আমার সকল স্বার্থসংশ্লিষ্টতা তোমার সাথে।
ওই যে লোহিতাভ টিপটি পড় নবোদ্গত সূর্যের মত
ললাটকে আকাশ করে আমার দৃষ্টিসুখে,
অথবা সিঁথিকে বাঁকিয়ে ইছামতী খালের মত আমার
পাড় ঘেঁষে ডগমগিয়ে চলো যখন সহাস্যমুখে,
অথবা যখন কাঁকনমালা ঝাঁকিয়ে আনো পাগল বাতাস,
ঘাসে ঘাসে অলক্তনিন্দিত পদে যখন মূর্ত শিঞ্জন
তোমাকে ভাসিয়ে নেয় পৃথিবী থেকে পৃথিবীর পারে
তখন জেনো, এসবে আমার প্রবল স্বার্থ আছে।

ওই যেভাবে কজ্জলা ভুরুযুগল হরধনুর মত ভারী হয়ে যায়
আমার দুহাতে এলে, যেভাবে হরিৎ শাড়ী হৃদস্পন্দনে দেয়
অকস্মাৎ আঁচলের প্যাঁচ, অথবা যেভাবে তুমি চাও আঁখি মেলে
নিদ্রালুতা অসম্পূর্ণ রেখে অলস শয্যায় উদাস দুপুরবেলা
আমার ভেতরে নাড়া দিয়ে, আমাকে অগ্নিতাপে ভরে হাতের মুঠোয়
যখন খেল সিঁদুরের খেলা সিঁদুরে হৃদয় গুলে; আমি চুপ থাকি।
কেননা এসবে আমার ব্যাপক স্বার্থ আছে।

জানো আমার সকল প্রচণ্ড স্বার্থপরতার কেন্দ্রে তুমি?
কি করে বোঝাই! ওই যে বারোহাত ব্যবধান আকাশ ও মাটির
তুমি জড়িয়ে জড়িয়ে চলো, ওই যে আমার অবিনীত আকুল অধর,
বধির বিবেক, মধ্যনগরে বনবাসাকাঙ্ক্ষা গভীরে মগ্ন হবার, 
আর তোমার স্মিত উপেক্ষা, উপরোধ; তোমাকে মানুষ থেকে নারী-
করে তোলে আর আমাকে করে তোলে পুরুষ থেকে শুধুই পুরুষ,
তখন কবিতা জন্ম নেয়। তাতেও আমার স্বার্থসিদ্ধি হয়!