শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

হর হর শিব শম্ভু

 

পঞ্চবদন বৃষভবাহন দেব পিনাকপাণি

ভূজঙ্গধর শশধরধর হর হর শিব শম্ভু। 

ভুবনপাবন ভবানীরমণ ধূর্জ্জটি মহাকাল

গঙ্গাশরণ মদনদহন মহাপ্রপঞ্চ-জাল- 

হর, যেন বজ্রনিনাদে শিব শিব গাহে কম্বু। 

নিখিলেশ্বর গিরিজাপতি হর হর শিব শম্ভু।। 

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

সব গেছে

 

আরো যত এই মৌনী রাত্রি গাঢ় হয়

খুড়ুলে পেঁচার দল বেরোয় কোটর হতে।

জীবনমথিত স্মৃতিপুঞ্জ- পতঙ্গবৎ ওড়ে

অলিপ্ত সমাপ্তির নিঃসীম যাত্রাপথে- 

জনান্তিকে, অন্ধকার ঘিরে- 

তারা কালের গর্ভে মিলায়; 

পেঁচার গ্রাসে। 


অসহ এ সময়, অব্যক্ত দুর্বিপাক

নাড়ে কুটীরের কড়া, ভীষণ ঝঞ্জায় 

কুঞ্জে গুঞ্জে মেঘ আসে। 

পেঁচার গ্রাসে- 

গেছে জন্মলব্ধ- ঘুম পাড়ানির ছড়া, 

কাঁপন ধরা গান, নিলয়-ঘ্রাণ

অতীতকালের কত। 


সব গেছে… 

বুধবার, ১ মে, ২০২৪

তবু কারো ভ্রুক্ষেপ নেই

 

আজ কবিতাগুলো বিপন্ন, 

গৃহহারা গানের কলি এই রোদ্দুরে

ঘুরে মরে অচেনা জনপদে, 

প্রতিমাকৃতি ছবি কত- বিবর্ণ-

অসারতায় ধুলোর অন্তরালে যায়,

তবু কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। 

বরং একরাশ আক্ষেপ আকাশভরা

আঁধারে ফেরে রাত্রির গায়-

হতশ্রী বিদায়ী জনমের। 


সংক্ষুব্ধ সাগরজলের স্রোতে যেন

ভেসে চলেছে অগুনতি জঞ্জাল,

প্রদমিত বাসনাপুঞ্জ বিশ্বভুবনের-

তবু কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। 

বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৪

তাচ্চেয়ে এ যে স্বর্গসমান

 

পরজনমে জলপিপি হব, 

ময়ুর হয়ে যদি খাঁচায় থাকি— 

তাচ্চেয়ে এ যে স্বর্গসমান! 


আকাশ আঁধার করে বরষা এলে 

উদ্ভিন্ন পঙ্খযুগল মেলে কচুরিপানা-দলে 

না হয় হবে মহোল্লাসে পতঙ্গ সন্ধান।

কি সুখ বল খাঁচার মাঝে পেখম খুলে- 

নেচে? তাচ্চেয়ে এ সে স্বর্গসমান! 


এ স্বর্গ মেলেনি তো পরের দ্বারে যেচে। 

কি সুখ বল খাঁচার মাঝে পেখম খুলে নেচে?


শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

পাগল ডাকলে হয়ত পাগলেও কষ্ট পায়!

 

কথা ছিল ঝমঝম বর্ষা নামলে উজ্জ্বলের টিনের চালা ঘরে আমি একরাত্রি থাকব। ভেজা ঘাস মাটির সোঁদা গন্ধে মাতাল ঝিঁঝিঁর কলরবে পেতে কান উদাসী হয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকব কখনো দিগন্তে মুখ করে। গরম ভাতে উজানি-কৈ এর ঝোলে আত্মনিবেদন শেষে যদি আসে ঘুম সে রাতে গল্পের আবিলতায় ঢলে পড়তাম ধীরে ধীরে পালঙ্কের পায়া ঘেঁষে। কিন্তু উজ্জ্বলও আমারই দেয়া পাথুরে-পরামর্শ-পথে উঠে গেছে ইটের চৌকো ঘরে যেখানে আর টিনের চালা নেই! শাওন আকাশ ভেঙে নেমে সকরুণ সুর ধরে কাঁদলেও সেই ঝমঝমে ধ্বনি আর উঠবে না ওখানে। সকল টিনের চালা, বেড়ার ঘের, খড়ের গাদা ধীরেধীরে সরে যাচ্ছে। কিছুই আর আমার উচ্ছন্ন বিলাসিতার জন্য থমকে রইল না। অথচ আমি নিজেকে যেন জোর করে বলতে চাই- আমি এক বিন্দু দায়ী নই! আমি এঁটেল মাটির মতন থাকতে চেয়েও ইট ভাটার উনুনে ঢুকে সুদৃঢ়তর অস্তিত্ব খুঁজতে কি চাইনি বুঝি? তবু কোথাও ভাটার টানে জাগা খালের তীরের মতন আমি কাদা হয়ে কেঁদে যাই গভীরে। দ্বিচারিতা নয়, এ যে কেমন অসহায়ত্ব এ কথা বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে স্বস্তি পাই যেন। এসব লেখার নয়, গাইবার নয়, জনে জনে জানাবার নয়, বোঝাবার নয়। পাছে লোকে পাগল ভাবে। যেন পাগল অত্যন্ত পতিত কিছুর নাম! পাগল ডাকলে হয়ত পাগলেও কষ্ট পায়! 

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪

করুণা ভিক্ষা

 

অকরুণ অরুণ কর খর তাপ

বহে ভুবনে, আমি আতুর তৃষিত হে;

শীতল কর স্নেহকর পরশনে

নিখিলজননী। 


পুত্র তব নিভৃতে নিরয়পথগামী হে, 

পাপ নিমজ্জিত কলুষক্লেষ-ক্লান্ত, 

ক্রোড়ে নাও, দিবস অবসানে

ভুবনপাবনী। 

রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

সকাল হবে

 

সকাল হবে... 

সহস্রাব্দকাল নিভৃত রাত্রির পর

একদিন...

সকাল হবে... 


খরাজে, মন্দ্র-মধ্যমে লহরী তুলে

বিনিদ্র মালবকৌশিক চুপচাপ শ্রান্ত হলে... 

একদিন.. 

অকস্মাৎ, সহসাই সকাল হবে...

বিপরীত পথ

  বিপরীতে যে পথ- সে বড় সুনিবিড়-  ছায়াঘন- সে গেছে আঁধারে মিলায়ে। নগরে জনস্রোত- অলিগলি- রাজপথ-  সবাই যে মুখো- ঠিক তার বিপরীতে, সান্ধ্যনীড়ে ডাহ...