একটা কবিতা লিখতে হবে। কিন্তু সেটা তনুর জন্য নয়। 
কোন ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধনে হেড়ে গলায় আবৃত্তির জন্য নয়।
সেটা শুধুমাত্র মনে মনে আউড়ে যাবার জন্য লিখব।

সেটা হবে সম্ভাব্য আরো তনু ও অগণিত তনুর লাশের জন্য!
সেটা শুধু একটা বার্তার জন্যই লেখা হবে। আর তা হল-
মৃতের চিকিৎসার চেয়ে জীবিতের প্রয়োজন প্রতিষেধকের!
লাশ কবরস্থ হলে যারা শ্লোগান দেয় তারা- 
জীবনকে দেয়নি প্রাপ্য সম্মান!

এই কবিতাটা হবে নাতিখর্ব, নিরাশাব্যাঞ্জনায় ভর্তি, অকেজো কবিত্বের-
সমস্ত মাল-মশলা ঢেলে সেটা আমি লিখব! আমাকে লিখতেই হবে!
আমাকে লিখতেই হবে গার্লস কলেজের সামনে ওই যে চায়ের দোকান-
ওখানে শ্যেনের ঝাঁক বসে থাকে কপোতীর আশায়। আর ওই যে বাসের ভীড়,
ওই যে পেছনে ওড়না টানে আর সামনে গুলিস্তান, ওই যে আঁধার গলি,
অনিরাপদ সিগারেট জ্বলে, লাল লাল ত্রস্ত সিগনাল, ওই যে টিউটর আসে
পড়াতে বাসায়, ওই যে ক্লাসটিচারের চোখ, ওই যে লাস্য যুবক হাসি তামাশায়
খসিয়ে নেয় দ্রব্যমূল্য সব, ওই যে নির্বাক মরে যাওয়া, ওই অজস্র না বলা ব্যথা,
ছিঁড়ে যাওয়া মাংসের দগদগে ক্ষত, প্রতিদিন পথে যেতে কুকুরের চাইতে বেশী
মানুষকে ভয়, প্রতিদিন খামচে ধরা হৃদয় আহত আর তাই নিয়ে ঘরে ফিরে আসা
প্রতিনিয়ত কেঁদে চলা আর 'বেঁচে আছি, বেশ আছি, বেশ ভাল কথা'-
এই ভেবে শুধু বেঁচে থাকা যেখানে স্বাভাবিক ওখানে প্রতিবাদ ভুলে গেছে ভাষা,
ঠিক ওখানেই- কেউ তো নেই, কেউ তো থাকে না কোনদিন!

তনুদের মরে যেতে হয়।
জীবিত থাকলে কেউ কবিতা লিখবে কেন?

টলারেটিং এ সিন ইস এন ইকুয়াল সিন!

_________________________________________________________________
প্রতিদিন কোন না কোন মেয়ে আমাদের সামনেই হয়ত পথে ঘাটে অকারণে উত্যক্ত হয়। আসুন সে বেঁচে থাকতেই প্রতিবাদ করি। বদলাই নিজেদের। হাজার ধর্ষণের প্রতিবাদ করেও ফলাফল তো পাচ্ছি না। সময় এখন প্রতিরোধের! কিছুটা প্রতিশোধেরও!