মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩

হাঁস ও পেঁচার দ্বৈরথ

 


হাঁস আর পেঁচার দ্বৈরথে কাটছে প্রহর 

শহুরে কবিরা যায় ঘুমাতে কবরে,

আঁধার খুলেছে ধীরে তার করাল বিবর 

অথচ দেখ সকালের সকল খবরে-

তার ছিটেফোঁটা নেই। 


আস্তিনের সাপ তিরতির করে এসেছে বুকে,

সদ্য মাতাল মদ্যপের মুখের গন্ধে। 

শিরশিরে বাতাস বলেছে তার কানে- 

‘তুমিও ঘুমাতে চল, সবে তো কলির সন্ধ্যে’!

এর কোন বিবরণ নেই।  


শহুরে কবিরা ঘুমাতে গেল, 

এখনো হাঁস ও পেঁচার ঝাঁক কথায় কথা কাটে;

ইছামতীর ঢেউয়ে দুলেছে সাম্পান,

জোয়ারে জলের তাল লেগেছে ঘাটে। 



বুধবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৩

নিঃসঙ্গে নিস্তরঙ্গ

 

হয়ত যেন হব নিছকই পথিক, 

অগুরুত্বপূর্ণ কেউ, কোন জনমান্তরে

যদি তখনো বেঁচে থাকে পৃথিবীর একটি গ্রাম, ঠিক-

একটি নদী, নদীতীর, শ্যামল ক্ষেত, দুর্বাদলের আল,

মেঠো পথ, বাঁশবনে বিলোল সমীর-

পূর্ণমাসীর রাতে ঝিরিঝিরি, নিখিলের দিকচক্রবাল-

ঘিরে যদি পাই অনন্ত অধীর পদাতিক-

বাসনা গুটিকয়েক দু’কদম এগিয়ে যাবার

তবে। 


বিটপীছায়ে এলিয়ে দিয়ে প্রাণ, তপ্ত বোশেখে; 

শাওন মাড়িয়ে পায়ে যদি পাই কর্দমের ঘ্রাণ

বুক ভরে যেন নেব জনমভর। 

ধানের রুইয়ে স্বপ্ন বোনা চাষীর দাওয়ায় -সুখে 

হুঁকোতে টান, যেখানে জীবনের মত্তগান-

দোতারা বেয়ে নামে ধ্যানের হাওয়ায়,

সেখানে হয়ত থমকে যাব কিছুটা ক্ষণ নির্দ্বিধায়,

অতঃপর-  


নয়ত, সোনার বেড়ি পায়ে ঝেড়ে চলব পথ, 

ডিঙির পালে মেলব ডানা, আগল দিয়ে ঝড়,

বাঁধব জলোচ্ছ্বাস কশেরুকার খাপে। 

তারার আলোয় জোনাকি অম্লান, জ্যোতিরেখা ধরে

স্বর্গদ্বার খুলত ধীরে, নিশ্বাসের তরঙ্গ কাঁপে-

যদি নিঃসঙ্গে নিস্তরঙ্গ হবার অন্তিম আয়োজনে,

আমার হত কি তাতে ক্ষতি? 


মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩

যাহারে জানিনে ভাল

 

যাহারে জানিনে ভাল, ভাল তারে বাসা যায়,

যাহারে পেয়েছি কাছে, কাছে তারে রাখা দায়। 


যা কিছু চাহিয়া মরি, পেলে তায়- আগে ছাড়ি, 

কে করে এ কারিগরি, জানিতে না পারি হায়! 


বিশাখের প্রাণ-নিধি, মিলিল না এ অবধি, 

এমনই লিখেছে বিধি- এ জ্বালা বোঝাব কায়?  


৩/১/২৩ 

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৩

বিবস্বান

 

বিবস্বান পেয়েছিল প্রথম ক্লেদ-মৃত্তিকার স্বাদ,

তটিনী-তট-অকপট-প্রকট-যৌবন, বায়ুস্বন তার-

সঘন-ভারে তস্ত্র ত্রসরেণূ, অবাধ-

গভীর কম্পন। 


স্রোতভঙ্গ-জলে অধীর নক্ষত্র ছায়া, 

মাঘের মৌসুম; মন্দ্রখাদে নড়ে তার রুদ্রবীণার,

গমকে ঘনায় আরও রাত, আরও ঘুম-

অনেক ঘুর্ণিবাত। 


বিবস্বান, মৃতার গর্ভাহূত মৃতবৎস্যা স্বপ্ন প্রায়,

ধন্বন্তরির পাত্র তুলে কালকূট স্নান,

অলীক, অথচ দেদীপ্যমান! 


২ জানুয়ারি|| ২০২৩||

রাত্রি ১০:৪৭||

শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২

কোলে নে করুণাময়ী

 



কোলে নে করুণাময়ী, কি অর্থে এ অবিচার?

ছেলের ভার নিতে নারো, নিয়েছ ত্রিলোকের ভার! 


ওমা রয়েছি ধুলির মাঝে, তাই লয়ে সকাল সাঁঝে

মহাব্যস্ত সে অসার কাজে, ভাল কি মা লাগে আর? 


তারিনী তার মা ত্বরা, ওগো অবেলা ধরেছে জরা,

আমি সকাতরে ডাকি 'তারা', নয়নতারা বহে ধার! 




শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২

প্রণমি সাগর সেন

 



কোন সুদূরের স্বপ্নবিবশ উছল কৈশোরতট ছুঁয়ে

তুমি জেগেছ ঊর্মিভঙ্গ সুরের জলধি, স্মৃতির পুষ্পে যেন- 

জীবনের প্রথম প্রণয় পরাগবাহী, সে প্রমথ পেলব ছোঁয়া; 

তুমি অমোঘ অমিয় মৃতে, ব্যথিত হৃদয় ধোয়া- 

নয়ন জলে তোমার ললিত কণ্ঠধ্বনি দিয়েছে প্রাণ,

তোমার গান রবির কিরণ ছেয়ে যেন অনন্তের লোক হতে-

এসেছে ছুটে যেন হিয়াতে আমার পিণাক-বাণ- 

লাগে, মর্মর মর্মতলে যেন স্রষ্ঠা অনাদি সুর দেন-

তোমার আহবানে, প্রণমি সাগর সেন। 


মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

না হয় তুমি জানলে না আর

 


না হয় তুমি জানলে না আর

নাই বা তুমি জানতে পারো।

না হয় তুমি জিতলে না আর

জিত হয়েছে অন্য কারো। 


লক্ষ কোটি কথার ঝাঁকে

একটি কথাও নাই বা থাকে

তবে হৃদয়-তারে সুর বসিয়ে

আকাশপাড়ে কন্ঠ ছাড়ো। 


ডোবা ভাসা তারার স্রোতে

গা এলিয়ে দিবস রাতে,

বিভোর নেশায় ভোর এলো না,

ঘুম গেলো না সুয্যিটারও। 


তবে এই আঁধারে ভাসবে বলে,

বুক ভেজাবে আঁখির জলে?

পাখির মতন ডানা মেলে-

বাঁচতে শেখোনইলে মরো। 

কত কাল?

  কত কাল আর এতটা অন্ধকারে এত সব অশ্রাব্য চিৎকারে চারপাশ বদ্ধ করে নির্বিবাদে থাকি? কত রাত দয়ানিধি অলক্ষ্যে সুর বাঁধি পড়ে আছি অচঞ্চল স্বকৃ...