মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সাজতে নেই

না না এতটা সুশীল সাজতে নেই,
অসময়ে খসলে মুখোশ দেখা যায় সুঁচালো দাঁত,
নেকড়ে হৃদয়, তখনই সমূহ পতন!

অন্তত এটুকু ভেবেও তুমি স্পষ্ট থেকো,
খুনের খঞ্জর ধরেও হও তুমিই মহাণ,
তবুও অনুরোধ- কপট হয়ো না।

রাবনকে আর কতটা ডরাই?
রামের অভিনেতাকে দেখে মূর্ছা যাই শুধু!
কবিতাটি ১৪১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের সময়:১৫/০৫/২০১৭, ১৮:৫৭ মি:

আমায় জানিয়ো

অপয়া মেঘ সে বৃষ্টি না ঝরিয়ে গেল বুকের বাঁ'পাশে
সরোদে মল্লার কাঁদে, সান্ধ্য বাতাস, ভরা বোশেখের দিন,
তোমার চুলের ঘ্রাণ এলোমেলো ভাসে
রিক্ত প্রবাস, আর আমি তুমিহীন!

কত যে অতল বিলাপ গেছে কবিতায় থেমে,
ধ্রুবলোক থেকে আমার বাড়ির ছাদে একাকিনী নেমে
কত যে সুরলহরী গেলো তোমার দিশায়।
বঁধুয়া, তাদের কি দেখেছ তুমি তোমার আকাশে
কোন একাকীত্বের রাতে আঁধারের ছায়?

আমায় জানিয়ো।
কবিতাটি ১৬৬ বার পঠিত হয়েছে। 
প্রকাশের সময়:১৪/০৫/২০১৭, ১৮:৪৪ মি:

কাননবালার পক্ষে

কখনো তুমি কোন রসরাজের পক্ষে ছিলে?
সেও চলে গেল পূর্বপুরুষের পদাঙ্ক ধরে।
কাননবালা পদপিষ্ট দিনের আলোয়,
আকুতি তার- 'আমাকে মেরো না আর,
ভারতে চলে যাব ভিটেমাটি ফেলে'....
তারপর?

তুমি ঘুমাও, তুমি ঘুমিয়ে থাকো,
মাথার তালুতে মাখো নিদ্রাপ্রদায়ী তেল,
ভালো থাকো প্রতি নগর নাসিরনগর হলেও,
ভাল থাকো মালোপাড়া জ্বলে ছাই হলে, 
স্বপ্ন দেখো বিস্তর, অসংখ্য, অঢেল!
বাড়িঘর-

কারো কারো পুড়ছে পুড়ুক!
তুমি আগুনে ঝলসে বিবেক- কাবাব করো,
উদর ভরুক, নিশীথে গড়িয়ে পড়ুক আরও
দুর্বলের বীর্য্যনিধি! পয়দা হোক দীনতার গর্ভে
লাথিখেকো শিশু, তারাও বাড়ুক!
অতঃপর-

সকল প্রজন্ম- এপাড়ে রিফিউজি,
বাঙালি ঘটির কাছে বিকট বাঙাল,
এরাও কি কখনো কাঁদে তোমার ব্যথায়?
এরাও তো আজকাল অভাগা কাঙাল!

ঘুমাচ্ছ, ঘুমাও।
আমি কোন কাননবালার কোলে 
রাত জেগে থাকি! কোন কাননবালার ব্যথা- 
চোখে মুখে মাখি।
কবিতাটি ১২৮ বার পঠিত হয়েছে। 
প্রকাশের সময়:১৩/০৫/২০১৭, ১৮:০৯ মি:

বিশ্বাস হয়?

তোমাকে বোঝাতে পারি না আমি
আমারও বেদনা জমে আছে উইয়ের ঢিবির মত,
স্পর্শবিহীনতার ছাপ ভেতরে চেপে যাই,
মদনভস্মের যন্ত্রণা, কি মরণ উত্তাপ,
কি অবরুদ্ধ দাহক্রিয়ার ফল একমুঠো ছাই
আমি সংসার নিয়তি বলে মেনে মেনে চলি
তোমাকে বোঝাতে পারি না আমি।

এই অচঞ্চল বোশেখী আকাশের মত
ভাবো নাকি আমি উদাসীন প্রখর অন্তর?
কঠোর ও কঠিন আমি, স্থবির, পাংশু,
আমি কি দ্ব্যর্থহীন জীয়ন্ত অবোধ প্রস্তর
অমোঘ শাপে অনঘা অহল্যার মত কারো অপেক্ষায়?
তোমাকে ঠিক করে বোঝাতে পারি না আমি।

আমারও ইচ্ছে করে বৃষ্টিস্নাত হতে,
গলে যেতে নদীতট মৃত্তিকার কাছে, দু'হাত ভিক্ষায়
বাড়িয়ে দিয়ে, একটুকু, চোখের কোনে তোমাকেই চাওয়া-
তাই দিয়ে না হয় জন্ম জন্ম আমি ক্লেদাক্ত হতাম,
তোমাকে এসব আমি বোঝাতে পারি না কিছুতেই!

বিশ্বাস কর, এ বুকেও বিরাট ভারী অঢেল দীর্ঘশ্বাস,
অগুনতি কাতরতা, আকুলিবিকুলি সুরের রাত
প্রলম্বিত বিরহের বদ্ধ কোঠায় জমে জমে, পরবাস
আমার বড় সুখে কাটে না গো, বড় সুখে নয়।

বিশ্বাস হয়?
কবিতাটি ১৫৩ বার পঠিত হয়েছে। 
প্রকাশের সময়:১২/০৫/২০১৭, ১৮:৩৫ মি:

রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

তুমি এলে আজ

একপ্রস্ত অন্ধকার গিলে এই নৈশভোজ-
সেরে, আমি বলি চাঁদ, আমার ঢেকুরটা কৈ? 
ভরা পেটে দু'বালতি চালান দিয়ে ত্রয়োদশী ভাঙ
এ কবিতা যে লিখে ফেলে সেকি আমি নই?

বাঁশবাগানের পাড়ে কেওড়াপুকুর, শ্যাওলার ঘাট,
আমি ডুবিয়ে দিয়েছি পদ, বিপদ বিধায়-
এ ভীষণ রাত্রিবেলাও গায়ে- ছাই, রৌরব তাপ,
নগকন্যা, শীতল যে কিসে হব রয়েছি দ্বিধায়!

জ্যোছনা নদীর মত তোমার সিঁথিতে
সহস্রাব্দ বয়ে গেছে কত কবি-ফবি খেয়ে,
দু'ধারে ভাঙন দিয়ে কোঁকড়ানো চুলে
অলিখিত ছন্দ কত নিয়ে গেছে ধুয়ে-
তার বৃত্তান্ত অতশত জেনে- বল আমার কি কাজ?
আমার যে ভেসে যেতে নেই কোন ভয়
আমার যে নৌকোটাতে তুমি এলে আজ!
কবিতাটি ১৮৮ বার পঠিত হয়েছে। 
প্রকাশের সময়:০৬/০৫/২০১৭, ১৯:৫৪ মি:

তফাৎ শুধু

"তুমিও মানুষ আমিও মানুষ তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়।"
এই কথাটা লিখতে যদি আঁতেলবাজীর গুণ ছাড়াই,
লিখতে যদি সবার তরে, লবি ছেড়ে রাজনীতির
তবে সালাম তোমায় নওল কবি, এই বাংলা সংস্কৃতির-
জাত বাঁচতো, এ জাত কারো জাত মেপে কি পা বাড়ায়?
পিঠ বাঁচানো কথা যাদের, তবে তারাই বাঁচুক শিরদাঁড়ায়!

বলছিলাম কি,

তুমিও মানুষ আমিও মানুষ তফাৎ শুধু এক কথায়-
মানুষ হয়ে কাঁদতে পারি সব মানুষের সব ব্যথায়?
কবিতাটি ৫৭৪ বার পঠিত হয়েছে। 
প্রকাশের সময়:০৩/০৫/২০১৭, ১৯:০৬ মি:

খরস্রোত ও শান্তির বাতাস

এক খরস্রোত বয়ে গেছে,
আমার সোমনাথ, বিশ্বনাথে লেগে আছে 
রক্ত আর পলি মাটির প্রলেপ,
আমার নালন্দা, বিক্রমশীলা ধরে আছে 
ক্রুরতার বক্ষভাঙা গাছপাথর!

আমাকে তুমি প্রশ্ন কর, 
আমি ভন্ডদের ইতিহাসে বোদ্ধা কি না,
আমাকে তুমি জানাতে চাও 
লুটেরা মরু বেদুঈনের সভ্যতার কথা,
আমাকে প্রশ্ন কর আমি অসভ্যের শ্রেষ্ঠত্ব মানি কি না,
আমাকে তুমি এতটাই ভেবেছ আহম্মক!

আমাকে শেখাতে এসেছ তুমি বৈশ্বিক প্রেম,
আমাকে শেখাতে এলে গর্দভের দর্শন সন্ধর্ভ,
আমাকে দিতে এলে শান্তির বাতাস,
দেখো সে বাতাসের ক্ষত আজও আর্য্যাবর্ত
তার রোমকূপে তাড়িয়ে বেড়ায়!

এ ভূমি বুদ্ধের, এ ভূমি মহাবীর, নানক, চৈতন্যের
আমাকে কি শান্তি ধারে আনতে হবে বিদেশ ঘুরে? 
সে শান্তি বিলাতে হবে সশস্ত্র পাড়ায় পাড়ায়
নইলে এ দুনিয়া জাহান্নামে যাবে?

আমাকে এতটাই বেওকুফ ভাবো?
যে জ্ঞানের সূচনা হয় 'ভয় কর' বলে
সে জ্ঞানে পশু পোষা সুবিধাজনক!
কবিতাটি ১৬০ বার পঠিত হয়েছে। 
প্রকাশের সময়:০২/০৫/২০১৭, ১৯:০৬ মি:

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...