রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

মাতলামি

 

চোখ মেলেছি, কান খুলেছি- ভণ্ডামি আর আঁতলামি,

হাঁচা কথা শুনতে লাগে, দিন-দুপুরে মাতলামি!

 

মুখোশ পড়া ভাঁড়ের দলে বিদ্যাভূষণ রাজার সভায়,

রন্তভাণ্ড পূর্ণ যতেক ন্যাকা-পাকা-বোকা-হাবায়!

ফুটেজ পেলেই সেলিব্রেটি, তাদের কথা-ই মানবে লোকে,

আমার কোন ফুটেজ তো নেই, মরব বটে ফুটেজ-শোকে!

মরলে তবে কেঁদেই কি লাভ,

কে আমার আর কার আমি!

হাঁচা কথা শুনতে লাগে, দিন-দুপুরে মাতলামি!

 

 

 


বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

নয়নসমুখে দাঁড়া (বাউল)

 

কেমনে বল পারে যাব, কোথা গো তরণী তারা?

ঘাটে এসে বসে আছি, ডেকে কারো পাইনে সাড়া!

 

সাজিয়ে শতেক মোহ, সংসারে সঙ-সমারোহ

দিনশেষে সার বুঝেছি, তাই ধর্মাধর্ম হল সারা!

 

বলি তোরে হরজায়া, সুত-প্রতি নাই কি মায়া,

মায়াতীতা জানি বটে, (তবু) কেমনে রই মাতৃহারা?

 

ষড়-যন্ত্রে পঞ্চতত্ত্ব, প্রপঞ্চে সদা প্রমত্ত,

কেঁদে বলে বিশাখদত্ত, মাগো নয়নসমুখে দাঁড়া!

 


রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০

অপরিপাটি

কারা কি কি বলে কি তাতে পরোয়া!

কেউ বলে ‘ব্যাটা উড়নচণ্ডী’

কেউ ভাবে ‘না না গণ্ডিবদ্ধ,

নয়কো মদ্দ, হদ্দ ঘরোয়া!’

 

কারা কারা ভাবে ভালবাসে বলে

আমি ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা ক’ব!

ঢল ঢল মধু পিরিতি আলাপে

যত বিচুটি পাতার জ্বলুনি স’ব!

 

দাসখত আমি দিয়েছি বা কাকে

মনোমত তার বদলাতে হবে?

কার কাছে ঋণী রয়েছি এমনি

অনাদায়ে ঋণ গালাগালি দেবে!

 

কারো কাছে ভুলে বিকাইনি মাথা,

এর চেয়ে ভাল মাথা কাটি!

গুছিয়ে মিথ্যা কইতে পারিনে

আমি একচুলও নই পরিপাটি!

 

 

 

 

 

 

 


মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

অপেক্ষার গান



সংসার-মাঝে হলাহল-স্রোত জাগ্রত কোলাহলে,
সমুখে দাঁড়াও অমৃতের তরী, দুখের উজান ঠেলে!
সংশয় ঘোর ব্যথার আকাশে একেলা বিহগ-ডানা-
আমি ঘুরে মরি, চোখের কোটরে মরণ অশনি-হানা,
এসো তমোহারী বিজয়ধ্বজে ধ্রুবজ্যোতি তব জ্বেলে!
সংসার-মাঝে হলাহল-স্রোত জাগ্রত কোলাহলে.........
নিবিড় মোহের কুহক আড়ালে, নীরবে নিভে গো যাই,
ব্যর্থ পরাণ-প্রদীপের শিখা, অপলাপে কত রাগিনী গাই!
সাধ করে বাঁধি তার ছেঁড়া গান, সুর কাটে বাঁধা তাল-লয়ে
উদাস জনম নদীতীর যেন, ভাঙে গড়ে আর যায় বয়ে,
কেউ কি রবে না দিনশেষে আর অভাগার তরে দোর খুলে?
সংসার-মাঝে হলাহল-স্রোত জাগ্রত কোলাহলে.........
_______________
রচনাকাল- ২৭ অক্টোবর, ২০২০। রাত ১০ঃ৪৯

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

গিরির প্রবোধ

 


 

কেঁদো না কেঁদো না রাণী, উমা আমার কোথা যায়?

মুদিলে দু নয়নে হেরো, অন্তরে যে দেখা পায়!

সায়ুধবাহনা তারা, নিত্যা, চৈতন্যধারা,

গুণত্রয়ে সালংকারা, প্রেমডোরে ধরে কায়!

অথচ সে নির্গুণা, প্রপঞ্চে বিরাজমানা,

লীলারূপে কন্যা হল, পুণ্য কত ভাব তা’য়!

বলি গো মেনকারাণী, দুয়ারে যে শূলপাণি,

দাঁড়ায়ে রয়েছে দেখি, ডাক গো আমার উমায়!

 

 

 

 

 

 

 

 

শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

খেলা-ভঙ্গ


শত জনমের অচল বরষা, আমি যে মেঘের আড়ালে,
সাঁঝের বাতির শিখাটি উঁচিয়ে, হাতটি কে যেন বাড়ালে!
জলভরা বুকে মরে না পিয়াস, নদী হয়ে তীরে ভাঙা নিশ্বাস-
ঢেউ খেলে চলি জনম জনম, কে তুমি সহসা দাঁড়ালে?
জানি না কোথায় ছুটেছি একেলা, পথজুড়ে কত ভাঙাগড়া খেলা,
ক্ষণিক প্রাণের পুতুলের মেলা, যারে খুঁজি, ভীড়ে হারালে!
তার সাথে আজ নিতি লুকোচুরি, এই মনে হল, এই যেন ধরি-
হাত ধরে বলি 'খুব খেলা হল- খেলাছলে খেলা ভাঙালে'!

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

হাথরস

 

অন্ধকারের কোন খবরারবর রাখি না আর,

অন্ধকারই সমস্ত খবরের উৎস হয়ে গেছে!

 

নিঃশ্বাসের হাওয়া লাগে, এমন দূরত্বে আছি,

তবু দৃশ্যত সে নেই বলে আমার নিয়ত অস্বীকার-

তারও গা-সওয়া হয়ে গেছে।

 

‘তমঃ’ মন্ত্রের লক্ষ পুরশ্চরণ শেষে, একটিবার-

ভেবেছি আলোকদয় হবে, দুরাশা ধুয়ে মুছে

চোখের নীচে আধ-ইঞ্চি- তার জন্য মেপেছি স্থান,

 

দেখি

 

আরও কত ‘হাথরস’ হাতছানি দেয়,

আরও কত হাত কাঁপে হতশ্রী হয়ে,

হাত গলে ঝরে যায় হাত-ধরা গান!  

 

 

 

 

তীরে ফেরা

  অনন্ত দিনরাত্রির কত স্রোতভঙ্গ কলরোলে আমি ভাসিয়ে ভেলা অবেলা ওপারে যাব বলে হাল ধরে ঠাঁই জেগে আছি নির্নিমিখ। কত ঝড়ের ঝাপটা এসে, দিল দোলা ক...