বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

কোথায় আর যাব?


কোথায় আর যাব!
অত পড়ুয়া নই যে বিদ্বান-বিদুষীদের
জ্ঞান-প্রপঞ্চ, গোল টেবিলের একটা ধারে-
একটা চেয়ারে আমার সূচাগ্রতুল্য জায়গা হবে-
আমার ওতে রুচিও মরে গেছে কবে,
মরে তার শ্রাদ্ধবিধিও হয়ে গেছে,
তাও অশাস্ত্রীয় ভাবে- তাই আজও অশৌচ যাচ্ছে না!

অশোচ্যানন্বশোচস্তং!
বাকী তো চিরকাল – প্রজ্ঞাবাদাংশ্চভাষসে!
বুঝেছি কিছুটা বটে, আর কিছুটা ভড়ং,
তাই আমি সব মাটির ঢেলা জোগাড় করে আছি,
জানিও না এরাও কবে মাটিতে যাবে মিশে!

অশোচ্যানন্বশোচস্তং-
বলে কি না- প্রজ্ঞাবাদাংশ্চভাষসে!

যার হাতে পঙ্গুত্ব এসে গেছে-
তার হাতে হাত গোনাই!
যে ‘ক’ বললে কদলী চেনে
তারে গিয়ে কবিতা শোনাই!

আমার কাজ-ই কিবা আছে!




ওই চীনাসিন্ধুর উহান হতে কি ভাইরাস ভেসে আসে - রম্য গান





ওই চীনাসিন্ধুর উহান হতে কি ভাইরাস ভেসে আসে,
কে ডাকে কাতর প্রাণে, মরণ টানে- আয় মরে যা!
ওরে আয় মরে যা- আমার পাশে!

বলে আয়রে ছুটে আয়রে ত্বরা, হেথা কেবল মৃত্যু, কেবল জরা,
হেথা বাতাসেতে কোরোনা-ভরা, থাকবে এখন বারো-মাসে,
হেথা চিরপাগল ট্রাম্প-বেচারা, ভ্যাবা-চ্যাকা খেয়ে হাসে!

কেন ভূতের ওষুধ খুঁজিস মিছে, ঘরে থাকবি বসে খাটের নীচে!
দেখ- আমি ঘুরছি কেমন লোকের পিছে, যারাই ঘরের বাইরে আসে!
ভূতের বেগার ফেলে ঘরের ছেলে  যা ঘরে যা আমার ত্রাসে!

এবার কারাগৃহে থাকিস বন্ধ, ওরে ওরে কানা, ওরে অন্ধ,
ভবে সেই সে লভে আনন্দ, ঘরকুনো যে ভালবাসে!
বেশী ছটফটালে এই অকালে পৌঁছে যাবি স্বর্গবাসে!


ওই চীনা-সিন্ধুর উহান হতে

ওই চীনাসিন্ধুর উহান হতে কি ভাইরাস ভেসে আসে,
কে ডাকে কাতর প্রাণে, মরণ টানে- আয় মরে যা!
ওরে আয় মরে যা- আমার পাশে!

বলে আয়রে ছুটে আয়রে ত্বরা, হেথা কেবল মৃত্যু, কেবল জরা,
হেথা বাতাসেতে কোভিড-ভরা, থাকবে এখন বারো-মাসে,
হেথা চিরপাগল ট্রাম্প-বেচারা, ভ্যাবা-চ্যাকা খেয়ে হাসে!

কেন ভূতের ওষুধ খুঁজিস মিছে, ঘরে থাকবি বসে খাটের নীচে!
দেখ- আমি ঘুরছি কেমন লোকের পিছে, যারা ঘরের বাইরে আসে!
ভূতের বেগার ফেলে ঘরের ছেলে  যা ঘরে যা আমার ত্রাসে!

এবার কারাগৃহে থাকিস বন্ধ, ওরে ওরে কানা, ওরে অন্ধ,
ভবে সেই সে লভে আনন্দ, ঘরকুনো যে ভালবাসে!
বেশী ছটফটালে এই অকালে পৌঁছে যাবি স্বর্গবাসে! 

অকৃতি-অধম


বেজার-স্ত্রী-প্রত্যুত্তরঃ-

আমি অকৃতি-রাঁধুনি বলেও তো তুমি কম করে কিছু খাওনি,
যা দিয়েছি রেঁধে সকলই খেয়েছ, ফেলে তো কিছুই দাওনি!

আমি রেঁধে মরে যাই জানি না কি আশে, জীবন কাটেগো চুলাটির পাশে,
তবু কত খোঁটা দাও এটা সেটা বলে, যেনো ভাল কিছু কভূ পাওনি!

নীল-নবঘনে


নীল নবঘনে- এ লক-ডাউনে, পুলিশে ঠ্যাঙায় নাকি রে!
ওগো আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে!

কোরোনার ডরে সবে মরো মরো, ছোঁয়াছুঁয়ি নেই সবে সরো সরো
সকলে কেমন ভ্যাবলা হয়েছে- দেখ হাঁদা তুই চাহি রে!

‘এই ওঠো’ বলে গিন্নি কাহারো ঠেলে না তাহারে বাজারে,
সকল বাজার বন্ধ হয়েছে আজি’রে!
এ মাসে বলেছে মে মাস অবধি, বাকীটুকু্ হায় জানে শুধু বিধি,
যা রে গিয়ে বল- দিদি অথবা সে মোদীরে!

কবে গো আমরা আসিব ঘরের বাহিরে?

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০

রসরাজ-ব্যাকুলতা

দূতাবাহনঃ ওঁ অখন্ডোজ্জলমণ্ডলাকারং পরিব্যপ্তং রসাতলম— ইত্যাদি... (অখন্ড উজ্জ্বল মন্ডল আকারং)
_____________________
যাও যাও দূত যাও তুমি ত্বরা,
বলিয়ো আমার প্রভূরে,
আমার মাচায় পটল ফলেছে শতেক,
আমি একটি তুলিব অচিরে!
~~~~
বার্তা শুনিয়া দূতের প্রস্থান।
____________________
বৈরাগীর গান
___________________
প্রভূ কি গো আর দাসের খবর ল’বে?
কি জানি কখন যমের সদনে যাব,
বিফলে ও মন, পটল তুলিব ভবে!
(আলু নয় ওহে,
বাঁধাকপি নয়,
পটল তুলিব ভবে...)
আমি যাব গো বাঁকুড়া, এসে পাশকুঁড়া খাইনু আলুর চপ,
ভাবি যাহা তাহা করি না কদাপি- প্রবচনে মারি ঢপ!
আমারে ফেলিয়া রসাতল তলে- প্রভূ তুমি সুখে রবে?
কি জানি কখন যমের সদনে যাব,
বিফলে ও মন, পটল তুলিব ভবে!
তিনটে বাজিলে ঘুমাইতে যাই, দশটায় ত্যাজি শয্যা,
শরীরে আমার আর নাই সুখ, নড়বড়ে কলকব্জা-
ডায়াবিটিসের ওষুধ গিলিয়া, এত কথা কহি তবে!
কি জানি কখন যমের সদনে যাব,
বিফলে ও মন, পটল তুলিব ভবে!
~~~
প্রাণান্ত অবস্থায় বৈদ্যের আগমণ
_______________________
একি অপরূপ অরূপ বৈদ্য আসিলে আমারে বাঁচাতে,
ওহে গুণধন, বল মোরে বল কোথা মোর রসরাজ?
তিনি বিনা এই রসহীন ভূমে, বাঁচিব কিসের আশাতে?
আমার বাঁচিয়া বিফল কাজ!
বল মোরে বল কোথা মোর রসরাজ!

২২/৪/২০২০

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০

প্রাচীন তানপুরা



এমনই মেঘনিস্বনঝড়ো বোশেখী নিশি
মন্দ্রিত-মল্লার-মেদুর মনেসু-লয়ে নিক্কন
বিসমপদী তাল তুলে নেচে যায় কার অঝর ঝরে-
অধর ধারে সুরতরঙ্গিনী আলসভরে ক্ষরে — কিছুক্ষণ,
আমি তার চলন-বলন ধরেঅবশ হয়েছি

দীনা ধরিত্রীর একটি কোনে দীর্ণ হয়ে আছি,
শতাব্দীর কোনে শত-সহস্রাব্দ অতীতে রাখা সৌখিন
গৃহসজ্জাআমি একটি ধুলিধূসর তানপুরা,
একটি কালের স্বাক্ষ্যবাহীঅতলে অন্তঃলীন
পুরাতনী ব্যথার ভারে ন্যুব্জ হয়ে বাঁচি। 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...