সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬

মিনতি হামারি

প্রেমধনে গরীয়সী এক আনায় গড়িমসি
কেন কর দিতে কিছু আষাঢ়ী আঁধারে!
নগদে আসলে সব শোধ দেব নিশ্চিত
এই বেলা এতটুকু দাও যদি ধারে;
তবে দেবী বেশ দয়া হত!

আগেও নিয়েছি আমি দিয়েছিও কত
আলুথালু ঘুমঘোরে সবই ভুলে গেলে!
সুখের নিদ্রা তবে না করি ব্যাহত
আমিও ঘুমিয়ে পড়ি দুটো হাই তুলে!

ভোর বেলা মনে হলে দিয়ো ফোনে কল,
রাতভর গেমস খেলে খুবই দুর্বল
আমি আরামে ঘুমাই ভোরে আলসের ধাড়ী!
তাড়াতাড়ি ফিরে এসো মিনতি হামারি
সুনো বিনোদিনী রাই.....

শ্যামচাঁদ মথুরায়, তার ফেসবুক নাই
তাই তুমি বোলো না গো খুঁজে দিতে তাকে।
সে হয়ত ঘুমিয়ে গেছে ঝিঁঝিঁদের ডাকে
কোন সন্ধ্যায়....

শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬

তোমার কৃতিত্ব

এই বিপুল পৃথিবীর তাবৎ সুখসম্ভারের চেয়ে,
সত্যি বলছি প্রিয়ে, তোমার দুঁফোটা অশ্রু দামী
যা কেবল আমার জন্য ঝরে, আমারই আঘাতে!

ঘর ভাঙবে জেনেও যে বাঁধে ঘর সে আমার ঘরণী,
নইলে আষাঢ়িয়া সাগরের উদোম সৈকতে বল-
কে বা আর চাইতে পারে ত্রিসন্ধ্যা তৃষিত জোয়ার!

ভাল তো বেসেছিল কত পাখি কত খাঁচাকে দাসত্বে,
কেউ তো আকাশ ছেড়ে এলোনা স্বেচ্ছায় তোমার মতন
কেউ তো প্রেম বিনা অন্য কোন শর্তে পড়েনি বাঁধা প্রেমের খাঁচায়!

তুমি তো তাকেও করেছ ব্রাত্য অনায়াসে!
অনায়াসে করেছ অর্পণ- তোমাকে আমার হাতে।
যে হাত নদীকে অভিষিক্ত করে তোমার কাজলে,
তোমার কপোল কাঁপে জলের ধারায়;

আমি তাতে স্নান করে মানুষের ছলে,
ক্রমে ক্রমে একদিন মানুষই হলাম!

রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬

তুমি কি জানো?

ভালবাসা প্রয়োজন অথবা প্রয়োজনীয় বলে ভালবাসি,
অথবা বিয়োজন অসম্ভব বলে এখনো অনেক কাছাকাছি,
শার্টের বোতামে আঁচল আটকে, কলারে কাজল চুল,
আস্তিনে গুচ্ছ রাত, একান্ত অসংযত বলে হাতে হাত,
আঘাতে প্রত্যাঘাত ফেনিয়ে ওঠে দু'জোড়া ঠোঁট ও উপকূল,
দু-দুটি সমুদ্রের, অগাধ মন্থন, যা কিছু উদগত হয় বুকে,
নিতান্ত অসঙ্গত নয় বলে, প্রিয়তমাসু, তোমার গহীন চোখে
আমি যতটকু দেখি তার সবটুকু সাঁই সাঁই লিখে ফেলি!

আমি বৈশাখের মত উদগ্র বলে তুমি পৌষালী নদীর হাওয়া
আমার মৈষাল খরার দেশ জুড়ে ধীরে বও দখিণা মানিনী!
অক্লান্ত জলকেলি- আগন্তুক পাখির দলে দ্বিপ্রহরের ঝিলে
তোমার রঙিন বাসে, মরালগামিনী, আমি আমাকে খুলে ফেলি
তোমাকে দেখে কাঠফাটা তৃষ্ণায়, তেত্রিশকোটি দেবতা জানে!
কেমন সে দহনজ্বালা, কেমন সে ক্ষুধিত স্ফুলিঙ্গ ওড়ে সন্ত্রাসে,
আমার সমস্ত লুট হয়, আকাশে আকাশে ঘোরে কবিত্ব বৈভব,
নবাঙ্কুরিত ঘাসে কর্ণফুলীর চরে ঘুমায় সুর ভাটার টানে, বিহ্বল!
তুমি কি জানো আমার কর্মফল- কতটা মন্দ হলে এতটা জল
ডিঙোতে হয় তোমার আভাস এলে বাতাসের কানে? তুমি জানো?

বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬

অর্থহীন

সবই তো পেলাম এ জীবনে প্রিয়ে,
শুধু অর্থ পেলাম না জীবনের,
অর্থ পেলাম না পকেটের;
পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থবহ হতে অনেকের-
কাছে, আমার আছে অর্থহীনতা
ব্যাপক আকারে আছে মুদ্রা ও মানুষ বিবেচনায়,
চরম অর্থশূন্যতা আমার ভেতরে ও বাইরে
চোখের মধ্যে ও চোখের কোনায়
চোখ রেখে দেখো। সুনিশ্চিত দেখতে পাবে!

২ জুন, ২০১৬

বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

ধম্মোছড়া অথবা ছাড়া

ধম্মকম্মো অনেক করি
শাস্তপুঁথি অনেক পড়ি
এই দেখো না পূণ্যিফলে
কত্ত বড় ন্যাজ!
শুদ্ধাচারে পেট ভরেছি
বিড়ি তামুক সব ছেড়েছি
মাছ-মাংস! হরি হরি!
খাইনা রসুন-প্যাঁজ!

ও বেটারা কিইবা জানে?
সকল কথায় তক্কো টানে!
দুচার ডিগ্রী পাশ মেরেছে
তাতেই জ্ঞানী-গাধা!
ভগবান কি তক্কে মেলে?
মনের মতন ভক্তি পেলে
মায়ার বেড়ি মুক্ত করে
আপনি পড়েন বাঁধা!

যুক্তিতক্কো গুষ্টি মারো
চোখে ভক্তি পট্টি পড়ো
তবেই পাবে পরম রতন
অতল অন্ধকার!
কয়েক জন্ম তাতে মজে
হাতড়ে হাতড়ে ইষ্ট ভজে
আমার মত ন্যাজ গজালে
তবেই পাবে ছাড়!

অ্যাঁ!

নাস্তিকেরা মরুকগে যাক
বুদ্ধ হোক আর হোক চার্বাক
গণ্ডগোলের কেন্দ্র যত
আস্ত বদের ধাড়ি!
সব জাগাতেই প্যাঁচ কষা চাই
কাজকম্মো আর কিছু নাই
বুদ্ধি দিয়ে কে জেনেছে
কেমন সে শ্রীহরি!!

আমরা আছি ভক্তিপথে
এক্কেবারে সঠিক মতে
ওই বেটাদের কথা ছাড়ুন
শুনুন মোল্লা-মশাই!
সব ধর্মেই বলছে দেখুন
নিজ ইষ্টে আস্থা রাখুন
ইচ্ছে করে এই বেটাদের
কষিয়ে চড় বসাই!

আমরা আছি অন্ধকারে
দুশো পাঁচশ বছর ধরে
আছি আমরা দিব্যি ভাল
তোদের কিসের ক্ষতি?
এই শালাদের স্বভাব এমন
একটু যেন কেমন কেমন
খিস্তি দিলে বলতে পারি
সব শুয়োরের নাতি!

আরে ধম্মোকম্মো বাদ দিয়েছিস
বাপ দাদাদের নাক কেটেছিস
মরলে পরে করবি টা কি
সিধা জাহান্নাম!

বলছি শুনুন মোল্লা-বামুন
খুব বলেছেন এবার থামুন
সত্য জেনে মরতে যাওয়াই
আলোর অপর নাম!

হাজার বছর অন্ধকারে
আটকে ছিলাম বদ্ধ ঘরে
হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে
লাগলো চোখে ধাঁধাঁ!
ভেবেছিলাম মৃত্যু বুঝি
বাঁচতে চেয়ে আঁধার খুঁজি
এমনি দশা-ই হচ্ছে এখন
সত্যি বলছি দাদা!

________________
আজ এদ্দুর!

অমৃতা

অমৃতা তোমার অভিসম্পাতস্নাত হয়ে
আমি বরেছি নাগনন্দিনীকে মিলনকুঞ্জে!
মহোদ্যত মণিদ্যুতিশোভিত ফণায় দিয়েছি চুম্বন
প্রতিপ্রেমে বিষদন্তাঘাত নিয়েছি ওষ্ঠাধরে-
এই দেখো! আগামী জন্মে তোমার স্পর্শে শাপমুক্ত হলে
এ জনমের সকল গরলজ গরিমা সুধায় ভরে
তুমি আমাকে তোমার কোরো- এটুকু প্রার্থনা!
এই সতৃষ্ণ কম্পমান শ্বসনতন্ত্র দেখো বুকের কোঠায়
স্খলনক্ষণ হতে অদ্যাবধি সে চির-ক্রন্দনরত,
তোমাকে নিকষ অরণ্যে রেখে এই আলোক সভায়
নাগলোকে বিষৌষধি পান করে সে উন্মত্ত মাতাল!
জানি সেই বিশ্বাসভঙ্গতার কোন ক্ষমা নেই,
তবুও ক্ষমা চাই, দু'বিন্দু সুধাসিঞ্চন কর হৃদয়ে আমার,
নইলে অকালে চলে যাই, অঙ্গীভূত মরণজাল
আমাকে নাগনটিনীর গ্রাসে অতি সহজেই টানে!
কি মহাবেগ! দুর্বার! আমাকে নিয়ে চলে প্রলয়সন্ধর্ভে,
ক্ষুধা হতে অতিক্ষুধার ক্ষুরধার ক্ষয়িত যৌবনে
অন্ধকার ভেদ করে অতলস্পর্শ অন্ধকারে, শূণ্যগর্ভে
আমি নিষিক্ত হই মরণ মরণান্তর!- আমায় মুক্ত কর!
এ কি অতিভীষণ অভিশাপ! দুর্লঙ্ঘ্য বেদনাদ্রি
আমার পথময় দাঁড়িয়ে থাকে প্রহসনোচ্ছলিত সুখে!
আমি প্রস্তরখণ্ডবৎ পরে থাকি অজানিত রিক্ততায়
হতবিহ্বল দু'চোখ মেলে বিকট উত্তাল পাথার সমুখে
কিসের অপেক্ষায় তাও তো জানি না। আমাকে পার করো।
আমি যেন দু'সহস্র আলোকবর্ষ আলোহীন হয়ে আছি
তোমার অপেক্ষায় শুধুমাত্র শাপমুক্তি পেতে!

অনুছড়া

ঘুম ভাঙলে মধ্য রাতে
ফোনটা তুলে নরম হাতে
বলবে যখন "হ্যালো"!
আমি তখন অর্ধঘুমে
ঠ্যাঙ ছড়িয়ে আমার রুমে-
জবাব দেব দাত খেঁচিয়ে
"ঘুমটা আমার গেলো!"

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...