বিরাট ব্যাপৃত বিলোক বিধুর শূণ্যতার মাঝে 
আমার তিলার্ধ পরিমাণ বেঁচে থাকার মানে বোঝ?
বোঝ কি এই তলাতলহীন অসম্প্রজ্ঞাত অস্তিত্বের ভেতর
কার মুখাপেক্ষী বেদনা-সন্দর্ভ আকাশ-আকাশের ভাঁজে
বাষ্প হয়ে জমে ও একদিন সরিতা সেইসব বুকে টেনে নেয়?
জানো কি আমার আকর্ণবিস্তৃত আত্মপ্রকাশে কিছু কথা গুপ্ত থাকে,
কিছু গুমোট আচ্ছাদন মেঘের মতন জাগে, আঁধারের পর-
নিরঙ্কুশ আঁধার সেখানে করে ভিড়! কৃষ্ণ-কুন্তলা এই আঁধারের 
সাতপাকে আমাকে ছুঁয়ে দেখ- কত অশান্ত, অধীর- হয়েও 
মন্দরের মতন অকম্প হয়ে ঠাঁই উদাস আমি সহস্রবছর!

চুরাশি-লক্ষ বার আমাকে দেখে যেয়ো, আমি এভাবে অপেক্ষমান;
জন্মান্তরের গ্রন্থিচ্ছেদে নতুন জন্মে কোটিজন্ম ব্যবধান- আমাদের
মুছে যাবে হয়তো বা, নতুবা কেন যেন মনে হয় এ জন্মে দুইজন
আত্মঘাতী হব! বল এই আশংকা কি একেবারে ফেলে দেয়া যাবে?
হৃদয় ও হৃদয়ের শর্তহীন সংযোজন- যে রাজ্যে জুগুপ্সার হেতু,
না হয় সেখানে না-ই বা বাঁচি অনন্ত সময়!

এত বার বুক ভেসে গেলেও যদি এ তৃষ্ণা মেটার নয়, 
এত ক্ষিপ্রতায় ডানা ঝাপটে গেলেও যদি দিগন্ত থাকে নিরবে অচল,
তবে চলো, হাত ধরো, এভাবে না মরলে কবে- 
বলো, কোন কালে কে পেয়েছে প্রেমের সম্মান?