শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

ভাল থাকার নাম

কখনো কখনো কিছু করার থাকে না,
অকারণ কারণ খোঁজার চেষ্টাও মনে আসে না আর,
মনে হয় বসে থাকি, বসে আছি যেখানে যেমন ঠাঁই
সবটাই - হিতাহিতের পারে ঠেলে
আলুনি ত্রিসংসার— তবু বুঝি এর নাম ভাল থাকা নয়!

সকল অকর্মণ্যতা বন্ধু আলস্যপ্রসূত নয়,
নিরলস যন্ত্রেরও দিন আসে বিকল হবার,
তোমরা বোঝ না কেন?
একদিন পাখিটির ডানাও যায় থেমে, ধূমকেতুও যায় নিভে
কত নদী কত বাঁক থেকে একদিন দূরে সরে যায়—
খবর রেখেছ কবে?

আমি কখনো প্রশ্নের পালে তুলিনি ঝড়ের হাওয়া,
দাঁড় ধরে বসে আছি, নোঙর আছে কি নেই তাও অজানা;
জলের শব্দ শুনি, যা শুনতে চাওয়া
হয়নি এতদিনে অনেক মাতমেও—
তারও অভীপ্সা গেছে ডুবে, হয়ত এমনটাই হয়।

কিছু করার থাকে না,
কিছু কারণ খোঁজার চেষ্টাও মনে আসে না আর,
মনে হয় বসে থাকি, বসে আছি যেখানে যেমন ঠাঁই
সবটাই - হিতাহিতের পারে জ্বেলে
আলুনি ত্রিসংসার— তবু বুঝি এর নাম ভাল থাকা নয়!

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

জীবন বই

জীবনটি একটি বই থেকে
আরেকটি বইতে যাওয়া নয়
বরং একটি বইয়ের সবক’টি পাতা।
আপাত অর্থে এমনও মনে হতে পারে-
কিছু কথা একেবারে হয়নি তো লেখা,
কিছু পসঙ্গ গেল না প্রসঙ্গান্তরে গাঁথা—
তবু জেনো, এখানে অসমাপ্ত কিছু নেই!

শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

অকথিত কবিতা


কিছু কথা অকথিত থাক,
সকল কথা-ই যদি কহতব্য হবে
তবে নিজেকে নিংড়ে আর পাব না কিছুই।
জনান্তিকে কি এক জলস্রোত অকরুণ গেল বয়ে
সকলে কি তার বল রেখেছে খবর,
এদিকে বুকেতে আটকে গেছে যে কতক ঢেউ
আমি অকুলে ভেবেই মরি- ছুঁই কি না ছুঁই!

পাহাড় ডিঙিয়ে গেছি আরও কত পাহাড়ের পর,
শতেক যোজন ধরে অহর্নিশ, নির্নিমিখ অযুত প্রহর-
আমি কেমন শ্রান্ত হয়ে আর লিখিনি কত;
সকল কিছুই যদি লেখা হয়ে যাবে
তবে নিজেকে জমাট করে হত না কিছুই।
পৃথিবীর অন্তরালে আরেক পৃথিবী যায় ক্ষয়ে
সকল পার্থিব কি রাখে সেখানে নজর,
এদিকে আমার উঠোনে আর আসে না মাঘের ঘ্রাণ
জাগে না সকাল রোদে বেলী আর জুঁই!


বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২০

নতুন ফুলশর

আমি কি আবার প্রেমে পড়ে গেছি
কোন অপ্সরী রূপা রমণীর?
এখনো কি কিছু স্বাদ বাকী আছে
ঘুন ধরে যাওয়া ধমনীর??
এখনো কি রাত একা জেগে আছে
চন্দাবতীর পাশে?
এখনও কি পাখি কিচিমিচি গায়
নদী খিলখিল হাসে?
যে বুকের মাঝে কত প্রেম ছিল
সে কি আজো আছে পথ চেয়ে?
যার দুটি হাতে বরমালা ছিল
সে কি চলে গেল পথ বেয়ে?
আমি কি আবারো ভুলতে বসেছি
আমি বারবার করি ভুল!
চোখের তারায় এখনও কি ওড়ে
সেই তার খোলা চুল?
ফাগুনের বেশে আগুন এসেছে
কতবার পোড়া মনে
আমিও পুড়েছি যাতনা সয়েছি
বেদনা পুষেছি প্রাণে!
আমি কি আবার জ্বলে পুড়ে যাব
কোন রূপসীর আহবানে?
চোখে মুখে যার ছলনার হাসি
কথা ফুলশর হানে!!

৩/১২/১৩

গণতন্ত্রের ডায়রিয়া

চারিপাশে আজ শুনি
বিস্ফুট ককটেল ধ্বণি
এরশাদ মামা করে
নিত্য যাত্রাপালা!
নেতার ভাষণে জ্বলে
গাড়িতে আগুন
টিভির খবরে দাদা
কান ঝালাপালা!!
ইলেকশনের আগে
পাবলিক নিশি জাগে
হসপিটালের বেডে
গুলিবিদ্ধ লাইফ!!
আন্দোলনের জোরে
চারিদিকে বোমা ওড়ে
চামচারা ধরে আছে
বড় বড় নাইফ!
অবরোধে অনুরোধে
গলে না গদির জান
রাস্তায় মরে খালি
আজাইরা পোলাপান!
গণনন্ত্র ঘন ঘন
ছুটে যায় টয়লেট!
দেশময় ডায়রিয়া
স্যালাইনে বেশী রেট!

৩/১২/১৩

পুরনো আকাশ

তবুও মিথ্যাকে আঁকড়ে থাকার ভীষণ প্রয়াস,
তবুও কৃত্তিম হাসির সরস উচ্ছাস,
তবুও অতৃপ্ত বাসনার বিষজ্বালা বুকে ধরে বাঁচা,
অভিনয়ের অভিযোগে দগ্ধ বিশ্বাস,
এর মাঝে পথ চলা, সংক্ষেপে কথা বলা,
ধীরে ধীরে ধুয়ে ফেলা পুরানো আবাস,
নতুন আসবে বলে সাজাই আকাশ!

১৪/৬/১৪

ভুলের কাব্য

ভুল হয় গ্রীষ্ম দহনের মত,
রোজ ভোরে ফুল ফোটার মত,
আষাঢ়ের অলস ঝড়ের মত ভুল হয়।
ভুল হয় সদ্য কুঁড়ির মত,
ভুল ঝরে শুকনো পাপড়ির মত,
শীতের সকালে টিনের চালে টুপ করে চুপ করে শিশিরের মত ভুল ঝরে।
ভুল হয় ফাগুনমাসের নতুন কিশলয়,
প্রেয়সীর উদ্দাম চুলে যৌবনের উন্মেষের মত
ভুল হয় শরতের ধানখেতের মত বিস্তৃত
জীবনে প্রতিটি অধ্যায়ে ভুল হয়!

১৭/৬/২০১৪

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...