কীর্তনখোলারে|
দু মুটো শীতল বাতাস দিস যদি আসি তোর পাড়ে|
গায়ে গা ঘেঁষে বসে কাটিয়ে দেব অনন্ত দুপুর|
ভাল গেরস্থ আমি নই| নাই বা হলাম|
দুটো কবিতা লিখতে দিস যে'কদিন দুটো নিশ্বাস আরো
অবশিষ্ট থাকে আমার এই জ্বলে মরা বুকের ভেতরে|
এর চেয়ে বেশী কিছু আমি নাই বা পেলাম|
এত সৌভাগ্যবান তো আমি নই| নাই বা হলাম|
ক্ষতি নেই| দুটো জলকণা ধার দিস চোখের কোটরে|
বিশ্বাস কর আমি সব শোধ দেব সাগর শুকিয়ে|
কিছুকাল সময় দিস| সব কবিতা ফুরিয়ে এলে সেইদিন
ঘন সন্ধ্যায় এসে দাঁড়াব আমি| বুঝে নিস ঋণ|
আমাকে সেইদিন ডুবে যেতে দিস তোর স্রোতের গভীরে
ধীরেধীরে, ধীরেধীরে|

কীর্তনখোলারে|
কিভাবে বয়ে যাস একা একা আমাকেও বল|
আমি যে পারি না আর বয়ে যেতে বুকের কতক হাড়
আর তার মাঝে হৃদয়কে পুষে সুদূরিকার দিকে|
আমিও যে তোর মত বহমান ব্যথার তরঙ্গ নিয়ে
যুগান্তরের পথে লুটিয়ে আছি টিকে
মাটিতে মাটিতে|

যদি আসি আরেকটি বার তোর আঁচলের পাশে
একটু সোহাগ দিস রমণীর মত|
নদী যে নারীর চেয়ে বেশী ভালবাসে,
সে কথা বুঝিয়ে দিস গায়ের বাতাসে|

আজ আমি রাখি|
পরে কথা হবে|