বুধবার, ১১ মে, ২০২২

কেহ সহে না

 

কেহ রহে কেহ রহে না,

চলে যায় বলে প্রাণের বেদন

কেহ সহে কেহ সহে না। 


মায়া দিয়ে বাঁধি দু'দিনের গেহ,

কত ভালবাসা, কত প্রেম, স্নেহ

তটিনীর মত জীবন চলেছে-

সমস্রোতে সে তো বহে না। 


হারাবো যে ধনে তারে চাহি নিতি,

তারে রাখি মনে বোঝে না যে প্রীতি

তাহারে বলেছি মরমের কথা-

যে বা কোনদিন কিছু কহে না। 


ওগো কেহ সহে 

কেহ সহে না। 



বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২

খেয়ালী বিহগ

 

আমার কিচ্ছুটি বলার নেই,

ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকা, তদ্ভিন্ন অবকাশ নেই

ফিসফিসিয়ে ওঠার বাতাসের কানে কানে।

যারা জানে, তারা জানে-

অ-বাঙ্ময় হয়ে আছি কবে থেকে, নিগূঢ় খোলসে-

খরতর কথার স্রোত বয়ে যায়,

অদৃশ্যের টানে। 


কাউকে শোনানোর নেই নতুন কিছু-

সকল নিঃশেষে প্রেতলোকে তলিয়ে গেল ধীরে। 

এখন উদ্ভ্রান্ত অন্তরে উঠেছে বিকট ঝড়

খেয়ালী বিহগ কিছু তবু তো এলো না ফিরে-

নীড়ে। 


কিছু বোঝানোর নেই তো বাকী,

কোথাও রাখিনি ফাঁকি বিলিয়ে দিতে গপ্তধনের চাবি। 

ফতুর হয়েছি সাধে, জানো বটে-

ভিক্ষা চাইতে পারি, ভিখিরি জানে না দাবী-

দাওয়া কিভাবে উত্থাপিত হয়,

কোথায় বা কার কাছে,


কোন পথ ঘিরে। 


খেয়ালী বিহগ কিছু তবু তো এলো না ফিরে-

নীড়ে। 




শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২

অদৃশ্য তূনীরে বাঁচো?

 

কণ্টক-কিরীটী,

ক্রুশলগ্ন ঈশ্বরপুত্রের মত প্রস্তর-

মুরতি হয়ে অন্তর- বাণবিদ্ধ বলাকা-জীবনে

অভিনন্দিত;

অকবিত্বে প্রাঞ্জল ব্রহ্মাণ্ড-কোটি-

সরলার্থে ব্যাপৃত মায়ার শৃঙ্খলে, মায়াতীত-

সত্ত্বান্বেষণে, সত্যহীন প্রমাদে গেল ছেয়ে।


ঝড় আসেনি এখনো এখানে,

আকাশগঙ্গা ফেলে মেঘেরা গেছে বেয়ে-

লোকান্তরের খেয়া।

ডাহুক ডাকে আঁধার হলে বাঁশের বনে,

শিবাদল আসে নিশির কোরকে,

জ্যোছনা অপরিমেয়া-

জানালা ঘেঁষে যথারীতি দাঁড়িয়ে বিহ্বলা-

শুধোয়-


জীবন তুমি কি পন্নগের ফণা শুধু,

শুধু কি বিষ-শর-ফলা-

অদৃশ্য তূনীরে বাঁচো? 





বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

অদেখারে দেখা

 

চিনিনে তোমারে জানিনে কিছুই,

জুড়ে দিয়ে শত অভিধায়

অন্তরলোকে খুঁজতে পারিনে, অন্ধ;

তাই বন্ধ দেউলে চিত ধায়

 

হায়

ছেঁড়া ছেঁড়া কথা ছুঁড়ে ছুঁড়ে কত দ্বন্দ্ব,

মন্ত্র তন্ত্র কাঁসর ঘন্টা ছন্দ

ধুপধুনো আর বেছে তোলা ফুল গন্ধে

বিচার, নিষ্ঠা, আচারিক ভাল মন্দে

অদেখারে কি বা দেখা যায়?

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২

শঙ্করাকে ডাকে!

 

আছি এটুক জায়গা করে, এই তো পথের বাঁকে।

আশার আশে বিশাখে কি, জলে চিত্র আঁকে।

 

সে ভবতলে পঙ্ক ঘেঁটে, ছ’টা ভূতের বেগার খেটে,

জোটায় কি ছাই, জানিনে ভাই, ম’লো রে বিপাকে!

ও তার আপনি শোবার হয় না রে ঠাঁই,

শঙ্করাকে ডাকে!

 

 

 

 

 

 

 

 

মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২২

তুমিও যাবে

 

তুমি জানো না, তুমি চলে যাচ্ছ।

জানো না তুমি গলে যাচ্ছ হিমবাহের মত,

মিলিয়ে যাচ্ছ আকাশে, নৈঃশব্দের অন্তরালে

একেবারে অন্য কোথাও, বিধৃত নক্ষত্রজালে

কবিতার নৌকা-বহর ফেলে না নোঙ্গর

তুমি সেখানে যাচ্ছ।

 

তুমি জানো না, তুমি চলে যাচ্ছ।

তিলে তিলে মুছে যাচ্ছ গুহাচিত্রের মত,

তলিয়ে যাচ্ছ জীবাশ্ম-প্রায়; কোনদিন ফিরবে না বলে,

অনির্দেশ্য সময়ের হাতে দিয়ে ঘরের চাবি

তুমি জানো না আর কার আছে কতক দাবি

তোমার কাছে না মেটানো, তুমি রাখো না খবর

তবু তুমি চলেই যাচ্ছ।

 

কোন অতলান্ত প্রশ্ন-গহ্বরে ধরেছ ধ্যান বদ্ধ পদ্মাসনে।

গ্রীষ্ম-অন্তরে স্বাগত প্রথম মেঘ-স্বন

তুমি জানো না কত আকুল সাধ, কত সপ্রেম সমর্পণে

তুমি জেগেছিলে কেঁদে, মর্ত্যে প্রথম ক্ষণ

তোমার, তুমি সব ভুলে গেছ।

 

তুমি চলে যাচ্ছ, জানো না তুমি।

তুমি জানো-ই না, তোমাকে যেতে হবে

ঠিক এভাবে সকলে যায়, অতীতে গেছে যারা

আরো চাঁদ, আরো তারা; আরও ক্ষুধা, আরও ব্যধি

আরও সুধা, প্রাণনিধি কত অঢেল কবিতা

মাথামুণ্ডু সুরহারা গান

 

তুমিও যাবে।

 

 

 

 

 

বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২২

শাসন

 

ওমা, সাধন বিনা তোমার বীণা বাজাব সাধ সাঙ্গ হল,

দিনের শেষে এটুক চাওয়া, তিলেক মাগো বদল তোল।

গাঁথব বলে সুরের বাণী, আকাশ পাতাল কতই ছানি

এই তো এলাম তোমার দেশে, একটু যদি দুয়ার খোল।

 

দেখি ঘুমের চোখে বুনছি বাসা, আশার আশা এই ধরণী,

সর্বনাশা ঘোরের নেশা, মাগো, আমার কেহ নাই জননী।

দিন ফুরালে শেষের বেলা, যদি ভুল হয়ে যায় ভাঙতে খেলা

শাসন করে দু ঘা দিয়ে, টানতে কোলে, কানটি মো’লো!

 

 

 

 

 

 

 

 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...