শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৮

হল না কিছুই

অতঃপর কবিত্বশূণ্য, আমি বেশ আছি,
আমার ঘরে বাঙ্ময় মৃত শব্দের বোঝা,
তারই মাঝে গুচ্ছের কান্না চেপে ধরে
বুকের অতলে আজও নিঃশব্দে খোঁজা-
শুধু তোমাকেই!

অচঞ্চল শালগ্রামের মত যেন দেউল মঞ্চে
স্তব্ধ হই, গায়ে পরে প্রসাধন চন্দনের ছিটা,
তুষ্ট নই, তবুও মূক বলে ধরি মুমুক্ষের বেশ,
বোঝাই- গরল বা অমৃত- সমভাবে মিঠা,
বৈরাগীর কাছে!

এই অপ্রতিহত মিথ্যের স্রোতে অরুণিমা,
আমি অস্তাচলে আটকে গেছি একা,
বলেছিলাম-
আসছে বোশেখ এলে বছরটা ঘুরে
বাজারের ফর্দতে পরিচিত লেখা
আমি দেখব বটেই!

হল না কিছুই!

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

সোনার কৌটোয় বিষ

সোনার কৌটোয় বিষ রেখে দিলে কি আর তা অমৃত হয়?

কতক সূর্যহীন দগ্ধিত রাত্রি আমার অপ্রেমকে প্রেম ভেবে আখ্যান হল,
স্বর্ণশেকলও যে করে শেকলেরই কাজ, এই সহজ সত্য বুঝতে গেল ত্রিংশ চৈত্র মাস,
আজও নারীকে চিনিনি, সব যেন চিনেও না চেনার মত!

মিথ্যেকে ভুলে থাকার নাম সত্যাশ্রয়ী হওয়া, এও এক কপট বিরহ সুখ,
অথচ অসুখই অকপট চিরস্থায়ী হয়, এতটুকু সারতত্ত্ব বুঝতে আমার গেল তিনটি স্বপ্ননাশ,
আজও নারীকে চিনিনি, সব যেন না চিনেও চেনার মত!

শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১৮

জুতোপেটা সওয়া

মানুষের ছায়াপথে মৃত্যু মিছিল
গ্রহণের দিন শেষে কান নেয় চিল!

'পাখি সব করে রব' রাতি না পোহায়,
মগজে কিতাব নেই, কিতাবী পোকায়-

ভরে গেছে দেশকাল, চারিধারে দেখি,
তবুও শখের বশে কবিতাও লিখি।

বিদূষক মন্ত্রী পেয়ে গদগদ রাজা,
উঁচুদরে গাধা পুষে উচ্চৈঃশ্রবা সাজা-

ভড়ং এর ভাগ্য মেপে বাবু বনে গেছি,
সত্যের জবার বাপু কেন মিছামেছি-

চাইছ এই মরার দেশে বেয়াক্কেল হয়ে,
জুতোপেটা খাচ্ছ যা, হেসে যাও সয়ে!

বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১৮

গরবিনী

আমার কুটীরে দু'টো ফেনভাতে পরমানন্দে থাকো,
আমার এ হৃদয় নিখিল কাঙাল, চুলের গোছায় রাখো।
কত বিনিদ্র বিষাদের রাতে তুমি আমাকে বেসেছো ভালো,
কত সকালের সূর্য গিয়েছে, আমাকে দেয়নি আলো।
আমার দু'চোখ আষাঢ়ে আঁধার, মেঘে মেঘে আমি অন্ধ,
ঝড়ের ঝাপটা আগলে দিয়েছ, জানালা দিয়েছ বন্ধ।
বন্যা ভেঙেছে মনের উঠোনে, আমি নির্বাক চেয়ে আছি,
জলকাদা মাখা জীবনের সাথে তোমাকে মাখিয়ে বাঁচি।
কোন অভিযোগ নেই যে তোমার, আমি সেই দায়ে চিরঋণী,
আমার যেখানে গরব শূণ্য, তুমি তা-ই পেয়ে গরবিনী!

সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

অবকাশ

আমার থাকা না থাকায় আমারও আর কিছু যায় আসে না,
যে থাকে না আমার ভেতর সে থাক না হয় বাইরে বাইরে,
তাকে তাকে বেদনা গুছিয়ে রেখেছে যে সে কাঁদুক গুমরে গুমরে,
যে প্রথম পাতাটা খুলেছে অন্তত সে যেন শেষ অব্দি আর কাঁদে না।

ফাগুন ফুঁপিয়ে ডুকরে উঠেছে কার শ্লাঘা ও প্রেমের দ্বন্দ্বে,
ধুতুরা যে মধুপের মৃত্যু রচে না এ কথাও কবে যে ভুলে গেলাম,
কাঁটার কূটজ্বালা যদিও বিস্তর তবুও কি ফুলের মাতাল গন্ধে-
জীবনে আচ্ছন্ন হই- কোনদিন ভাববো বলেও আর ভাবা হল না।

আমার বাঁচা না বাঁচায় কখনো কোনভাবে কোন কথারা মরে না,
অনেক না বলা অ-কথা কঁকিয়ে ওঠে, কিছু আলজিভে অপেক্ষায়-
আমরণ লড়ে, তারা কখনো তোমাকে বলে গেল না কবিতেশ্বরী-
একেকটা কবির কতটা সর্বনাশ অলিখিত কতকটা কবিতায়....
তুমি যদি বুঝতে! কে বোঝাবে তোমায়?

আমাকে আর প্রশ্ন কোরো না, আমি এক হাজার এক কথায়-
ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে অথবা মূর্খের সরলতায় বহুবার বলে গেছি যা
আজও একই কথা বলি, পশ্চিমের গোধূলি পশ্চাতে রেখে একদিন
অ-কন্দর্প ভুজবন্ধনে যে কবিতা অনুচ্চারিত ঋক-সামের মত বেজেছিল
তুমি কখনো কেন জানি না তার মাঝে আমায় খুঁজে দেখোনি!
হয়ত কখনো তুমি পাবে না আর এতটুকু অবকাশ!

শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

মরণায়ুধ

মরণ তোমার উদ্যত আয়ুধে নমি।
জনমের অন্তরালে প্রতিহারী সম
জীবন কারার দ্বার রাখিয়াছ তুমি
চির-রক্ষিত। নিঃশ্বাসে দম্ভদর্প ভরি
তোমার ক্রোড়ে ফিরিবার বিস্মরণে
প্রত্যহ এ সংসার মোহে মুগ্ধ করি
তুমি মোরে পালিতেছ হে দয়েশ্বর
সবারই আপন তুমি নহ কারো পর।

তথাপি ত্রিলোকস্বামী, কালচক্রপাণি,
ত্যাজিয়া দুঃখের সত্য, সুখের সন্ধানী
হইয়াছি জন্ম জন্ম মজিয়া কি ভ্রমে;
নিরন্তর নিরয়পথে ছাড়িয়া দ্যুলোক
আসিয়াছি অন্তে আমি বুঝিলাম ক্রমে।

___________

আর লিখতে পারি না। হাত আটকে যায়।

'মরণরে তুঁহু মম শ্যাম সমান'

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

পরস্মৈপদী

পরস্মৈপদী প্রেম
হাতি ও ঘোড়া চেনে
চেনে না সহিস ও মাহুতের
যথার্থ ব্যবধান!

সাহসে অনেকে মরে,
ক্ষেতের পোকারা মরে হ্যাজাকের তলে;
এ মৃত্যুর কি সম্ভাব্য অবদান-
জীবনের কাছে সে প্রশ্ন ক'জনের?
ক'জন মৃত্যুগামী এ প্রশ্ন তোলে?

অথচ সবাই বাঁচতে চেয়ে
তিলে তিলে মরে,
সবাই বাঁচতে চায়
মরে যাবে বলে!

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...