আর কতটা প্রাণ চাও রাজপথ?
কত চাও রক্তস্রোত? কতটা ক্রুরতা আরো?
কতটা উন্মাদনা? কতটা হিংস্র ক্রোধ?
কতটা কণ্ঠনালী? কতটা বুকের হাড়?
আর কতটা চাও স্বাধীন বাংলা তুমি?
আর কতটা মায়ের বুকে নাড়ীছেঁড়া হাহাকার-
বিস্ফোট হলে তুমি থামবে বল?

আর কতটা বধ্যভূমি, কতটা কবর পেলে
খবরের পাতাকে তুমি মুক্তি দেবে
মৃত্যুর আঁধার থেকে? কতটা মানুষ আরো
পশুত্ব মেনে নিলে ধারালো অস্ত্রগুলো হয়ে যাবে ফুল
একদিন ভোরবেলা? আরো কত সঙিন মেধা
দেশান্তরিত হলে তুমি বুঝতে পারবে কি করে 
এতটা ভুল- তুমি এতকাল বুকে বিঁধেছিলে!

'স্বাধীনতা' একটি ব্যঙ্গার্থক প্রহসন হয়ে গেল!
একটি বোধশূণ্য আস্ফালন, একটি শব্দ অপচয়!
ঠিক কতখানি মূল্য আরো চুকিয়ে দিলে স্বাধীন বাংলা
তুমি অর্থবহ হবে? কতখানি জমিদখল হলে,
কতজন কৃষকের পাঁজরা ছ্যাঁদা হলে, বলতে পারো?
কতটা সুন্দরবন, বান্দরবন জ্বলে কয়লা হলে
তুমি বিদ্যুতের মত আলোকিত হবে আকাশে আকাশে?

কয়েকটা বাঁশখালীর বুকখালি করে, কয়েকটা তনুর
গলিতপ্রায় লাশ তুলে, আদিবাসীর আদ্যন্ত উচ্ছেদ করে,
সংখ্যালঘুর সংখ্যা নির্মূলে কি মহোৎসবে আরো-
সুভীষণা তুমি প্রত্যহ নিয়োজিত হলে তুমি মুক্তি পাবে?

তুমি অভিশপ্ত অতৃপ্তা প্রেতিনীর মত বাতাসে বেড়াও!
লক্ষ বুদ্ধিভ্রষ্ট শহীদের অশরীরী ক্রন্দন আঁচলে বেঁধে
তুমি দুহাত বাড়াও আরো আরো লাশের স্তুপে!
বল আরো কত চাও? সোনার বাংলা তোমার এই
শোণিতপূর্ণ কূপে ইতিহাসের কঙ্কাল তলায় পড়ে আছে!
খুঁজে নাও! শোষণ কর! তুষ্ট হও! কিছুটা শান্তি পাও!
অজস্র লাশের ভীড়ে মানুষ ক্লান্ত দেহে নিজেরটা বাছে
কোনটাতে বেঁচেছিল একদিন প্রাণ সবচেয়ে বেশী!
তুমি তাদের আঁকড়ে ধরো! এ মাটিতে শান্তি দাও!
ব্যস এতটুকু স্বার্থ হাসিল হলে সব্বাই খুশী!