বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২

যদি কোলে লও

 

আমারে রাখিবে পিছে,

আমারে টানিবে নীচে,

মায়ায় ভুলাবে মিছে,

এতে যদি মাগো প্রীত হও;

আঁখি মুদে আমি মেনে নেব সবই

দিবাশেষে যদি কোলে লও।

 

আঘাতে কাঁদিব আমি,

সকলই ফিরিবে বুক হতে মোর

তোমারি চরণে নমি।

আমি বুকভাঙা কথা কহিব না আর

তুমি কানে কানে যদি কথা কও।

আঁখি মুদে আমি মেনে নেব সবই

দিবাশেষে যদি কোলে লও।

 

বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ, ২০২২

এক রত্তির পাংশু বেদনা

 

বোঝা হয়ে গেছে, নিভে হল ছাই

এখন আমার অফুরান বেলা গাইবার

এক আকাশ শুধু কবিতা চাই।

 

এক রত্তির পাংশু বেদনা রাত্তির

ঘোরে ফেরে, এ তীর ও তীর

চাঁদের আলোয় অমরাবতীর একা

দুম করে হল দেখা

তখনি মেঘেরা ঘেরে।

এক রত্তির পাংশু বেদনা রাত্তির

ঘোরে ফেরে

আমার এক রত্তির পাংশু বেদনা

 

এখন আমার অফুরান বেলা চাইবার

ভেবে ভেবে যেন চমকে যাই

এখন আমার অফুরান বেলা গাইবার

এক আকাশ আমি কবিতা চাই।

 

 

 

বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২

ক্রমশ

 

ক্রমশ হতেছি ক্ষয়, ক্রমশ হতেছে ভয়,

ক্রমশ আঁধার এসে কানেকানে কথা কয়।

 

ক্রমশ মরম মরে, ক্রমশ পাঁপড়ি ঝরে,

ক্রমশ নয়ন ক্ষরে, দীন-দেহ কত সয়?

 

ক্রমশ তলিয়ে যাই, ক্রমশ গরল খাই,

ক্রমশ কিছুই নাই, ক্রমশ হতেছি লয়।

 

ক্রমশ অসুখ বশে, ক্রমশ শমন ত্রাসে

ক্রমশ সকল আশে ডুবেছে ভুবন-ত্রয়!

 

ক্রমশ অনলদাহে আরও যে পরাণ চাহে,

ক্রমশ জেনেছি শুধু, ‘আমি-আমি’ কেহ নয়!

 

 

সোমবার, ৭ মার্চ, ২০২২

মানুষ

 

মানুষের মনে আঁধার ঘনায়,

মানুষের মনে সন্দ’!

মানুষের ঘায়ে ব্যথিত মানুষ,

মানুষের বুকে দ্বন্দ্ব!

 

মানুষ এনেছে কত কত পুঁথি,

মানুষ লিখেছে লাখ কোটি রীতি,

মানুষ হিংস্র মানুষেরই প্রতি,

মানুষেতে ভাল মন্দ!

 

মানুষ গড়েছে বধির দেবতা,

দেবতার পায়ে বলি স্বাধীনতা

মানুষ দিয়েছে, মানুষের ব্যাথা

ভেজা রক্তের গন্ধ!

 

 

 

 

 

 

 

 

রবিবার, ৬ মার্চ, ২০২২

এখন কোথা যাই?

 

বাউলা, দুনিয়া ছানিয়া দেখি দোসর কেহ নাই!

প্রাণ বাঁধি আর গান বাঁধি সব নিজেরে শোনাই!

 

জনে জনে কইতে নারি, কিসে বোঝা হৈল ভারী,

কোন ঘাটে লাগাব তরী, আমি কোন উজানে বাই!

 

যার ভাল সে বুঝুক বটে, আখেরে বিশাখে রটে

আমি ম’লাম এসে এ সংকটে, এখন কোথা যাই?

 

শনিবার, ৫ মার্চ, ২০২২

‘মানুষ’

 

নির্নিমিখ রাত্রিদিন, যেন চেয়ে আছি নিষ্প্রভ নক্ষত্রের দ্বার খুলে- অন্য কোন আলোর সমুদ্র পাড়ে। এ আলো তমসার ধার ঘেঁষে ধীরে ধীরে জাগে না যেন। যেন এ লোকে নিরালোকের সম্ভাবনা কখনো দেয়নি নাড়া খিড়কি ধরে সূর্য্য ডুবল বলে। এ আলো স্বয়ংপ্রভ। এ আলোয় আঁধার-নিরাকরণের মন্ত্র ভাসে না যেন আদ্যন্তহীন কালস্রোতে। এ আলো আত্মার নয়। এ জ্যোতি নয় ঈশ্বরের। এ যেন কি এক অসীম ছেয়ে বেয়ে আসা অনঘ অহং রূপরাশি। নিরালম্ব, নিরাকৃত, অচল, স্থাণু সত্তার অন্তরালে প্রাণের স্ফূরণ। এ যেন একদিন একান্তে জেগে ওঠা। যেন একদিন শিরদাঁড়া টান টান করে বলতে শেখা- এই নশ্বর নিখিলে, এই আমি কেবলই ‘মানুষ’! যেন ‘মানুষ’ কোন বিশেষণ পদ নয়! আলোর মতন, হাওয়ার মতন, জলের মতন এক শব্দে কেবলই ‘মানুষ’!  

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০২২

নিশিদিন শ্যামা বাখান গায়

 

নৃকর বসন, নৃ-শির ভূষণ, বিকট দশন, সমরে ধায়!

ভীত দনুগণ; অনুগত জন- চরণে সতত শরণ পায়!

 

লক লক লক লোল রসনে, ধিকি ধিকি ধক ধিকি হুতাশনে

নয়নত্রয়ে ভুবনত্রয়ে পলকে পলকে দহিয়া যায়!

 

পদতলে পতি পতিত ধিয়ানে, হেন রূপ ভনে মুনি গণে

বিশাখ প্রণত পদে অবনত নিশিদিন শ্যামা বাখান গায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...