সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০১৭

কোমল ও কঠিন

তোমার দুর্বলতার দায়ে আমি পরম শক্তিমান!
এই যে ঔদ্ধত্য আমার, কি বিনয়ের বিনিময়ে
এই প্রতিদান- আমি মূহুর্মূহু বিলিয়ে দিতে কার্পণ্যহীন?
যে প্রেমে বোঝো না তুমি, সে প্রেমেই প্রেমিকা হতে
দ্বিধা নেই জানি, তবু যদি কোনদিন- 
বুঝে ফেল ফুলের মাহাত্ম্য কি মক্ষিকার কাছে,
তবে থাকবে কি বিলিয়ে দিতে আরও যা যা আছে?
কিছু পুরুষের চেয়ে পাথরও কোমল!
কিছু রমনীর চেয়ে চোরাবালিও কঠিন!

শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৭

দিনশেষে নিরুপমা

আমাকে ডেকেছে অমানিশা তিথি, কৃষ্ণপক্ষ আকাশ
ডেকেছে আমাকে চোখের কাজল, আকুল জলোচ্ছাস-
কপোলের তটে, নির্ভার স্রোতভাসী কার কালো তিল
আমাকে ডেকেছে মাঝি হতে তার, নদী পাড় পঙ্কিল-
হাত ধরে ভাঙা ডিঙিতে উঠিয়ে ভাটায় দিয়েছি পাড়ি,
জোয়ান বয়েস, জোয়ার দেখেছি, তোমার লালচে শাড়ী!

দেখো
সকাল হয়েছে,
চেনা গুলঞ্চ নুয়ে পড়া ডালে দোয়েল গাইছে গান,
তুফান রাত্রি দরিয়া মাড়িয়ে পালছেঁড়া সাম্পান-
তোমাকে পেয়েছে-
ঘরে!

বুকের খিড়কি খুলে দিয়েছি গো, জানালায় নাচে আলো
ভেতরে বাইরে যতকিছু দেখো, যতকিছু আজো রয়ে গেল-
ক্ষয়ে যেতে যেতে, দাসখত দিয়ে দিলাম তোমাকে
তুমি ফেলে দাও, নয় করো জমা!
শুধু আমাকে একটু আঁচলের হাওয়া
দিনশেষে দিও নিরূপমা!

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭

পোগোতিচীল কবিতা

ছুলেমান, 
বন্ধু আমার,
আমি অনেক কচটো করেও হতে পারিনি 
তুদের মতো পোগোতিচীল, চুচীল! 
আমার তলায় জমে গেছে নিগ্রহের চুদীর্ঘ ইতিহাছ,
আমি খড়ের চালে ছান্তির আগুন, দেউলের নাক-কান কাটা,
হাত ঠ্যাঙ ভাঙা, উঠানে বুনের ওড়না ভাছে চুখে!
ছুলেমান,
বন্ধু আমার,
আমার কবিতা লিখতে হাত কাঁপে,
আমি মানুচের অছহায়ত্ব দেখে লিদয় ও ছিছনের মাঝে
পারি না ঢুকে যেতে, আমার মুনে হয় আমি অন্য রকম কিছু লিখি!
অছব্য, ইতর হই, ল্যাংটা ল্যাংটা ভাছা লিখি-
লিখি কি করে আমার ছাধিনতা লাঞ্ছিত হয়
ক'দিন অন্তর অন্তর!
ছুলেমান,
বন্ধু আমার,
আমার ছুদ্ধতম আবেগ নেই কুত্তাকে ছারমেয় বলার,
আমার লিদয়ে যতেষ্ট প্রেম নেই কুনু ছুয়োরকে মানুচ ডাকার,
কুনু কেউটের ফনা ধরে চুমু খাবার বিন্দুমাত্র ছদিচ্চা আমার নেই!
ছুলেমান,
আমি পারিনি মুক্তমনা হতে, আমি পারিনি অনেক চেচটা করে
বাপ ঠাকুদ্দার গায়ে মুতে দিতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছৈল্পিক ভাবে!
আমি আমাকে তুদের মত বেছি বেছি যৌক্তিক বানাতে চেয়েছি,
অথচ আমার মনে হয়েছে ছরলতাটি ছবচেয়ে আগে প্রয়োজন!
ছুলেমান,
বন্ধু আমার,
দেখতে অনেকে হয় মানুচের মত,
অথচ ছবাই কেন যে মানুচ নয়!

ধূর্জ্জটির ধ্যানভঙ্গ- অমিত্রাক্ষর

অকস্মাৎ ধ্যানভঙ্গে ধূর্জ্জটি চন্দ্রমৌলীশ্বর
নেত্রোন্মীলনে হেরিলা যেন পূর্ণচন্দ্রদ্যুতিসম
শ্রীঅঙ্গমাধুরী, দরশনে যথা তৃষিত চকোরে-
চন্দ্রে আকুল পিয়াস ধরি, তেমতি অতৃপ্ত মহেশ
যদিচ বাহিরে অকম্প তিষ্ঠ চিরবৈরাগ্য-শেখরে-
ত্যাজিয়া সমাধিরূপ, বরে পঞ্চপুষ্পশর!
ইতঃপূর্বে যবে দাক্ষায়নী বিসর্জিলা মর্ত্যের দেহ,
সুখগেহ কৈলাসকুটীর, মহারুদ্র তাণ্ডব শেষে
আপনে আপনা ধরি অনন্ত কল্পকোটি ব্রহ্মমূরতি,
স্ব-ভূমায় নিমগন, অনন্ত বিরহের পাশে
বাঁধি আপনায়, পরাঙ্মুখ জগতাধিপতি জগত হতে;
কি প্রমাদে আপনায় পূনঃ বদ্ধ করে?
কি নিমিত্ত সম্পাদনে? কি প্রারব্ধ দোষে?
অনঙ্গে অঙ্গার করি ভ্রূকুটি প্রকোপে পশুপতি,
আঁখি ফিরায়ে হেরে গিরিজেশ নন্দিনী সমুখে-
শঙ্কিতা, যেমতি কুরঙ্গিনী শার্দূলসকাশে অতি-
প্রকম্পিতা, সেমতি গিরিজারে হেরিয়া কৌতুকে
স্মিতহাস্যে হস্ত ধরি মহেশ্বর কহেন উমায়,
'হৃদয়রাজ্ঞী তুমি, এতকাল ধ্যান ধরে
খুঁজেছি তোমায়!'
__---__---__---__---__---__---__---__

হঠাৎ মনে হল একটু ক্লাসিক্যাল হই। অমিত্রাক্ষর একসময় খুব লিখতে ভাল লাগত। সাহিত্যচর্চাটা এখন উঠেই গেছে আমার। অল্প একটু শান দিয়ে দেখলাম।

মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭

সুকবি সম্ভাবনা

কবিতা যখন জুড়ে থাকে ন্যাকাদের টেস্টোস্টেরন,
আমি বলি 'বৈকল্যদায়নী, তুই ছুঁসনে আমায়!'
যেখানে মানুষের চোখে মুখে লেগে যায় ছোবলের দাগ-
শ্বাপদেরা কবি হয়, পদ্য লেখে সেই জমানায়!

ক্ষুধিতের কি জ্বালা জাগে নাভিপদ্মের তলে,
ধর্ষিতার যোনিতে কি আত্মহন্ত্রী লাভার তরঙ্গ ছোটে,
কুঁড়েঘরে চালা পোড়ে, বাস্তুহারার দেশে চলে-
রাক্ষসীর প্রাসাদ কেচ্ছামালা, দেবতার প্রসাদ জোটে-
পূজান্তে এক থালা নৈবেদ্য- অশোষ্য পাথর,
এত কাণ্ডে যাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই
তাদেরই সম্ভাবনা সুকবি হবার!

সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭

বাসন্তীকে

আমাকে উপলক্ষ করে বাসন্তীর চোখ
কিছুকাল ছলছল টলমল ছিল!
ক্ষাণিক ভেজার পর আমি বললাম-
বাসন্তী- এই হাতে হাত ধরে কিছু পথ চলো।
ওই দেখো-
এই মিশমিশে সন্ধ্যার অপর আকাশে, রাশি রাশি আবিরের কণা,
হাস্যচ্ছটা বিকীর্ণ অভিনীত সুখ, মৃত্যু দুয়ারে আঁকে শুভ আলপনা-
চলো সেখানে না হয় বাঁধি ছোট কুঁড়েঘর!
বাসন্তী,
জানি না কি অন্য জীবন আছে
এ জীবন পর!

বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭

আচমকা বৃষ্টি

অবশেষে একদিন কোলকাতা মেঘ,
একদিন আচমকা টাপুরটুপুর,
একদিন খুব বেশী বেলা করে ঘুম,
একদিন বৃষ্টির অলস দুপুর-
তুমি পাশে নেই।
মেঘ আছে কালো কালো।
আছে অবিরাম বারিধারা, মল্লার সুর।

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...