শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫

বিকট বিপদ

 


তোমাদের চোখে ঘুম লেগে গেছে। 

নলখাগড়ার ওপাড়ে কিছু শেয়ালের চোখ জ্বলে। 

আমি স্পষ্ট দেখতে পারি। 

বাঘের ভয় ডিঙিয়ে বটে, অদ্য শেয়ালের ডেরায়- 

যত অবিমৃষ্যকারী-  দিব্যি শুয়ে আছ সদলবলে-

মেয়ে-মদ্দ, বলি হারি! তাও এ সংকটে? 


দ্যাখো, মশালে তেল ফুরালো বলে! 

নিত্য আত্ম-কোন্দলে ক্লান্ত দেহ নড়ে না আর। 

অবহেলে শ্বাপদ-সংকুলে- 

এদিকে সুর্য গেল ডুবে। চৌদিকে মস্ত আঁধার- 

পছিমে-পুবে হা করে গিলতে বসেছে নিকট ভবিষ্যৎ;

চরাচরে পরাৎপর বিকট বিপদ!


গাজন

 


তোরা ভাই নাচবি কত শিবের গাজন খড়্গ তুলে?
ঈশাণ কোনে মেঘ জমেছে, ঝড় জেগেছে পথের ধুলে!
সঙ সাজনের শস্ত্র পূজায় উর্দ্ধে তুলে মড়ার খুলি!
মদ-মাতালের মচ্ছবে ভাই ক্ষাত্র গেল জলাঞ্জলি!
যত দানার দলে দিচ্ছে হানা ভাঙছেরে দেখ ঘরের খুঁটি!
বোনের আঁচল অরক্ষিত, ধরছে মায়ের চুলের মুঠি!
তোরা ভাই বেহুঁশ বড়ই, লাথ খেয়ে জাত গেছিস ভুলে!
লাশের মতন ভাসবি কেবল এ কূল হতে অন্য কূলে! 

সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫

নহুষ

 



যদি নিত্য নৈরাশ্য বুনো লতার মতন পেঁচিয়ে ধরে,
পদসঞ্চারে পাই বাধা, অনেকটা পথ রইল বাকী-
তবু যদি প্লাবনের শংকা ঘেরে চারিপাশ, যদি
প্রাপ্তির ঝুলিতে দেখি এখনো শূন্যতার ভার একগাদা,
যদি বাতাসে ফেরে গোটাকয় দীরঘশ্বাস- অহরহ,
আমৃত্যু বুকের নিধি হয় তারা; বাঞ্ছিত সকল কিছুতে
যদি জোটে বঞ্চনা তাতে আপত্তি নেই, কিন্তু যদি
অস্তিত্বের শেষটুকুও হই হারা; দুর্বিসহ! এতটা যদি
কাঁটার পথ মাড়িয়ে এসে পাই সকলই পরের মন্বন্তরে-
গচ্ছিত রাখা, এ বার শুধু ভেঙে পড়া পাহাড়ধসের মত,
তবু যদি জানতাম অনন্ত তুমি এক চিলতে দেখা দিতে
মেঘের ভেতর থেকে অন্তত একটিমাত্র ক্ষণ তরে,
তবে নিয়ত আমি আগুনে আহুতি হব নিরুদ্বিগ্ন চিতে।
কিন্তু সকলই যদি ছেলেভোলানো গল্প হয়ে ওঠে,
অতি অপ্রাকৃত জুজুবুড়ির ভয় শুধু সত্যি হয় মনে,
আষাঢ়ের মেঘ জমে বসন্তের সমাগমে কেবলই,
এতটা যদি ভাব-দ্রবিণ কবিত্বকলা সব প্রলাপপ্রায় স্বনে
কাঁদে যদি আঁধারে ডুবে গিয়ে তারার মতন, বলো-
যদি এতটা বিপন্নতা পন্নগের ফনার মত দোলে,
এতটাই অরুন্তুদ সব অতিরিক্ত বেরসিক গানের ডালা
দ্ব্যর্থহীন ভিক্ষা চেয়েও জানে বটে 

পাবে না কিছুই,
তবু যদি হাওয়ায় হাওয়ায় দিতে কিছুমাত্র আভাস
না হয় নতুনতর ব্যথা ছলে, তবু হয়ত স্বস্তি পেতাম।

এখন সবেতেই ক্ষয়ে যাবার ভয়,
বয়ে চলার ক্লান্তি আর ভেঙে যাবার অযথা বিশ্বাস,
ত্রিদিবপতিত নহুষের মত জেঁকে ধরে যেন!


শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫

কে আসে ঐ বামা মুণ্ডমালিনী

 


কে আসে ঐ বামা মুণ্ডমালিনী! 

অসিধরা, বর-অভয়-করা, 

দানবদলনী! 

লোল রসনা, বিগত-বসনা

রণপ্রমত্তা, বিকট দশনা;

ত্রিপুরারিজায়া, ভো মহামায়া, 

সুরারিমর্দিনী! 

ঘোর ভবার্ণবে বিশাখ পতিত

শমন ভয়ে সদা ব্যাকুল, শঙ্কিত। 

স্নেহকরে ধরে ক্রোড়তলে রাখো

দীনতারিণী।। 

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

ফাগুন জেগেছে

 

প্রবল রবির কিরণে বন্ধু

বনানীর ছায়ে বিজনে 

বাঁশরীর ধ্বনি

দূর সমীরণে ক্ষণে ক্ষণে আসে শ্রবণে

ফাগুন জেগেছে গগনে বন্ধু

ফাগুন লেগেছে নয়নে। 


পলাতকা কিছু পরদেশী মেঘ

ধেয়ে আসে যেন সহসা

নবপল্লবে বাসা বাঁধে সুর

সুরহীনে পায় ভরসা। 

বিহগকূজিত বিটপীর শাখে, 

চিরবহমানা তটিনীর বাঁকে

কার মঞ্জীর বাজে চরণে

ফাগুন জেগেছে গগনে বন্ধু

ফাগুন লেগেছে নয়নে। 




বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫

তবু পাখী উড়ে যায়


 


তবু পাখি উড়ে যায় 

সুনীল আকাশ, শ্যামল শস্যখেত

গোচারণভূমি আর ফুলেল বাতাস ফেলে

তবু সে চলে যায় 

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫

কালী করালি

 


কালী করালী নরমুণ্ডমালী

মহাকাল-মহারানী শিশুচন্দ্রভালী।। 

দিতিসুতত্রাসিনী দীনদুখবারিণী

সুরনরপাবনী জীবমুক্তিদায়িনী

বিশাখে বিতর কৃপা ত্রিজগতপালী।। 

হতেছে কাতর প্রাণ

  হতেছে কাতর প্রাণ , না হেরি কনক মুখ!   তুমি কি বুঝিবে নাথ ! পাষাণে কি বাজে দুখ ? মেয়ে দিয়ে দিগম্বরে, (বড়ো) উদ্ধারিলে ত্রিসংস...