বঁধু হে, সঘন-অম্বর, সম্বর ক্ষণকাল-
এখনি যেয়ো না ফিরে, ঝড়ো বায়ু বিকরাল।
দুকূলে তিমির হেরি, খেয়াঘাটে নাই তরী;
দশ দিক গ্রাস করি- শ্রাবণের মায়াজাল-
নামে ঐ ডমরু ডক্কারে, বনে বনান্তরে-
পরবত, পাথারে, অশান্ত অন্তরে, ক্ষুব্ধ, ভয়াল!
যা মনে আসে লিখি। ভাল লাগলেও লিখি, না লাগলেও লিখি। কারো ভাল লাগা না লাগার ওপর আমার কোন ঔৎসুক্য বা অভিমান নেই!
বঁধু হে, সঘন-অম্বর, সম্বর ক্ষণকাল-
এখনি যেয়ো না ফিরে, ঝড়ো বায়ু বিকরাল।
দুকূলে তিমির হেরি, খেয়াঘাটে নাই তরী;
দশ দিক গ্রাস করি- শ্রাবণের মায়াজাল-
নামে ঐ ডমরু ডক্কারে, বনে বনান্তরে-
পরবত, পাথারে, অশান্ত অন্তরে, ক্ষুব্ধ, ভয়াল!
অযুত দুরিতভারে চলিতে না পারি আর!
শতধারে দুখধারা বহে আঁখি অনিবার।।
প্রতি পলে কত ছলে প্রপঞ্চে পরাভূত,
নাহি দয়া মহামায়া, হেরিয়া পতিত সুত;
হয়েছে বিষয়ব্যাধি, কে করিবে প্রতিকার?
অনঙ্গ অঙ্গার সম, জ্বলিছে অঙ্গে মম,
অপাঙ্গে রক্ষ মম, শ্রীপদে দিয়াছি ভার!
পরে মাগো শরাসনে, কাতরে বিশাখ ভনে,
শবাসনা শেষক্ষণে কোলে কি নিবিনা আর?
১৭ জুলাই, ২০২৫।
বুঝি আর আমাকে দিয়ে হবে না কিছুই।
অসময়ে, অনাহুত, অতি অনভিপ্রেত জানি,
সমস্ত বিবাদী উষ্মার অন্তরালে হারিয়ে যাব
আমার এ যাবৎ যতনে গড়া সুরের ভুবন সহ।
ছত্রাকের মতন গজিয়ে ওঠা আমার অস্তিত্বটুকু!
স্যাঁতসেঁতে কমনীয়তায় প্রখর রোদের ভয় মেখে
দ্ব্যর্থহীন জীবনাতিপাত ভিন্ন আর হবে না কিছুই;
অল্প অল্প করে বিশুষ্কতার ছোঁয়ার যাব ক্ষয়ে।
অলীক, অবান্তর, যত অবাস্তব নিঃসীম মতিভ্রমিত
কবিত্ব-প্রলাপ, অপলাপ- নেশায় গিলে রাত্রিদিন-
কত দূরে, অনিকেত- আমি ধীরে আঁধারে মেলাব,
লক্ষজনম-সঞ্চিত অজ্ঞাতসাধনধন নীরবে বয়ে।
বিলক্ষণ জানি- আর আমাকে দিয়ে হবে না কিছুই।
শিখার নীচে তেলচিটে কালচে ইতিহাস হয়ে আছি
শেষাবধি: আলোর অন্তরালে আত্ম-মোক্ষণ ভেবে
স্বেচ্ছা নির্বাসনে বক্ষব্যাধি যুগব্যাপী সাধি মূর্খপ্রায়!
এখন করুণা হয় প্রতিভার মৃত্যুশয্যা দেখে অহরহ,
অপঘাতে মৃত গানের বাণী কাঁদে, আমি নিরূপায়।
অথবা একদিন বড় সাধ করে টুপ করে ডুবে যাব
অনন্তের জনস্রোতে। তার বেশী হবে না কিছুই।
আমি কখনো চাইনি যদিও আরো বেশী কিছু হোক-
কেবল অল্প কিছু কথার স্ফুরণ ছাড়া! কিছু কথা
যা না বলা রয়ে গেলে- মনে করি আমি বঞ্চিত হই,
মনে করি আমার মতন অর্বাচীন আরো আছে যারা
সবার একটি ধ্বজা ধরার দায় আমি কাঁধে বই -
না হয় স্বার্থবুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে- ইদানীং আলুনি লাগে!
এখন কেবল বিস্বাদ, অবসাদ, ঋষভ-ধৈবত-নিষাদ
সব, সব আমার গ্রাস করে নেয়।
এত কিছু ঘটার পর,
এত সব দেখার পর,
এত রক্ত ঝরার পর
যারা আজও চোখে বিষ্ঠা লেপে আছে-
তারাও মানুষ! - এটাই কষ্ট!
অন্ধও আঁচ করে সামনে বিপদ,
বধির অধীর হয়ে থাকে যদি কিছু অস্পষ্ট শোনে,
তবু যারা সর্বার্থে সবলেন্দ্রিয় তারা ভাগাড়ে
মরা পশুর মতন কেন শুয়ে আছে? - এটাই কষ্ট!
তারা কেন বলে না কিছুই,
তারা কেন লেখে না কিছুই,
দেখে না কোন কিছুই যখন সত্য ন্যাংটো নাচে চোখের সামনে:
তার শিশ্ন উদ্যত মারণাস্ত্রের মত, সপাট, সঙিন-
অস্তিত্বের সকল রন্ধ্রে সে রেতঃপাত করে,
বিষের ফোয়ারা ছোটে, রক্তে রঙিন-
এরই মাঝে যারা গান্ধারীর সঙ ধরে- তারাও মানুষ-
এটাই কষ্ট!
এত নষ্টত্ব গ্রাস করার পর,
এত ধ্বজভঙ্গ ক্লীবত্ব পেঁচিয়ে ধরার পর,
প্রতিদিন তিলে তিলে মরার পর
আজও যারা মিথ্যে বলে ললিতকলায় ভরে অষ্টপ্রহর
তারাও মানুষ- এরাও মানুষ- এও যে কষ্ট!
সগুণা নির্গুণা তারা, মা, লীলাময়ী, হরদারা,
রে, ব্রহ্মরূপা পরাৎপরা, কালী, কালবারিণী।।
'ত্বয়ৈব ধার্যতে সর্বং ত্বয়ৈতৎ সৃজ্যতে জগৎ।’
জেনেছি মরতভূমে তুমি গো অক্ষয় সম্পদ!
তনয়ে তার গো শিবে, অশিবক্লেশহারিণী।।
রে, ব্রহ্মময়ী পরাৎপরা, কালী, কালবারিণী।।
বিপন্নে বিতর দয়া, গো জগন্মাতা, মহামায়া,
তাপিতে বিতর ছায়া, মাগো ভবার্ণবতারিণী।।
রে, ব্রহ্মময়ী পরাৎপরা, কালী, কালবারিণী।।
অনন্ত অসুখ-ক্লিষ্ট, ওরে বিশাখ নিরয়ে দৃষ্ট,
মা হয়ে কি অচেষ্ট! বলি অদৃষ্টরে দোষদুষ্ট!
কুপুত্রে জনম দিয়ে, গো ত্যাজিলে কি জননী?
রে, ব্রহ্মময়ী পরাৎপরা, কালী, কালবারিণী।।
তবে অধীর খেদিয়ে পাঠান আনলে
বধির অবোধ নালায়েকদল!
মুর্শিদ বাদে, মুরীদ আবাদে নাজেহাল,
বেসামাল নড়ে ধর্মের কল!
আর কত বল পালিয়ে বেড়াবে
খাল-বিল-ঝিল ঝোপ-ঝাড় ছেড়ে
এদিকে ওদিকে বেওকুফ?
মসনদে যারে চড়িয়েছ মহাসুখে
সে যদি করেছে শত খুন আরও মওকুফ
তবুও থাকবে চুপ?
তোমাদের চোখে ঘুম লেগে গেছে।
নলখাগড়ার ওপাড়ে কিছু শেয়ালের চোখ জ্বলে।
আমি স্পষ্ট দেখতে পারি।
বাঘের ভয় ডিঙিয়ে বটে, অদ্য শেয়ালের ডেরায়-
যত অবিমৃষ্যকারী- দিব্যি শুয়ে আছ সদলবলে-
মেয়ে-মদ্দ, বলি হারি! তাও এ সংকটে?
দ্যাখো, মশালে তেল ফুরালো বলে!
নিত্য আত্ম-কোন্দলে ক্লান্ত দেহ নড়ে না আর।
অবহেলে শ্বাপদ-সংকুলে-
এদিকে সুর্য গেল ডুবে। চৌদিকে মস্ত আঁধার-
পছিমে-পুবে হা করে গিলতে বসেছে নিকট ভবিষ্যৎ;
চরাচরে পরাৎপর বিকট বিপদ!
অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...