যা মনে আসে লিখি। ভাল লাগলেও লিখি, না লাগলেও লিখি। কারো ভাল লাগা না লাগার ওপর আমার কোন ঔৎসুক্য বা অভিমান নেই!
বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২
গুরদেব আছে বিরহে
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২
দেহরথের কথা
মম দেহরথে হয়ে রথী, অগতিরে দাও গতি,
নাও হে জগতপতি, তবে সারথির দায়ভার!
ছ' অশ্ব ছ’দিক চলে, যুজিতে না পারি বলে,
ক্লেদ-ক্লান্ত রক্তজলে, আমি সমুখ না হেরি আর!
এসেছি সমরে একা, এ ছিল ললাটে লেখা,
দশেন্দ্রিয় দশপানে, আমি একেলা মানিনু হার!
মিহিরে তিমিরে ঘেরে, নয়ন আঁধারে ফেরে,
যাবে যদি রথ ছেড়ে, আমি শরণ বা মাগি কার?
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২
বাঁধো তান
মন বলি যাবে কোথা, কেন এত অভিমান!
প্রাণে যে জেগেছে কথা, সে কথায় বাঁধো গান!
কেউ আনে ফুলমালা, কেউ হানে বিষজ্বালা,
কারো মনে পারিজাত, কারো তূনে ভরা বাণ!
কেউ ছলে ভালবাসে, কেউ দুষে পরিহাসে,
এত কিছু মনে পুষে কোরো না গরল পান!
যেথা আছ থাকো সুখে, সুর ভরো ভাঙা বুকে,
হাসি রাখো সদা মুখে, লয়ে লয়ে বাঁধো তান!
বুধবার, ২২ জুন, ২০২২
স্রোত
সদা স্রোতের বিপরীতে বলিতে হইবে এইরূপ তত্ত্বকে আধুনিকতা মনে করি নাই। সর্বদা স্রোতে ভাসিতে হইবে এইরূপ ভাবনাকেও আমি গর্বের বিষয় ভাবিয়া প্রশ্রয় দিই নাই। পুরাতন পুঁথি নির্বিচারে ছুঁড়িয়া ফেলিয়া কপট প্রগতি দেখাইবার গতি আমার হইল না। পুঁথি আঁকড়াইয়া আমার ন্যায় দীন মানবের জীবনকে অলীকতায় বিপন্ন করিতেও আমার প্রবল দ্বিধা! আমি কেবল স্রোতে হাত পা ছুঁড়িতেছি। আকুল পরাণে নাসারন্ধ্র উর্দ্ধে রাখিয়া চাহিতেছে প্রাণবায়ু!
সাঁতরাইয়া পাড়ে উঠিতে হইবে এইটুকু আমি জানি। ইহাই চরম সত্য। সত্যভাষণ কাহার পক্ষে গিয়াছে বা কাহার বিরুদ্ধে ইহা লইয়া চিন্তিয়া মরিবার সময় কোথা আমার? সত্যকে কহিতে আপোষ করি নাই। যেটুকু বলিতে হয় সেটুকু বলিয়াছি নিত্য। যেটুকু না লিখিলে আপনারে দায়হীন মনে করি সেটুকু বিনা দ্বিধায় লিখিয়াছি। যেটুকু না ভাবিলে নিজেরে প্রস্তরখণ্ডবৎ বোধ করি সেটুকু নিরন্তর ভাবিয়া চলি। আমার লক্ষ্য পারে যাইবার। এপাড়ে দাঁড়াইয়া ওপাড়ের মহিমা ক্ষ্যাপনে আমার অনুরাগ নাই। আমি বিপুল খরস্রোতে নিজ ক্ষীণতেজ দেহখানি লইয়া সংগ্রামে নামিলাম। দোসর জুটিল কি জুটিল না ইহা ভাবিতে চাহি নাই। কেবা আমার স্তব করিতেছে আর কেবা মুণ্ডুপাত- এ নিয়া পড়িয়া থাকিলে আমার চলে না!
একদা অন্ধকারে সিদ্ধার্থের মহানিষ্ক্রমণের পথ চলিতে শুরু করিয়াছিলাম। আমি জানিলাম- বুদ্ধ সাজিয়া ওঠা সহজ, হইয়া ওঠা আমায় সাজে না! অনেকে সাজিতে জানে, আমার সে গুণ নাই! আমি দিকে দিকে কুম্ভীরাশ্রু দেখিয়াছি। আমি ধূর্ত শৃগালগণে দেখিয়াছি সিংহচর্মাবৃত বেশে রাজত্ব করিতে। আমি ভাবিলাম কপিধ্বজ-রথ-সারথীর আবাহণে এইবার মসীকে অসী কিবা গাণ্ডীব করিয়া মরিব, দেখিলাম এই কৌরবনিগড় সমাজে এইরূপ কর্মে বিফল মৃত্যুই সার! নিজেরে প্রচণ্ড একা হেরিলাম! আমি একা চণ্ড-মুণ্ড-শুম্ভ-নিশুম্ভদ্বিগের সহিত লড়িয়া পারিব না! সংসার রৌরবতুল্য জ্ঞানে আপনা আপনি জ্বলিয়া মরি। কতক জ্বালা উগরাইয়া দিবার তুচ্ছ বাসনারে অবদমিত করিয়া আত্মপ্রবঞ্চনায় ক্ষয় হইতেছি। চিন্তা চিতাগ্নির ন্যায় রাত্রিগভীরে আমারে দক্ষভবনে অনাহূত কালভৈরবের প্রায় হানা দেয়। আমি ভাবিয়া কূলহারা, আমি স্রোতের টানে কোথা যে চলিতেছি জানিতে না পারি। পাড় যেন দেখিয়া দেখিয়া হারাই, চোখে জলের তোড়, ঝাপটা আসিয়া ঝাঁপসা করিতেছে সম্মুখের দৃষ্টি আমার!
যাহারা ভাবিতে জানে তাহারা দুখী! যাহারা কহিতে জানে তাহারা সহিতে পারে কম! যাহারা সহিতে শিখিয়াছে তাহারা ক্রমশ হইয়াছে মূক! যাহারা অন্তরলোকে প্রখর আলোকে স্নাত তাহাদের বহিঃদৃষ্টি অন্ধ! যাহারা হৃদয়ে পাতিয়াছে কান তাহারা বধির হইতে চাহে! আমি নিজেরে কোথায় বাঁধিয়া বাঁচি জানি নাই! আমি ভাবিয়াছি আমাকে কহিতে হইবে- এদিকে কথা ক্রমে কোলাহলে আসিলে আমার সহিতে ব্যথা লাগে বড়! অন্তরে আলোর তরঙ্গ খুঁজিতে গিয়া বাহিরের অন্ধকারকে অস্বীকার করিতে আমি পারি না! হৃদয়ে মধুরবাণীর অভিলাষে নিমগ্ন যতই আমি রহি- বাহিরের ক্রুর গর্জন আমার খিড়কি ভাঙিয়া ফেলে যেন! আমি ভাবি- আমি প্রাণপণে ধ্যানস্ত হইব। কে যেন বুকের ভেতর শাবল দিয়া খুঁড়িয়া চলে প্রাণ। কে যেন কাঁদিয়া কহে- ওরে ওরে, চোখ খোল, এখনই থামাবি কি রে গান! যে গান মূমুর্ষের শান্তি, সে নহে, যে গান মরণোন্মুখে দেয় বীরদর্পে মরার ঝংকার- সেই গান হউক! সুখে বাঁচিবার গানও যে রসিকতা লাগে!
আমি মুক্তি জানি না, আমি মোক্ষ চিনি না, আমার অভিপ্রায় নাই স্বর্গ কিবা সালোক্যের, আমি এই মরতভূমে একটি একক জীবন লইয়া বাঁচিতে কুণ্ঠিত নহি, আমি শুধু চাহিয়াছি জীবনটিকে অর্থবহ করিতে, বোঝাবহ না করিতে! দিকে দিকে ভ্রমিত হইয়াছি! দিকে দিকে সুন্দরকে দেখিয়াছি কেবল সাজসজ্জার সামগ্রী হইতে! সুন্দর সাজাইয়া রাখিবার হয়, সুন্দর হইয়া উঠিবার যেন কিছু নহে! ক্লান্ত হইয়াছি। আশা-নিরাশা-দূরাশা সকলে সরাইলাম দূরে। আমি কেবল বর্তমানে জীবিত রহি। যে মুহূর্ত চলিয়া গেল, যে মূহুর্তটি আসিবে তাহা লইয়া আমার ভাবনা মরিয়াছে ক্রমে! আমি বুঝি যে মূহুর্তে এই ‘আমি’ আছি- সেই মূহুর্তটি জীবন্ত হউক! ইহার অধিক কোন দর্শনের মাহাত্ম্য আমার কাছে নাই! ইহা জড়বাদ নহে, ইহা বাস্তবাদব! ইহা অধ্যাত্মবিরোধীও নহে- ইহা বরং অধ্যাত্মকে জীবনে আনিবার পথ!
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২
ডিঙিগুলো ওঠে দুলে
মধ্য নিশীথ মন্দ্র আবেশে মধ্যমে তার বাঁধা,
চন্দ্র সুপ্ত মল্লার মেঘে, গমকে নাচেরে বিজলি।
প্রহর ফুরায় ধীরে,
ঝোড়ো হাওয়া ওঠে বেগে;
ঝিমিয়ে ঘুমালো পুরনো গানের কলি
জোয়ারের জল ঘেঁষে এলো তীরে তীরে,
কলকলে ছলছলি।
কোন বরষের প্রথম আষাঢ় রাতে,
আশাহত কবি গীতিকার পাতা খুলে
জেঁকে আছে প্রাণ, বাতায়নে জাগে সুর,
দরিয়ার ঘাটে ডিঙিগুলো ওঠে দুলে।
শনিবার, ১১ জুন, ২০২২
নতুন রত্নাকর
রবিবার, ৫ জুন, ২০২২
সে-ই ভাল
অভ্যস্ততা সৃষ্টি করতে হয়েছে
দেখে না দেখার ভান ধরতে নয়,
বরং দেখে নিয়ে একটি পলক ফেলে মুণ্ড ঘুরিয়ে নেবার
দমাদ্দম বিপরীতে অদ্ভুত ললিতকলায়;
না হয় চোখ তো ঝলসে যাবে না যদিও বা।
কত না সঙে, কত লীলায়
বোঝাতে হয়েছে নিজেকে-
কিছু না শুনতে নয়, শুনে কালা সাজতে নয়-
বরং শুনে ভুলে যেতে যেটুকু ফেলেছি শুনে- অকারণে,
চলো হে ভুলে যাই, সে-ই ভাল!
মানাতে হয়েছে নিজেকে-
পই পই করে জিহ্বা ধরেছি চেপে,
খবরদার! নড়ো না! বলেছি- ভেতরে ভেতরে-
অন্তর-আত্মায়- নিজেকে বলো- তুমি জানো না কিছু-
সত্য বটে, থাকো পাথরের প্রায়।
সে-ই ভাল।
তীরে ফেরা
অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...
-
The Last Ride Together - Robert Browning I SAID—Then, dearest, since ’tis so, Since now at length my fate I know, Since nothing a...
-
৮ম পর্ব ______________ ১৩ জানুয়ারী সর্বশেষ পারিবারিক ইতিহাস বৃত্তান্তের কথা লিখে আজ আবার ৮ম পর্ব লিখতে বসলাম। বিগত পর্বগুলোতে এই পরিবারের ...
-
এসো আলিঙ্গনাবদ্ধ হই সঙ্গমাকুল সাপ ও সাপিনীর মত বিষ থাক যন্ত্রের নির্দিষ্ট প্রকোষ্ঠে, অধর ও ওষ্ঠে পেঁচিয়ে যাই নেত্রে নেত্র যাক গেঁথে, কম্প...