অক্লান্ত অলস দ্বিপ্রহরে ধানেশ্রীর পাংশু সুর,
রৌদ্রলিপ্ত, পুরানো আবাস ঘিরে যোজন দূর-
দেশী-আকাশ হতে নামে বিমূর্ত বীণা বেয়ে,
ঐকান্তিকে, নিত্য নিরাশ্রয় হৃদয়কুঞ্জ ছেয়ে।
ত্রিতাপদগ্ধ করে স্নান।
যা মনে আসে লিখি। ভাল লাগলেও লিখি, না লাগলেও লিখি। কারো ভাল লাগা না লাগার ওপর আমার কোন ঔৎসুক্য বা অভিমান নেই!
অক্লান্ত অলস দ্বিপ্রহরে ধানেশ্রীর পাংশু সুর,
রৌদ্রলিপ্ত, পুরানো আবাস ঘিরে যোজন দূর-
দেশী-আকাশ হতে নামে বিমূর্ত বীণা বেয়ে,
ঐকান্তিকে, নিত্য নিরাশ্রয় হৃদয়কুঞ্জ ছেয়ে।
ত্রিতাপদগ্ধ করে স্নান।
কলিকাতা।
একদা সন্ধ্যা নামিলে যখন বেনেরা ভিড়িল ঘাটে,
কর্দমঘ্রাণে আমোদ আদুল গেঁয়োরা ফিরিল বাটে-
রোশনাই আসি মাটির প্রদীপে বর্ষিল অবহেলা,
কোঁচার আধুলি ধুলায় ছুঁড়িয়া নটের নাট্যশালা-
বেনেরা করিল জয়, এ নগর তার পরিচয়বাহী-
কবিকুলে কিছু নয়।
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪।
রাত ১টা ২৫।
দুখের সায়রে ফেনিল স্বপ্ন
তীরে তীরে করে ভীড়
ঝড়ের বাতাসে কাঁপে যেন কার
পরদেশে বোনা নীড়।।
পাখীদেরও যেন থেমে গেছে গান,
বেণুর বাদনে কাঁদে যেন প্রাণ,
চোখের কোটরে নিমগ্ন ব্যথা
জলের প্লাবন থির।।
অসময়ে যেন এসেছে বরষা,
আকাশের মেঘ উতল সহসা,
ফুলের কোরকে আভাস জেগেছে
তটভাঙা জলধির।।
২৫ জানুয়ারি, ২০২৪।
হয়ত আমি এমনই দলছুট,
এমনই ছন্নছাড়া, হতশ্রী, কাঙ্গাল!
তবু ধুলোর আঁচলে জানি পাব ঠাঁই,
সুনিবিড় শীতল বিলোল হাওয়ায়
নিরালা নিশ্চিন্ত কোলে এই ধরণীর,
দিয়ে ত্রিদিব-যাত্রাপথে উড়ো ছাই;
আমি নিরয়ে যাই ছুটে!
আমি এমনই দলছুট হব,
এমনই উন্মাদ, এমনই হাহারব-লাঞ্ছিত-
সুরমূর্চ্ছনা উগরে দিয়ে পথে পথে,
এমনই অনন্তকাল!
সলজ্জ উদাসীনতার কোরকে থেকে
হয়ত হামেশা বলি 'আমার এমনি থাকা ভাল'।
তালপত্রের ছাদ, এঁটেল দেয়াল, বাঁশের খুঁটি;
কিছু অবাস্তব কবিত্বকলা ও অনুল্লেখযোগ্য সুরসম্ভার-
মাত্র সম্বল হলে বীভৎস সুখে বাঁচা যায়!
এসব নিত্য অপলাপ শ্রবণে দরিদ্রেরা আহ্লাদিত হয়,
নিতান্ত নিরূপায় বলে হয়ত বা।
অথচ বুকের অতলে আমি তো টের পাই-
'আমার প্রচুর টাকার দরকার'!
স্রেফ টাকা, অন্য কিছু নয়!
ওসব খাতায় সাঁটা সাহিত্যের খাটনি-খাটা
মগজ-ভাঙা নেশার কলতানে ভাসতে ভরসা নেই!
এক বিন্দু নেই।
আমি বরং ডুবে যেতে চাই এইসব জান্তব কর্কষ
কঠিন কোলাহলে যেন,
নচেৎ মৃদুতায় মৃত্যু ভিন্ন আর সুফল প্রাপ্তি কি?
দরিদ্রের দাক্ষিণ্য বেমানান,
তার বড্ড টাকার দরকার!
আমি আজও অনিকেত হয়ে রইলাম বিপ্রতিপন্ন-পরিচয়ে। আমাকে এখানে কেউ চেনে না। অচেনা মাঝিরা হাঁক দিলে আমি হাত তুলে সাড়া দেই। ওরা ভাবে আমি দিকনির্দেশক হব হয়ত। অথচ আমার এক বিঘৎ সুনির্দিষ্ট ঠিকানা- আজও জোটেনি কোথাও। পাড় ভেঙে যেমন ধসে যায় নদীর গর্ভে আমি ওভাবে বিলীন হই। কারো আক্ষেপ নেই। ঐকান্তিক অনুশোচনা- প্রকটেরও আমি দিইনি কাউকে যেন অবসর। শুধু দু দশটা কবিতা সংবরণের পর- আমি আমার প্রলাপ একাই বকে যাই! তাও একেবারেই আঁধারে চুপিসারে। এসব কারো না জানলেও ক্ষতি নেই।
অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...