বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩

দাও হে দেখা ভবের মাঝি

 

দাও হে দেখা ভবের মাঝি, 

আর কত গো দেরী? 


তোমার পাইনে সাড়া

ভেবে সারা দেশ দুনিয়া ঘুরি, 

ভাসছি কোথাও বানের জলে,

ঝড়ের হাওয়ায় উড়ি। 

কোথায় তোমার তরী? 


বসিয়ে আমায় নদীর ঘাটে, 

হলে কোথায় উধাও, 

মরম তলে ব্যথার ছলে 

কতক কি যে শুধাও, 

আমি কিছুই বুঝতে নারি! 

হতাশ কেচ্ছা

 

হতাশ হতে বেশীক্ষণ লাগে না।

একটা কল্প-ক্লান্ত-ঘনীভূত দীর্ঘশ্বাসের

বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে যতক্ষণ লাগে

ঠিক অতটুকুনই তো। 

তবুও এ নিয়ে আদিখ্যেতার অন্ত নেই,

থেমে নেই গান গাওয়া, কবিতা নামানো

মেঘের ঝালর ঝেড়ে, সুরের পালক নেড়ে

জমানো ধুলোর মত উড়িয়ে নিতে

জীবনের কত স্থবির প্রহর। 

দিস্তা দিস্তা দ্বান্দ্বিক কথার তোড়া

এ পাশে ও পাশে সেঁটে দিলেই হল, 

মন হল মুক্তিদ্বার খোলা, অতঃপর-

আবারও তৎপর সেই পুরনো কেচ্ছায়। 

মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩

মাথুর (১)

 

রহি রহি বিরহ সহি গো কেমন প্রাণে

বিজনে নিধুবনে একাকিনী আনমনে 

শ্যামের বিহনে। 


নিরালা তমালশাখে কুহুকুহু পাখী ডাকে

বিধুরা যমুনা বাঁকে মলয়া কাঁদিয়া যায়

হুহুহুহু প্রতিক্ষণে। 


হোলো সে মথুরাপতি, দয়া নাহি মোর প্রতি, 

ওলো রাধিকার দুর্গতি- ফিরেও সে যদি চায়

ভাবিয়া বিশাখ ভনে।  

শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩

ছেলেটা চাঁদ দেখে

 

তুমি বললে এই চাঁদ দেখে অন্তত অনন্ত প্রহর 

দুনিয়া বরবাদ করে তিরতির করে ডোবা যায়

গভীর হতে গভীরতম উদাস নৈঃশব্দ নেশায়। 

আমি বললাম, বটে, আমার যে বড় ভয়, ছলাৎ

করে বুকের পিণ্ড কাঁপে, এযে দু’বিন্দু প্রেম মেশায়

মদির পাত্রে- ওতে আমার জন্ম জন্ম সংকোচ,

জন্ম জন্মের অপূরণীয় তৃষা যেন আড়মোড়া দেয়,

ঘুম ভাঙে। অথচ আমি চাই সে ঘুমিয়ে থাক। 


ছেলেটা চাঁদ দেখে। 

মধ্যগগন থেকে জানালা অবধি দেখে, চাঁদ আসে-

চাঁদ গায়। চাঁদ ওঠে, চাঁদ যায়। 

বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩

কি দেখাব পাপড়ি খুলে?

 

অনুভূতি গুলো সাঁঝের নির্মাল্য হয়ে যদি বাসি হয়-

তবে কোন নদীজলে ভাসাব হয়ত, পায়ে তো দলতে পারিনে! 

শুকিয়ে মরতে ভয় নেই বঁধু, বড় ভয় পরহস্তে বৃন্তচ্যুত হতে, 

অথচ আজও কি হতে কি হলেম, বৃত্তান্ত একবিন্দু জানিনে। 

শুধু জানি আছি কোন রকম, একটি কোনায়, স্বলব্ধ একাকীত্বে-

দিয়ে ‘অবকাশ’ নাম, প্রাণটি ধরে লক্ষ দ্বিধায়। 'বাঁচিনে' -

এমন নিত্য মিথ্যা ভাষণে পুঁজি করে কবিতায়, নিযুত সত্যে-

যত্নে লুকোই- পাছে মধুপ আসে, না নেয় পরাগ অন্য কোন ফুলে। 


কি দেখাব পাপড়ি খুলে? 

বুধবার, ২২ মার্চ, ২০২৩

বিদ্রোহের অগ্নিকর


বিদ্রোহের অগ্নিকর স্নাত শান্ত বিবস্বান,

অখন্ড-ভারত-ঋষি, অমর হে, মহাপ্রাণ-

দিয়ে গেলে স্বদেশযজ্ঞে, অন্তিম নিশ্বাস 

জননীর ক্রোড়ে, দুখিনীর নিঃস্ব সন্তান

সবে দিতে হয়ত এক বিঘৎ মুক্ত করে-

ধরিত্রীর বিরাট আকাশ; তুমি ক্রুশবিদ্ধ

হও বারেবার, কর অনন্ত রক্তগঙ্গাস্নান। 


শুভ জন্মদিন,

ধূলিকণার লহো প্রণাম।

 

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০২৩

হে আমার দুরন্ত

 

হে আমার দুরন্ত,

প্রখর রোদ্দুর ছেয়ে জলদ ভেসে যে এলে

জুড়াতে অন্তর যদিও এখনো বাকী

তবুও তুমি অভিমানে গেলে। 


বলাকা পাখায় আঁকা চিরকুটের বাণী, 

সে ভাষা বুঝি না যে, সে ভাষা না যে জানি;

প্রমোদ স্বপ্ন ঘোরে, বৃষ্টিস্নাত ভোরে

আভাস জাগে অঝর জল ঢেলে। 

জুড়াতে অন্তর যদিও এখনো বাকী

তবুও তুমি অভিমানে গেলে। 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...