একটা নক্ষত্র মরে গেল।
এতটা আলোকে আর মরতে দেখিনি।
এতটা আলোকে আমি এত অল্পক্ষণে
এতটাই জ্বলে কোনদিন নিভতে দেখিনি।
এতটা অন্ধকারে এতটা আপন বৃত্ত গড়ে
এতটা নিঃশঙ্ক হয়ে দেখিনি পথ চলতে
দেখিনি কোন জ্যোতিষ্ক এতটা সপ্রতিভ
এতটা উজ্জ্বলিত, এতটা জাজ্বল্য সুন্দর
সুপ্রভ অপ্রতিম অথচ কি করে চলে গেল!
কি করে নিভে গেল, কি পরাক্রান্ত ক্রন্দনহীন
সে জ্যোতির্মণ্ডল সানন্দে উদ্ভাসিত অস্তিত্বশীল
শুভদ অন্তর কি করে মরে গেল এমন অকালে!
কি করে এতটা সবল প্রেম, বহুক্ষেত্র তরঙ্গিত মেধা
প্রতিভা, যশ, রূপ, কীর্তিধারী স্বমহিম তুঙ্গ যৌবন
ক্ষয়ে গেল এতটাই অকরুণ বিপর্যস্ত হয়ে!
এতটা নির্দয় দেখিনি প্রকৃতিকে।
এতটা নিদারুণ কষ্ট দেখিনি আর!
এতটা নিরাশ্রয় লাগেনি কখনো কারো
জীবন কখনো মনে হয়নি তো গুরুভার;
কে যে ধুঁকেধুঁকে বয়ে বয়ে চলে!
সেই নক্ষত্রেশকে দেখেছি কতটা কষ্টে নেত্র খোলে
কতটা ক্ষীণবল স্নায়ুকলা অসহযোগী হয়
তবুও কিভাবে সে হাসতে পারে আলোর বক্ষ খুলে
কিভাবে সে বলতে পারে "এ দুঃখ কিছু নয়!"
যে দুঃখ বিকট মৃত্যুবাহী!
সে মরেও তো গেল!
একটা নক্ষত্র মরে গেল।
একটা নক্ষত্র মরে গেল আকাশের গায়ে।
একটা নক্ষত্র নিভে গেল কত জ্বালা সয়ে
মানুষ কি বোঝে তার একবুক হাহাকার
আলো হয়ে ঝরেছিল মানুষের মুখে
আলো হয়ে জেগেছিল মানুষের দুখে।

সে আজ মরে গেছে।