বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

আগমনী - তুই তো মা যেচে গেলি

তুই তো মা যেচে গেলি দিগম্বর-ঘরে!

কানাকানি করে লোকে, কারা মা দেখেছে তোকে,

বড় দুঃখে আছিস নাকি- মহেশ সংসারে!  

 

অতসী-অনঘ-অঙ্গে, ছাই মেখে কি বা রঙ্গে,

তুইও সে পাষাণ সঙ্গে- শ্মশানে করিস বাস!

আছে ক’টি ছেলে মেয়ে, আধপেট খেয়ে খেয়ে,

ক্ষীনকায়ে ‘মা, মা’ বলে, কেঁদে কেটে মরে!

 

মায়েরে পড়ে না মনে, দি দোষে মা, কি কারণে-

এতটা নির্দয়া হলি, উমা আমাদের পরে?

কিসের গরব এত, জানি তো বৈভব কত,

ভৈরব-ভৈরবী হয়ে- ফের চরাচরে!

 

এবারে আশিন এলে, আমিও থাকব ভুলে,

রব’না দরজা খুলে, আর তোর পথপানে চেয়ে।

বোঝালিরে মহামায়া, সংসার অনিত্য মায়া,

তবু মায়ামুখ না দেখে মা, চোখে জল ঝরে!

 

 

শাক্ত-পদাবলীর ‘আগমনী’ পড়তে পড়তে মনে হল, আমিও বা লিখি না কেন। তাই একটা লিখেই ফেললাম। দেখি সুর দিয়ে কখন গাইতে পারি।

 

২/৭/২০২০।

 

 

 

 

 


মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

রসরাজ-কীর্তন

রসরাজ-কীর্তন

___________

 

কোথা প্রাণপতি রসরাজ, ভকতে দর্শাও আজ-

মদনমুর্চ্ছিত সাজ, দেখে তবে অক্কা পাই!

ভেবেছি মারিব ছক্কা, বারেবারে জোটে ফক্কা,

যমে দেয় টরেটক্কা, ভয়েতে ভিরমি খাই!

 

মাংসাহারী এ কারণে, পোছে না বৈষ্ণবজনে,

নিন্দা করে জনে জনে, গাঁয়ে চলা হল ভার!

ভজিয়া শ্রীঅণ্ডবাকে, পড়েছি কি দুর্বিপাকে,

কু-শ্রাস্ত্রবচন ধরি, হল ধর্মাধর্মে ছারখার!

 

রসুন-পেঁয়াজ ছাড়ি, শ্রীচরণে রব পরি,

তার মোরে দয়া করি, না তারিলে কোথা যাই?

দিবানিশি আছি ঘরে, কলত্র কলহ করে,

এতে যদি যাই মরে বৈকুণ্ঠে পাব কি ঠাঁই?


সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

শ্রীঅণ্ডবাক-কীর্তন

শ্রীঅণ্ডবাক-কীর্তন

 

রাগঃ সুরকানান্তকা

তালঃ চতুরাণ্ড

_______________

 

(উজ্জ্বল) মণ্ডলমণ্ডিত তালটালতিরোহিত কীর্তনে মাতো হে!

ঝাড়িয়া ভবের বোঝা, কালসর্পে যিনি ওঝা-

শ্রীঅণ্ডবাকের পদে আপনা লুটাও হে!

 

(ওহে!) সংসারে কি পঙ্ক ঘাঁটা, হয়েছ বলদ, পাঁঠা,

নিত্য ভার্য্যাহস্তে ঝাঁটা, হেরিয়ে না গেল ভ্রম!

এখন হাড়িকাঠে উপনীত, ধান ভানতে শিব-গীত,

গেয়ে কি ভেবেছ তুমি পাবে কিছু উপশম!

 

লভি গো ‘দেব-আশিস’, ওরে কোথা কে পড়ে আছিস,

আয় ছুটে পদপ্রান্তে, ভবার্ণবে তরিতে হে!

বরিয়া সে ভববৈদ্য, নবজন্ম লভি সদ্য,

মাভৈঃ, শ্রীঅন্ড বলে ব্রহ্মাণ্ড বিচর হে!

 

(ও মন), অন্তরে ‘অপ্রকাশ’ যিনি, সর্বভূত হৃদে বাস,

গুরুবাক্য বিনা কার, হয়েছে হে এ বিশ্বাস!

তাই ভজ মূঢ় গুরুপদ, ছাড়ো মায়ামোহমদ

ওরে হাঁদা নির্বোধ, কেন পড়িয়া ঘুমাস রে!

 

ঝাড়িয়া ভবের বোঝা, কালসর্পে যিনি ওঝা-

শ্রীঅণ্ডবাকের পদে আপনা লুটাও হে!

 

 


রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

দিলি না দিলি না তারা দীনে গো মা দরশন - বিশাখদত্ত - Dili na dili na Tara







দিলি না দিলি না তারা
দীনে গো মা দরশন,
ত্রয়তাপে গাত্রদাহ,
কোথা স্নেহ পরশন?

ধরেছে সংসারব্যাধি,
কোথা পাব সে ঔষধি,
ভয়াকুল মা নিরবধি, আমার
শিয়রে শমন!

রচনা ও সুরঃ বিশাখদত্ত
২৮ জুন, ২০২০।

অভিমানী

বড় অভিমানী - এ তীর ও তীর,

অধীর অধীর এ বাঁক ও বাঁক,

উজান-ভাটায়,

স্রোত কেটে কেটে শ্রান্ত।

ঘড়ি ধরে চলা কাঁটায় কাঁটায়,

তবু ভুল হয়-

কে বা জানতো!

 

এখন খানিক চোখ বুজে আসে,

বরষা আকাশে, পাল তোলা মনে-

মল্লারে লাগে হাওয়া!

সেধে সেধে গেছি পাঁজরার নিচে,

বিষে ভরা গান,

এখনো হল না গাওয়া!

 

ভাল মন্দের সংজ্ঞা হারিয়ে,

কতকিছু লিখে, দেখো-

আমি পাথরের মত ক্ষান্ত!

অভিমান জমে আঁধার ঘিরেছে,

বড় অভিমানে

আমি ক্লান্ত।

 

 

 

 

 


বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

সাধে কি ত্যাজেছি তোরে - স্বরচিত - Sadhe ki tyajechi tore







স্বরচিত শ্যামাসঙ্গীত
আরেকটি
_____________________

সাধে কি ত্যাজেছি তোরে
সেই কথা তুই ভাল জানিস!
পাড়া-পড়শি যে যাই বলুক
(আমার) মনের দুখ তুই
তো মানিস!

সঙ সাজিয়ে খুব পাঠালি,
সঙ দেখে দিস দু’হাত
তালি!
(আমার) পাওনা নেবার
হিসেব দিলে
কত টাল-বাহানার ফিকির
টানিস!

লোকের কথা বলব কি আর,
যার যা ভাল সে বুঝুক
তার।
আপন পরের ফারাক খুঁজে
সবই দেখি বিশ আর ঊনিশ!

ভেবেছি তুই জগত-ছাড়া
তাই অহর্নিশি ডেকে তারা;
কপাল জুড়ে দুখের ফাঁড়া
নিত্য নতুন কতই আনিস!

রচনা ও সুরঃ
বিশাখদত্ত
২৫/৬/২০২০।



সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

কে গো ভীমা ভামিনী রণে - বিশাখদত্ত - Ke Go Bhima Bhamini Rane







কালীকীর্তন

মালকোঁষ-
তেওরা
_________________

কে গো ভীমা
ভামিনী রণে!
দনুজদলনী
শোণিত-শোভিত-পদে
ত্রাসিত
ত্রিলোক গজগমনে, প্রলয় গরজনে!
ভীমা ভামিনী
রণে

দিতিসুত-মুণ্ডচয়
দুলাইয়ে গলে,
মেঘবরণী
হুহুংকারে আসব পানে ঢলে
বধিছে অরিকুলে
রুধির পিয়াসে-
ক্ষোভিত
কৃপাণে, রক্ত আননে!
ভীমা ভামিনী
রণে

নীরজ-নয়নে
নবারুণ আভা ধরি,
ভয়ংকরী রণপ্রমত্তা
অট্টহাস ক্ষণে ক্ষণে!

ত্রয়তাপ
নিকন্দনী, দুরিতবারিনী-
সংবর রূপ
ভীষণা, হেরি স্নেহ-সুহাসিনি,
বিশাখজননী,
ক্রোড়-প্রসারিনী-
অভয় দাও,
শমন-শাসনে!
ভীমা ভামিনী
রণে

কথা
ও সুর- বিশাখদত্ত
২২/৬/২০২০

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...