সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩

কত আর দ্বার দিয়ে রই

 

কত আর দ্বার দিয়ে রই, 

চোরের কর্ম চুরি করা, 

যদি দিয়ে দিস মা অভয়পদ

নিত্যধনে রতেম ভরা! 


ওমা, 

এ অন্তর পুড়িয়ে ভবে, 

সুবাস কিছু উঠল তবে, 

ফাঁদ পেতেছে, সিঁধ কেটেছে, 

রাত্রে ভাঙে খিড়কি কড়া! 


মাগো, 

যা যা ছিল আমার বলে, 

একে একে চরণতলে

নে মা টেনে, তনয় জেনে

বিশাখ ভনে- দুঃখহরা! 


১৬-১০-২০২৩ 




শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

প্রতিষ্ঠা

 

আজকাল আমার-

কেবলই আমার বড় বেশী প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন, 

খুব বড়, সর্বোচ্চতম প্রতিষ্ঠা- প্রস্তরভাস্কর্য-

হব ভাবি, নইলে এ জীবদ্দশা আত্মহনন-

এমন এক বৈকল্যদর্শনে কৈবল্যলাভ মানি;

এ বড় অদ্ভুত বাসনা, এ বাসনা অত্যাশ্চর্য! 

শুধু আমারই এমন কিছু চাই। আমি জানি-

বাকী জগত নির্মোহ, শত্রু-মিত্র সব যোগে

আরূঢ় দেখি, একা আমি মহাপামর পতিত-

এ মহীতলে, তাই আমায় উঠে দাঁড়াতে হবে, 

নগরাজের মতন, মৈনাক হলে নাক কেটে

জলের অতলে যাব, এমন শঙ্কা আহত করে

কবিতা ও গানের কলির গভীরে তীক্ষ্ণ শরে-

শোণিততপ্ত মেদমাংস মজ্জা হৃদয়ে, কাতরায়

নিরালম্ব মানব পরিচয়, এ বড় বিচিত্র বেদন; 

এ এক নিষ্ফল প্রলাপমালা অকালে শুকোয়। 

এবং আমি জানি, এ বিমূঢ় আত্মায় একাকী-

ফেরে শত জন্মক্লান্ত খিন্ন পিয়াস, রক্ত আঁখি-

আমার রাত্রি জেগে, ঘাটেঘাটে দুঃখ বিকোয়!

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৩

অনু-প্রেরণা

 

অনু-প্রেরণায় ভেসে যায় গোটা দেশ

রাকেশ রোশান পালিয়ে বেঁচেছে চাঁদে! 

আমরা রয়েছি কোন ক্রমে ঠারেঠোরে, 

নচেৎ, বাঙালী-জনমে রবিও-

নিভৃতে কাঁদে! 

শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৩

হাঁটছি

 

হাঁটছি। 


অনেক আগে থেকে

অবিশ্রান্ত। 

কবিতার মত গুরুত্বশুন্য

একাকীত্ব বিলাসে,

অভ্রান্ত- 

অলীকতার দেশে। 

আমি হাঁটছি। 


ফুলের মালায় বিস্বাদ,

ভরে না উদর, 

জোটে না ঘর- 

বনচারী কুরঙ্গের। 

প্রশংসার উছল বাণী

নিরর্থক মরম-ভঙ্গের-

কাছে সর্বশেষে। 


এই উদ্ভ্রান্ত অলীকতার দেশে

আমি হাঁটছি।

শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৩

কালকূট

 

হয়ত বা এর কোন মানে নেই

যেটুকু হয়েছে বলা, 

মানে ছিল কিছু ওসবের মাঝে

লিখে লিখে মুছে ফেলা-

যত হিজিবিজি কথা রাতদিন। 


চোখের ওপারে দূরবীন-

কার চোখে ধরা, অদেখার সাধে- 

বুক বাঁধা, যেন তানপুরা; 

ঘন বরষায় প্রিয় মল্লারে কাঁদে

নিষাদে বিষাদে সুরা- 

হীনা-সাকী, পানশালা-ঘরে একা, 

এখনো মেলেনি দেখা। 


মন্দ্র-মিনতি অকরুণ যেন ফেরে

সঘন-বাতাসে, ওড়ে কত চিরকুট, 

চোখের পলকে ঘূর্ণির মত ঘেরে

ঘনায় ভেতরে মন্থনশেষ কালকূট! 

বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩

এইখানে থামো

 

সুতরাং এইখানে থামো। 


এই পিপুলের পাদদেশে 

বোসো তবে একটু খন, 

বিলোল বাতাসে, পাতো কান, 

শোনো বিহগ-কূজন, কলগান-

শীর্ণা তটিনীর জলে। 


পথিক, 

পথশ্রমে শ্রান্ত হলে। 

হে দেব, এইখানে থামো।

নিরালম্ব অনিকেত হে, আশ্রয়- 

নাও, বিশ্রাম কর, দেখ স্বপনসম

জাগরণ নিমিখে যাবে কেটে। 


এই তরুবরশাখে, 

এই মহিমদ্রুম-আলয়ে নীড়

গড়েছে আরো কত প্রলয়বায়ে

গত অচীন পাখীর প্রাণ। 


বাতাসে পাতো কান।। 

রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৩

আঁধার নামতে বাকী


এই নষ্টনীড়ে এসেছে উড়ে পাখী। 

দিগ্বলয়-দূর ঝিমায় বিধুর সুরে, 

-     আঁধার নামতে বাকী।

ডানায় তার, মেঘের ভার ক্রন্দন

বজ্রাহূত আলোকাহত চোখে- 

ছিঁড়েছে সীমা, স্বগৃহ-সুখ-বন্ধন, 

পেয়ালা-সুরা-সাকী। 

-     আঁধার নামতে বাকী। 

গানের তরী পসরা ভরি ফেরে

তটে তটে, ঘাটে ঘাটে; 

পালের বায় ভাটায় গেল ছেড়ে, 

নোঙ্গর নামে পঙ্কপাটে। 

ওখানে দু-দশ অর্বুদ বছর যেন

নিমিষে দেয় ফাঁকি

-     আঁধার নামতে বাকী। 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...