সোমবার, ১১ মে, ২০২০

অপেশাদার মানুষের কবিতা

ভাই, পেশায় আমি অপেশাদার নিতান্ত মর্ত্য-মানুষ!

বেঁচে গিয়ে বর্তে আছি একরকম,

বেঁচে থাকার চাইতে বেশী কোন

গর্ব করে বলার বিষয় আমার নেই! এ আমার ভ্রম-

হলেও হতে পারে বটে!

তবু অখুশী নই!

 

ডাহুকের ডাকে আমার উঠান ঘেঁষে সন্ধ্যা নেমে আসে,

কালক্ষয়ী কত মোহাতুর কবিতার রঙ পাখা মেলে,

সচকিতে অস্তিত্বের অস্তি-আভাসে,

ঘরের দোর বেঁধে, বৈদ্যুতিক বাতিটি জ্বেলে,

আট হাজার ছ’শো কোটি বিপ্রতিপন্ন নিউরণের অনুরণনে

খেই হারিয়ে নিজের ভেতর গড়াগড়ি খাই!

 

বৈশাখের খর দহন বুকে ধরে চোখের কোটরে বরষাকে চেপে আছি,

বসন্ত আঙুলের ফাঁক গলে চলে গেছে তর্পনের জলের মত,

অ-প্রমথ স্থবিরতার অপ্রমত্ত সুর-কলার ভেতর প্রাণের তড়িৎ-

মেঘে মেঘে সরোদের মন্দ্র ঘা’এর মত বাজে,

আমি ঘরের জানালা বাঁধি, মনেরটা কখনো পারিনি যে-

এতটুকু খেদ রয়ে গেল!

 

মানুষ হিসেবে হয়ত এর চে’ বেশী আমি করতে পারি না,

হয়ত লিখে ফেলেছি অনেক- হতে পারে এও আমার ভ্রম-

তবুও অখুশী যে নই!   

 

 


রবিবার, ১০ মে, ২০২০

পরাজয়-গাথা

বড় তিক্ততায় এইসব
সমাজ সংস্কার অ-সংস্কার কুসংস্কার,
ধর্ম অধর্ম অপধর্ম বিধর্ম—
বিধিমালা নিয়ম নীতি প্রভৃতি
ইতিউতি প্রাঞ্জল ——
অসত্যের মোহ ছেড়ে নিজেকে
সরিয়ে রেখেছি এখানে!

এখন কোন মুখোশের নান্দনিকতায়
আমি কবিতা লিখি না,
এখন মুখোশ যে ধরে অবয়বে,
অন্তরালে তাকে খুঁজি।

মানুষ খুঁজে খুঁজে বিষিয়ে ফেলেছিলাম
পরিযায়ী যৌবন—
একটা একটা করে অধ্যায় মুছে গেল,
পাতার পর পাতা উল্টে গেলাম,
আমি এখনো কি চোখ বুজি?

এখনো মানুষের মরণ অন্বেষণ——
আমাকে রাত্রি জাগিয়ে মারে,
গহন অন্ধকারে—
ভোর হতে আর কতক্ষণ?

প্রচেষ্টার সমস্ত বীরত্ব-বিত্ত শিরে তুলে,
বুক টানটান— আমি যতই দাঁড়াই,
তবু বুকে বাজে—
আসলে আমি জিতিনি কোনদিন!
লিখলাম সোজাসুজি,
একদম; কোন ভণিতা ছাড়াই,
সহজ কথার ভাঁজে।

যুদ্ধ তো চেঙ্গিস, তৈমুরও জেতে—
আমি না হয় হেরেই গেলাম!
সকল বিজয় হয়ত নয়
অনন্ত গৌরবশালী!

ধীরঃ তত্র ন মূহ্যতে

‘দুঃখেষু অনুদ্বিগ্নমনা সুখেষু বিগতস্পৃহঃ’
পারিনি কখনো হতে।
‘সুখদুঃখে সমে কৃত্বা লাভালাভৌ জয়াজয়ৌ’
এই সমস্ত সম্ভবপর পীড়ার জগতে-
এসব আউরে আউরে পচে ম’লাম!
অপারগতার কত যে মোহ-
ওহে বিগতস্পৃহ- তুমি বুঝলে না! 

ওরে অধম! ‘... শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ-
আগম অপায়িনঃ অনিত্যাঃ তাং তিতিক্ষ’-
ছাই হল আমার!- আমি যে তিমিরে আঁধা-
সে তিমিরে বাঁধা আজও! আবক্ষ-
গরলনেশায় ঋদ্ধ কবিত্বের প্রগাঢ় পুরুষ! 
অতএব- 
‘তথা দেহান্তরপ্রাপ্তিঃ ধীরঃ তত্র ন মূহ্যতে!’
তা কি আর হয়? 

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০

পাখির গল্প


সারি সারি খাঁচাতে আমরা কতক পাখি ছিলাম। স্ম্রৃতির উন্মেষ অবধি আমরা জেনেছি এই খাঁচার নামই জীবন, এখানে থাকার নামই বাঁচা, ডানা মেলতে না পারাটাই একদেশিকতা, স্বদেশীকতা, অথবা বল স্বদেশপ্রেম- অথবা আর যা খুশী বলে ফেলো, যা ইচ্ছে ধরে নাও!

আমাদের মধ্যে কিছু পাখি বেশী ডানা ঝাপটাতো বলে ওদের হয়ত আরেকটু বড় খাঁচায় রাখা হত। যাদের ঝাপটানোর বেগ বেশী থাকত, লম্ফঝম্প থাকত- তাদের পায়ে শেকল পড়ানো হত! এই শেকলটিকে আমরা আইন-শৃঙ্ক্ষলা-নিয়ম-কানুন বলে সমীহ করতাম! কিছু পাখি এতেও দমে যেত না! কোনদিন ঘুম ভাঙলে দেখতাম সে পাখি আর খাঁচাতেই নেই! কোন পাখির না থাকা নিয়ে আমাদের প্রবল মনোকষ্ট হত না। পাখি হলেও আমাদের মধ্যে কিছু কিছু মানুষের চরিত্র তো থাকতেই পারে! এভাবে বললে মানুষেরা নিশ্চয় রাগ করবে না!

এভাবে কত পাখি হারিয়ে যায়, আর খাঁচায় ফেরে না! আমাদের তাতে কি! আমরা দিব্যি আছি! নিত্যকার খাবার খাই, কিচিরমিচির করি, (সাহিত্যিকেরা কলকাকলী বললে গর্বে পালক ০.০০১ ইঞ্চি ফুলে যায়!) শৌচকর্ম করে ভরিয়ে রাখি, কিন্তু ডানা স্তিমিত! আমাদের প্রায় সবারই ডানা এখন অকেজো! আমরা অনেকে ভুলেই গেছি যে আমাদের ডানা আছে, আমাদের মনেও পড়ে না ডানা কি কাজের জন্য বিধাতা আমাদের দিয়েছেন! কারো কারো মধ্যে, যাদের মধ্যে প্রাণীজ স্বভাবের প্রজাতিগত তাড়না প্রবল তাদের খুব সংকট। কেমন করে না চাইলেও যেন ডানা আকাশে উঠতে চায়! এটা কি ভাল? এটা অসংযম নয়? স্বেচ্ছাচারিতা নয়? যে খাঁচায় যে নিয়ম- সেখানে তেমন পালন করা কি উচিত নয়? কিন্তু সকলের দ্বারা হয়ে ওঠে না! হয়ত পাখির কাছ থেকে চিরতরে পাখিত্বটুকু মুছে ফেলা যায় না! সকল পাখির জীবন খামারের হতশ্রী মুরগীর মত হবে না; যেমনি উড়তে অকেজো হলেও সকল পাখি ময়ুরের মত রাজকীয়ও আবার নয়! আমরা পাখিদের মত মানুষের তো আর শতেক প্রজাতি নেই- থাকলে হয়তও ওরাও এক প্রজাতি অন্য প্রজাতির সাথে নিজেদের তুলনা দিয়ে কথা বলত! তারা তা করতে পারে না, খামোখা আমরা- মানে অন্য প্রাণীগুলোকে টেনে এনে অপদস্থ করে! মানুষের সাথে গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, হাতি, বাঘ, সিংহ, শুয়োর, গাধা, কাক, কোকিল, মুরগী- এসবের ন্যায্য তুলনা কি সম্ভব? কিছু মানুষ নিতান্ত মানুষের চরিত্র বিবেচনায় এদের চরিত্রের চেয়েও নিচে কি নয়?

আচ্ছা এসব কথা ছাড়ি! কিছু পাখি ডানা হারিয়ে এখন কেবল ভাবার শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে! এরা ভাবুক পাখি! যে কখনো ওড়েনি- আমরা তাঁর কাছে আকাশের গল্প, আকাশের হাওয়া, আকাশের দর্শন শুনতাম! কিছু পাখির জীবনে সুখ কেবল কল্পনা, এবং কল্পনা মাত্রেই সুখের! আমিও ভেবেছিলাম- আমারও হয়ত তাই হবে! ডানা না থাক, আকাশ যে আছে, তার কল্পনা করেই নিশ্চয় সুখী হওয়া যায়! কিন্তু হল না, অত্যন্ত বিশ্রী ভাবে আমার মধ্যেও একদিন জান্তব বৃত্তি চলে এলো- ডানা নড়তে শুরু করল থরথর করে, কি কদর্য এই দৃশ্য! আমি থামাতেই পারছি না, আমি কত চেষ্টা করছি, কিছুতেই থামতে চাইছে না! দুম করে ডানা সপাট খুলে গেল! বহু বছরের জমাট বাঁধা অচল ডানার সকল তন্ত্রে যেন বন্যাবেগে রক্ত ছুটেছে! জানি, সকলে বলছে- এ অন্যায়, এ উচ্ছৃঙ্ক্ষলতা, এ বিপজ্জনক- আমি নিজেকে রুখতে পারি না আর! ডানা মেলার যে শিহরণ, তার যে উত্তেজনা, তার যে উন্মাদনা- আমি তাতে বাকী সব ন্যায়-নীতি যেন বিস্মৃত হলাম, আমি ভুলে গেলাম- অতীতে যারা ডানা মেলতে চেয়েছিল- তারা আজ কোথায়! নিজেকে ভয়ে হোক, অথবা বহুদিনের কু-শিক্ষার সুফলে অথবা সু-শিক্ষার কুফলে সংযত করে নিলাম! সত্যিই তো এই উদ্দাম ডানা মেলা যে অশোভন! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত একবার যার ডানা মেলার স্বাদ মিলে গেছে- সে হয়ত দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, সহস্রবার ডানা মেলতে চাইবেই, চাইবেই অপ্রতিরোধ্যভাবে- যে চায় না সে হয়ত পাখি নয়, তার পাখিত্ব মরে গেছে, যে পাখির আকাশে ওড়ার ইচ্ছে জাগে না তাকে আর পাখি বলে মানতে মন চায় না! ডানা ঝাপটানোর তীব্র ইচ্ছেটুকু যেন কেমন ধাঁচের উগ্র বানিয়ে ফেলছে আমাকে, আমি অনুভব করছিলাম! একসময় আমিও অন্য পাখিদের বলতাম- বাইরের গাছের ডালে বাসা বুনে থাকা বুনো উড়ন্ত পাখিদের চাইতে আমরা সুখী, আমরা কত নিশ্চিন্ত জীবনে থাকি, খাবার খুঁজতে যেতেও হয় না, বাস্তুহারা হবার ভয় নেই, পরিযায়ী হতে হয় না- এই যে এত সুন্দর পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ জীবন- এর জন্য আমরা কেন না আমাদের ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব? আমাদের মধ্যে যে শুভবুদ্ধির ভাব আছে, এই যে নিজেদের সংযত রাখার শক্তি আছে- এ নিশ্চয় ঈশ্বরের কৃপা! তাই নয় কি! সম্ভবপর সমস্ত অপযুক্তির আশ্রয়ে যে আমি নিজের খাঁচাটিকে অশেষ সৌভাগ্য বলতাম- আমার এখন এটি একটি সংকীর্ণ মৃত্যুর পথ ছাড়া আর কিছু মনে হয় না! নিজের ভেতরের এই আকস্মিক বিবর্তনে অপরের কথা কি বলব- নিজেই যেন আর নিজেকে চিনতে পারছি না আমি! বিবর্তন সুখের হয় না এটা অনুভব করতে পেরেছি! যদিও আমি লক্ষ অব্যর্থ যুক্তি এনেছি ডানার নিচে যা দিয়ে আমি উড়তে চাওয়াকে অনায়াসেই সমর্থন করতে পারি! কিন্তু আজও আমার উড়তে দ্বিধা, উড়তে দ্বন্দ্ব- কেন না আমি জানি আমার ওড়ার স্বাধীনতা নেই- সেখানে এত কথার মূল্য- অর্বাচীনতা ছাড়া আর কি!
আমি আমার ছোট্ট খাঁচাটিতে গুমরে মরে গেছি! আমার প্রাণের সকল স্পন্দন আমার ডানার মধ্যে গিয়ে ভীড় করত! ক্রমে ক্রমে আমি যেন উন্মাদ হয়ে যাচ্ছিলাম! পাশের খাঁচার পাখিরা এসে আগে কত কি বোঝাতো, কত সান্ত্বনা দিত, প্রবোধ দিত- তারা এখন আমি পাগল হয়েছি ভেবে তফাতে আছে! আমার তাতেও আর আপত্তি লাগে না- আমি একটি আলাদা পাখি হয়ে যাচ্ছি- আমার ভীষণ ওড়ার ইচ্ছে! আমি জানি ডানা ঝাপটালে এই খাঁচায় আমি আর ফিরব না, আমি জানি না অতীতের ডানা ঝাপটানো উচ্ছল পাখিরা কোথায়- আমি বুঝতে পারি- বুনো পাখির জীবন কত অনিশ্চিত, তবুও বুনো বাসনার বুনো আবেগে আমি ভেসে যাচ্ছি- আমি ভুলে যাচ্ছি- আমি যে খাঁচার পাখি নই- আমার মনে এ দৃঢ় বিশ্বাস এসেছে- আমি কেবল মাত্র পাখি- খাঁচাটি আমার নয়, আকাশটি আমার- ডানা দুটি আমার নিজের, আমার অপত্য অঙ্গ, ধার করে জুড়ে দিইনি কারো কাছ থেকে এনে- ডানা দুটি উড়ব বলেই আমার গায়ে আছে- এই যে উড়তে পারি না- এর নাম সংযম নয়, এর নাম পরাধীনতা, এর নাম স্ব-বিরোধ! আমি যে উড়বার জন্য জন্মেছি- এ চেতনাটুকুতেই কি উৎকট স্বাধীনতার গন্ধ!


মুক্তির জন্য যে কখনো একটি শব্দ করেনি- সে আমাকে বুঝিয়েছে- খাঁচার প্রতি প্রেম থাকাটা আমার কর্তব্য ও ধর্মের মধ্যে পড়ে! অথচ- আমি উড়তে চেয়ে বুঝলাম- পাখির ওড়ার ধর্মটিকে বাদ দিয়ে, পাখির আকাশের প্রেমটিকে বাদ দিয়ে আর সকল ধর্ম, সকল প্রেম- মন্ত্রমুগ্ধতার মত মিথ্যে!

শেষের গল্পটুকু না-ই বা লিখি! আপনারা তো মানুষ! নিজেকে আমার মত একটা পাখির সাথে তূলনা করতে তো দ্বিধা আপনাদের হয় না! ভেবে দেখুন তো নিজেকে পাখি হয়ে- এর পরের গল্প আপনি কেমন করে ভাবতেন!

রবিবার, ৩ মে, ২০২০

হিংসা হওয়া উচিত


এত লোক মরে যাচ্ছে,
আমার তো হিংসা হওয়া উচিত!
প্রতিটি পড়ন্ত গোধুলি জীবন্ত নয় আর,
সকল সন্ধ্যা আসে না বেহাগের বিধুর সুর হয়ে,
পাখির ঘরে ফেরার নিত্য কলতান,
নিত্যকার লাগে না ভাল!
অথচ কখনো কখনো কি যে সুখের ঘোরে থাকি!
কখনো ফেরে সম্বিৎ—
এত লোক মরে যাচ্ছে,
আমার তো হিংসা হওয়া উচিত!
প্রত্যহ ঘুম ভাঙে না ঘুমিয়েছিলাম বলে,
জেগে থাকি— জাগরুক সকল কিছু—
কতটা অচেনা লাগে!
কতদিন অনুভবে আসে না আমার
সকাল কি করে যায় দুপুরের পিছু!
কবে সূর্যোদয় দেখেছি শেষ—
বোধ হয় আমি ডুবে যাবারই আগে-
একটু ক্ষণ!
কতটা অচেনা লাগে— দেখা স্বপ্ন, দেখা মুখ,
হদকেন্দ্রে কেমনতর রক্ত-মন্থন; —
বেঁচে আছি,
আমি চোখ মেলি আচম্বিৎ!
এত লোক মরে যাচ্ছে,
আমার তো হিংসা হওয়া উচিত!
মিথ্যেকে মিথ্যে দিয়ে পুষিয়ে দেবার কাজ—
অক্লান্ত করে যাই,
তবুও একটি সত্যেরও সত্যিকার হয় না বিনির্মাণ,
কি আশ্চর্য বলো!
কত যে ব্যর্থ অবকাশ গেল অবদমিত কথা বয়ে,
কতক কবিতা যে মৃতবৎসা হল—
আমি সমস্তের রাখিনি হিসাব!
এখন শিরদাঁড়া উঁচু করতে গেলে
নিজেকে কেমন ক্ষয়িত পুরুষ ভাবি,
ভাবি এ আমি আমারই আমি
অন্তরে কদাচিৎ!
এত লোক মরে যাচ্ছে,
আমার তো হিংসা হওয়া উচিত!

শনিবার, ২ মে, ২০২০

মেঘ-মেদুর বরষায় - প্যারডি



মেঘ-মেদুর বরষায়, বাড়িতেই আমি!
Corona বানিয়ে ছাড়ে মিশরের মমি!

নাই কোন নড়াচড়া, বসে থাকা, শুয়ে পড়া
Change হয়ে যায় Anatomy!

শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

বহু আগে প্রিয় পথ ভুলে গেছি - বিশাখদত্ত - Bohu aage priyo poth bhule gechi




বহু আগে প্রিয় পথ ভুলে গেছি
একা একা ফিরি বিজনে,
জানি না কখনো মিলব কি আর
ভুল পথ ঘুরে দু’জনে।
নিশীথে কি মনে পড়ে কি না আর
ফেলে আসা বাঁক, ভরা নদী পাড়,
জাগে কি না ব্যথা স্বপনে,
ভাদর আকাশে বিরহ কি লাগে
তোমারও আমার বিহনে?
কত শত ভুলে, ভুলে গেছি কত,
কত প্রেমরাগ, স’য়ে নেয়া ক্ষত-
সব ভোলা হল জীবনে,
তুমিও কি তা’য় ভুলেছ আমায়
রেখেছ নিভৃত মনে?
যে কথা কখনো হয়নি তো বলা,
চোখে চোখে চেয়ে ধীরে মুছে ফেলা,
বুঝেও বুঝিনি ছলনে,
ঘুমঘোরে তুমি চুপি চুপি আসো
থেকে থেকে ক্ষণে ক্ষণে?
না বলা কথার ভানে...
________________
'না বলা কথার ভানে' নামের এই কবিতাটি লিখেছিলাম কবে মনে নেই। তবে ব্লগে প্রকাশ করা হয়েছে দেরীতে। আজ এটাতে সুর বসালাম। গানে রূপান্তর করতে গিয়ে অতি-অল্প পরিবর্তন ঘটিয়েছি।
রাগঃ ঝিঁঝোঁটি - মিশ্র
তালঃ দাদরা।


তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...