শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

বিশাখ ভনে

ভেবেছি মা সুর সাধিব, তোমার বীণার তার বাঁধিব,

শ্বেতবসন মলিন করে, তোমার কোলে রইব পড়ে!

আমি কি গো সতীন-ছেলে, এমনি করে রাখলে ফেলে,

কত লোকের কথার ছলে, বদ্ধ করে মায়ার ডোরে!

 

কে বা আমায় দিচ্ছে মালা, সেই বুঝি দেয় কাঁটার জ্বালা,

এত বাকচাতুরির কর্মশালা, বকবকানি জগতজুড়ে!

আমার কানে মীড় লেগেছে, সুর দরিয়ার পাড় ভেঙেছে,

স্রোতের আশায় চক্ষু মেলে বসেই আছি বার-দুয়ারে!

 

একি রঙ্গ ভদ্রকালী, ভরাডুবি আমার খালি,

কি শেখাতে কি শেখালি, কি বলে গাল দিই বা তোরে!

আর হল না এ জনমে, এই ব্যথাটি রইবে মনে,

মনের দুখে বিশাখ ভনে, এই দুখ আর বোঝাই কারে!

 

 


বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

তোমার দায়

সাত জনমে সাত ভূবনে সাত সাগরের পারে
জেনো তোমার দায় রয়েছে ফিরতে বারেবারে!

উতোল স্রোতের জলোচ্ছাসে, ভাসিয়ে নেবার সর্বনাশে,
ভাসতে হবে আমার পাশে, ভয়াল পারাবারে!
জেনো তোমার দায় রয়েছে ফিরতে বারেবারে!

আমার আকাশ অন্ধ হলে, আঁখি আমার ডুবলে জলে,
আমায় রেখে আঁচল তলে, আমারই সংসারে-
জেনো তোমার দায় রয়েছে ফিরতে বারেবারে!

আমার যত মিথ্যে-সুখে, আমার সকল সত্যি-দুখে,
জাপটে ধরে আমায় বুকে, সৃষ্টি ও সংহারে-
জেনো তোমার দায় রয়েছে ফিরতে বারেবারে!

জাগরনী

শত লোকের কত কথায় দোর দিয়েছি কানে,
আমার সকল গানের কলি, সকল ছিন্ন তানে—
কেমন ব্যাথার সুর কেটে যায়, তাল কাটে মাঝখানে,
তারা কি আর জানে!

রাতবিরেতে কে ডাকে ‘আয়,
এমন ঘোরে আর কে ঘুমায়,
দিন ফুরালো, রাত ফুরাবে, জোয়ার-ভাটার টানে!
তরী যে তুই বাইবি একা, কে যাবে তোর সনে’!

জেগে আছি চক্ষু মেলে,
(যদি) ফেললে পলক যায় সে চলে,
যদি সে আর না ডাকে ভাই, ভুলে যাওয়ার ভানে!
সে তো এম্নি ধারার চিরকালই, তেম্নি জগত জানে!

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

বজ্রযানীর বেহাল দশা

গুরুদেব,

 

লোকমুখে শুনছি প্রভু, মোরা নাকি কর্তাভজা,

অণ্ডবাকের গুণ্ডারা সব, রাস্তাঘাটে নিচ্ছে মজা-

টিকি ধরে মারছে গো টান,

তোমার আর রইল না মান,

কোনক্রমে বাঁচিয়ে পরাণ, এলেম ছুটে এথায় সোজা!

 

ঘরে বাইরে চোখ রাঙানি, কবে তারা দেয় ঠ্যাঙানি,

তারা নাকি বলছে শুনি, ছাল ছাড়াবে বাইরে এলে!

রক্ষা কর তোমার দাসে, মরেই যাব ভয়-তরাসে,

তারা যদি সত্যি আসে, প্যাঁদায় যদি একলা পেলে!

 

রই গো তোমার চরণছায়ে, দেখি না গো ডাইনে বাঁয়ে,

কোন রকম খাচ্ছি ভাল, আলু-পটল-উচ্ছে ভাজা!

তাতেও তারা রুষ্ট এত,

লোকের কাছে নিন্দা কত,

আমি নাকি ধর্মদ্রোহী- ত্যাজেছি তাই চরস-গাঁজা!

 

 

অনেক ইতিহাসের দলিল ঘেঁটে পদকর্তা বজ্রযানী বৈষ্ণব বিরচিত এই পদ উদ্ধার করতে পারলাম। আপনারা যারা জানেন শ্রী অণ্ডবাক মণ্ডলাচার্য্যকে ত্যাগ করে বজ্রযানী বৈষ্ণব রসরাজ শ্রীদেবকৃপাশিসানন্দ গোস্বামীপাদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পর এ নিয়ে তেমন কোন উচ্চবাচ্য হয়নি, উভয়দিক থেকে তেমন কোন প্রতিক্রিয়ার বিবরণ পাওয়া যায়নি- এটা ভুল, আমরা এতদিন এইটুকু জানতাম। কিন্তু আবিষ্কৃত এই পদ থেকে এটা স্পষ্ট যে- উভয় গোষ্টীতে একটা বৈরীতা এসে গিয়েছিল। এই নব-আবিষ্কৃত পদ তার দৃষ্টান্ত।

 

 

 


বীণাবাদিনীর মুরোদ

বিদেশে থাক মা, বীণাবাদিনী,
আর ঘরে আনব না তোরে!
যারই তরে তোর বুকে বাঁধে দয়া
তারে কমলা কাঁদিয়ে মারে!

যার
মসীমুখে তুই কাব্যের স্রোত,
কন্ঠে সুরের লহরী,
পেঁচকে আরূঢ়া তারে দেয় গাল,
ছাই মেলে কানাকড়ি!

বীণা পুস্তক হাতে ধরে থাক,
আমার যা হবার তা তো হবে!
তোর আর তাতে কি বা এসে যায়,
কি বা এসে গেল কবে!

এখন ভাবছি লক্ষ্মীর ঘটে
মাথা ঠুকে চাই ক্ষমা!
বাঁচতে হবে তো দুটো খেয়েপড়ে
টাকশালে কিছু জমা—

তাই করতেই হয়,
নচেৎ অকূলে মরি!
তুই দিবি না তো একটা আধুলি,
মুরোদ আছে কি থুড়ি?

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০

পলায়ন

লুকাতে লুকাতে মুষিকের গর্তে 
আসার পর মনে হল,
এ ত’ কেউটের ঘর! 
আমি বেরিয়েওবা যাব কোথায়?

আমার কত যে দিনরাত্রি গেল,
বুকের পাশে, বুকের ভেতর,
কত উছল কোলাহল, 
গীতবাদ্য হাসির হিল্লোল 
আমি তুলে দিয়ে গঙ্গাযাত্রায়,
ভেবেছিলাম এমনি থাকি,
এমনি প্রতীক্ষায়;
আমার সর্বস্ব অর্পন হলে সেদিন
নিশ্চয় কথামতো সে আসবে!

কেউ আসেনি,
কেউ এলো না কোনদিন! 

তারপর নিজের ছায়াটিকেও ছেড়ে যাব-
এই পণ ধরে আমি নিজের থেকে নিজে সরে দাঁড়াই,
এতটুকু আলোয় পাছে ছায়া পরে—
এই ভেবে আমি পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি,
আমি ভেবেছি নিজেকে স্তিমিত করার পর,
এক জ্যোতির ছটায় আমি মিলিয়ে যাব;
যে আলো অপার্থিব!

অথচ পৃথিবীর বাইরে কিছু নেই,
আমি একাই চলে গেছি অন্ধকারে!

করোনা-পীড়ন

নভেল করোনা, কর হে করুণা

কোরো না কোরো না এত নিপীড়ন,

আর যে সইতে নারি!

কত দিন আর কাটিব না চুল,

কতদিন রাখি দাড়ি?

 


তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...