বুধবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮

অতঃপর আর কিছু নেই

অতঃপর বলে আর কিছু রইল না,
আমি বর্তমান আর অতীতের নিশ্বাস
ভারী হয়ে আমার অস্তিত্বে ঘুরি।

যেদিন পশ্চিমকে পশ্চাতে রেখে, তোমায় পূবে ধরে
অস্তাচলের সূর্য্যকে শাসালাম, 'এ মূহুর্ত শুধুই আমার',
আমিও ভাবিনি সূর্যের মত স্মৃতিও ডুবে যেতে পারে।

আমি এখন আমার শূণ্যতায় উড়ি,

চির-অনালোকিত ছিল না এমন নশ্বর অন্ধকারে,
পাংশু বেদনার নিরালম্ব গহ্বরে প্রাণ-পতঙ্গ, আমি আছি,
আমাকে থাকতে হয়, আমি ছিলামও কোনদিন।

ব্যস, এখানে পুরো কবিতাটা শেষ।
অতঃপর আর কিছু নেই।

বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

অন্তরীণ

নিশ্চিন্তভাবে আমি কবিতা লিখে মরতে আসিনি,
আমাকে সকালে ডেকে দিয়ে বোলো 'বাজার কিছু নেই!'
এতটুকু হলেই আমার পৌরুষের বোধ ভালই জাগতে পারে!

এক প্রকাণ্ড নৈরাশ্যের পাহাড় কেটে কেটে মিস্টিক হতে চাইনে,
প্রচণ্ড অপারগতায় অপরের স্বার্থকে বলিনে বুর্জোয়াতন্ত্র, একান্ত করে-
ছুঁতে না পারার নিপাট ব্যর্থতাকেও বলিনে বিরহ কোনদিন, কবিতার মন্ত্র-
আমি স্পষ্ট বলি- আজেবাজে কথাকে কবিতা বলে চালাতে আসিনি...

আমি তোমার অন্তরে অনন্ত অন্তরীণ-
প্রেমের বিষ হয়ে জ্বলে মরতে চাই!

শনিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮

নীরোর বাঁশরী

যাহারা পরলোকে বেহেশতে যাইবার আশায়
ইহলোকটিকে দোজখ করিয়াছে
এই জমানা তাহাদের জন্য!

যাহাদের স্বর্গে যাইবার সুযোগ নাই,
মর্ত্যে তাহাদের বাঁচিবার কি অধিকার?

'ন হন্যতে হন্য....
উদরে যার অনুদার ক্ষুধা তার আত্মা যাক জাহান্নামে!
বধির-অন্ধ ঈশ্বর, অপ্রতিম, অনন্য-
আত্মজ্ঞানের পিণ্ডি চটকে দিলাম
যতনে খাইও!

আমি ভাল নাই,
ভাল নাই আমাদের সম কঙ্কালের সত্বাধারীবৃন্দ!
রোম জ্বলিয়া যায়, পুড়িয়া ছাই-
নীরো তুমি বাঁশরী বাজাইও!

রবিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৮

অসমাপ্তিকা ৪

ভালবাসা?
সে কি প্রথম পৌষ প্রাতে অপেক্ষায় থাকা
নগর ঢাকার কোন রুক্ষ সড়ক পাশে বিমূঢ় পুরুষ?
অতন্দ্র অবয়ব শুষ্ক ধুলোমাখা প্রসাধনে কতটা প্রসন্ন,
কতটা বাতাস টানে বিপন্ন ফুসফুস- মানবরন্ধ্রপথে
তার হিসেব রাখে অস্থির পদবিক্ষেপে?

সে কি শুধু অনুভব?
বিমুগ্ধ অনুভব বিমুক্ত চুলের ঘ্রাণ থুতনির নিচে?
থিতু হয়ে গেছে যেন কবে কোন যুগে কার বিলোল পরশ,
কুচযুগ থেকে থেকে বুকে এসে লাগে! সমুখে ও পিছে
খুঁজে ফেরা বাহুর বেষ্টন? অধর অনুসৃত অতিপ্রেমরস
নিষিক্ত হয় বিজন দুপুরবেলা বিষাদিত মনে?

অব্যক্ত আবাহন দু'চোখের কোনে
সে কি স্থবির ক্রন্দন? নির্নিমিখ? নিভৃতে ফোনে
প্রহরব্যাপী নিরলস কথোপকথন নিশুতি শয্যায়?
আকাঙ্ক্ষা আর উৎকন্ঠার সংবেগ প্রবাহ শুধু?
হা-হুতাশ, উদাস দংশন শুধু অস্থিমজ্জায়
পলে পলে বিষদাঁত বিঁধে?

সে কি কাছে পাওয়া নয়?
সে কি নয় হাতে হাত রাখা?
সে কি নয় ফুলশরে সজ্জিত মিলন বাসর?
কেঁপে কেঁপে ওঠা স্খলনাভিষিক্ত হওয়া প্রমথ যৌবন?
সে কি নয় এক ছাদ, এক দোরে বাঁধা ছোট ঘর?
সে কি শুধু অশ্রুকণায় জমা প্রতীক্ষার ক্ষণ?
সে কি শুধু বেদনায় ছিঁড়ে যাওয়া মৃত নিউরণ
অবিরাম কেঁদে চলে মাথার ভেতর?

ভালবাসা?
সে কি? তবে সেটা কি?

(অসমাপ্ত)

অসমাপ্তিকা ৩

আমার হৃদয় আছে।
এতটুকু দিয়ে অনেক কিছুই দুষ্প্রাপ্য এখানে।
এই সামান্য সম্পদে বেঁচে থাকা দায়।
বেঁচে থাকা সুকঠিন প্রতিক্ষণ লোকসানে
জীবনটা ভারী হয় হৃদয় বোঝায়!

তবুও বাঁচতে হয় ভালবাসি বলে।
খুন করা এর চেয়ে শ্রেয়তর অপরাধ,
অমোচনীয় পাপ, দু'চোখের জলে
যায় না তো মুছে!

তবুও বেঁচে থাকি।
আত্মহত্যা? সে তো অসাধ্য! দুষ্কর!
নয়তো কবেই হত সে মহাপূণ্য কাজ
অতঃপর মিলে যেত অফুরন্ত অবসর,
আকাশের মাঝবুকে তারকার সাজ-
পেলে আমি সুখীই হতাম!

তুমি কেন এত ভালবাস?
আজ আমার কেন এত মৃত্যুতে ভয়?
তুমি কেন অমনি করে প্রাণখুলে হাসো?
আমারো যে থেকে থেকে প্রবল ইচ্ছে হয়
হাসিটাকে বুকের ভেতর বাঁধি।

অনেক কষ্টে কাঁদি।
তুমি যদি দেখে ফেলো! কি জানি কি হয়!

(অসমাপ্ত)

অসমাপ্তিকা ২

শেষ পর্যন্ত আমি নিজেকে মুক্ত করেছি প্রিয়।
এই অত্যাধুনিক কবিতার যুগে জীবনানন্দ নিষ্প্রয়োজন!
নিতান্ত নিষ্প্রভ ন্যাকামি ছাড়া কিছু নয়। জানি যদিও
বক্তব্যে অনেক কিছুই সহজ কিন্তু করে ফেলা দুষ্কর।
দু কদম এগিয়ে চলা কবিতা ছাড়া অনেকাংশে আত্মহনন!
অনেকাংশে অসম্ভবপর!

তবুও মুক্ত করেছি প্রিয়।
রাশি রাশি অলীক আবেগ আবহ নিয়ে হৃদরোগে ভুগি।
এইসব যা-তা না লিখেও তো চলা যায় অনায়াসে ভালো।
তবুও কেন যে কিসের মোহাবর্ত টানে প্রগলভতার পথে
যা কিছু প্রকৃত আঁধার তাই লাগে আলো।

জানো আমি আজ ছ'টা মাস সঙ্গীতহীন?
মন্দ্র সপ্তকে সুরের গাঁথুনি ওঠে কেঁপে। অথচ একদিন
এখানেই আমি জীবিত ছিলাম অকৃত্রিম প্রেমে
পৌষের হিমবাহে, জ্যৈষ্ঠের তাপে
এই মহাবোধিদ্রুমে, বিলম্বিতে লীন।

চুলোয় যাক কবিতা ফবিতা সব!
আমি আজ নিজেকে মুক্ত করেছি প্রিয়!
অবসন্ন আবেশের বিমূর্ত বিসংবাদে জমা হাহারব
বাজুক সঙ্গীতে। ঢের ভাল! কবিতা মরুক!
আমি সুখী হব। তুমি সুখী হয়ো
হাতে রেখে হাত!

লক্ষ জোনাকি রাত জেগে থাক তানপুরা নিয়ে!
কবিতাটা যাক!

(অসমাপ্ত)

অসমাপ্তিকা ১

আমার প্রতিটি সকাল ব্যার্থ তোমাকে ছাড়া।
প্রতিটি রৌদ্রস্নাত পার্থিব দ্বিপ্রহর, পরাঙ্মুখ বিকেলবেলা,
তমসার সায়ংকাল, অনঙ্গের ফুলশর,
পুরুষ-প্রকৃতি খেলা লাগে অসহ্য যন্ত্রণাময়।
তোমাকে ছাড়া ব্যার্থ প্রতিটি মূহুর্ত চরম দুঃসময়।
অলঙ্ঘ্য সাগরের ছিন্ন দ্বীপের মত ভেসে থাকে রাত্রি
চোখের কোটরে, স্বপ্নবৎ বিপন্ন প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস
দুরাশার যাত্রী। লক্ষ কল্প দূরে অধীরা হয়ে তুমি কি
অপেক্ষায় আছো এক বুক বিরহ নিয়ে উদাসী বাতাসে?

আমার আকাশ গেছে ডুবে।
কবে কোন কৃষ্ণ কুন্তলার কুঞ্চিত মেঘে প্রণয়ের কৃষ্ণগহ্বর
হৃদয়কে করেছিল গ্রাস, প্রগাঢ় অনুভবে
অধরে অধর মিলে উষ্ণ নিশ্বাস নিভিয়েছিল নক্ষত্রালোক
প্রথম বাসরে প্রমথ দয়ায়। অতঃপর
ফিরেছিলাম মৃত অগ্নিপুরুষ হয়ে। বলেছিলে, 'প্রেম হোক
সুশীতল প্রশান্তা গঙ্গার মত!'

তা কি আর হল?

এখন প্রতিটি প্রহর কাটে বিরহাহত
দ্ব্যর্থহীন ব্যর্থতা অঙ্কুশ মারে অস্তিত্বের গায়ে,
হৃৎপিন্ড রক্তাক্ত, কিসের আঁচড়ে যেন বর্ধিষ্ণু ক্ষত
বসে গেছে স্পষ্ট হয়ে। বিনা আমন্ত্রণে!

জানি না এ কি ছিল আরাধিত বিধাতার মনে
কোন সে পাপের দণ্ড নেমে আসে বিরহের ক্ষণে
আমি তাতে বারে বারে ক্রুশবিদ্ধ হই!

(অসমাপ্ত)

হতেছে কাতর প্রাণ

  হতেছে কাতর প্রাণ , না হেরি কনক মুখ!   তুমি কি বুঝিবে নাথ ! পাষাণে কি বাজে দুখ ? মেয়ে দিয়ে দিগম্বরে, (বড়ো) উদ্ধারিলে ত্রিসংস...