একদল লোক না হয় শুধু গান আর কবিতা নিয়ে থাক!
তারা না হয় থাক শুধু ফুল ও পাখি নিয়ে।
তারা না হয় থাক আকাশ ও নদীকে নিয়ে।
তারা না হয় থাক এলোচুল অথবা খোঁপাকে নিয়ে।
থাক তারা যেমনই আছে, যেমনই ছিল তারা
মানুষকে মানুষ ভেবে জন্তুর ভীড়ে-
তারা না হয় আজও তেমনই থাক!
সকলেই যদি রাজনীতিজ্ঞ হবে, অভিজ্ঞ হবে পাশাখেলায়
সকলেই যদি ধম্মোবেত্তা হবে, সকলেই যদি জ্ঞান ফলায়
সুঁইয়ের ভেতরে উঠ কি করে যাবে- এসব বিষয়ে
সুগভীর চিন্তা উৎপন্ন করে রাত্রিবেলায়-
তবে কি আর বাবরিছাঁটা নজরুলগুলো
ঠাঁই পেতো দুনিয়ায়? পেতো না বোধহয়।

জানি পৃথিবী আজ সুচিন্তকদের হাতে লাটিমের মত
অনায়াসে ছুঁড়ে ফেলা যায়, অবিরাম ঘুরপাক খায়!
একবুক কুম্ভীরাশ্রু নিয়ে কবিতা লিখতে বসে ভাঁড়ের সমাজ
কুমীরেরা দয়ালু ভীষণ! কুমীরের পেটে যারা বিনাক্লেশে যায়
সেইসব মানুষ অথবা মাংসের কথা না লেখা-ই ভাল!

তবু একদল লিখে ফেলেই কু-অভ্যাস বশে-
মানুষের দুঃখ কোন রাজনীতি নয়।
মানুষের ভাগাভাগি নয় কোন সুধর্মের কথা!
মানুষের মৃত্যু নয় কোন কবিতার আশা!
মানুষের বন্দীত্ব নয় কোন প্রেম-ভালবাসা
এসব যে লিখতেই হয়! না লিখলে নয়!
এসব যে জরাজীর্ণ সভ্যতার ব্যথা
পথ্যহীন পড়ে আছে বছর বছর!

আজ জগত চায় জগতের চুলচেরা বিশ্লেষণ
জগত চায় ভাল থাকা হোক অনিবার্য জগতের
জগত চায় নিজের ভাল পরজগতকে চুলোয় দিয়ে
জগত চায় সম্পূর্ণ শান্তি জগৎপ্রপঞ্চের
বন্দুকের নল ধরে সামনের দিকে!

যদি কেউ আর ফুল ও পাখিকে ভাল না বাসে।
যদি কেউ আর নদী ও নারীকে না আঁকে কোনদিন।
যদি কেউ আর মস্তিষ্কের চেয়ে বেশী হৃদয়কে না মানে
যদি হৃদয়কে না দেয় তার যথাযোগ্য স্থান-

তবে তারাই জিতুক।