বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০১৬

প্রেমের সম্মান

বিরাট ব্যাপৃত বিলোক বিধুর শূণ্যতার মাঝে
আমার তিলার্ধ পরিমাণ বেঁচে থাকার মানে বোঝ?
বোঝ কি এই তলাতলহীন অসম্প্রজ্ঞাত অস্তিত্বের ভেতর
কার মুখাপেক্ষী বেদনা-সন্দর্ভ আকাশ-আকাশের ভাঁজে
বাষ্প হয়ে জমে ও একদিন সরিতা সেইসব বুকে টেনে নেয়?
জানো কি আমার আকর্ণবিস্তৃত আত্মপ্রকাশে কিছু কথা গুপ্ত থাকে,
কিছু গুমোট আচ্ছাদন মেঘের মতন জাগে, আঁধারের পর-
নিরঙ্কুশ আঁধার সেখানে করে ভিড়! কৃষ্ণ-কুন্তলা এই আঁধারের
সাতপাকে আমাকে ছুঁয়ে দেখ- কত অশান্ত, অধীর- হয়েও
মন্দরের মতন অকম্প হয়ে ঠাঁই উদাস আমি সহস্রবছর!

চুরাশি-লক্ষ বার আমাকে দেখে যেয়ো, আমি এভাবে অপেক্ষমান;
জন্মান্তরের গ্রন্থিচ্ছেদে নতুন জন্মে কোটিজন্ম ব্যবধান- আমাদের
মুছে যাবে হয়তো বা, নতুবা কেন যেন মনে হয় এ জন্মে দুইজন
আত্মঘাতী হব! বল এই আশংকা কি একেবারে ফেলে দেয়া যাবে?
হৃদয় ও হৃদয়ের শর্তহীন সংযোজন- যে রাজ্যে জুগুপ্সার হেতু,
না হয় সেখানে না-ই বা বাঁচি অনন্ত সময়!

এত বার বুক ভেসে গেলেও যদি এ তৃষ্ণা মেটার নয়,
এত ক্ষিপ্রতায় ডানা ঝাপটে গেলেও যদি দিগন্ত থাকে নিরবে অচল,
তবে চলো, হাত ধরো, এভাবে না মরলে কবে-
বলো, কোন কালে কে পেয়েছে প্রেমের সম্মান?

The Last Ride Together - অনুবাদ (১)

The Last Ride Together

- Robert Browning


I SAID—Then, dearest, since ’tis so,
Since now at length my fate I know,
Since nothing all my love avails,
Since all, my life seem’d meant for, fails,
  Since this was written and needs must be—     
My whole heart rises up to bless
Your name in pride and thankfulness!
Take back the hope you gave,—I claim
Only a memory of the same,
—And this beside, if you will not blame;         
  Your leave for one more last ride with me.

- 1st Stanza

আমি বললাম,
অতঃপর, প্রিয়তমা, যেহেতু এমনই হল,
যেহেতু আমি জানি কেমনতর ভাগ্য আমার,
যেহেতু আমার ভালবাসা বিফল শূণ্যতার,
যেহেতু জীবনের মানে শুধু ব্যর্থ প্রতিচ্ছবি,
আমি জানি, এমনই লেখা ছিল, অবশ্যম্ভাবী!
তবুও তোমার নামে হৃদয়ের পূর্ণ আশির্বাদ-
আমার গৌরব তুমি গো প্রিয়া, তাই ধন্যবাদ
(জানালা্ম কৃতজ্ঞতা ভরে......)।
সব আশা নিয়ে যেয়ো, শুধু স্মৃতিগুলো রেখো;
যদি দোষাবহ না হয় কিছু, তবে প্রিয়া দেখো
কেন নয়- কেবলই আরেকবার একসাথে চলি?
_____________________


১ম স্তবকের অনুবাদ সমাপ্ত।

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১৬

অবিমিশ্রতা


ঈশ্বর নেই এমন একটা সত্যি কথা আমি কবে বলেছি?
ঈশ্বর আছে এমন একটা মিথ্যে কথা আমি কবে বলেছি?
ঈশ্বর আছে এমন একটা অজ্ঞাত, অননুভূত, অননুমেয়
অস্পর্শজাত মূল্যবোধে আমি কবে ডুবতে বলেছি?
ঈশ্বর নেই এমন একটা প্রমাণাতীত বিরুদ্ধবাদী অশান্ত
অপরিসীম সাহসী কথায় আমি কবে তোমাকে বেঁধেছি?
ঈশ্বরীয় ভাবসমুদ্র আর তার অপনৈতিক অস্থিরতার ঢেউ
যখন খান্ডব দহন হয়ে গিলে খাচ্ছিল একটা একটা মাথা,
মানুষের অমর প্রজ্ঞা, বিরাট বুদ্ধি যখন অপদংষ্ট্র বৃত্তবন্দী
তখন আমি শুধু হতাশ হয়েছি!
আমি তোমাকে হতাশ হতে কবে বলেছি?
নাস্তিকতার নামে অত্যুগ্র আস্ফালন, অনর্থক বাচালতা, কুরুচিপূর্ণ বুলি ঝেড়ে
আস্তিকের মুন্ডপাত যখন অস্ফুট প্রগতিবাদ নাম ধরে নিল
তখন আমি আরো হতাশ হয়েছি অনেককিছুই ভেবে।
আমি তোমাকে কবে হতাশ হতে বলেছি?

আমি তো মুক্তচিন্তক নই।
আমার চিন্তারাশি জন্ম থেকেই প্রভাবিত, মাতৃগর্ভেও তাই।
ক্রোমোজোম থেকে ক্রমবিকাশের পথে আমার মাথার তার গুলো
ডিএনের প্যাঁচালো গঠনে আমিও ঘুরপাক খাই তোমারই মতন।
এম্পেরিসিজমের কয়েকপাতার পরে আমিও জানতে পারি
আমি তো জন্তু মাত্র, সেরা প্রাইমেট, আমি তো মুক্তচিন্তক নই।
আমি কবে বলেছি আমি মুক্তচিন্তাবিদ?
এজাতীয় প্রলাপ আমি কখনো করিনি, এখনো করিনা।
কুবুদ্ধিজীবির পাল আজ রাজত্ব করছে আমাদের সমস্ত টকশোতে,
জনসমাবেশে, যাত্রাপালার পর যাত্রাপালা অক্লেশে দেখে যাই,
টিভির বাক্সে, মাঠে-ঘাটে, খোলাকাশে ভরা ময়দানে
শুনে যাই ঝাঁজালো সংলাপ- কান পেকে গেছে!
ভাঁড়ের দল যারা একটা চাষের ষাঁড় সামলাতে অক্ষম
তারা আজ স্বান্ত্রী-মন্ত্রী, হর্তা-কর্তা-ভর্তা, রাক্ষস-খোক্ষস !
পার্লামেন্ট, আইনগৃহ, মন্দির, মসজিদ, কলেজের ক্লাসঘর,
রাজনীতি, রাজকোষ- সব আজ তাদের ভাঁড়ামিতন্ত্রে শাসিত!
দেখে দেখে আমি শুধু ক্ষিপ্ত, তিক্ত, ক্লান্ত হয়েছি নেতিয়ে পড়া কুমড়ো লতার মত
মাচাঙ ছেড়ে মাটিতে পড়েছি লুটিয়ে!।
ধর্ম, অপধর্ম, বিধর্ম, কুধর্ম, ন্যাকা মানবতাবাদের অর্বাচীন প্রলাপ
আমাকে ছুঁড়ে দিয়েছে হলোকাস্টের মুখে
বহুবিধ অবিমিশ্র দুখে আমি আমাকে নিয়েছি ধুয়ে!
____________________________
৭ এপ্রিল, ২০১৫- চেন্নাই।

শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬

জানো বৈকি

ঘুমিয়ে পড় তিনশো পঁয়ষট্টি রাত পেলব সোহাগ,
নিরালম্ব বুকের শ্বাসে অতি আকুল মারু-বেহাগ
আছড়ে পড় তটপ্লাবী বিধুরতা সমেত সজোরে স্বেচ্ছায়!
পরবর্তী কোন দিনে আমার ভবিষ্যতে জীবন কেচ্ছায়
লিখে দিয়ো একরত্তি চুম্বন পেয়েছিল কোন পদ্মফুল
সেদিনের সেই ঝড়ে, উড়েছিল মক্ষিকার পাখা, সাগরের কূল
কূলঙ্কষ কূটকৌশলে লুফেছিল মাধুরী ও মধু যার
আমি তার মরমের মর্মস্থলে বসে বসে কবিতা লিখি!

এভাবে জড়িয়ো ধরো, আবিষ্ট কর বাহুর বেষ্টন।
সায়ন্তনী নয়নের তারাকে কর সুদূরে স্থির, নিরবে অনেকক্ষণ
আমাকে নয়, ভেতরে তোমাকে দেখো, অন্তত একটা রাত
এভাবে থাকো, বাইরে নিস্তরঙ্গা তুমি, ভেতরে জলপ্রপাত
বইতে হবে, বইতে হয়, জানো বৈকি, কি অসুখে সুখাভিনয়
রম্য লাগে; কি বিষে বিষক্ষয়- তবু থাকে অসীমে অজ্ঞাত,
কি অনভিপ্রেত বিরহকে গাইতে হয় মধুরতম রাগে!

জানো বৈকি!

তোমাকে ভালবেসেছি

তোমাকে ভালবেসেছি।
সবচেয়ে কুৎসিত বেদনার নীল পাতাটা খুলেছি।
খুলেছি কলঙ্কের বিস্তৃত অধ্যায়!
আকর্ণবিস্তৃত লাম্পট্যের সুখ, নষ্টামির মন্ত্র,
নোংরামির মুখ হা করে গিলেছি দ্বিধায়
অপরিশ্রুত বিষ, যন্ত্রণার সংবহনতন্ত্র
গড়ে ফেলেছি সমস্ত শরীর!

তোমাকে ভালবেসেছি।
ভালবেসেছি ঘুটঘুটে অন্ধকার।
বিদঘুটে অলীকতায় ডুবেছি জ্বলন্ত লাভায়!
বলেছি "প্রেম শাশ্বত, নিশ্চিত অবিনশ্বর।"
এখন এসব মিথ্যে এসে আমাকে ভাবায়,
"এসব কি ভেবেছিলি বোকাচন্দর!"

তোমাকে ভালবেসেছি।
কলিজা পুড়ে ফেলেছি সিগারেট ফুঁকে!
ফোনের কিপ্যাড থ্যালথ্যালে হয়ে গেছে
আঙুল বিকলাঙ্গ হল- খালি কবিতাই লিখে!
রাত রাত বিধ্বস্ত শয্যার সাথে রচেছি বাসর
আমি শেষ হয়ে গেছি, আমি ছাই হয়ে গেছি
তোমার কাছে কি আর আছে অবসর
এসব শোনার?

তোমাকে ভালবেসেছি।
ভালবেসেছি ধুতুরার রস, ব্রাণ্ডি বোতল নয়!
ভালবেসেছি অনভিপ্রেত উপহাস অপদস্থ হয়ে
ভালবেসেছি দহনকে, ভালবেসেছি অবক্ষয়
মনের নয়, দেহযন্ত্রের!

বিনিময়ে কি পেলাম?
আমি কি পেলাম! সরীসৃপের বিষদন্ত ছাড়া?
কি পেলাম? ফুল? কাঁটা? খোঁচা? খোঁটা?
আর একটা বিষপূর্ণ ধরা?
আর কি?

___________________
ফেব্রুআরি ১৯, ২০১৬।

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬

তবু তুমি যুদ্ধ চেয়ো না

কয়েকটা হত্যা যদি করতে পারতাম অনায়াসে একদিন 
তবে কেনই বা হতাম আত্মহত্যাপ্রবণ? 
কেনই বা মনে হত জীবনটা দুঃসহ! প্রতিদিন দুর্দিন- 
মনে হত কেন? 

নরকে যাবার অনুপুযুক্ত পশুদেরও দিতে হয় সহস্র সালাম 
কুর্ণিশ সসম্ভ্রমে, দিতে হয় আত্মঅহং স্বাভিমান বোধ- 
পিশাচের পায়ের তলায়, নচেৎ বেঁচে থাকা দুষ্কর। 
যদি দু'একটা দানবের মুন্ড ফেলে দিতাম মুত্রত্যাগের স্থানে 
মুত্রত্যাগের মত পরম শান্তিতে, অতিশয় সুখকর- 
শিশ্নটা নেড়ে; তবে কেনই বা চলতে হত হেঁটমুন্ড হয়ে 
শঙ্কিত, কম্পিত, দম্ভহীন প্রাণে ধরণীর পর 
কীট পতঙ্গের চেয়ে নিকৃষ্ট হয়ে? 

কয়েকটা বুকের হাড় যদি চিবোতে পারতাম অক্লেশে 
তবে কি এই আমৃত্যু ক্ষুধার ভার বইতে হত আমার বুকে! 
পায়রার ডানা ছিঁড়ে নেবার মত করে উৎফুল্ল হৃদয়ে 
যদি ছিঁড়ে নিতাম কয়েকটা হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, যকৃত 
ভীমসেনের মত পারমার্থিক সুখে- কয়েকটা দুঃশাসনকে 
যদি দাসত্ব দিতাম পাঞ্চালীর এলোকেশে 
তবে কি এতটা যন্ত্রণা, এতটা সুগভীর ক্ষত 
পেতনা স্বান্তনা? 

কয়েকটা মৃত্যু চাই, 
নয়ত ফুলেরা মরে যাবে, কুঁড়িরা ঝরে যাবে, 
নদীরা সকলে হবে অন্তঃসলিলা। 
কয়েকটা যুদ্ধ চাই 
নয়ত ইন্দ্রপ্রস্থ দিয়ে দাও দুর্যোধনের হাতে 
আর ধরণীকে দিয়ে দাও দুর্যোগের রাতে 
সে ধর্ষিতা হোক, হোক পাশাখেলা, 
রাজবধূ বিবস্ত্রা দরবারে, তবুও যুদ্ধ চেওনা- 
বরং লাঞ্ছিতা হোক ঘরের কুমারী বালা 
পথে ঘাটে মাঠে! 

যদি দু'একটা কীচকের কঠিন স্কন্ধ গুঁড়িয়ে দিতে পারতাম 
বার্লিনের দেয়ালের মত করে, জ্বালিয়ে দিতে পারতাম 
যেভাবে পম্পেই জ্বলেছে সেভাবে 
তবে কি তোমাকে বাঁচতে হত স্তনে ওড়না টেনে, মানুষ হয়েও 
পেতে ভয় অন্য মানুষ দেখে চায়ের দোকানে 
অথবা রাস্তার মোড়ে? 

(পরিমার্জিত রূপ- ১২/৭/১৬)
২৪/৭/১৫

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১৬

কবিরা

কবিরা ভাববে শুধু প্রকৃতি ও প্রেম........
তারা কেন ভাবতে যাবে পতাকা, মানুষ........
ভীষণ ম্যাদাটে হবে এঁটেল মাটির মত ভেজা বর্ষায়........
কবিরা উড়বে তবু, তারা থাক চিরকাল ঘুড়ি ও ফানুস-
হয়ে কল্পলোকের দেশে সুখের আশায়.........
বুঁদ হয়ে, যার নদী যে স্রোতে ভাসায়....
সেখানেই অলীক পোতাশ্রয় সে-ই খুঁজে নেবে......

একটু শান্তির জন্য আরেকটা যুদ্ধ চাই.....
কলমে যদি অসম্ভব, তবে ক্ষতি কি খঞ্জর নিলে....
এ পিঞ্জিরা বায়ুহীন, এ আকাশে ঠাঁই নাই....
এখানে ক্ষতি কি দু দণ্ড সহিংস হলে.....
রণ ডঙ্কায়?.......

দানবেরা, কে শুনেছে ধর্মের বাণী?......

বিপরীত পথ

  বিপরীতে যে পথ- সে বড় সুনিবিড়-  ছায়াঘন- সে গেছে আঁধারে মিলায়ে। নগরে জনস্রোত- অলিগলি- রাজপথ-  সবাই যে মুখো- ঠিক তার বিপরীতে, সান্ধ্যনীড়ে ডাহ...