বিফল সাধনে যায় দিবস যামিনী হায়!
বিরলে কথামালা বিলোল সুর ঢালা
সঘনসম গায়- শ্রাবণ চাঁদের গায়।।
নওল তাল জাগে সোহাগে অনুরাগে
পাপিয়া-কূজিত বনে ঝড়ের দোলা লাগে,
তিমিরে ঘেরে রাতি, নয়নে নাহি ভাতি-
গরজে পবন ঘোর, বিজুরী চমকায়।।
যা মনে আসে লিখি। ভাল লাগলেও লিখি, না লাগলেও লিখি। কারো ভাল লাগা না লাগার ওপর আমার কোন ঔৎসুক্য বা অভিমান নেই!
বিফল সাধনে যায় দিবস যামিনী হায়!
বিরলে কথামালা বিলোল সুর ঢালা
সঘনসম গায়- শ্রাবণ চাঁদের গায়।।
নওল তাল জাগে সোহাগে অনুরাগে
পাপিয়া-কূজিত বনে ঝড়ের দোলা লাগে,
তিমিরে ঘেরে রাতি, নয়নে নাহি ভাতি-
গরজে পবন ঘোর, বিজুরী চমকায়।।
যাও গিরি গিরিজা আনো ত্বরা।
না দেখি সে বিধুমুখী অধোমুখে আছে ধরা!
কহিয়ো কৈলাশেশ্বরে, মাত্র তিনরাত্রি তরে,
রহিবে ধরণীপরে, দশমীতে হবে ফেরা!
সকলে কাতর হল, ঐ বুঝি উমা এলো,
আগমনী গায় সবে, আসিবে নয়নতারা!
ষড়াননে গজাননে কমলা ভারতী সনে
পুলকে বিশাখে ভনে- হেরিব ভবদারা!
বঁধু হে, সঘন-অম্বর, সম্বর ক্ষণকাল-
এখনি যেয়ো না ফিরে, ঝড়ো বায়ু বিকরাল।
দুকূলে তিমির হেরি, খেয়াঘাটে নাই তরী;
দশ দিক গ্রাস করি- শ্রাবণের মায়াজাল-
নামে ঐ ডমরু ডক্কারে, বনে বনান্তরে-
পরবত, পাথারে, অশান্ত অন্তরে, ক্ষুব্ধ, ভয়াল!
অযুত দুরিতভারে চলিতে না পারি আর!
শতধারে দুখধারা বহে আঁখি অনিবার।।
প্রতি পলে কত ছলে প্রপঞ্চে পরাভূত,
নাহি দয়া মহামায়া, হেরিয়া পতিত সুত;
হয়েছে বিষয়ব্যাধি, কে করিবে প্রতিকার?
অনঙ্গ অঙ্গার সম, জ্বলিছে অঙ্গে মম,
অপাঙ্গে রক্ষ মম, শ্রীপদে দিয়াছি ভার!
পরে মাগো শরাসনে, কাতরে বিশাখ ভনে,
শবাসনা শেষক্ষণে কোলে কি নিবিনা আর?
১৭ জুলাই, ২০২৫।
বুঝি আর আমাকে দিয়ে হবে না কিছুই।
অসময়ে, অনাহুত, অতি অনভিপ্রেত জানি,
সমস্ত বিবাদী উষ্মার অন্তরালে হারিয়ে যাব
আমার এ যাবৎ যতনে গড়া সুরের ভুবন সহ।
ছত্রাকের মতন গজিয়ে ওঠা আমার অস্তিত্বটুকু!
স্যাঁতসেঁতে কমনীয়তায় প্রখর রোদের ভয় মেখে
দ্ব্যর্থহীন জীবনাতিপাত ভিন্ন আর হবে না কিছুই;
অল্প অল্প করে বিশুষ্কতার ছোঁয়ার যাব ক্ষয়ে।
অলীক, অবান্তর, যত অবাস্তব নিঃসীম মতিভ্রমিত
কবিত্ব-প্রলাপ, অপলাপ- নেশায় গিলে রাত্রিদিন-
কত দূরে, অনিকেত- আমি ধীরে আঁধারে মেলাব,
লক্ষজনম-সঞ্চিত অজ্ঞাতসাধনধন নীরবে বয়ে।
বিলক্ষণ জানি- আর আমাকে দিয়ে হবে না কিছুই।
শিখার নীচে তেলচিটে কালচে ইতিহাস হয়ে আছি
শেষাবধি: আলোর অন্তরালে আত্ম-মোক্ষণ ভেবে
স্বেচ্ছা নির্বাসনে বক্ষব্যাধি যুগব্যাপী সাধি মূর্খপ্রায়!
এখন করুণা হয় প্রতিভার মৃত্যুশয্যা দেখে অহরহ,
অপঘাতে মৃত গানের বাণী কাঁদে, আমি নিরূপায়।
অথবা একদিন বড় সাধ করে টুপ করে ডুবে যাব
অনন্তের জনস্রোতে। তার বেশী হবে না কিছুই।
আমি কখনো চাইনি যদিও আরো বেশী কিছু হোক-
কেবল অল্প কিছু কথার স্ফুরণ ছাড়া! কিছু কথা
যা না বলা রয়ে গেলে- মনে করি আমি বঞ্চিত হই,
মনে করি আমার মতন অর্বাচীন আরো আছে যারা
সবার একটি ধ্বজা ধরার দায় আমি কাঁধে বই -
না হয় স্বার্থবুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে- ইদানীং আলুনি লাগে!
এখন কেবল বিস্বাদ, অবসাদ, ঋষভ-ধৈবত-নিষাদ
সব, সব আমার গ্রাস করে নেয়।
এত কিছু ঘটার পর,
এত সব দেখার পর,
এত রক্ত ঝরার পর
যারা আজও চোখে বিষ্ঠা লেপে আছে-
তারাও মানুষ! - এটাই কষ্ট!
অন্ধও আঁচ করে সামনে বিপদ,
বধির অধীর হয়ে থাকে যদি কিছু অস্পষ্ট শোনে,
তবু যারা সর্বার্থে সবলেন্দ্রিয় তারা ভাগাড়ে
মরা পশুর মতন কেন শুয়ে আছে? - এটাই কষ্ট!
তারা কেন বলে না কিছুই,
তারা কেন লেখে না কিছুই,
দেখে না কোন কিছুই যখন সত্য ন্যাংটো নাচে চোখের সামনে:
তার শিশ্ন উদ্যত মারণাস্ত্রের মত, সপাট, সঙিন-
অস্তিত্বের সকল রন্ধ্রে সে রেতঃপাত করে,
বিষের ফোয়ারা ছোটে, রক্তে রঙিন-
এরই মাঝে যারা গান্ধারীর সঙ ধরে- তারাও মানুষ-
এটাই কষ্ট!
এত নষ্টত্ব গ্রাস করার পর,
এত ধ্বজভঙ্গ ক্লীবত্ব পেঁচিয়ে ধরার পর,
প্রতিদিন তিলে তিলে মরার পর
আজও যারা মিথ্যে বলে ললিতকলায় ভরে অষ্টপ্রহর
তারাও মানুষ- এরাও মানুষ- এও যে কষ্ট!
অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...