বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪

ফেনিল স্বপ্ন

 

দুখের সায়রে ফেনিল স্বপ্ন 

তীরে তীরে করে ভীড় 

ঝড়ের বাতাসে কাঁপে যেন কার

পরদেশে বোনা নীড়।। 


পাখীদেরও যেন থেমে গেছে গান, 

বেণুর বাদনে কাঁদে যেন প্রাণ, 

চোখের কোটরে নিমগ্ন ব্যথা

জলের প্লাবন থির।। 


অসময়ে যেন এসেছে বরষা, 

আকাশের মেঘ উতল সহসা, 

ফুলের কোরকে আভাস জেগেছে

তটভাঙা জলধির।। 


২৫ জানুয়ারি, ২০২৪। 

বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৪

একদা দোঁহে


একদা দোঁহে মিলন মোহে
গগনতলে দ্রুমশাখে,
ভুলিয়া নীড়ে তটিনী তীরে;
মানব যেথা চেয়ে থাকে-
অবাক হয়ে; মধুর কুহেলিকা
প্রণয়কলা অবসানে,
অতঃপরে হারানো নিধি
খুঁজিয়া মরে আঘ্রাণে-
পৌষ-পবনে, কি কুজ্ঝটিকা-
আঁখিতারা ঘিরিয়া ধরে,
তারা রোদন-ভাসী, হেরে-
বিহগযুগলে, ভাবে- ‘ওলো,
এই ভালো, মানব হইলে
জানিতে, উড়িতে কত সাধ-
কাঁদিয়া মরে গভীর গোপনে'!


পাটুলি স্টেশনে তাঁদের দেখলাম।
 

দলছুট

 



হয়ত আমি এমনই দলছুট, 

এমনই ছন্নছাড়া, হতশ্রী, কাঙ্গাল!


তবু ধুলোর আঁচলে জানি পাব ঠাঁই,

সুনিবিড় শীতল বিলোল হাওয়ায়

নিরালা নিশ্চিন্ত কোলে এই ধরণীর, 

দিয়ে ত্রিদিব-যাত্রাপথে উড়ো ছাই; 

আমি নিরয়ে যাই ছুটে! 


আমি এমনই দলছুট হব, 

এমনই উন্মাদ, এমনই হাহারব-লাঞ্ছিত-

সুরমূর্চ্ছনা উগরে দিয়ে পথে পথে, 

এমনই অনন্তকাল! 

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

প্রচুর টাকার দরকার

 


সলজ্জ উদাসীনতার কোরকে থেকে

হয়ত হামেশা বলি 'আমার এমনি থাকা ভাল'। 

তালপত্রের ছাদ, এঁটেল দেয়াল, বাঁশের খুঁটি; 

কিছু অবাস্তব কবিত্বকলা ও অনুল্লেখযোগ্য সুরসম্ভার-

মাত্র সম্বল হলে বীভৎস সুখে বাঁচা যায়! 


এসব নিত্য অপলাপ শ্রবণে দরিদ্রেরা আহ্লাদিত হয়,

নিতান্ত নিরূপায় বলে হয়ত বা। 

অথচ বুকের অতলে আমি তো টের পাই- 


'আমার প্রচুর টাকার দরকার'! 

স্রেফ টাকা, অন্য কিছু নয়! 


ওসব খাতায় সাঁটা সাহিত্যের খাটনি-খাটা

মগজ-ভাঙা নেশার কলতানে ভাসতে ভরসা নেই!

এক বিন্দু নেই। 

আমি বরং ডুবে যেতে চাই এইসব জান্তব কর্কষ 

কঠিন কোলাহলে যেন, 

নচেৎ মৃদুতায় মৃত্যু ভিন্ন আর সুফল প্রাপ্তি কি? 


দরিদ্রের দাক্ষিণ্য বেমানান, 

তার বড্ড টাকার দরকার! 

বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩

অনিকেত

 

আমি আজও অনিকেত হয়ে রইলাম বিপ্রতিপন্ন-পরিচয়ে। আমাকে এখানে কেউ চেনে না। অচেনা মাঝিরা হাঁক দিলে আমি হাত তুলে সাড়া দেই। ওরা ভাবে আমি দিকনির্দেশক হব হয়ত। অথচ আমার এক বিঘৎ সুনির্দিষ্ট ঠিকানা- আজও জোটেনি কোথাও। পাড় ভেঙে যেমন ধসে যায় নদীর গর্ভে আমি ওভাবে বিলীন হই। কারো আক্ষেপ নেই। ঐকান্তিক অনুশোচনা- প্রকটেরও আমি দিইনি কাউকে যেন অবসর। শুধু দু দশটা কবিতা সংবরণের পর- আমি আমার প্রলাপ একাই বকে যাই! তাও একেবারেই আঁধারে চুপিসারে। এসব কারো না জানলেও ক্ষতি নেই।

সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩

কত আর দ্বার দিয়ে রই

 

কত আর দ্বার দিয়ে রই, 

চোরের কর্ম চুরি করা, 

যদি দিয়ে দিস মা অভয়পদ

নিত্যধনে রতেম ভরা! 


ওমা, 

এ অন্তর পুড়িয়ে ভবে, 

সুবাস কিছু উঠল তবে, 

ফাঁদ পেতেছে, সিঁধ কেটেছে, 

রাত্রে ভাঙে খিড়কি কড়া! 


মাগো, 

যা যা ছিল আমার বলে, 

একে একে চরণতলে

নে মা টেনে, তনয় জেনে

বিশাখ ভনে- দুঃখহরা! 


১৬-১০-২০২৩ 




শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

প্রতিষ্ঠা

 

আজকাল আমার-

কেবলই আমার বড় বেশী প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন, 

খুব বড়, সর্বোচ্চতম প্রতিষ্ঠা- প্রস্তরভাস্কর্য-

হব ভাবি, নইলে এ জীবদ্দশা আত্মহনন-

এমন এক বৈকল্যদর্শনে কৈবল্যলাভ মানি;

এ বড় অদ্ভুত বাসনা, এ বাসনা অত্যাশ্চর্য! 

শুধু আমারই এমন কিছু চাই। আমি জানি-

বাকী জগত নির্মোহ, শত্রু-মিত্র সব যোগে

আরূঢ় দেখি, একা আমি মহাপামর পতিত-

এ মহীতলে, তাই আমায় উঠে দাঁড়াতে হবে, 

নগরাজের মতন, মৈনাক হলে নাক কেটে

জলের অতলে যাব, এমন শঙ্কা আহত করে

কবিতা ও গানের কলির গভীরে তীক্ষ্ণ শরে-

শোণিততপ্ত মেদমাংস মজ্জা হৃদয়ে, কাতরায়

নিরালম্ব মানব পরিচয়, এ বড় বিচিত্র বেদন; 

এ এক নিষ্ফল প্রলাপমালা অকালে শুকোয়। 

এবং আমি জানি, এ বিমূঢ় আত্মায় একাকী-

ফেরে শত জন্মক্লান্ত খিন্ন পিয়াস, রক্ত আঁখি-

আমার রাত্রি জেগে, ঘাটেঘাটে দুঃখ বিকোয়!

হতেছে কাতর প্রাণ

  হতেছে কাতর প্রাণ , না হেরি কনক মুখ!   তুমি কি বুঝিবে নাথ ! পাষাণে কি বাজে দুখ ? মেয়ে দিয়ে দিগম্বরে, (বড়ো) উদ্ধারিলে ত্রিসংস...