হবার পর দ্বিতীয়বার কি সে সুযোগ থাকে?
দ্রব্য হারিয়ে যে নিঃস্ব সে না হয় দুবার জোটাতে পারে।
কিন্তু যে হারিয়েছে প্রেম ও হৃদয় যুগপৎ
সে কি পারে?
যে হারিয়েছে বিশ্বাস ও আস্থা, নারী ও স্পর্শ, অভিমান ও আকুতি,
ব্যাকুলতা, বিহ্বলতা- সে কি পারে বারবার ভিক্ষাজীবী হতে?
একবার যে ভিখারি হয় সে কি পারে আরেকবার ভিখারি হতে?

যে রাজা রাজ্যচ্যুত সে হয়ত ভাগ্যবশে আরেকবার রাজা হবে।
কিন্তু যে প্রেমিক প্রেমহারা হয় সে কি পারে বারবার প্রেম পেতে?
যে হারিয়েছে নদী ও নৌকা, ঢেউ ও বাতাস, পাখি ও ছোট্ট নীড়,
অশ্রু, আকাশ, বিলাপ, প্রলাপ- সে কি পারে কবিতা ছেড়ে দিতে?
সে কি পারে?
একবার যে জন্মেছিল সে কি পারে বারবার মরে যেতে?
মানুষ কি সবুজ ঘাস? অথবা কি গাছের কলব যে জুড়ে দিলে বেঁচে যাবে?
মানুষ কি সবুজ ঘাস- যে পায়ে পায়ে পিষে গেলেও একদিন জল পেলে
আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে?
সে কি পারে?

সে কি পারে বিভগ্ন বিশ্বাসকে পুঁজি করে মনের ব্যবসাদারী?
অনাস্থাকে বুকে বেঁধে সমুদ্র পাড়ি দিতে সে কি পারে উদোম বৈশাখে?

একবার যার ঘর ভেঙেছে সে না হয় আর একবার বেঁধে নেবে।
কিন্তু যার হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে গেছে সে কি পারে আবার জানালা খুলে দিতে
দমকা হাওয়াকে ডেকে ভর দুপুরের কোন নিরালি ডাঙায়?
সে কি পারে?

২৩-২-১৬
http://www.bangla-kobita.com/vishakhdutta1988/post20160223070502/

তুমি কি বোঝ না কোনদিন?

আমি কিছু লাঞ্ছিত প্রত্যাশার আশ্রয়দাতা,
কিছু নিরতিশয় ভুলের মাশুল,
দুর্বিজ্ঞের বিলাপের ভাষা-
আমি, ব্যথায় মথিত যৌবন।
স্বপ্নে বিধ্বস্ত, জাগ্রত বিষম সমাকুল,
প্রাণহর্তা কবিত্বের উদগ্র নখবিষ
শরীরে ধাবমান, উন্মত্ত দহন-
জন্ম থেকে ভবিষ্য-বর্তমান আমাকে,
প্রতিভা, কীর্তি, যশ, অতুল উষ্ণীষ-  
সমেত গ্রাস করে আশ্চর্য্য বুভুক্ষু হয়ে।
তবুও কেন যেন তোমার চোখের তারা
খোঁপায় সে কোন নাম না জানা গাছের ফুল
কি জানি কেন যেন সকরূণ অনুনয়ে
হৃৎপিণ্ড আঁকড়ে ধরে কাঁদে।

আমি এক-পা পিছিয়ে গিয়ে দুই-পা এগুই,
তোমার কোলের কাছে সঁপে দিয়ে মাথা
ঝড়ের ঝাপটা বুকে চোখ বুজে শুই।

তুমি কি বোঝ না কোনদিন?http://www.bangla-kobita.com/vishakhdutta1988/post20160901060428/

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...