আমার যৌবন অস্তমিত হলে তুমি এসো।
আমার সকল নষ্টত্ব প্রাপ্তি শেষে এসো।
কীটদষ্ট ফুলে এসো পয়লা বসন্তদিনের পয়লা মধুপ হয়ে,
সকল মন্থন শেষে এসো হৃদয়ে সকল রস-ক্ষরণ শেষে
উচ্ছিষ্ট বিন্দুর জন্য এসো, জানু পেতে আঁচল মেলো
বিদলিত প্রেমের ভিক্ষায় নবরৌদ্রকরোজ্জ্বল শিশিরসিক্ত ঘাসে
পদছাপ ফেলে এসো ললাট-লেখায়!

এসো সকল পূজার পর শূণ্য বেদীতে, জল নিষ্কাশিত মঙ্গলঘটে,
অগ্নি নির্বাপিত হবনকুন্ডে এসো অনাহূত পূজারিণী আহূতির শেষ নৈবেদ্য হয়ে।
এসো চীর-ধরা আবেগে, খরা-ক্লিষ্ট চোখে ফাগুনের বাতাস বয়ে
আরও উত্তাপ আনো, আরও আনো অত্যুষ্ণ বিষ বিষের সংকটে
আমার অসমাপ্ত অস্তিত্বে- অবলীলায়!

আমার দৃষ্টি রুদ্ধ হলে এসো অন্ধকার হয়ে
সমস্ত ঝড়ের শেষে এসো বিষন্ন সকাল নিয়ে সমুদ্রের দেশে
চেতনার সমস্ত ঠিকানা নিখোঁজ হলে তুমি এসো উদ্বেল রাত্রিজয়ে
নষ্ট পুরুষের বুকে, সুখে কি রাখতে পারো মাথা তখনো ভালবেসে
প্রথম প্রেমোন্মেষের মত ব্যাকুল নয়ন ধুয়ে অমৃত ধারায়?

হয়ত আসবে। হয়ত পারবে। হয়ত হবে না কিছুই।
কিছু কথা ঘটে থাকে শুধু কবিতায়।