সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৭

দুটো মাতলামির কচড়া

(১)

রাত দু'টাতে ঘুম ছুটাতে ফেবুতে লেখেন পদ্য!
সঙ্গে পোড়েন মালবোরো আর অল্প গেলেন মদ্য!
অদ্য তিনি সুখেই আছেন সদ্য হলেন বেকার তাই,
গাঁটের কড়ি কমছে নিতি, নিত্য গেলার বোতল চাই!
নেশার ঘোরে কাব্য আসে ভোদকা গিলে দু'চার ঢোক,
ভুতের মত বাড়ছে ভুঁড়ি, লোকের সেদিক পড়ছে চোখ!
বৌ গিয়েছে বাপের বাড়ি, ফিরবে কি না সন্দ খুব!
এই সুযোগে বোতল খুলে, মাঝখানে তার মারছি ডুব!

(২)

উহ!
এই গরমে কইসি তোমায় এমন কইরা ধরবা না!
জাপটা ধইরা ঘুমান লাগে? সহী ঘুমটা শিখলা না!
আমার মত সটান হইয়া দুই হাত বুকে মরার প্রায়
চেষ্টা কইরা দ্যাহোই না আজ কত্ত ভালা ঘুমান যায়!
না জড়াইলে ঘুম অয়না বাইচ্চা বাইচ্চা কথার ঢং
এমন কইরা ঘুমান মানা- গরমকালে ইট ইজ রঙ!

রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৭

চড়ুই যেন না হয় মানুষ

যদিও ভাঙা ভেন্টিলেটরে বোনা চড়ুইয়ে বাসা হয়ে 
একটা সুপরিমিত আয়ুষ্কাল কবিতায় বড় সম্ভব। 
কিন্তু তবুও যে অনেক অনেক বেশী 'কিন্তু' এসে যায়- 
Hunger defines us and above all earthily animosities 
বলে দেয় চড়ুইয়ের যে বেঁচে থাকা তাদের পাখায়, 
যেখানে- মানুষ যেখানে বাঁচে আদমের পাপে, 
হাওয়ার গর্ভে বাঁচে আশা-নিরাশায়! 

Even a brute possesses a heart, 
But not worthy to beget a poem! 
What brings differences between men and snakes? 
Poems are failed to hide venom and blame- 
We equally share! 
তবুও অনেক মানুষ সাজার বাক্যে মনুষ্যত্ব ভারী, 
আমাদের ইতিহাস -সুলভ মূল্যবোধে বেচা নরনারী 
আছে বিকিয়ে দেয়ার- 
হাটে সুবস্ত্রাচ্ছাদিত হয়ে মুখোশের পিছে! 
সবাই তলিয়ে যায়, ধীরে ধীরে, অতি ধীরে 
মানুষের চেহারা ধরে পশুদের নীচে! 

Where devils dare to live, yet there, 
I seek sovereignty of thousand years, 
A poetry cottage and a moonlit sky 
Inestimable dreams and constant tears- 
বেদনার অববাহিকা হোক অযাচিত জন্মের যন্ত্রণা বয়ে, 
চড়ুইয়েরা সুখে আছে, তারা যেন সুখী হয় মানুষ না হয়ে!

শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

কাবুল-কান্দাহার আর কত দূর?

শৌচালয় থেকে দেবালয়-
নিঃসন্দেহে সমস্ত কিছুই আছে সুনিয়ন্ত্রণে
দুশ্চরিত্র কিছু মানুষের হাতে,
আছে রাত দিন।
গাঁও-গেরামের শালিসি উঠান থেকে
এই সভ্য নগরদেশে প্রকাণ্ড হাইকোর্ট-ফোর্ট
সব আছে ভন্ডদের সুখ বিতরণে
নিত্য বিরামহীন!


আমার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণী গেছে,
শিশুলীগের শিশ্ন ধরে
উত্থিত উন্নয়ণে!
শারদোৎসব গেছে অসুরের
উরুতে অর্ঘ্য দিয়ে
চরম মদ্যপানে
অনেক ভক্তি নিয়ে,
বলিউডি গানে!

পঞ্চমবর্ষীয়সি বালিকার কুমারীত্ব গেল-
রক্তে বীর্য্যে উফ কত মাখামাখি!
জেলের ছেলে পিষে গেল
কাবা শরীফের তলে- কত লেখালেখি,
তবু আগুন গেল না নিভে!

এইভাবে সমস্ত সুমহৎ শিক্ষাগুলো যাবে,
'বাল্যশিক্ষা' গেল, নতুন মযহাব এসে
নিয়ে নেবে রবি ঠাকুরের সুর!
আমার সন্তানও যাবে কালেমাটা জেনে নিতে
কাবুল-কান্দাহার আর কত দূর?

২০০১১৭

শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

দাক্ষায়ণী হবে?

তুমি কি আমার জন্য তবে দাক্ষায়ণী হবে?
পিতার প্রাচুর্য্য, উপরোধ উপেক্ষা করে আমারই
বিকৃত প্রতিকৃতির গলায় দেবে দাম্পত্য হার?
কাছাড়িয়া শীতল শ্রীহট্ট হিমবান গৃহ ছেড়ে
এসে যাবে একদিন নবরূপে পার্বত্য চট্টলা-
পার্বতী সেজে? আমার স্কন্ধে দেবে স্কন্দের ভার?


যদিও এ রসিকতা নমিতাঙ্গিনী, তবুও তো
অনায়াসে অসাধ্য প্রেমের সংযোগে ত্রিশুলপাণি,
আমার চির-আরাধ্য বৈরাগ্যেশ্বর এমনই সামনে আসে!
আমি কি বদ্ধনেত্র, আত্ম-গভীরে তোমাকে করছি অনুভব?
অথবা আমি কি ক্রমেই মিইয়ে যাচ্ছি প্রিয়া সংসারের ত্রাসে?
আমি কি ভাবছি- যা কিছু অসম্ভব- সবই সম্ভব?

তোমাকে জাহ্নবীর মত করে জটায় ধরে রাখি যদি,
ধূর্জ্জটির কিশোরচন্দ্র ছটায় যদি আভূষণ গড়ে দিই-
জ্যোৎস্না গলানো প্রেমে এক জোড়া নিখাদ নূপুর?
তুমি কি থাকবে না চিরদিন সামনে আমার,
আমার ভেতর-বাহির ঘুরে সকাল-দুপুর
গহণ রাত্রিবেলা অবাধ মায়ায়
নিঃশ্বাসের শব্দ জুড়ে ছায়ায়-
ও কায়ায়?

______
১৮০১১৭

বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

না জেগেও সুখী হতে পারি

আমি অনেক অনেক অনেক বৃষ্টি ঝরিয়ে
পেয়েছি এক বিঘৎ মেঘচেরা সঙিন রোদ্দুর,
আমাকে কিছুটা উষ্ণতা নিঃশর্তে দাও,
দাও ছুরির ফলার মত বিঁধে আমৃত্যু প্রেম!

আমি অনেক অনেক স্বপ্ন ডিঙিয়ে শিখেছি
বাস্তবতার দিন কেমন বক্রগতি, কেমন বন্ধুর!
হাল ছেড়ে ছেড়ে বারবার পাল ওড়ালাম সভয়ে
অনেক শংকা বুকে, এ বাতাস, এ বিকট সমুদ্দুর
আমি একা একা- সত্যিই কি পার হয়ে যাব?

তোমাকে অনেক অনেক অসহায়ত্ব ধরে চাই,
অনেক দৈন্যতার তিক্ত রিক্ত দায়-দায়িত্ব ছেড়ে
আমি চাই অন্তত আরেকটা রাত্রি নিঃশব্দে ঘুম-
এর বেশী পরমায়ু পাই বা না পাই-
তোয়াক্কা করিনা কিছুর! তোমার বাহুর ডোরে
আমি আর না জেগেও সুখী হতে পারি।

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

ভালবেসেছি মিয়াঁ মল্লারের মত

তোমাকে মিয়াঁকি-মল্লারের মত ভালবেসে ফেলেছি,
সুরমণ্ডলে ঋকমণ্ডলের গৃহ্যসূত্র দিয়ে বেঁধেছি বক্রতানের লহর,
তোমার চুলের ভেতর বাগ্রেশ্রীর অন্ধকারে আমি চলেছি পূরবী গেয়ে,
আমার যোগিয়া, যোগ, গুণকেলি, ঋষভ সমবাদী ভৈরব বহর
সব তোমার আঁচলে দিয়েছি সকরুণ মারবার সংপ্লাবী সুধা পিয়ে
দু'হাজার বিলম্বিত ঠেকা নিল দু'শো জনমের রাত্রি প্রহর,
তোমাকে ভালবেসেছি সমস্ত ঘরানার ঘর ছেড়ে, মাত্রা লয়ের বাঁধ-
পিঞ্জরে ঠেসে দিয়ে ধরেছি দৃষ্টির গভীরে গহন মালকোঁষ,
বাহুর বাঁধনে বাহারকে টেনে কলাবতীর ওষ্ঠে এঁকে বিহাগ বাতাস
দরবারী-কানাড়ার ভরা দরবারে আমি হংসধ্বণির মত চঞ্চল-দোষ
করেছি প্রকট- অথচ তুমি আজও ইমনের নিষাদে বিষাদ!

আমি আশাহত আশাবরীর মত সারেঙ্গীর তারে কেঁপে উঠেছি কখনো,
কখনো বৈরাগী-ভৈঁরো হয়ে উদাস চাহনি তোমার শাড়ীর কাজে
খুঁজেছি এক চিলতে সরোদ ঝংকার, গৎ, আলাপ, বিস্তার, অল্প প্রেমারোপ
বিশুষ্ক তোড়ির তোড় ভেঙে আমি রাগ্রেশ্রী কিম্বা ঝিঁঞ্ঝিটের মত মিষ্ট রেওয়াজে
চেয়েছি পাখোয়াজেও ফুটুক মৃদঙ্গমের মত আদিতাল, ভস্মে ধূসর
আদি সোমগানে বিভাস জুড়ে কিছু দক্ষিনী রাগিনীর বিচ্ছুরিত লাজে
রাঙুক তোমার ভীমপলশ্রী মুখ পলাশের রঙ নিয়ে আমার ভেতর!

জানো কতটা ভালবেসেছি? কতটা ভালবেসে ফেলেছি পুরীয়া-ধানেশ্রীকে
দূরে ফেলে? কতটা ছুটেছি তোমার শিঞ্জনকে ধরে পড়ন, পকড়-
দুর্গা, সরস্বতী, ভৈরবী, সিন্ধু পাড়? কতটা পথ ছুটেছি সারংএর
সাজ থেকে বৃন্দাবনী আকাশ, সোহিনী সংসার? আমার সকল আর্তস্বর-
তবুও রয়ে গেল বুঝি তালভঙ্গ বিরক্তির ভ্রুকুটির পিছে!
_________________________

সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

যদি ভেসে যেতে

ভেসে যাবার সময় আমাকে আঁকড়ে ধরেছিলে।
আমি বলতে ভুলে গেলাম- 'স্রোতস্বতী,
ডুবে যাবার চাইতে ঢের ভাল ভেসে যাওয়া!'

অতলে নেমে যাওয়া ঘূর্ণিজল, আমি ক্লান্ত অনেক,
তোমাকে এনেছে টেনে দখিণ মন্দ হাওয়া,
তুমি টেরই পেলে না গো, নিমজ্জনের মন্ত্রাভিষেক
কবে হল শুরু! এর আছে কিনা শেষ?


এসো আমার তামস-উৎসারিত বুকের প্রকোষ্ঠে
দেখো ওষ্ঠপুটে ধরেছি ত্রিংশবর্ষ যৌবন বিষ,
গ্রহণ করেছ যতটুকু, ততোধিক মৃত্যুকে করেছ বরণ!

তোমার মৃগনেত্রা মুখে পড়ে এলানো চাঁচর কেশ
আমাকে সে বাঁচতে বলে- আমার অনেক নিদ্রা করেছে হরণ
তার সুরভির কিছু কিছু অভিসন্ধি এসে।

ডুবে যেতে চাও কেন?
শ্রেয়স্কর হত প্রিয়া যদি যেতে ভেসে!

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...