মঙ্গলবার, ৮ মে, ২০১৮

সুলতানা রাজিয়া

সুলতানা রাজিয়া
ভাত হাইউনা আজিয়া?
হ্যান গরি ক্যা চ'র!
ওম্মারেম্মা, শতান মাইয়া!
আঁত্তে লাগের ডর!

দুইজ্জা উডি পোইরো' পাড়ত
তোঁয়ারে চাইবাইল্লাই,
ঘুম্মা'ন ছাড়ি দুঁ'রি আইলাম
জানো না কিল্লাই?

এহন ওবা মেজাজ দেহৌর
ঢং গরদ্দে হতো!
দেক্ষুম ত আঁই জামাই ক্যান প'
অইবু না আঁর মতো!

বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১৮

ভাগাড় ও মেট্রো

ভাগাড়ের মরা খেয়ে অন্ত্রে বর্জ্য বায়,
পুরীষ উর্ধ্বগামী, অন্তরে লভিয়া ঠাঁই
নানাবিধ তত্ত্ব রূপে উদগত যবে,
আচম্বিতে মেট্রোরেল মহা কলরবে
উদিলা পত্রিকামাঝে বিজ্ঞজনে হাঁকি
কলিকাতা রঙ্গালয়ে আর কি রঙ্গ বাকি!

না মানি বিধির বিধি গুণনিধি সবে
আলিঙ্গনান্দোলনে বঙ্গোদ্ধার করে।
বাঙালীর বাঙালিত্ব এ হেন গৌরবে
ভাগাড়ের মরা খেয়ে ভাগাড়েই মরে!

বুধবার, ২ মে, ২০১৮

দ্বৈতকথা

আমার ঘরে নিভলে বাতি
তোমার ঘরও অন্ধকার
তবু
দুই দুনিয়ায় বসত মোদের
ভাবলে কেমন চমৎকার।

মনমাঝারে নিঝুম দেউল
বাদলা রাতে সারং গায়,
আমার বাড়ির ছ্যাঁদা চালা
বৃষ্টি ঝরে তোমার গায়।

এক জীবনের দুই কিনারে
এক তরীতেই পাল তুলি,
এক সুরেতেই বাঁধতে চেয়ে
দুই পরাণের গানগুলি

আজ

ভাঙা বাঁশির মন ফোয়ারায়
বুকফাটা কার চোখের ধার,
দেখতে কি পাও চোখ খুলেও
কার দু'চোখে ব্যথার ভার

বইতেও গিয়ে থমকে গেছে
তোমার হাসির উচ্ছাসে,
বোঝাই আমি কেমন করে
সব কথা এক নিঃশ্বাসে।

শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮

মায়ের অহংকার

ডাকছি আমি, ঝড় উঠেছে, এবার মুখটা তোলো।
বাজ পড়েছে, বুক কাঁপে মা, একটু দরজা খোলো।

পছিম কোনে কালচে মেঘে
চাঁদ দিয়েছে ঢেকে,
আমার অন্ধকারে ভয় করে মা,
আমায় একলা রেখে-

কেমন করে দোর দিয়েছ, মায়ার খিড়কি সেঁটে?
বুঝিনি তা খুলবে কিসে, কোন সাধনায় খেটে। 

ভরা হৃদয় বিরান করে ঝড়ের রাতে একা,
জগন্ময়ীর রূপটি কেমন, খুব গিয়েছে দেখা!

মরব বলেই জন্মেছিলাম এই বুঝেছি সার,
ছেলের মরা মুখেই বাঁচুক মায়ের অহংকার!

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮

হেঁশেল প্রেম

দিনশেষে ভর সন্ধ্যেবেলায় বাড়ি ফেরার তাড়া
ভাত চড়ালে, চচ্চড়িতে তোমার খুন্তি নাড়া
শুনব বলে হন্তদন্ত জোর কদমে ছুটি,
তোমার ভাতের চালের সাথে আমিও কেমন ফুটি,
দেখতে যেন পাওনা তুমি উনুন আঁচের ভানে,
সম্বরাটার ঝাঁজের সাথে ছ্যাঁত করে এক টানে
আমায় তুমি ডাক পাঠালে হেঁশেল ঘরে এসো,
এই জনমের ঘরকন্নায় এমনি ভালবেসো!

শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৮

হল না কিছুই

অতঃপর কবিত্বশূণ্য, আমি বেশ আছি,
আমার ঘরে বাঙ্ময় মৃত শব্দের বোঝা,
তারই মাঝে গুচ্ছের কান্না চেপে ধরে
বুকের অতলে আজও নিঃশব্দে খোঁজা-
শুধু তোমাকেই!

অচঞ্চল শালগ্রামের মত যেন দেউল মঞ্চে
স্তব্ধ হই, গায়ে পরে প্রসাধন চন্দনের ছিটা,
তুষ্ট নই, তবুও মূক বলে ধরি মুমুক্ষের বেশ,
বোঝাই- গরল বা অমৃত- সমভাবে মিঠা,
বৈরাগীর কাছে!

এই অপ্রতিহত মিথ্যের স্রোতে অরুণিমা,
আমি অস্তাচলে আটকে গেছি একা,
বলেছিলাম-
আসছে বোশেখ এলে বছরটা ঘুরে
বাজারের ফর্দতে পরিচিত লেখা
আমি দেখব বটেই!

হল না কিছুই!

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

সোনার কৌটোয় বিষ

সোনার কৌটোয় বিষ রেখে দিলে কি আর তা অমৃত হয়?

কতক সূর্যহীন দগ্ধিত রাত্রি আমার অপ্রেমকে প্রেম ভেবে আখ্যান হল,
স্বর্ণশেকলও যে করে শেকলেরই কাজ, এই সহজ সত্য বুঝতে গেল ত্রিংশ চৈত্র মাস,
আজও নারীকে চিনিনি, সব যেন চিনেও না চেনার মত!

মিথ্যেকে ভুলে থাকার নাম সত্যাশ্রয়ী হওয়া, এও এক কপট বিরহ সুখ,
অথচ অসুখই অকপট চিরস্থায়ী হয়, এতটুকু সারতত্ত্ব বুঝতে আমার গেল তিনটি স্বপ্ননাশ,
আজও নারীকে চিনিনি, সব যেন না চিনেও চেনার মত!

হতেছে কাতর প্রাণ

  হতেছে কাতর প্রাণ , না হেরি কনক মুখ!   তুমি কি বুঝিবে নাথ ! পাষাণে কি বাজে দুখ ? মেয়ে দিয়ে দিগম্বরে, (বড়ো) উদ্ধারিলে ত্রিসংস...