বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৪

তাচ্চেয়ে এ যে স্বর্গসমান

 

পরজনমে জলপিপি হব, 

ময়ুর হয়ে যদি খাঁচায় থাকি— 

তাচ্চেয়ে এ যে স্বর্গসমান! 


আকাশ আঁধার করে বরষা এলে 

উদ্ভিন্ন পঙ্খযুগল মেলে কচুরিপানা-দলে 

না হয় হবে মহোল্লাসে পতঙ্গ সন্ধান।

কি সুখ বল খাঁচার মাঝে পেখম খুলে- 

নেচে? তাচ্চেয়ে এ সে স্বর্গসমান! 


এ স্বর্গ মেলেনি তো পরের দ্বারে যেচে। 

কি সুখ বল খাঁচার মাঝে পেখম খুলে নেচে?


শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

পাগল ডাকলে হয়ত পাগলেও কষ্ট পায়!

 

কথা ছিল ঝমঝম বর্ষা নামলে উজ্জ্বলের টিনের চালা ঘরে আমি একরাত্রি থাকব। ভেজা ঘাস মাটির সোঁদা গন্ধে মাতাল ঝিঁঝিঁর কলরবে পেতে কান উদাসী হয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকব কখনো দিগন্তে মুখ করে। গরম ভাতে উজানি-কৈ এর ঝোলে আত্মনিবেদন শেষে যদি আসে ঘুম সে রাতে গল্পের আবিলতায় ঢলে পড়তাম ধীরে ধীরে পালঙ্কের পায়া ঘেঁষে। কিন্তু উজ্জ্বলও আমারই দেয়া পাথুরে-পরামর্শ-পথে উঠে গেছে ইটের চৌকো ঘরে যেখানে আর টিনের চালা নেই! শাওন আকাশ ভেঙে নেমে সকরুণ সুর ধরে কাঁদলেও সেই ঝমঝমে ধ্বনি আর উঠবে না ওখানে। সকল টিনের চালা, বেড়ার ঘের, খড়ের গাদা ধীরেধীরে সরে যাচ্ছে। কিছুই আর আমার উচ্ছন্ন বিলাসিতার জন্য থমকে রইল না। অথচ আমি নিজেকে যেন জোর করে বলতে চাই- আমি এক বিন্দু দায়ী নই! আমি এঁটেল মাটির মতন থাকতে চেয়েও ইট ভাটার উনুনে ঢুকে সুদৃঢ়তর অস্তিত্ব খুঁজতে কি চাইনি বুঝি? তবু কোথাও ভাটার টানে জাগা খালের তীরের মতন আমি কাদা হয়ে কেঁদে যাই গভীরে। দ্বিচারিতা নয়, এ যে কেমন অসহায়ত্ব এ কথা বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে স্বস্তি পাই যেন। এসব লেখার নয়, গাইবার নয়, জনে জনে জানাবার নয়, বোঝাবার নয়। পাছে লোকে পাগল ভাবে। যেন পাগল অত্যন্ত পতিত কিছুর নাম! পাগল ডাকলে হয়ত পাগলেও কষ্ট পায়! 

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪

করুণা ভিক্ষা

 

অকরুণ অরুণ কর খর তাপ

বহে ভুবনে, আমি আতুর তৃষিত হে;

শীতল কর স্নেহকর পরশনে

নিখিলজননী। 


পুত্র তব নিভৃতে নিরয়পথগামী হে, 

পাপ নিমজ্জিত কলুষক্লেষ-ক্লান্ত, 

ক্রোড়ে নাও, দিবস অবসানে

ভুবনপাবনী। 

রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

সকাল হবে

 

সকাল হবে... 

সহস্রাব্দকাল নিভৃত রাত্রির পর

একদিন...

সকাল হবে... 


খরাজে, মন্দ্র-মধ্যমে লহরী তুলে

বিনিদ্র মালবকৌশিক চুপচাপ শ্রান্ত হলে... 

একদিন.. 

অকস্মাৎ, সহসাই সকাল হবে...

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

স্নান

 

অক্লান্ত অলস দ্বিপ্রহরে ধানেশ্রীর পাংশু সুর,

রৌদ্রলিপ্ত, পুরানো আবাস ঘিরে যোজন দূর-

দেশী-আকাশ হতে নামে বিমূর্ত বীণা বেয়ে, 

ঐকান্তিকে, নিত্য নিরাশ্রয় হৃদয়কুঞ্জ ছেয়ে। 


ত্রিতাপদগ্ধ করে স্নান। 

বুধবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪

কলিকাতা

 

কলিকাতা। 



একদা সন্ধ্যা নামিলে যখন বেনেরা ভিড়িল ঘাটে, 

কর্দমঘ্রাণে আমোদ আদুল গেঁয়োরা ফিরিল বাটে- 

রোশনাই আসি মাটির প্রদীপে বর্ষিল অবহেলা, 

কোঁচার আধুলি ধুলায় ছুঁড়িয়া নটের নাট্যশালা- 

বেনেরা করিল জয়, এ নগর তার পরিচয়বাহী- 

কবিকুলে কিছু নয়। 


 

ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪। 

রাত ১টা ২৫। 

বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪

ফেনিল স্বপ্ন

 

দুখের সায়রে ফেনিল স্বপ্ন 

তীরে তীরে করে ভীড় 

ঝড়ের বাতাসে কাঁপে যেন কার

পরদেশে বোনা নীড়।। 


পাখীদেরও যেন থেমে গেছে গান, 

বেণুর বাদনে কাঁদে যেন প্রাণ, 

চোখের কোটরে নিমগ্ন ব্যথা

জলের প্লাবন থির।। 


অসময়ে যেন এসেছে বরষা, 

আকাশের মেঘ উতল সহসা, 

ফুলের কোরকে আভাস জেগেছে

তটভাঙা জলধির।। 


২৫ জানুয়ারি, ২০২৪। 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...