শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২

প্রণমি সাগর সেন

 



কোন সুদূরের স্বপ্নবিবশ উছল কৈশোরতট ছুঁয়ে

তুমি জেগেছ ঊর্মিভঙ্গ সুরের জলধি, স্মৃতির পুষ্পে যেন- 

জীবনের প্রথম প্রণয় পরাগবাহী, সে প্রমথ পেলব ছোঁয়া; 

তুমি অমোঘ অমিয় মৃতে, ব্যথিত হৃদয় ধোয়া- 

নয়ন জলে তোমার ললিত কণ্ঠধ্বনি দিয়েছে প্রাণ,

তোমার গান রবির কিরণ ছেয়ে যেন অনন্তের লোক হতে-

এসেছে ছুটে যেন হিয়াতে আমার পিণাক-বাণ- 

লাগে, মর্মর মর্মতলে যেন স্রষ্ঠা অনাদি সুর দেন-

তোমার আহবানে, প্রণমি সাগর সেন। 


মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

না হয় তুমি জানলে না আর

 


না হয় তুমি জানলে না আর

নাই বা তুমি জানতে পারো।

না হয় তুমি জিতলে না আর

জিত হয়েছে অন্য কারো। 


লক্ষ কোটি কথার ঝাঁকে

একটি কথাও নাই বা থাকে

তবে হৃদয়-তারে সুর বসিয়ে

আকাশপাড়ে কন্ঠ ছাড়ো। 


ডোবা ভাসা তারার স্রোতে

গা এলিয়ে দিবস রাতে,

বিভোর নেশায় ভোর এলো না,

ঘুম গেলো না সুয্যিটারও। 


তবে এই আঁধারে ভাসবে বলে,

বুক ভেজাবে আঁখির জলে?

পাখির মতন ডানা মেলে-

বাঁচতে শেখোনইলে মরো। 

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২

পাঠোদ্ধার

 


আরও একটা দিন অহেতুক বেঁচে থাকতে হল।

এতে কোন হর্ষ বিষাদ নেইপ্রেম অপ্রেম নেই।

শুধু জমে যাওয়া বরফ খণ্ডের মত নিশ্চেষ্ট নিশ্চলতা,

নিরন্তর নিরর্থকতা পুঁজি করে আছি-

বিষোল্লাসের কবিত্বে


তারারা ঘুমাতে যাবে আরেকটি প্রহর পর।

রাত্রি বিবরে গ্রাসিত শহর নেতিয়ে আছে যেন মরা সাপ।

এখন কথারা মগজে হাঁটেঅশরীরী প্রেতের বহর-

তারাচোখের আলো নিভে এলে জ্বলে ওঠে কল্পনার

জোনাকি উদর ফেঁড়ে চিকচিক করে। ত্রিলোক-ত্রয়তাপ-

আমায় করে ভর। 


আমার কয়েক অর্বুদ অলিখিত পংক্তির মত

এরও আজও হয়নি পাঠোদ্ধার-

কেন বেঁচে আছি







আতশবাজি

 

আতশবাজির মস্ত ধোঁয়ায় ত্রস্ত আকাশতল
নীড়ের মাঝে বুক কাঁপে, ঐ পাখির চোখে জল,
শুধায় মাকে, 'কারা এরা?' ছোট্টো পাখির ছানা
'বিশ্বমায়ের পূজায় মাতাল মত্ত কতক দানা!'

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২

বিশাখে না পেল সাড়া

 

ষড়জে সরোজমালা, ঋষভে রুধির ধারা,

গঙ্গা তুমি গান্ধারে, মধ্যমে মাতঙ্গী তারা। 

পঞ্চমে পদযুগ, মাগো ধৈবতে ধারণ করি,

নিষাদে নিঃসীম রূপা, ধরে ধ্যান হরহরি। 

ওমা মন্দ্র-মধ্য-তারে রাজ নিত্য তুমি ভবদারা,

সুরে তালে লয়ে তবু, বিশাখে না পেল সাড়া! 

বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২

উমা আমার থাক

 

আমার যেন মনে হল হঠাৎ যেন দ্বীপান্তরে 

অমানিশার আড়াল ফুঁড়ে, কতক তারা আকাশ জুড়ে

খিলখিলিয়ে উঠল হেসে, ঘুম ছুটিয়ে সর্বনেশে

নেশায় আমার পাগল করে, করাল ঘূর্ণিপাক! 


যেন আগল ভাঙা বান ডেকেছে, 

মত্ত স্রোতে ত্রস্ত বাতাস,

বাতায়নের ও ধার হতে সুর তুলেছে

দারুণ হতাশ- সারেঙ্গী কার, 

ঠিক যেন তার অঙ্গে অঙ্গে লক্ষ-হৃদয় ব্যথার গাঁথা,

আমার হঠাৎ মনে হল কাঁপন ধরে চোখের পাতা

যেন ইঙ্গিত পাই চরণধ্বনির,

পৃষ্ঠে বাঁধা অধীর তুণীর পিনাকে দেয় ডাক,

বিষাণ বাজে বিষের নেশায়, 

বিসর্জনের ঢাক-


পাষাণ ঘরে; মন-মেনকা উঠল কেঁদে

'উমা আমার থাক'। 

সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২

গরলস্নান

যে প্রশ্ন করতে শিখে গেছে

সে জানে- উত্তর চাইতে নেই,

বরং স্তব্ধ হবার দিন ঘনায় ঘোর

একটু একটু করে।

বহিষ্কারের পথে রাত্রি করে ভীড়,

ত্যক্ত ঘর দোর

মর্মন্তুদ বলে জাপটে ধরে

পাঁজরার হাড়। বিধাতা বধির! 


জিজ্ঞাসার বধ্যভূমি জাগে-

আকাশে হাহাকার-

মাতম লাগে ঝড়ে, দিগ্বিদিক-

শূন্য প্রাণ ছোটে অকুস্থল ছেড়ে,

জানে না ঠিক-বেঠিক,

আচার অনাচার

শুধু জানে বাঁচতে হবে। 


জিজ্ঞাস্য কিছু নেই,

দেখো ঘাটে ভিড়েছে সাম্পান! 

ওপারে বোধিদ্রুম,

হয়ত বা, এপারে গরলস্নান। 





তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...